ইওরোপের তকতকে ঝকঝকে শহরগুলির পরে নিউ ইয়র্কটাকে বড়ই নোংরা ও হতচ্ছাড়া মনে হয়। আগামী সোমবার কাজ আরম্ভ করব। এলবার্টা যাঁদের ‘স্বর্গীয় দম্পতি’ বলে, তাঁদের কাছে তোমার বাণ্ডিলগুলি ঠিক ঠিক পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বরাবরই তাঁরা বড় সহৃদয়। মিঃ ও মিসেস স্যালমন্ ও অপরাপর বন্ধুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে। ঘটনাক্রমে মিসেস গার্নসির ওখানে মিসেস পিকের সঙ্গে দেখা হয়; কিন্তু এ-যাবৎ মিসেস রথিনবার্গারের কোন খবর নেই। ‘স্বর্গের পাখী’দের সঙ্গে এই বড়দিনের সময় রিজলিতে যাচ্ছি; তুমিও ওখানে থাকলে কতই না আনন্দ হত।
লেডী ইসাবেলের সঙ্গে তোমার বেশ আলাপ-পরিচয় হয়ে গেছে বোধ হয়। সকলকে আমার ভালবাসা জানাবে এবং নিজেও সাগর-প্রমাণ ভালবাসা জানবে। চিঠি ছোট হল বলে কিছু মনে করো না; আগামী বার থেকে বড় বড় সব লিখব।
সদা প্রভুপদাশ্রিত তোমাদের বিবেকানন্দ
২৩৯*
[মিঃ স্টার্ডিকে লিখিত]
228, West 39th St. নিউ ইয়র্ক
৮ ডিসেম্বর, ১৮৯৫
প্রিয় বন্ধু,
দশ দিনের অত্যন্ত বিরক্তিকর এবং বিক্ষুব্ধ সমুদ্রযাত্রার পর আমি নিরাপদে নিউ ইয়র্কে এসে পৌঁছেছি। আমার বন্ধুরা ইতোমধ্যেই উপরের ঠিকানায় কয়েকটি ঘর ঠিক করে রেখেছেন। সেখানেই আমি এখন বাস করছি এবং শীঘ্র ক্লাস নেবার ইচ্ছা আছে। ইতোমধ্যে —রা অত্যন্ত শঙ্কিত হয়ে উঠেছে এবং আমাকে আঘাত করার যথাসাধ্য চেষ্টা করছে।
মিসেস লেগেট ও অন্য বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম, তারা বরাবরের মতই সদয় ও অনুরক্ত।
যে সন্ন্যাসীটি আসছেন, তাঁর সম্বন্ধে ভারত থেকে কোন সংবাদ পেয়েছেন কি? আমি এখানকার কাজের পূর্ণ বিবরণ পরে লিখব।
দয়া করে মিস মূলারকে, মিসেস স্টার্ডিকে এবং অন্য বন্ধুদের আমার ভালবাসা জানাবেন এবং শিশুকে আমার হয়ে চুম্বন দেবেন। ইতি
বিবেকানন্দ
২৪০*
228, West 39th St. নিউ ইয়র্ক
১০ ডিসেম্বর, ১৮৯৫
প্রিয়—,
সেক্রেটারীর পত্র পেয়েছি, তাঁর অনুরোধ মত Harvard Philosophical Club (হার্ভার্ড)-এ আনন্দের সহিত বক্তৃতা দেব। তবে অসুবিধা এই যে, আমি এখন এক মনে লিখতে আরম্ভ করেছি; কারণ আমি এমন কতকগুলি পাঠ্যপুস্তক লিখে ফেলতে চাই, যেগুলি আমি চলে গেলে আমার কাজের ভিত্তিস্বরূপ হবে। তার পূর্বে আমাকে চারখানি ছোট ছোট বই তাড়াতাড়ি শেষ করতে হবে।
এই মাসে চারটি রবিবাসরীয় বক্তৃতার জন্য বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। ফেব্রুআরীর প্রথম সপ্তাহে ব্রুকলিনে যে বক্তৃতাগুলি দিতে হবে, ডাক্তার জেন্স্ প্রভৃতি তার বন্দোবস্ত করছেন। আমার আন্তরিক শুভেচ্ছাদি জানবে। ইতি
তোমাদের শুভার্থী
বিবেকানন্দ
২৪১*
[মিঃ স্টার্ডিকে লিখিত]
228, West 39th St., নিউ ইয়র্ক
১৬ (?) ডিসেম্বর, ১৮৯৫
স্নেহাশীর্বাদভাজনেষু,
তোমার সব ক-খানি চিঠি একই ডাকে আজ এসেছে, মিস মূলারও একটি লিখেছেন। তিনি ‘ইণ্ডিয়ান মিরর’ পত্রিকায় পড়েছেন যে, স্বামী কৃষ্ণানন্দ ইংলণ্ডে আসছেন। যদি তাই হয়, যাদের আমি পেতে পারি, তাদের মধ্যে ইনিই হবেন সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী।
এখানে আমার সপ্তাহে ছ-টি করে ক্লাস হচ্ছে; তা ছাড়া প্রশ্নোত্তর ক্লাসও একটি আছে। শ্রোতার সংখ্যা ৭০ থেকে ১২০ পর্যন্ত হয়। এ ছাড়া প্রতি রবিবারে আমি সর্বসাধারণের জন্য একটি বক্তৃতা দিই। গত মাসে যে সভাগৃহে আমার বক্তৃতাগুলি হয়েছিল, তাতে ৬০০ জন বসতে পারে। কিন্তু সাধারণতঃ ৯০০ জন আসত—৩০০ জন দাঁড়িয়ে থাকত, আর ৩০০ জন জায়গা না পেয়ে ফিরে যেত। সুতরাং এ সপ্তাহে একটা বৃহত্তর হল নিয়েছি, যাতে ১২০০ জন বসতে পারবে।
এই বক্তৃতাগুলিতে যোগ দেবার জন্য কোন অর্থাদি চাওয়া হয় না; কিন্তু সভায় যে চাঁদা ওঠে, তাতে বাড়ী-ভাড়াটা পুষিয়ে যায়। এ সপ্তাহে খবরের কাগজগুলির দৃষ্টি আমার উপর পড়েছে এবং এ বৎসর আমি নিউ ইয়র্ককে অনেকটা মাতিয়ে তুলেছি। যদি এই গ্রীষ্মে এখানে থেকে একটি গ্রীষ্মকালীন বাসস্থান করতে পারতাম, তবে এখানকার কাজটা সুদৃঢ় ভিত্তিতে চলতে পারত। কিন্তু মে মাসে ইংলণ্ডে যাবার সঙ্কল্প করেছি বলে এটা অসম্পূর্ণ রেখেই যেতে হবে। অবশ্য কৃষ্ণানন্দ যদি ইংলণ্ডে আসেন এবং তাঁকে তোমার সুদক্ষ ও সুযোগ্য বলে মনে হয় এবং তুমি যদি বুঝতে পার যে, এই গ্রীষ্মে আমার অনুপস্থিতিতে কাজটার ক্ষতি হবে না, তবে গ্রীষ্মটা বরং এখানেই থেকে যাব।
অধিকন্তু ভয় হচ্ছে, অবিরাম কাজের চাপে আমার স্বাস্থ্য ভেঙে যাচ্ছে। কিছু বিশ্রাম আবশ্যক। এইসব পাশ্চাত্য রীতিতে আমরা অনভ্যস্ত—বিশেষতঃ ঘড়ি-ধরে চলাতে। ‘ব্রহ্মবাদিন্’ পত্রিকাখানি এখানে সুন্দর চলছে। আমি ‘ভক্তি’ সম্বন্ধে প্রবন্ধ লিখতে শুরু করেছি; তা ছাড়া মাসিক কাজের একটা বিবরণও তাদের পাঠাচ্ছি। মিস মূলার আমেরিকায় আসতে চান; আসবেন কিনা জানি না। এখানে জনকয়েক বন্ধু আমার রবিবারের বক্তৃতাগুলি ছাপছেন। প্রথমটির কয়েক কপি তোমায় পাঠয়েছি। আগামী ডাকে পরবর্তী দুটি বক্তৃতার কয়েক কপি পাঠাব, তোমার যদি পছন্দ হয় তবে অনেকগুলি পাঠিয়ে দেব। ইংলণ্ডে কয়েক শত কপি বিক্রীর ব্যবস্থা করতে পার কি?—তাতে ওরা পরবর্তী বক্তৃতাগুলি ছাপতে উৎসাহিত হবে।
আগামী মাসে ডেট্রয়েট যাব, তারপর বোষ্টনে ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। অতঃপর ইংলণ্ডে যাব কিছুদিন বিশ্রাম করে—যদি না তুমি মনে কর যে, আমাকে বাদ দিয়েও কৃষ্ণানন্দের সাহায্যে কাজ চলে যাবে। ইতি
