—সে না হয় আবার আসব। দেখি তো আগে।
ও লোরেন সুইন্টনকে দেখতে লাগল। আর আমি ওকে। টুম্পাকে এভাবে কখনো দেখিনি। ফ্ৰকই পরে আছে, কিন্তু এক পূর্ণ যুবতীর রূপরেখা ছড়িয়ে পড়েছে সারাশরীরে। আমার নিজের তাকানোতে নিজেরই কেমন লজ্জা হতে শুরু করল। আমি ওর থেকে চোখ সরিয়ে ওর মাথার ওপর দিয়ে লোরেনকে দেখব বলে চোখ চালালাম। আর যা ভয় করছিলাম ঠিক তাই। ঘরের জানালা হাট করে খুলে একটা ব্রা আর জাঙ্গিয়া পরে নাচছে সুন্দরী যুবতী মেমসায়েব। আর সেটাই পর্দার সিনেমার মতো দেখছে এই চুড়ি।
আমি গর্জন করলাম, টুম্পা জানলা বন্ধ কর।
ও অম্লান সারল্যে প্রশ্ন করল, তুমি পড়ার বাহানা করে এইসব দ্যাখ!
বললাম, পড়ার বাহানা করে দেখি না। পড়তে পড়তে দেখি।
টুম্পা জানলা বন্ধ করতে করতে বলল, অসভ্য মেয়ে কোথাকার।
আমিও ছাড়বার পাত্র নই, বললাম আর তুমি খুব সভ্য। পড়ার নাম করে এসে ওইসব দেখছ! ও মুখ ভেঙচিয়ে বলল, বেশ করেছি দেখেছি, ফের দেখব। বলে জানলা খুলতে গেল ও। আমি তৎক্ষণাৎ হাত বাড়িয়ে ওর হাতটা চেপে ধরলাম।
কিন্তু এ কী! ওর গায়ে তো আগুন বইছে। ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলাম। তোর কি জ্বর হয়েছে? তখনও ওর উষ্ণ হাতটা আমার হাতে চাপা। ও থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে বলল হ্যাঁ, ওষুধ দাও।
আমি এক ঝটকায় ওকে বুকের কাছে টেনে নিয়ে ওর ঠোঁটে চুমু দিলাম। ও দুটো হাত দিয়ে আমার মাথাটা ওর মুখের ওপর চেপে ধরল—আই লাভ ইউ নীতুদা। আই লাভ ইউ।
আমি আস্তে আস্তে ওর বুক স্পর্শ করলাম। কী অপূর্ব অনুভূতি। ফিসফিস করে কানের কাছে মুখ নিয়ে বললাম, আলো নিভিয়ে দেব। ওর মুখ ভেসে যাচ্ছিল ঘামে। চোখ বন্ধ। বলল, দাও।
আমি লাইট নিভিয়ে ওর জামাটা খুলতে লাগলাম। ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করল, এবার কী করবে তুমি? বললাম, বড়োরা যা করে। ওর ভয় বোধহয় বাড়ল। জিজ্ঞেস করল, কোনো ক্ষতি হবে না তো আমার? কোত্থেকে এক অন্ধবিশ্বাস জন্মাল আমার, বললাম, ধুর! কিচ্ছু হবে না।
ওর সব জামা খুলে ফেলেছি। নিজের পরনের প্যান্ট শার্টও ছুঁড়ে ফেলেছি। ওকে জড়িয়ে ধরে সারাশরীরে আদর ঢেলে দিচ্ছি, এক অদ্ভুত পাগলামির মধ্যে ডুবে গেছি আমরা। আমি অন্ধকারে ওর ওই গোপন জায়গাটা হাতড়ে বেড়াচ্ছি। হঠাৎ টুম্পা বলল, নীতুদা আজ থাক।
আমি উদবিগ্ন হয়ে অপরাধীর মতো জিজ্ঞেস করলাম, কেন, কী হল?
ও অন্ধকারে ওর জামা খুঁজতে খুঁজতে বলল, মা বলেছিল এই ঘরটার ওপর নজর রাখবে।
বললাম, তো কী হয়েছে? অত দূর থেকে এই ছাদের ঘরের ভেতরে কী হচ্ছে দেখা যায় নাকি?
ও জামা পরা শেষ করেই ঘরের আলো জ্বালিয়ে দিল। আমি তখনও সেই জন্মদিনের পোশাকে বসে আছি। টুম্পা বলল, কিন্তু আলো তো দেখা যায়!
এক মুহূর্তে আমার সব রোমাঞ্চ মাথায় চড়েছে। আমি দুদ্দাড় করে জামাপ্যান্ট গলিয়ে পিছনের জানলা ধাক্কা মেরে খুলে ডি লা মেয়ারের বদলে ওয়েনের কবিতা ‘স্ট্রেঞ্জ মিটিং’ খুলে বসলাম। টুম্পা ওর জায়গায় বসে কবিতার পাতা খুঁজতে লাগল ওর বইয়ে।
আমার ভেতর থেকে কে যেন ঠেলে বার করে আনল কথাগুলো, টুম্পা তোকে ‘স্ট্রেঞ্জ মিটিং’ বা আজব সাক্ষাৎ পড়ানোর কথা ছিল। আর কী এক সাক্ষাৎ হয়ে গেল আমাদের।
টুম্পা লাজুক স্বরে বলল, আমার ঠোঁটে দাগ নেই তো, নীতুদা? বললাম না।
—গালে?
—কোথাও নেই?
–যদি থাকে সেটা মনে। সেখানে কেউ দেখতে পাবে না।
–তুমিও না?
আমি সিঁড়িতে কাদের পায়ের শব্দ শুনলাম। কেউ বা কারা উঠে আসছে। অথচ টুম্পার প্রশ্নেরও উত্তর দেওয়া হয়নি। এই ক-দিনে ‘স্ট্রেঞ্জ মিটিং’-এর আগাগোড়া আমার মুখস্ত। টুম্পার প্রশ্নের জবাব দেব বলে পড়তে শুরু করলাম
Courage was mine and I had mystery
Wisdom was mine and I had mastery
Into vain citadels that are not walled
… … … …
… … … …
Even with truth that lie too deep for taint
I would have poured my spirit without stint
But not through wounds, not the cess of war.
কবিতার পঙক্তির যে কী মানে হয় তা বোঝার বয়স হয়তো হয়নি টুম্পার। কিন্তু কবিতার এইসব কথা হঠাৎ এক অন্য মানে নিয়ে, প্রায় আমার নিজের কথা হয়ে ওর কিশোরী মনে দোলা দিল। কিছু না বলেও মনে হল যেন সব বোঝাতে পেরেছি এক লহমায়।
ঠিক তখন আমাদের কাজের লোক বুড়িমাকে নিয়ে দরজায় এসে দাঁড়ালেন মাসিমা। টুম্পার মা এক গাল হেসে বললেন, আমি উঠতে উঠতেই শুনতে পাচ্ছিলাম তোমার পড়ানো। কী সুন্দর! তুমি মাঝে মধ্যে ওকে একটু ইংরেজিটা পড়িয়ে দিয়ো না। ওর খুব উপকার হয় তাহলে।
আমি প্রায় তোতলাতে তোতলাতে বললাম, দেখি। ওর মাথা তত খুব ভালো, চট করে বুঝে যায়। তবে… তবে… আমি তো সামনের বছর থেকে বোর্ডিং-এ পড়ব… তখন…
মাসিমা সামলে দিলেন, সে ঠিক আছে। তোমার মতো কারও গাইডেন্স পেলে ও এই ক মাসেও অনেক ধরে নিতে পারবে। আজকাল টিউটরদের কথা জানই তো। পড়ানোর নামে ইয়ার্কি ফাজলামি। টাকার শ্রাদ্ধ।
আমি এতক্ষণে একটু সামলে নিয়েছি। বললাম, তবে মাসিমা ওকে এখানে এসেই পড়তে হবে। আমি তো কোথাও যাই না।
মাসিমা বললেন, বেশ তো, এ তো বেশ ভালোই ঘর পড়ার পক্ষে। কোনো অসুবিধে নেই। বলে ঘরটার ভেতরে একটা পাক দিলেন মাসিমা। তারপর হঠাৎ জানলার পাশে এসে থমকে দাঁড়ালেন। চোখ দুটো ওঁর একটু একটু করে বড়ো হতে লাগল। বিকিনি পরে উদ্দামভাবে নেচে চলেছে লোরেন। গ্রামে গান বাজছে টোনি ব্রেন্ট-এর ‘সামওয়ান এলস ইজ ইন ইয়োর আর্মস টুনাইট।
