—কিন্তু একটা অক্ষত মন।
হারেমের জীবনে কত সুন্দরী দেখা হল চয়নের। কিন্তু ওই পর্যন্ত। অথচ হঠাৎ করে হারেমের নতুন এক আমদানির দিকে থেকে থেকেই চোখ সরে গেল। তাও মুখ বা শরীরের দিকে নয়, সারাশরীর বোরখায় মোড়া মেয়েটার ছোট্ট ছোট্ট, ফর্সা দুটি পায়ের পাতার দিকে। এরকম একজোড়া পায়ের পাতা ওর মগজে ভর করে আছে কতকাল। সিলহটের মেয়েদের এরকম নরম তুলতুলে পা হয়।
তারপর একদিন বোরখার জালের পিছনে একজোড়া নীল চোখও চোখে পড়ল চয়নের। বুকের মধ্যে ওর তখন পাহাড় ভাঙছে। হে কৃষ্ণ! হে শংকর! হে অবতার শংকরদেব! জীবনভর তোমাদের কীর্তন গেয়ে এই তার পুরস্কার। শেষে যে-হারেমের প্রহরী হলাম সেই হারেমে জব্দ করলে কুঞ্জকে!
চয়ন শীতের রোদে বহুক্ষণ চেয়ে ছিল বোরখাওয়ালির চোখের দিকে। সেই চাহনিতে কি পিপাসা ছিল? অন্তত কুঞ্জর তাই মনে হয়েছিল। কাজেই সেই রাতের বেলায় সারাহারেম যখন বহুদিন পর ফের বাবা লাহোরির কিসসা শুনছে কুঞ্জ পা টিপে টিপে চলে এল চয়নের ঘরে। মাঝখানে এক জায়গায় পাহারায় ছিল খোজা বিল্লা, সে হাঁক দিল, কৌন চলে রাতকো ওয়ক্ত! কুঞ্জ বোরখার অন্ধকার থেকে জবাব ছুঁড়ল হারেমের অন্ধকারে, ম্যাঁয় দিলারা। কহানি শুননে কো চলা। বিল্লা জিজ্ঞেস করল, তো উস তরফ কিউ? কুঞ্জ জবাব দিল, ফৈজুকো বুলানেকো। বিচারি নিদ পড়ি। বিল্লা বোঝার ভান করে বলল, হ্যাঁ।
বানানো কথা যে এভাবে সত্যি হয় তা জন্মেও ভাবতে পারত না কুঞ্জ। চয়নের ঘরে ঢুকে বোরখার পরদা তুলে ডাকল যখন ‘চয়ন। চয়ন। বলে, শুয়ে থাকা মানুষটা চোখও মেলল না। অন্ধকারে চয়নের ঠোঁটে একটু চুমু দিতেই চমকে উঠল কুঞ্জ। পাথরের মতো ঠাণ্ডা ঠোঁট লোকটার। অথচ গায়ে কোনো গরম চাদরও নেই।
কুঞ্জ পাথর ঘষে মোম জ্বালিয়ে দেখল উলঙ্গ হয়ে শুয়ে থাকা চয়নের শরীর থেকে প্রাণ যায়-যায়। কুঞ্জর চোখে পড়ল স্বামীর খোজা করা পুরুষাঙ্গের দিকে। একটা প্রবল কান্নায় ভেঙে পড়ে স্বামীর নিথর শরীরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল কুঞ্জ।
—কুঞ্জ, আমি তো মরেই ছিলাম। আমায় বাঁচাতে গেলে কেন?
–একসঙ্গে মরব বলে।
–তুমি পারলে আমার মরা শরীর বয়ে নিয়ে যমুনায় যেতে?
—বিল্লা সাহায্য করল।
—বিল্লা! ওই কুৎসিত, কদাকার জন্তুটা?
–ওকে কেউ কোনোদিন একটা মিষ্টি কথাও বলে না। আমি অন্ধকারে ওকে জড়িয়ে ধরে চুমু দিলাম, আদর দিলাম। তারপর গদগদ সুরে বললাম, বিল্লা, চয়নকে আমি আফিম খাইয়ে মেরে ফেলেছি। ভোর হলেই হইচই হবে। তুই, আমার পিয়ারে বিল্লা, ওর মড়াটা নিয়ে জলে ফেলে দে। তারপর তোকে আমি আরও অনেক আদর দেব।
-তারপর?
—বিল্লা তোমাকে জলে ছুঁড়ে ফেলে যেই পাশে চাইল, দেখল আমিও তোমার সঙ্গে ভেসে যাচ্ছি যমুনায়।
তোর বাপ আর মাকে পরদিন সকালে খুঁজে পেলাম এই পাড়ে। মরবে বলে বহুত আফিম খেয়েছিল চয়ন, কিন্তু ঢেউয়ের চোটে বেঁচে গেল। বেঁচে গেল কুঞ্জও। কিন্তু তার পরেও ওরা বাঁচতে চাইল না, একসঙ্গে মরবে বলে। তবে ওই তিনদিন আর তিন রাতে আমার ঝোলাতে রেখে গেল ওদেরই বুকের কিসসা। যা শুনে জাহাঙ্গির বাদশারও চোখে আঁসু এল।
নন্দন উঠে গিয়ে ফের প্রণাম করল বাবা লাহোরিকে। গল্পে গল্পে তখন শীতের সূর্য ঢলে পড়েছে পশ্চিমে, দুজনের কারও খেয়াল নেই। বাবা লাহোরি বললেন, বেটা, চল আমার বস্তিতে। একটু নাহিয়ে নিয়ে কিছু পাক করে খেয়ে নিই।
নন্দন আমতা আমতা করে বলল, কিন্তু, হুজুর, আমার হারেমে কিছু খাবার আছে। একবার ফিরে যেতেও তো হয়। সারারাত বাইরে বাইরে।
বাবা লাহোরি গম্ভীর গলায় হুকুম করলেন, তুই আর কখনো হারেমে ফিরবি না। আমারও কিছু জমা রুপৈয়া আছে। তোর মালিকের কাছ থেকে তোর আজাদি আমি কিনে নেব। আর তোকে আমার একমাত্র শাগির্দ করে রেখে যাব। তুই হবি দুনিয়ার সেরা রাতকে-কিসসা গাওয়াইয়া। আমার উমর একশো; তোর জন্য আমি আরও দশ সাল বাঁচব।
৪.
দশ বছর পর বাবা লাহোরি দেহত্যাগ করলে তাঁর একমাত্র শাগিদ ফকির রাজা গল্প শোনানো শুরু করেন। তিনি উর্দু, ফারসি, আরবি, হিন্দি, বাংলা ও সংস্কৃতে পন্ডিত ছিলেন। সারাজীবনে তিন হাজার প্রেমের গল্প শুনিয়েছিলেন মানুষকে। তাদের একটি কাহিনি খুররম ও আর্জুমন্দ বানুর প্রেমকাহিনি। ইতিহাসে যাঁদের প্রখ্যাতি শাহজাহান ও মুমতাজ মহল নামে। বাদশাহ আলমগির ১৬৮০ সাল থেকে গানের চর্চা নিষেধ করলে ফকির রাজার রাতের কাহিনিগায়ন বন্ধ হয়। মনের দুঃখে তিনি যমুনায় ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
*In Bengal the peasants usually paid the revenue in cash, and cropsharing was but rarely practised. Jahangir declares, however, that in Silhat (Sylhet), the peasants used to offer their children as eunuchs in satisfaction of their revenue demand in view of the great market for them that the harems of the aristocrats provided they were doubtless as good as money for the revenue collectors.
**Jahangir says he prohibited this practice but it is unlikely to have been eradicated
–The Agarian System of Mughal India 1556-1707: Irfan Habib (p. 279).
রান আউট ৯৯
ব্রাভো! ওয়েল ডান মাইবয়। নেভার মাইণ্ড দ্য রান আউট, আফটার অল ইটস ক্রিকেট।
