ছোকরা বরের কায়দাকানুনের বেশ একটা ধারণা হয়েছে মণিবালার এই ক-দিনে। যেটা বেশি বারণ করা যায় সেটাই সে আগে করবে। তাই চোপা না করে মণিবালা একটা কারের জোগাড়ে গেল পাশের ঘরে। আর ন্যাপা উদোম দেহে বিছানায় গ্যাট হয়ে বসে ব্র্যাণ্ডিতে চুমুক দিতে দিতে গান ধরলে জ্ঞান গোঁসাইয়ের ‘শূন্য এ বুকে পাখি মোর ফিরে আয়।
ন্যাপার গলাটা মন্দ না, সিনেমার গান ভালোই তোলে। তবে বড়োমামা দু-চার কলি গাইতে বললে সবসময় রাগপ্রধান ধরে। বিশেষ করে জ্ঞান গোঁসাই বা কেষ্টবাবুর গান ধরলে আবেশে মামার চোখ বুজে আসে। এখন যেমন বুজে আসছে ওর নিজের চোখই।
মণিবালা বাস্তবিকই কোত্থেকে একটা কার জোগাড় করে পাজামায় পরিয়ে নিয়ে এল বরের কাছে—এই নাও পাজামা। চটপট গলিয়ে ফেলো তো।
হাতে গেলাস নিয়ে চোখ বুজে সুর লাগাচ্ছিল ন্যাপা—’তুই ফিরে এলে ওরে উন্মাদ, পান্ডুর হবে আকাশের চাঁদ’, সেই অবস্থায় এই ব্যাঘাতে সে গান থামিয়ে বলে উঠল, রাখো তো তোমার পাজামা! এই ন্যাংটা আমি কি দেখতে খারাপ? তুমি বরং বসো, আমার গান শোনো।
ন্যাপা পাজামাটা ছুড়ে ফেললে মেঝেতে আর শুরু হল ওর গান। মণিবালা পাজামাটা মাটি থেকে তুলে বসল স্বামীর পায়ের কাছে। বরং যাতে গানে ডুবে যায় মণিবালা ততই ধরে ধরে পাজামা গলায় পা বেয়ে। শেষে কোমর অবধি এসে গেছে যখন পরিধানটা তখন জ্ঞানবাবুর রেকর্ডের ধারায় ‘শূন্য’ বলে একটা তান মেরে খপাৎ করে বাগিয়ে ধরল বউকে। আর ধরা মানে সে কী ধরা! রাগের পকড় যেন। ধরেই বউকে চিত করে ফেললে কোলের উপর,
তারপর সুরাপানের মতো করে তার ঠোঁটের জুস পান করা শুরু করলে। কয়েক মুহূর্ত আগে ব্র্যাণ্ডির চাইতেও ঢের আগুন মণিবালার ঠোঁটে। তারপর পটপট করে খুলে ফেললে তার বুকের ব্লাউজ। আলতো করে হাত বোলাল ধবধবে ফরসা দু-টি স্তনে। আর বললে, মণি, প্রমথেশ-দুর্গাদাসের সাধ্যি নেই এইরকম আনন্দ দেয়।
ন্যাপা এবার হাত বুলোনো চুলোয় দিয়ে হিংস্র ক্রীড়া শুরু করল মণিবালার শরীরের উপর। সদ্য কেনা আমকাঠের পলকা পালঙ্ক থড়বড় করে কাঁপতে লাগল, ন্যাপার তরতাজা খেলুড়ে শরীরের তলে চিড়েচ্যাপটা হতে হতে মণিবালার কেবলই মনে হতে থাকল—এ সুখের স্বাদই আলাদা।
আর ঠিক তক্ষুণি দড়াম দড়াম ধাক্কা পড়ল ফ্ল্যাটের দরজায়। চমকে উঠেছিল ন্যাপা, মণি দু-জনাই— সত্যিই তো, এত রাতে কোন আপদ ভর করলে। ন্যাপা যেমনটি পড়েছিল বউয়ের উপর ঠিক তেমনিই পড়ে রইল। চিড়েচ্যাপটা মণিবালা মস্ত মস্ত শ্বাস ফেলে ফেলে পড়ে রইল বরের তলায় যেমনকে তেমন। আর ওই দুমদাম চলতেই রইল।
শেষে বউয়ের মুখের উপর থেকে মুখ তুলে ন্যাপা বললে, না মণি, এ তো ভূত নয়।
বরের কথায় এই ঘোর বিপত্তিতেও হেসে ফেলল মণিবালা। বলল, তা হলে তুমি এই ভয়েই এতক্ষণ মুখ লুকুচ্ছিলে?
মুখ লুকোচ্ছিলাম। আমি? কলকাতার ফাস্টরেট স্কাউড্রেল, দি ওয়ান অ্যাণ্ড ওনলি নৃপেন ব্যানার্জি। হাজব্যাণ্ড অব দি গ্রেটেস্ট বেঙ্গলি হিরোইন মণিবালা দাসী! ভাগনে অব দি ওয়ান অ্যাণ্ড ওনলি ব্যারিস্টার বরদাকান্ত চ্যাটার্জি! আমি মুখ…
ন্যাপা আর কথা শেষ করতে পারেনি, বিছানার নীচে পড়ে থাকা পাজামাটা কোনোমতে গলাতে গলাতে দরজার দিকে ছুটে গেল! মণিবালা প্রমাদ গুনল সর্বনাশ। ঘর বলতে তো এই একটিই, সেখানে ভদ্দরলোককে বসানো যায়। দৈবাৎ এ যদি ওর মামাবাড়ির কেউ হয়। ও কোনো মতে নগ্ন শরীরটাকে শাড়ির আলগা আলগা প্যাঁচে ঢাকতে ঢাকতে পাশের ঘরটায় গিয়ে লাইট না জ্বালিয়েই চুপচাপ দাঁড়িয়ে পড়ল।
আর ন্যাপা খিল তুলে দরজা খুলতেই ধড়াস করে মাটিতে গড়িয়ে পড়ল এক বিশাল বড়ো পুরুষ। ধুতি, পাঞ্জাবি, নিউকাট পাম্পশু, মাঝখান থেকে সিধেকাটা চুল আর হাতের সিগারেট টিন নিয়ে যেন এইমাত্র নেমে এলে থিয়েটারের স্টেজ থেকে। আর পড়বি তো পড় একেবারে আধাউদোম ন্যাপাকে সঙ্গে নিয়ে।
আর ওই পড়তে পড়তে ন্যাপা হাঁকলে, এই রাত-বিরেতে তুমি কে হে! আরে ছোঁঃ মদের ডিস্টিলারি উপড়ে এনেছে কোথেকে।
আগন্তুক ন্যাপাকে শোয়া অবস্থায় জাপটে ধরে বললে, বল শালা আমার মণিবালা কই!
ন্যাপা ওর হাত ছাড়াতে ছাড়াতে বললে, খবরদার, ওই নাম ফের মুখে এনেছ কি…! আগন্তুক কোনো মতে সোজা হয়ে দেওয়াল ঠেস দিয়ে বসে বললে, ছোকরা বলে কী! আমার মণিমালার নাম আমি করতে পারব না?
ন্যাপা বলল, এখানে যিনি থাকেন তিনি মণিবালা, মণিমালা নয়।
লোকটা বলল, ওই হল। যা মালা তাই বালা। গলায় মালা, হাতে বালা। এই তো।
ন্যাপা চ্যাঁচাল, চোপ! দূর হ, মাতাল কোথাকার।
সে লোক বললে, আমার মণিমালা দে, দূর হয়ে যাই।
আর তখন পাজামা সামলাতে সামলাতে ন্যাপা লোকটার কোমরে ক্যাত করে দুই লাথি ঝাড়লে।
লাথি দুটো হজম করলে খুব হাসি হাসি মুখে মানুষটা, তারপরই যাত্রা ভিলেনের মতো ‘তবে রে শালা!’ বলে হুংকার দিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে ঝাঁপ দিয়ে পড়ল ন্যাপার উপর। অত বড়ো বপু যে ওইভাবে উড়ে আসতে পারে তা ন্যাপার হিসেবে ছিল না। ও টাল সামলাতে না পেরে ছিটকে গিয়ে পড়ল শোওয়ার ঘরের সামনে ছোট্ট, চৌকো, লাল মেঝেতে। লোকটা ততক্ষণে তার নিউকাটের এক পার্টি খুলে ফেলেছে, সেই হাত তেড়ে এল ন্যাপার উপর। কিন্তু নীচু হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীকে জুতোপেটা করতে গিয়ে নিজেও গড়িয়ে পড়ল মাটিতে। ন্যাপা মনে মনে ভাবল, আচ্ছা হারামির পাল্লায় পড়া গেল তো! তাই পড়া অবস্থাতেই জিজ্যেস করল, তুই কে রে আপদ?
