কী কথা?
বলল–পানিগ্রাহীসায়েব ভারতবাবুর ওপর লক্ষ রাখতে বলেছেন, তার পিছনে কোকেন, এল এস ডি বা নিষিদ্ধ ড্রাগের চোরাকারবার ধরা মোটেও উদ্দেশ্য নয়। উদ্দেশ্যটা সে এবার টের পেয়ে গেছে।… সুমন্ত থামল।
পাণিগ্রাহী তেড়ে এলেন।…কী উদ্দেশ্য বলল তন্দ্রা?
কর্নেল বললেন, প্লীজ, প্লীজ! সুমন্ত তুমি বলো।
সুমন্ত বলল, ভারতবাবুর সঙ্গে এক ভদ্রমহিলার কী সম্পর্ক–তন্দ্রা বলল মিঃ পানিগ্রাহী যেন সেটাই জানতে চান আসলে। তন্দ্রা আরও বলল, তিন নম্বর চিঠিতে তাকে বিশেষভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে..
কর্নেল কথা কেড়ে বললেন, হ্যাঁ–বিশেষ করে কোনও মহিলার সঙ্গে ভারতবাবুর যোগাযোগ ঘটেছে কি না।
ঠিক তাই স্যার। তা তাকে বললুম– তুমি কীভাবে জানলে যে ওটাই আসল কারণ। তন্দ্রা বলল–চিঠির নির্দেশ অনুযায়ী আমি নজর রেখে দেখলুম এ স্যুটে এক ভদ্রমহিলা আছেন। ভারতবাবু প্রায়ই তার ঘরে গিয়ে কাটাচ্ছেন। ২১ তারিখ রাত্রে আকাশ পরিষ্কার ছিল। দুজনকে বাইরে থেকে আসতে দেখেছিল নাকি তন্দ্রা–আমি ঘুমোছিলুম। তন্দ্রা বলল, সে উঁকি দিয়ে দেখল– নির্জন করিডরে ভারতবাবু আর মহিলা ঘনিষ্ঠভাবে কথা বলছেন। হঠাৎ সেই সময় মহিলাটির চোখে পড়ে তার সুইটের দরজায়। অমনি ওরা সরে আলাদা হয়ে যায়। আর তন্দ্রাও দরজা বন্ধ করে। কাজেই তন্দ্রা বলল–তার ফেমিনিন ইনস্টিংক্ট অনুযায়ী নাকি মিঃ পানিগ্রাহীর আসল লক্ষ ওটাই। আমরা দুজনে সারা বিকেল ওই নিয়ে আলোচনা করলুম। ভদ্রমহিলাকে আমি দেখিইনি। যাই হোক, আমরা দুজনে সিদ্ধান্তে এলুম যে ২২ তারিখ-টারিখ কোনও ব্যাপারই নয়। আসলে ওই সময়ের মধ্যে ওই ভদ্রমহিলার আসার কথা ছিল এখানে–এটা পানিগ্রাহীদা জানতে পেরেছিলেন। তাই আমাদের গোয়েন্দা হিসেবে লাগিয়েছিলেন। আমরা দুজনেই চন্দনপুরে অচেনা বললেই হয়। গত মার্চে আমি এদিকে ইলেকসানে খেটে গেছি কিন্তু তখন তো মাথায় লম্বা চুল ছিল না আমার। আর অত মনেই বা কে রাখে! অমন কয়েকডজন কর্মী খেটেছিল।
কর্নেল বললেন, এক মিনিট! মিঃ পানিগ্রাহী, আপনার ফোনটা একবার নেব?
পানিগ্রাহী ক্লান্তভাবে বললেন, হ্যাঁনিন না। হোটেলে রিং করবেন?
না। সেনাপতিকে। বলে কর্নেল ফোন তুললেন।…একবার প্লীজ থানায় দিন।…হ্যাঁ, হ্যালো! কে বলছেন? মিঃ সেনাপতি ফিরেছেন?…কেউ ফেরেননি? ডাঃ পট্টনায়কের ওখানে গেছেন? আমি কর্নেল সরকার বলছি। ঠিক আছে। ছাড়ছি?
কর্নেল ফোন ছেড়ে সরে এলেন। হ্যাঁ, সুমন্ত, তারপর বলল।
সুমন্ত বলল, আমরা সমুদ্রের ধারে ঘুরছি, বৃষ্টি এসে গেল। তখন সামনে শার্কে ঢুকলুম। আগের দিনও ঢুকেছিলুম। বেশ সুন্দর বার-কাম রেস্তোরাঁ। তন্দ্রার ওই অভ্যাস। একবার কিছু মাথায় এলে তা নিয়ে সিরিয়াস হয়ে যাবে। আমরা হোটেলে গিয়ে সোজা পানিগ্রাহীদার কাছে গিয়ে রিপোর্টটা দেব আর সোজা জেনে নেব রহস্য–এই হলো আমাদের সিদ্ধান্ত। কিন্তু বৃষ্টি দেরি করিয়ে দিল। তারপর হঠাৎ ছোরা হাতে মুখোশপরা মূর্তি এসে…
কর্নেল বললেন, ঠিক আছে। সুইট নাম্বার এতে মহিলাটিকে দেখেছিল তন্দ্রা?
হ্যাঁ, স্যার।
মিঃ পানিগ্রাহী, মহিলাটি কে?
পানিগ্রাহী ভুরু কুঁচকে বললেন, ওসব সুমন্ত আর তন্দ্রার অলীক ধারণা। অবশ্য ভারতের লাম্পট্য চিরাচরিত। সবাই জানে। ওরা দুজনেই ভুল করেছিল। আসলে আমার খবর ছিল–মহিলাদের মারফতও ড্রাগ পাচার হয়। তাই ওদের মহিলাদের দিকেও লক্ষ রাখতে বলেছিলুম। তাছাড়া–কোন মহিলার সঙ্গে ভারতের কী হচ্ছে না হচ্ছে জানবার জন্যে আমি মিঃ শর্মাকেই বা কেন কষ্ট করে দিল্লি থেকে আসতে বলব? আর কেনই বা অত গাঁটের পয়সা খরচ করে দু-দুটো লোক লাগাব? বলুন–কোনও যুক্তি আছে।
কর্নেল বললেন, –আছে। যদি মহিলাটি… বলেই চুপ করে গেলেন হঠাৎ। পানিগ্রাহী ঝুঁকে এলেন।…বলুন বলুন।
থাক। আমি আগে নিশ্চিত হতে চাই–তারপর সিদ্ধান্তে আসব। আচ্ছা মিঃ শর্মা, উঠি তাহলে। আপনি বিশ্রাম করুন। মিঃ পানিগ্রাহী, চলি। সুমন্ত তুমি তুমি বরং এস আমার সঙ্গে।
পানিগ্রাহী গম্ভীর হয়ে বললেন, ও থাকবে কর্নেল। ওর সঙ্গে আমার কথা আছে।
কর্নেল হাসিমুখে সুমন্তর দিকে তাকালেন।…সুমন্ত, আমার মনে হয় পুলিস তোমার এজাহারটা দাবি করবে। সেটা শীগগির হলেই তোমার পক্ষে নিরাপদ।
সুমন্ত উঠে বলল, নিশ্চয়। চলুন কর্নেল। পানিগ্রাহীদা, পরে দেখা হবে।
সুমন্ত কর্নেলের আগেই বেরিয়ে এল। শর্মা করিডর অব্দি এসে চাপা গলায় বললেন, সবটাই ধাঁধা, কর্নেল। যাক গে, খুব ক্লান্তি লাগছে। যা জার্নির ধকল গেছে। আমি একটু জিরিয়ে নিই। ওবেলা দেখা হবে।
পানিগ্রাহী গুম হয়ে ঘরে একা বসে রইলেন।
রাস্তায় নেমে কর্নেল বললেন, বাংলোয় পাওয়া সিগারেট কেসটা…
সুমন্ত কথা কেড়ে বলল, ওটা আমাকে ডঃ পট্টনায়কের মেয়ে কল্যাণী প্রেজেন্ট করেছিল। গত ইলেকশানে এসে কল্যাণীর সঙ্গে আমার আলাপ হয়। একটু হৃদ্যতাও হয়েছিল।
তাহলে পট্টনায়ক-ফ্যামিলি তোমাকে ভালই চেনেন। অথচ তুমি বললে, এখানে তুমি অচেনা।
ফ্যামিলিতে বিশেষ চেনে না। চেনে শুধু কল্যাণী। সে তো কলকাতায় আছে এখন।
উঁহু, কল্যাণী এসেছে।
কল্যাণী এসেছে নাকি? বাঃ, জানতুম না। ভালই হলো। উঃ, দুটোদিন যা লুকোচুরি খেলা গেছে, কোনওকিছু ভাববার ফুরসতই পাইনি। আমি বরং তাহলে ওদের বাড়িতেই থাকব আজ রাত্তিরটা। কাল সকালে কেটে পড়বখন।
