তার কাছ থেকে কোনও তথ্য উদ্ধার করা গেল না।
.
রাত আটটার চোরের দল এ পর্যন্ত যাদের বাড়ির ওপরে হানা দিয়েছিল তাঁদের প্রত্যেককেই থানায় আহ্বান করা হল, তিনটে বাক্সে পাওয়া চোরাই মালগুলো সনাক্ত করবার জন্যে।
সেই বেলজিয়ামে প্রস্তুত রিভলভারটা দেখেই জনৈক মহিলা বললেন, ওটা আমাদের সম্পত্তি। চোরেরা আমাদের বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়েছে। কিন্তু রিভলভারের ক্লিপটা তাড়াতাড়িতে বা ভুল করে নিয়ে যেতে পারেনি, এখনও আমাদের বাড়িতেই পড়ে আছে।
তৎক্ষণাৎ ক্লিপটা আনিয়ে পরীক্ষা করে দেখা গেল, রিভলভারের সঙ্গে তা খাপ খেয়ে যায় যথাযথ ভাবেই।
কনলি বললেন, টিঙ্গো, রিভলভারটা তাহলে তুমি কোনও মোটরগাড়ি থেকে চুরি করোনি। তুমি যে রাত আটটার চোরেদেরই একজন, এইবার তার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেল। তুমি কি এখনও মিথ্যা কথা বলতে চাও?
না, ডেভিড টিঙ্গো আর মিথ্যা কথা বলতে চায় না। কিন্তু সে যে সব আজব কথা বললে, তা শ্রবণ করে গোয়েন্দাদের চিত্ত একেবারে চমৎকৃত হয়ে গেল।
রাত আটটার চুরিতে তার জুড়িদার ছিল না অ্যান্ডি ক্লিং।
টিঙ্গোর একমাত্র জুড়িদার হচ্ছে তার পিতা স্বয়ং।
সে বললে, বাবা রোজ রাত্রে চুরি করবার জন্যে আমাকে জোর করে সঙ্গে নিয়ে যেতেন, আমাকে তার সঙ্গী হতে হত ইচ্ছার বিরুদ্ধেই । তাই রাত্রে প্রায়ই আমি পালিয়ে বেড়াতুম। যেদিন আপনার প্রথম আমাকে থানায় নিয়ে আসেন, সেদিনও আমি বাবার ভয়ে রাত্রে রাস্তায় মোটরে শুয়ে ঘুমোচ্ছিলুম।
সেই রাত্রেই ডেভিড টিঙ্গোর বাবা ধরা পড়ল। তার নাম বেঞ্জামিন টিঙ্গো। ধরা পড়েই সে অপরাধ স্বীকার করতে একটুও ইতস্তত করলে না। সে এক অদ্ভুত চরিত্রের লোক– সত্যিকারের ডা. জেকিল ও মিঃ হাইড। দিনের বেলায় ভালো চাকরি করে, মাহিনা পায় হপ্তায় পাঁচশো টাকা। সকলেই তাকে অত্যন্ত সাধু, ভদ্র-নম্র প্রকৃতির মানুষ বলে জানে। সে যারপরনাই ধর্মভীরু, নিজের বাড়িতে প্রত্যেক ঘরে রাখে একখানা করে বাইবেল।
সে নিজের বাড়ির গুপ্তস্থান থেকে আরও চল্লিশ হাজার টাকার চোরাই মাল বার করে দিয়ে বললে, পুলিশ চারদিকে ধরপাকড় করছে বলে ভয় পেয়ে আমি তিন বাক্স চোরাই মাল নদীর ধারে ফেলে দিয়েছিলুম। সেই সঙ্গে ভ্রমক্রমে গিয়েছিল আমার ছেলের চামড়ার ব্যাগটাও।
কিন্তু এখনও গোয়েন্দাদের জন্যে অপেক্ষা করে আছে নতুন নতুন বিস্ময়।
বেঞ্জামিন টিঙ্গো নিজেই বলল, ফিলাডেলফিয়ার ডাক্তারদের উপর হানা দিয়েছিলুম আমরাই।
ডেভিড টিঙ্গো বললে, অ্যান্ডি ক্লিংকে বিনা দোষে ধরা হয়েছে। বুড়ো জর্জ ব্রাউনকে রিভলভার দ্বারা আঘাত করেছিলাম আমিই।
তাদের কথা যে মিথ্যা নয়, সে প্রমাণ পেতে বিলম্ব হল না। নির্দোষ ব্যক্তিরা মুক্তিলাভ করল। আসামিরা গেল কারাগারে।
আর সেই ছোট্ট জর্জ ফ্রেডি টম–যে আবিষ্কার করেছিল চোরাই মালের বাক্স তিনটে– সে উপহার লাভ করল একখানি বাইসাইকেল।
–এখানে যে ডিটেকটিভ কাহিনিটি দেওয়া হল, এটি গল্প নয়, একেবারে সত্য ঘটনা। ঘটনাক্ষেত্র হচ্ছে আমেরিকা। ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দের ঘটনা।
গুহাবাসী বিভীষণ
এক
বিমল ও কুমার আমেরিকান ও ইংরেজি পদ্ধতিতে বক্সিং অভ্যাস করছিল।
আজ সকালেই ওই দুই দেশের বিশেষ পদ্ধতি নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক হয়ে গেছে। এখন খুব-খানিকটা ঘুসোঘুসি করেও তর্কের কোনও শেষ-মীমাংসা হল না।
বিমল মুষ্টিযুদ্ধের দস্তানা খুলে ফেলতে ফেলতে বললে, ঘুসির জোরেও যে তর্কের মীমাংসা হয় না, আপাতত সে তর্ককে বাতিল করে দেওয়া যাক।
কুমার বললে, তোমার সোলার প্লেক্সাসে একটি মাত্র ঘুসি মারবার ফাঁক পেলেই এখনি একটা হেস্তনেস্ত হয়ে যেত।
বিমল বললে, কিন্তু আমেরিকান কায়দা সে ফাঁক দেয় না! মনে রেখো, সোলার প্লেক্সাসে ঘুসি মেরে যোদ্ধাকে অজ্ঞান করবার কৌশল প্রথমে আমেরিকাতেই আবিষ্কৃত হয়েছিল।
বাইরে থেকে ডাকপিয়ন হাঁকলে–চিঠি আছে!
বিমল বললে, দ্যাখো গে বিনয়বাবুর চিঠি এল কিনা! বাহাদুরগঞ্জে গিয়ে পর্যন্ত তিনি কোনও চিঠি লেখেননি!
কুমার বেরিয়ে গেল। তারপর একখানা খাম হাতে করে ফিরে এসে বললে, হ্যাঁ, বিনয়বাবুর চিঠিই বটে!
কি লিখেছেন পড়ে শোনাও।
কুমার খাম ছিঁড়ে চিঠি বার করে চেঁচিয়ে পড়তে লাগল,
প্রিয় বিমল ও কুমার,
বায়ু পরিবর্তনের জন্যে এখানে এসে পর্যন্ত তোমাদের যে-কোনও পত্র লিখিনি তার কারণ হচ্ছে, এতদিন দেবার মতো কোনও খবর ছিল না। এখানকার প্রধান ঐশ্বর্য ব্রহ্মপুত্র নদ। সে আগেও যেমন বইত, এখনও তেমনি বইছে। সকালে সন্ধ্যায় তার তীরে বসে সূর্যকিরণের জন্ম ও মৃত্যু দেখতে আমার খুব ভালো লাগে বটে, কিন্তু পত্রে সে-খবরের মধ্যে তোমরা কোনওই নতুনত্ব আবিষ্কার করতে পারতে না। কবির কলম পেলে এখানকার প্রাকৃতিক দৃশ্যের উজ্জ্বল বর্ণনা করতে পারতুম। কিন্তু তোমরা জানো, আমি কবি নই,–শুষ্কপ্রাণ বৈজ্ঞানিক মাত্র।
কিন্তু সম্প্রতি এখানে একটি দেবার মতো খবর পাওয়া গেছে।
তোমরা ভূত মানো না, আমিও মানি না। ভূতের গল্প শুনে ও পড়ে আমি কেবল শখ করে ভয় পেতে ভালোবাসি। হয়তো তোমাদেরও সেই অভ্যাস আছে, তাই আমি আজ তোমাদের একটি নতুন ভূতের গল্প শোনাব।
এখানকার বাসিন্দাদের মতে, একটি অজানা ভূত নাকি আমারই মতো বায়ু পরিবর্তনের জন্যে এ অঞ্চলে এসে উপস্থিত হয়েছে।
