বটে, বটে। তাহলে আমার সঙ্গে একবার থানায় চলো তো বাপু।
টিঙ্গো কোনওরকম ইতস্তত না করেই শিলির অনুসরণ করলে।
থানায় এসে টিঙ্গো বললে, মা-বাবা আমার জন্যে ভাবছেন। একবার বাড়িতে ফোন করতে পারি?
–নিশ্চয়ই। ওই ঘরে ফোন আছে।
টিঙ্গো চলে গেল। শিলি থানার ফাইল ঘেঁটে দেখতে লাগল, ডেভিড টিঙ্গো নামে কোনও ছোকরা আসামির নাম খুঁজে পাওয়া যায় কিনা! খোঁজাখুঁজি ব্যর্থ হল, টিঙ্গোর নাম নেই।
টিঙ্গো বলেছে তার বাসা ক্যামডেনে। শিলি অন্য একটা ফোনের সাহায্যে সেই এলাকার থানার কর্মচারীকে ডাকলে। ডিকেটটিভ মর্গ্যান শিলির কাহিনি শুনে ক্যামডেন থানার ফাইল খুঁজে বললেন, ডেভিড টিঙ্গো নামে কোনও ছোকরা কোনও দিন এ এলাকায় ধরা পড়েনি। তখন শিলির বিশ্বাস হল যে টিঙ্গো তাহলে দুষ্ট ছোকরা নয়।
সে টিঙ্গোর কাছে গিয়ে বললে, তোমার গাড়ি আপাতত থানাতেই থাক। প্রায় তোর হয়েছে। তুমি বাসে চড়ে বাড়ি যেতে পারবে?
অনায়াসেই।
–বেশ। বাড়িতে গিয়ে তোমার বাবাকে একবার এখানে ডেকে আনো।
টিঙ্গো চমকে উঠল। প্রস্তাবটা তার পছন্দ হল না। বললে, বাবাকে কেন? মাকে ডেকে আনলে চলবে না?
বাবার নাম শুনেই তুমি চমকে উঠলে কেন?
টিঙ্গো বললে, এত ভোরে বাবাকে ডাকাডাকি করলে তিনি চটে যেতে পারেন।
–বেশ, তাহলে যে কেউ এলে চলবে। তোমার বাবা কি মা এসে যদি লাইসেন্সের কথা স্বীকার করেন, তবে গাড়ি ছেড়ে দিতে আমি কোনও আপত্তি করব না।
টিঙ্গোর প্রস্থান। শিলি বসে বসে ভাবতে লাগল, সাবধানের মার নেই বলেই এত হ্যাঁঙ্গামা করলুম। ছোকরা অপরাধী নয়। দেখা যাক ওর মা এসে কী বলে।
আধ ঘণ্টা পরে বেজে উঠল টেলিফোনের ঘণ্টা। শিলি রিসিভারটা তুলে নিয়ে বললে, হ্যালো!
আমি ক্যামডেন থানার ডিটেকটিভ মর্গ্যান। একটু আগেই তুমি না বলেছিলে, ডেভিড টিঙ্গো নামে কে এক ছোকরা তার চামড়ার ব্যাগ হারিয়ে ফেলেছে?
–হ্যাঁ, তাই।
–উত্তম। সেই ব্যাগটা আমরা পেয়েছি। ছোকরা এখন কোথায়?
বাড়ি থেকে মাকে ডেকে আনতে গিয়েছে।
–সে ফিরে এলে থানায় বসিয়ে রেখো। আমরা এখনি যাচ্ছি। মর্গানের কণ্ঠস্বর উত্তেজিত।
শিলি অবাক হয়ে ভাবতে লাগল, এ আবার কী ব্যাপার? টিঙ্গোর ব্যাগ ক্যামডেন থানায় হাজির হল কেমন করে? আর ওটা যে টিঙ্গোর ব্যাগ, তাই বা মর্গ্যান জানতে পারল কেমন করে?
এমন সময় টিঙ্গোর পুনরাবির্ভাব–সঙ্গে-সঙ্গে ঘরের ভিতর এসে দাঁড়ালেন মর্গ্যান ও কেনলি দুই ডিটেকটিভ।
শিলি জিজ্ঞাসা করলে, টিঙ্গো, তোমার মা কই?
–এত সকালে মাকে টানাটানি করতে ভালো লাগল না। তাকে আর আনাবারও দরকার নেই।
–কেন?
আমি ভুল করেছিলাম। ব্যাগে নয়, লাইসেন্সখানা ছিল আমার বাড়ির ভিতরেই। এই নিন।
লাইসেন্সের ওপরে চোখ বুলিয়ে নিয়ে শিলি বললে, দেখছি সব ঠিকঠাক আছে। ভালো কথা টিঙ্গো, ক্যামডেন থানা থেকে এই দুজন ডিটেকটিভ এসেছেন তোমার সন্ধানে।
.
দুই
ক্যামডেনেই তার বাসা, সেখানকার দু-দুজন ডিটেকটিভ তাকে খুঁজতে এসেছে শুনে টিঙ্গোর মুখ শুকিয়ে গেল। সে জিজ্ঞাসা করলে, কেন? ব্যাপার কী?
মর্গ্যান বললেন, ব্যাপার কিছুই নয় বাপু। তবে তোমার কাছ থেকে হয়তো আমরা কিছু সাহায্য পেতে পারি। দ্যাখো তো এই চামড়ার ব্যাগটা তোমার কি না? তিনি টেবিলের ওপরে একটি ছোট ব্যাগ স্থাপন করলেন।
ব্যাগটা নকল চামড়ার তৈরি। তার ওপরে মুদ্রিত আছে এক অশ্বারোহী কাউ-বয় এর ছবি। বালকরাই এরকম ব্যাগ ব্যবহার করতে ভালোবাসে।
টিঙ্গো এক গাল হেসে বললে, বাঃ, এ তো আমারই ব্যাগ। আপনারা এটা কোথায় পেয়েছেন?
তীক্ষ্ণ চোখে তার আপাদমস্তক একবার দেখে নিয়ে মর্গ্যান বললেন, টিঙ্গো, তুমি ওই চেয়ারে বোসো।
টিঙ্গো বসল। চেয়ার টেনে তাকে ঘিরে বসলেন গোয়েন্দারাও।
মর্গ্যান বললেন, শোনো টিঙ্গো। আজই রাশি রাশি চোরাই মাল আমাদের হস্তগত হয়েছে। কেমন করে তা বলতে চাই না, কারণ সে হচ্ছে অনেক কথা। এইটুকু খালি জেনে রাখো, সেইসব চোরাই মালের ভিতরে ছিল তোমার এই ব্যাগটাও। ফাউন্টেন পেন, বন্দুক, রিভলভার, জড়োয়া গহনা প্রভৃতি আরও অনেক কিছু দামি-দামি জিনিসের সঙ্গে এই তুচ্ছ ব্যাগটি ছিল কেন, আমরা তা বুঝতে পারছি না। এখন তুমি বলতে পারো ব্যাগটা কোথায়, কেমন করে হারিয়ে ফেলেছিলে, তাহলে চোরের সন্ধান পেতে দেরি হবে না।
ডেভিড টিঙ্গোর মুখ দেখে মনে হল যেন দস্তুরমতো হতভম্ব হয়ে গিয়েছে। তারপর সে মাথা নেড়ে বলল, ব্যাগটা আমার কাছ থেকে চুরি যায়নি, ওটা আমি নিজেই কোথাও হারিয়ে ফেলেছিলুম। তবু চোরাই মালের সঙ্গে পাওয়া গেল আমার ব্যাগ, ভারি আজব ব্যাপার তো!
মর্গ্যান বললেন, ব্যাগটা হয়তো তোমার কাছ থেকেই চুরি গিয়েছে!
–অথচ আমি টের পাইনি।
–আশ্চর্য কি, হয়তো চোর তোমার পকেট মেরে সরে পড়েছিল।
টিঙ্গো আবার মাথা নেড়ে জানালো, না।
মর্গ্যান শুধোলেন, তোমার ব্যাগটা কবে হারিয়ে গিয়েছে?
–দিন তিনেক আগে।
–তোমার ঠিক মনে আছে।
–অন্তত গেল দুদিন থেকে ব্যাগটা খুঁজে পাচ্ছি না।
মর্গ্যান পকেট থেকে একখানা ট্রলি-হস্তান্তরপত্র বার করে বললেন, এখানা কি তোমার?
নিশ্চয়। যদিও ও কাগজখানা এখনও আমি ব্যবহার করিনি।
মর্গ্যান বললেন, কাগজখানা তোমার ওই ব্যাগের ভিতরেই ছিল।
আচম্বিতে টিঙ্গোর মুখ হয়ে গেল রক্তশূন্য। সে বলে উঠল, না, না, ও কাগজখানা আমার নয়। আমি কি বলতে কি বলে ফেলেছি। আপনারা আমার মাথা গুলিয়ে দিয়েছেন।
