কী হয়েছে?
আপনি কালকে আমাকে ফোন করেছিলেন না? কী একটা জরিপ করে বললেন পঞ্চাশ টাকা পাঠাবেন। শেষ পর্যন্ত পাঠাননি।
ছোটাচ্চু থতমত খেয়ে বলল, না না, আমি না।
অন্য পাশ থেকে মানুষটা এবার গর্জন করে উঠল, বলল, অফকোর্স আপনি। আমি গলার স্বর ভুলিনি। আপনার মতলবটা কী? আমার পেছনে কেন লেগেছেন?
ছোটাচ্চু একেবারে হকচকিয়ে গিয়ে বলল, আপনার পেছনে লাগব কেন?
মানুষটা এবারে রীতিমতো হুংকার দিয়ে বলল, আমার সাথে রংবাজি করেন? আপনি ভেবেছেন আমি ঘাস খেয়ে বড় হয়েছি? আপনাকে ধরে পুলিশে দেওয়া দরকার। ধরে যখন পুলিশ কেচকি দেবে, আপনি তখন সিধে হয়ে যাবেন।
ছোটাচ্চু দুর্বলভাবে বলল, না, মানে ইয়ে–
আমার কাছে ডিসকাউন্ট প্রাইসে ড্রাগস বিক্রি করতে চান? আপনার সাহস তো কম না। সাহস থাকলে সামনে এসে কথা বলেন, আমি যদি ঠেঙ্গিয়ে আপনার ঠ্যাং ভেঙে লুলা করে না দিই!
ছোটাচ্চু একটু রেগে উঠে বলল, আপনি কী ভাষায় কথা বলছেন?
মানুষটা এবার আপনি থেকে তুমিতে নেমে এল, তোমার সাথে আবার সুন্দর ভাষায় কথা বলতে হবে? তুমি ড্রাগ বিক্রি করবে আর তোমার সাথে আমার মোলায়েম করে কথা বলতে হবে? আমাকে চিন তুমি? আমি যদি তোমার ঘাড় মটকে না দিই, মুণ্ডু ছিড়ে না ফেলি, ভুড়ি না ফাসিয়ে দিই, চোখ উপড়ে না ফেলি—
ছোটাচ্চু এই সময় লাইনটা কেটে দিল। তার চোখ-মুখ ফ্যাকাশে, হাত অল্প অল্প কাঁপছে। ঘন ঘন নিঃশ্বাস নিতে নিতে বলল, ও মাই গুডনেস! কী ভায়োলেন্ট একজন মানুষ।
ফারিহা বলল, তবে একটা জিনিস নিশ্চিত হওয়া গেল। মানুষটা ড্রাগস খায় না।
তাই বলে এভাবে কথা বলবে?
তোমাকে কেউ ড্রাগস অফার করলে তুমিও এ রকম করতে।
কখনো না। ছোটাচ্চু গলা উঁচিয়ে বলল, নেভার। আমি কখনো এত অভদ্র হব না। আমার সাথে কী খারাপ ব্যবহার করল দেখলে?
মোটেও তোমার সাথে খারাপ ব্যবহার করেনি। একজন ড্রাগস ডিলার যে আগেও তাকে জ্বালাতন করেছে, তার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে।
তাই বলে এই ভাষায়?
ফারিহা হাত নেড়ে পুরো বিষয়টা উড়িয়ে দেওয়ার মতো ভান করল। ছোটাচ্চু মুখটা ভোঁতা করে বসে রইল। টুনি তখন বলল, আর ফোন করবে না ছোটাচ্চু?
মাথা খারাপ? শুনলি না মানুষটা কী ভাষায় কথা বলে? তাহলে কেমন করে তুমি রিপোর্ট লিখবে?
ছোটাচ্চু মাথা চুলকাল। বলল, অন্য কাউকে দিয়ে ফোন করাতে হবে।
কাকে দিয়ে ফোন করাবে?
ছোটা খানিকক্ষণ চিন্তা করে হঠাৎ সোজা হয়ে বসে ফারিহার দিকে তাকাল, বলল, তুমি ফোন করবে।
ফারিহা চোখ বড় বড় করে বলল, আমি?
হ্যাঁ।
আমি ফোন করে কী বলব?
ড্রাগস হয়েছে। এখন বাকি আছে টাকাপয়সা। তুমি ফোন করে টাকাপয়সার লোভ দেখাও। দেখি কী বলে।
টাকাপয়সার লোভ? কেমন করে দেখাব?
ছোটাচ্চু ঘাড় ঝাঁকিয়ে বলল, কিছু একটা বলো! তোমার কাছে গোপন খবর আছে যেটা ব্যবহার করলে অনেক টাকা পাবে, সে রকম কিছু একটা।
ফারিহা কিছুক্ষণ ভাবল, হঠাৎ করে তার মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। বলল, পেয়েছি।
ছোটাচ্চু জিজ্ঞেস করল, কী পেয়েছ?
কী বলব সেটা। স্টক মার্কেটের কথা বলব।
ছোটাচ্চু মাথা নেড়ে বলল, গুড। বলো তাহলে।
ফারিহা একটু অবাক হয়ে বলল, এখনই বলব?
হ্যাঁ, সমস্যা কী?
এখনই ফোন করলে সন্দেহ করবে না?
করলে করবে। দেরি করে আমার লাভ কী? করো, ফোন করো।
ছোটাচ্চু ফোনটা খুলে নতুন আরেকটা সিম ঢুকিয়ে দিয়ে বলল, নাও, নতুন আরেকটা সিম ঢুকিয়ে দিলাম।
ফারিহা ফোনটা হাতে নিয়ে একটু ইতস্তত করে ইশতিয়াক হাসানকে ফোন করল। দু-তিনটে রিং হওয়ার পরই ইশতিয়াক হাসান ফোন ধরে ভারী গলায় বলল, হ্যালো।
ফারিহা বলল, হ্যালো কামরুল, তোমার সাথে জরুরি কথা আছে।
ইশতিয়াক বলল, আমি তো কামরুল না।
ফারিহা ভান করল সে লজ্জা পেয়ে গেছে, ও আচ্ছা আপনি কামরুল না? আমি ভেবেছিলাম এটা কামরুলের নাম্বার! সরি, আপনাকে ডিস্টার্ব করলাম।
ইশতিয়াক হাসান গলায় রীতিমতো মধু ঢেলে বলল, না, না, আপনি আমাকে একটুও ডিস্টার্ব করেননি। বরং আপনার ফোনটা পেয়ে খুব ভালো লাগছে! ধরে নিন আমি কামরুল। বলে ইশতিয়াক আনন্দে হা হা করে হাসল।
ফারিহা জিজ্ঞেস করল, ধরে নেব আপনি কামরুল?
হ্যাঁ। সমস্যা কী! কামরুলকে যেটা বলতে চাচ্ছিলেন সেটা আমাকে বলতে পারেন।
সেটা বলতে পারি?
হ্যাঁ। অবশ্যই বলতে পারেন।
ফারিহা বলল, যদিও এটা গোপন বিষয়, আপনাকে বলার কথা না, কিন্তু আপনি যেহেতু জানতে চাইছেন বলেই দিই। স্টক মার্কেটে আমার লোক আছে, তার কাছ থেকে খবর পেয়েছি একটা কোম্পানি পাবলিক লিমিটেড হবে, তাই যদি আজ-কাল তার স্টক কেনা যায় এক সপ্তাহে সেটা দশ গুণ হয়ে যাবে। আপনি যদি জানতে চান, তাহলে কোম্পানিটার নাম বলতে পারি।
ইশতিয়াক হাসান বলল, থ্যাংকু। আসলে আমার জেনে কোনো লাভ নাই। জানার প্রয়োজনও নাই। আমার টাকাপয়সা মোটামুটি আছে, দিন চলে যায়। বেশি টাকা দিয়ে কী করব?
ফারিহা বলল, ঠিকই বলেছেন। প্রয়োজনের বেশি টাকা দিয়ে কী হবে? তাহলে রাখি। ভুল করে আপনার সাথে কথা হলো, ভালোই লাগল।
ফারিহা টেলিফোনটা কেটে দিয়ে ছোটাচ্চুর দিকে তাকিয়ে বলল, তোমার মক্কেল টাকা পরীক্ষায় পাস করেছে।
ছোটাচ্চু মুখ শক্ত করে বসে রইল। টুনি বুঝতে পারল কোনো একটা কারণে ছোটাচ্চু রাগ করেছে, কারণটা কী অবশ্যি টুনি সাথে সাথে বুঝে গেল। কারণ ছোটাচ্চু হঠাৎ দাঁত-মুখ খিঁচিয়ে বলল, কত বড় ধান্দাবাজ দেখেছ? আমার সাথে গালাগাল ছাড়া কথা নেই, আর তোমার সাথে কী মিষ্টি মিষ্টি কথা। আহা রে!
