মেজর ব্রেক থ্র।
কী হয়েছে?
ডলি খালার জামাইয়ের ঠিকানা বের করে ফেলেছি। কাল থেকে ফলো করা শুরু করব। দেখব সারাদিন কী করে, কোথায় যায়।
টুনি বলল, ও আচ্ছা। ঠিকানা বের করা নিয়ে ছোটাচ্চু এত উত্তেজিত কেন বুঝতে পারল না। ডলি খালাকে জিজ্ঞেস করলেই নিশ্চয় বলে দিত।
ছোটাচ্চু জিজ্ঞেস করল, কেমন করে বের করেছি জানতে চাস? বলো।
ভেরি স্মার্ট। ছোটাচ্চু নিজের মাথায় টোকা দিয়ে বলল, এই মাথা থেকে বের হয়েছে। ব্রিলিয়ান্ট আইডিয়া!।
টুনি ধৈর্য ধরে ছোটাচ্চুর দিকে তাকিয়ে রইল। ছোটাচ্চু তার ব্রিলিয়ান্ট আইডিয়ার কথা বলতে শুরু করল, আমি মানুষটাকে ফোন করলাম। ফোন করে বললাম, আমি একটা অর্গানাইজেশনের পক্ষ থেকে ফোন করছি একটা জরিপ নেওয়ার জন্য। মানুষটা জিজ্ঞেস করল, কিসের জরিপ। আমি বললাম শ্যাম্পুর। কী শ্যাম্পু ব্যবহার করে, সেটা নিয়ে কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর দিলে তার টেলিফোনে পঞ্চাশ টাকা গিফট দেওয়া হবে। শুনে মানুষটা একটু অবাক হলো। বলল, সত্যি? আমি বললাম, একশ ভাগ সত্যি। তখন মানুষটা জিজ্ঞেস করল, কী প্রশ্ন? আমি বললাম, আগে নাম-ঠিকানাটা নিতে হবে। তখন জিজ্ঞেস করলাম, নাম কী। মানুষটা বলল, ইশতিয়াক হাসান রনি। নামটা সঠিক। ডলি খালা বলেছে, তার জামাইয়ের নাম ইশতিয়াক হাসান। তখন জিজ্ঞেস করলাম ঠিকানা কী, ইশতিয়াক হাসান তখন ঠিকানা বলে দিল। ছোটাচ্চু তখন মাথায় টোকা দিয়ে আনন্দে হা হা করে হাসতে লাগল।
টুনি জিজ্ঞেস করল, তারপর শ্যাম্পু নিয়ে প্রশ্ন করো নাই?
করেছি।
কী উত্তর দিল?
বলল, আমি বিদেশে থাকি। তাই এই দেশের শ্যাম্পু কখনো ব্যবহার করি না।
তারপর টেলিফোনে টাকা পাঠিয়েছ?
আমাকে বোকা পেয়েছিস? কাজ শেষ, টাকা পাঠাব কেন?
তোমার টেলিফোন নম্বরটা তো তার কাছে আছে।
ছোটাচ্চু তখন তার মাথায় আরও জোরে জোরে কয়েকটা টোকা দিয়ে বলল, আমাকে বোকা পেয়েছিস? আমি কি নিজের সিম ব্যবহার করেছি ভেবেছিস? করি নাই। দোকান থেকে কয়েকটা আলতু-ফালতু সিম কিনে রেখেছি। সেই সিম ঢুকিয়ে ফোন করেছি।
টুনিকে মনে মনে স্বীকার করতেই হলো যে তার ছোটাচ্চুর বুদ্ধি আগের থেকে একটু বেড়েছে।
পরদিন সকালে আবার ছোটাচ্চু বের হয়ে গেল। বের হওয়ার সময় তার পোশাকটা হলো দেখার মতো, মাথায় বেসবল ক্যাপ, চোখে কালো চশমা, গলায় ঝোলানো বাইনোকুলার, প্যান্টের পকেটে টেপরেকর্ডার, বুকপকেটে কলমের মতো দেখতে ভিডিও ক্যামেরা। দেখে যেকোনো মানুষ বুঝতে পারবে, কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে।
টুনি স্কুল থেকে ফিরে এসে দেখল ছোটাচ্চু তার ঘরে দরজা বন্ধ করে বসে আছে—টুনি আগে কখনো ছোটাচ্চুকে তার ঘরের দরজা বন্ধ করতে দেখেনি। সে দরজায় কয়েকবার টোকা দেওয়ার পর ছোটাচ্চু দরজা খুলল। টুনি ছোটাচ্চুর চেহারা দেখে রীতিমতো চমকে উঠল। একেবারে বিধ্বস্ত চেহারা। টুনি জিজ্ঞেস করল, তোমার কী হয়েছে, ছোটাচ্চু?
ছোটাচ্চু মেঘস্বরে বলল, কিছু হয় নাই।
তাহলে তোমাকে এ রকম দেখাচ্ছে কেন?
এ রকম দেখাচ্ছে কারণ, আজ সারাদিন আমি রোদের মাঝে পুরো ঢাকা শহর চষে ফেলেছি, কিন্তু ইশতিয়াক হাসানের দেওয়া ঠিকানা খুঁজে পাই নাই। ঢাকা শহরে সানসেট বুলোভার্ড নামে কোনো রাস্তা নাই।
টুনি বলল, সানসেট বুলোভার্ড?
হ্যাঁ।
সানসেট বুলোভার্ড তো হলিউডের একটা রাস্তা।
ছোটাচ্চু কেমন যেন ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল। বলল, হ-হ-হলিউড?
হ্যাঁ।
তার মানে ওই বদমাইশ জামাই আমার সাথে ইয়ার্কি করেছে?
হ্যাঁ।
কত বড় ধুরন্ধর দেখেছিস! তাকে এই দেশে আসতে দেওয়াই ঠিক হয় নাই। ঘাড় ধরে তাকে বের করে দেওয়া দরকার।
ছোটাচ্চু, তুমি ওকে ঠকিয়েছ। টাকা পাঠাবে বলে টাকা পাঠাও নাই। সেও তোমাকে ঠকিয়েছে, একটা ভুল ঠিকানা দিয়েছে। সমান সমান হয়ে কাটাকাটি হয়ে গেছে।
আমি এক্ষুনি ডলি খালাকে ফোন করে বলব, তার জামাই মিথ্যাবাদী। মিথ্যা কথা বলে বেড়ায়। কেস কমপ্লিট।
টুনি মাথা নাড়ল। বলল, উহু ছোটাচ্চু। আসলে উল্টোটা সত্যি। মানুষটার বুদ্ধি আছে। উল্টোপাল্টা জায়গায় সত্যিকারের ঠিকানা দেয় নাই। মানুষটা মজার মানুষ, তাই হলিউডের ঠিকানা দিয়েছে—তুমি বুঝতে পার নাই, এইটা তোমার সমস্যা।
অন্য যেকোনো সময় হলে ছোটাচ্চু মনে হয় এই কথা শুনে চিড়বিড় করে জ্বলে উঠত, কিন্তু এখন তার মুড খারাপ, তাই জ্বলে উঠল না, বরং বিশাল একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, আমার মনে হয় ডিটেকটিভ এজেন্সি খোলাই ঠিক হয় নাই। আমার মনে হয় কন্ট্রাক্টরি করা উচিত ছিল।
টুনি খুব বেশি হাসে না, কিন্তু ছোটাচ্চুর কথা শুনে একটু হাসল। বলল, ছোটাচ্চু, কন্ট্রাক্টরি করলে তুমি আরও বড় সমস্যায় পড়বে। সবাই তোমাকে ঠকিয়ে তোমার বারোটা বাজিয়ে দেবে। ডিটেকটিভের কাজটাই ঠিক আছে।
ছোটাচ্চু জিজ্ঞেস করল, তুই সত্যি করে বলছিস?
হ্যাঁ। ছোটাচ্চু, সত্যি করে বলছি।
তখন ছোটাচ্চুর একটু মন ভালো হলো। বিছানায় পা তুলে বসে বলল, কিন্তু এই ইশতিয়াক হাসানের বাসার ঠিকানাটি যে কেমন করে বের করি।
টুনি বলল, তুমি সেটা নিয়ে চিন্তা কোরো না। আমি সেটা জোগাড় করে রেখেছি।
জোগাড় করে রেখেছিস? ছোটাচ্চু অবাক হয়ে বলল, কীভাবে?
টুনি বলল, কেন? খুবই সোজা। দাদির কাছে ডলি খালার নম্বর আছে। দাদিকে দিয়ে ফোন করিয়ে জেনে নিয়েছি।
