ছোটাচ্চু গম্ভীর গলায় বলল, আপনি কোনো চিন্তা করবেন না। আপনার কেসটা আমরা খুব সিরিয়াসলি নেব। ছোটাচ্চু কথাটা শেষ করেও শেষ করল না—তার ডিটেকটিভ এজেন্সির একটা ফি আছে, সেই ফিয়ের কথাটা কেমন করে তুলবে, ছোটাচ্চু বুঝতে পারছিল না। তাই মুখটা একটু খোলা রেখে ডলি খালার দিকে তাকিয়ে রইল।
ডলি খালা মনে হয় যথেষ্ট বুদ্ধি রাখে, ছোটাচ্চুর ইঙ্গিতটা ধরে ফেলল। বলল, তোমার এজেন্সির কত ফি আমাকে বিল করে দিয়ো। আমি দিয়ে দেব।
ছোটাচ্চু এবারে একেবারে গদগদ হয়ে বলল, আপনারা আমাদের নিজের মানুষ, আপনাদের আমি হেভি ডিসকাউন্ট দেব। কিন্তু বুঝতেই পারছেন এত বড় একটা এস্টাবলিশমেন্ট, এটা চালাতে তো একটা খরচ আছে।
ডলি খালা বলল, তা তো বটেই। তা তো বটেই।
ডলি খালা চলে যাওয়ার পর ছোটাচ্চু বাসার বাচ্চাকাচ্চাদের ডেকে গম্ভীর গলায় বলল, আমি যখন প্রথম আলটিমেট ডিটেকটিভ এজেন্সি খুলেছিলাম, তোরা ভেবেছিলি, এটা বুঝি একটা খেলা। এখন দেখলি যে এটা খেলা না? এটা সত্যিকারের এজেন্সি।
শান্ত জানতে চাইল, কেন? এটা সত্যিকারের এজেন্সি কেন? আমার এজেন্সিতে কেস আসা শুরু হয়েছে।
সত্যি? বাচ্চাকাচ্চারা উত্তেজিত হয়ে উঠল। একজন জিজ্ঞেস করল, কী কেস ছোটাচ্চু? মার্ডার কেস?
আরেকজন জিজ্ঞেস করল, সিঙ্গেল মার্ডার, নাকি ডাবল মার্ডার?
একজন একটু বড় হয়েছে, সে চকচকে চোখে জিজ্ঞেস করল, নাকি সিরিয়াল কিলার? সবচেয়ে ফাটাফাটি হচ্ছে সিরিয়াল কিলার।
আরেকজন বলল, সিরিয়াল কিলার আর ড্রাগস?
কয়েকজন মাথা নাড়ল, হ্যাঁ। ড্রাগস বিজনেসটাও ফাটাফাটি। ছোটাচ্চু, তোমার কি ড্রাগস বিজনেসের কেস এসেছে?
কী কী ড্রাগস, ছোটাচ্চু? হেরোইন নাকি ইয়াবা?
ছোটাচ্চু একটু ইতস্তত করে বলল, সে রকম কিছু না। প্রথম কেসটা এসেছে একজনের ক্যারেক্টার প্রোফাইল বের করা নিয়ে।
একজন জিজ্ঞেস করল, ক্যারেক্টার প্রোফাইল মানে কী? শান্ত বলল, মানুষটা ভালো না খারাপ, সেটা বের করা।
বাচ্চাগুলো একসাথে ফোস করে হতাশায় দীর্ঘশ্বাস ফেলল। একজন বলল, এইটা আবার কী রকম কেস।
আরেকজন বলল, ফালতু। ফালতু।
আরেকজন বলল, এই কেস নিয়ো না ছোটাচ্চু। মার্ডার কেস ছাড়া কোনো কেস নিয়ো না।
আরেকজন বলল, মার্ডার আর ড্রাগস বিজনেস।
ছোটাচ্চু ঘাড় শক্ত করে বলল, আমি একটা ডিটেকটিভ এজেন্সি খুলেছি, আমাকে সব রকম কেস নিতে হবে। আমি কি একটা ভালো ক্লায়েন্টকে ফিরিয়ে দেব? সব ডিটেকটিভকে এ রকম কাজ করতে হয়। একজন মানুষ কী রকম সেটা বের করতে হয়।
শান্ত ঠোঁট উল্টে বলল, নিশ্চয়ই কেউ বিয়ে করবে। সেই জন্য খোঁজ নিচ্ছে।
বাচ্চাগুলো তখন একসাথে তাচ্ছিল্যের ভঙ্গি করে হতাশভাবে মাথা নাড়ল। বলল, বিয়ে। হায় খোদা। কী বেইজ্জতি। ছ্যা ছ্যা।
ছোটাচ্চু এবারে গরম হয়ে গেল। বলল, কেন, বিয়ে দেওয়ার আগে মানুষ, ছেলেটা না হলে মেয়েটা সম্পর্কে খোঁজ নিতে পারে না?
বাচ্চাগুলো একসাথে আবার তাচ্ছিল্যের শব্দ করল। একজন বলল, তার মানে আসলেই তুমি বিয়ের জামাইয়ের খোঁজ নিচ্ছ!
শান্ত, যে সব সময়েই ত্যাঁদড় টাইপের, সে বলল, ছোটাচ্চু, তুমি একটা কাজ করো। তুমি ডিটেকটিভ এজেন্সির বদলে ঘটকালি এজেন্সি খুলে ফেলো। নাম দাও দি আলটিমেট ঘটকালি এজেন্সি।
শান্তর কথা শুনে সবাই হি হি করে হাসতে লাগল আর ছোটাচ্চু যেভাবে রেগে উঠল, সেটা আর বলার মতো নয়।
অন্য সব বাচ্চার সাথে টুনিও দাঁড়িয়ে ছিল। বাচ্চারা যখন ছোটাচ্চুকে নিয়ে হাসাহাসি শুরু করল, তখন টুনি একটুও হাসল না, মুখ গম্ভীর করে
দাঁড়িয়ে রইল। হাসাহাসি শেষ করে যখন সবাই চলে গেল, তখন টুনি ছোটাচ্চুকে বলল, ছোটাচ্চু, তুমি মন খারাপ কোরো না। তোমার কেসটা ভালো কেস।
ছোটাচ্চু গর্জন করে বলল, একশবার ভালো কেস। মার্ডার কেস থেকে কঠিন কেস?
ছোটাচ্চু আরও জোরে গর্জন করে বলল, একশবার মার্ডার কেস থেকে কঠিন কেস।
কীভাবে শুরু করব ঠিক করেছ?
ছোটাচ্চু তখন আগের থেকে আরও জোরে গর্জন করে বলল, সেটা আমার তোকে বলতে হবে কেন?
টুনি বলল, মনে নাই, আমি তোমার অ্যাসিস্ট্যান্ট। এখন পর্যন্ত তোমার যতগুলো কেস করা হয়েছে, সব আমি করে দিয়েছি।
ছোটাচ্চু তখন আরও জোরে গর্জন করার চেষ্টা করে শেষ মুহূর্তে থেমে গেল। তারপর নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, কীভাবে আগাবো সেটা এখনো ঠিক করিনি।
মানুষটার নাম, ঠিকানা, টেলিফোন নম্বর, ছবি আছে? শুধু নাম আর টেলিফোন নম্বর আছে।
টুনি বলল, নাম আর টেলিফোন নম্বর থাকলেই হবে। অন্য সবকিছু বের করে নেওয়া যাবে।
ছোটাচ্চু কোনো কথা না বলে চোখ দিয়ে আগুন বের করতে করতে টুনির দিকে তাকিয়ে রইল।
টুনি সেটাকে পুরোপুরি উপেক্ষা করে বলল, তুমিও চিন্তা করো কীভাবে আগানো যায়, আমিও চিন্তা করি কীভাবে আগানো যায়।
ছোটাচ্চু তখন কোনো কথা বলল না, চোখ থেকে শুধু একটু বেশি আগুন বের হলো।
সকালবেলা স্কুলে যাওয়ার সময় টুনি ছোটাচ্চুর ঘরে একটু উঁকি দিয়ে গেল। সাধারণত ছোটাচ্চু অনেক বেলা পর্যন্ত ঘুমায় কিন্তু টুনি দেখল, আজকে ছোটাচ্চু ঘরে নেই। খোঁজ নিয়ে জানল, ছোটাচ্চু নাকি অনেক ভোরে বের হয়ে গেছে।
টুনি স্কুল থেকে ফিরে এসে দেখল, ছোটাচ্চু এখনো ফেরেনি। টুনি হাত-মুখ ধুয়ে খেতে খেতে ছোটাচ্চু ফিরে এল। সে মহা উত্তেজিত। টুনি জিজ্ঞেস করল, কী খবর, ছোটাচ্চু?
