বিকার বা দুস্থ বা নিঃসঙ্গ বা বদলে যাওয়া যৌনজীবনের রাক্ষুসীতরঙ্গ একটি সুস্থ জীবনকে সম্পূর্ণ অকেজো করে দিতে পারে। বাইরে থেকে বোঝা যাবে না। কিন্তু তার অন্তরে যে অন্ধকার তাকে ক্রমাগত গ্রাস করে চলেছে, বিছানায় তার এই দুস্থতা? সে। খবর ক’জন রাখে!
একজন বিধবা বা বিপত্নীকের স্নায়ু যন্ত্রণা, কে জানে! এক নপুংশকের স্নায়ুযুদ্ধ কে বোঝে! অসমমনা দাম্পত্যে মনের আদান-প্রদানের শূন্য সাদা খাতা কে খুলে দেখে! কে বোঝে এর নিরন্তর দুঃখ বহতা! ভগ্ন হৃদয়! ভীষণ ভারি! ক’জন জানে, জানতে চায়, যে, মন না হলে জোর করে প্রেম হয় না। প্রেম, যা না হলে শরীর জাগে না! ফোটে না বসন্ত শরীর যেভাবে ফোঁটা উচিত! না বলুক মুখে, কিন্তু যুদ্ধ, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কার নেই! নিজের হলে কিছু না। সমস্যা, অন্যের বেলায়। সংসারে সুখীদের সদস্য সংখ্যা কত?
নিজের তৃপ্তি-অতৃপ্তির কথা কি মুখ ফুটে এত বলা যায়। কখনো কখনো যায়। যায়। তবে একসঙ্গে হলে যায়। নিশ্চিত যায়। কারণ অনেকের সমস্যা তখন নিজের মনে হয়। নিজেরটা অন্যের। সমস্যাগুলো সার্বিকভাবে আলোচনার গ্রহণযোগ্যতা পায়। সহজ-সরল-সুন্দর পানীয় যেমন।
আমাদের ব্যক্তিগত সমস্যা, অন্তহীন। শুধু কি বুক? মুখ ও ফোটে যদি ফোঁটানো যায়। ফুটতে দেয়া যায়। আমাদের মূল সমস্যা যে আমরা, শ্লীলতায় অন্ধাবদ্ধ হয়ে গেছি। শ্লীলতা গ্রাস করেছে আমাদের মানবিকতা। বোধ। বলতে না পারার যন্ত্রণায় দগ্ধ হওয়া। শ্লীলতায় আবদ্ধ আমরা, অতিরিক্ত অপ্রয়োজনীয়ভাবে সামাজিক। সামাজিক ধর্মবোধ। যা অমানবিক ধর্মান্ধতা। অবিচার।
আজ প্রয়োজন আমাদের এই জটিল জীবনকে, সমাজের বাধ্যবাধকতার ওপর আর না জড়িয়ে একে বিজ্ঞান ও শিল্পসম্মত হিসেবে আখ্যায়িত করে তুলে একে মানবিক রূপ দেয়া। আর কিছু না হোক, কিছুই না থাক শুধু বলতে পারার মধ্যে যে প্রশান্তিটুকু তা ক্ষুদ্র সূক্ষ্ম হলেও মনের চাপা নর্দমায় নিশ্চিত কিছু মুক্ত বাতাস এনে দিতে পারে। এক টুকরো রুদ্ধশ্বাস থেকে মুক্তি! আহা! আহ! এই কি! সে প্রশান্তি! সে বোঝে সেই বোঝে, এই নিরাময়।
.
৩. যৌনজীবনে ব্যাঘাত ঘটলে কিংবা সমস্যা হলে মানুষ ক্রমশ উত্তাল হয়ে যায়। বিবেচকেরা বিবেচনাহীন হয়। বয়স্করা, শিশু হতে থাকে। সমস্যা হলে কিশোর, বয়স্ক হয়। পিতৃ এবং মাতৃত্ব তুচ্ছ হয় বা বুঝ অবুঝ হয়। কতরকমের বিকল্প খুঁজে নেয় বিপত্নীক বৃদ্ধ বা যারা যৌবনে বিধবা। বা মধ্য বয়সে পরকীয়ায় আক্রান্ত রমণী। আবার কেউ কেউ নীরবে ভুলে যেতে থাকে।
আমার মার মুখে শোনা। সব বারো বছর বয়সের নিচে বা ওপরে, বিদ্যাসাগরের যে-কোনও বিধবা পিসিরা, অন্তত বারোবার গর্ভপাত ঘটাতেন। কেন এরকম হয়? কত উদাহরণ? পাশে জলজ্যান্ত রূপসী বৌ রেখে হিরু প্রতিদিন যেত কুৎসিত শেলীর কাছে। ওরা মাগ ভাতারে। বিপত্নীক ফারুক ভাই শুধু গার্লফ্রেন্ড খুঁজে বেড়ান আর একে ওকে বিরক্ত করে। ছেলেদের হাতে মার খাওয়ার আগেই চুপে চুপে কাজ সেরে ফেলে বিপত্নীক চর্চা, কাজের মেয়ে রোকেয়ার সঙ্গে। রোকেয়া, মেয়ের বয়সী। ফিরোজ, ঘরে বৌ রেখে হস্তমৈথুনে অধিক তৃপ্ত। শামীমও। রিতাও। কালামের মায়ের বয়সী নারী না হলে রোচে না। শিল্পী, রুবেলের মধ্যে আজীবন রবীন্দ্রনাথ দেখলো। আর শেতুলী দেখলো, কবি নজরুল। সত্য হলো না তাই –ভগ্নহৃদয়ে ফিরে গেল। প্রবাসী রুমার আর আনস্মার্ট বঙ্গপুরুষ ভালো লাগে না। বিধ্বস্ত যৌনজীবনের সেলিমা, মাঝ বয়সে এসে প্রথম আবিষ্কার করলো, সে বাইসেক্সয়াল। সলিল ইচ্ছা করেই ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে যায়, গাউছিয়া মার্কেটে মেয়েদর স্তন আর যোনি পিষতে। প্রদীপ, কামনা করে সন্তানসমেত কিশোরীকে। সাইফুল চায় একসঙ্গে একাধিক শরীর। সেজন্যে সে অনেক টাকা খরচা করে। তার আনন্দ, শৃঙ্গারের দৃশ্য। রচনার চাই একসঙ্গে একাধিক পুরুষ। বৃদ্ধ বয়সেও চার্লি সেক্সের চেয়েও সেক্সের দৃশ্য উপভোগ করে। চার্লির ঘরে ব্লু ফিল্মে ঠাসা। পর্নো ম্যাগাজিন। প্রতি সপ্তাহে ন্যুডবার। আর সমীর সারাদিন বাসে চড়ে বেড়ায়। মেয়েদের স্তন পিষতে পিষতে সে সিট বদলায়। আর ইচ্ছে করে ভিড়ের মধ্যে বাদুর ঝুলতে ঝুলতে লিঙ্গটা ঠেকিয়ে রাখে ভদ্রমহিলার অকুস্থলের সই সই। এরিক গার্সিয়ার প্লাস্টিকের নারী না হলে হয় না। মানেকার, প্লাস্টিক পুরুষ। মুনির চাচা তার ষাটের শুরুতে দারুণ উত্তাল। সে ওরাল ছাড়া কিছু বুঝতে চায় না। নাম্বার ৬৯’ তার নেশা। মিসেস সেন তার ষাটের শুরুতেও উত্তাল। তিনি শুষ্কতার কারণে বিদেশ-দেশে ভালো ভালো দামি ক্রিম, পিচ্ছিল, আনিয়ে রাখেন। একাধিক স্ত্রীর সঙ্গে কাম, হস্ত মৈথুন, বেশ্যাবাড়ি, সত্ত্বেও সালামতের যথেষ্ট হলো না।
এর কোনটা বিকার বা অশ্লীল জানা নেই। তবে সমস্যাগুলো নিঃসন্দেহে সামাজিক। এবং সামাজিক সাপেক্ষে, অসামাজিক(!) হলেও যা, –মানবিক।
১৮. কত অজানারে!
দুঃখ-সুখ
সংসারী মানুষের সুখ-দুঃখ থাকবেই। আর তা নির্ভর করে চাহিদার ওপর। সন্ন্যাসীদের ওসব বানানো বালাই নেই কারণ ওদের দাম্পত্য নেই। গৃহীর আছে। গৃহীর জীবনে, হয় দুঃখ, না হয় সুখের। এই করে করে শেষে পরমায়ু ভেসে যায় স্রোতের মতন। আর এই পরমায়ু কিছু আঁচলের তলে না কিছুর প্রভাবে, গৃহীর দুঃখ সুখ আমৃতুও প্রভাবিত হয়। এবং প্রভাবিত করেও। এবং তার মানে খুঁজে কোনদিনও পাওয়া যায় না। মানুষ তার আগেই মরে যায়। তবে বেঁচে থাকা অবস্থায়। মানুষের জীবনে সঙ্কটের কোনও শেষ নেই। তবে সমাধান, সুখ, ভালোলাগা সমস্ত কিছুর শেষ আছে এবং এরা উল্কার মতন। এই আছে এই নেই। সুখ! মনে করতে হয়। কতক্ষণ! স্মৃতিতে জেগে থাকে। অতিথির মতো, ওহ! এসেছিলেন। তিনি এসেছেন! বেশ তবে।
