মানুষের সমস্যাগুলো কোনওরকমেই অন্তত দশ হাজার রকমের কম নয়। তার মধ্যে মৃত্যু, রোগ-শোক, দারিদ্র্য, বিচ্ছেদ ইত্যাদি প্রাচীন ও পরিচিত সমস্যা। এবং প্রতিটি সংসারেই এদের অবশ্যম্ভাবী আনাগোনা থাকে। এসব সমস্যায় মানুষ মানুষের জন্যে এগিয়ে আসে। এসব সমস্যায় মুখ ফুটে বলা যায়। চিৎকার করে কাদাও যায়। তবে যে কথা বলা যায় না বা বলা সহজও নয় তাহলে মানুষের ব্যক্তিগত বা একান্ত জীবনের সঙ্কট, যা লজ্জার। যা হলো গিয়ে আসল সমস্যা। এর সবটুকু লিঙ্গজনিত। মধ্যরাতের সঙ্কট। হৃদয় ও অনুভূতিসমেত যা রচিত হতে পারে নারী ও পুরুষের মিলনে, শয্যায়। দোহের একান্ত যৌনজীবন। তার দেবতা। তার মনমানসিকতা। যেখানে শুধু দু’জন নারী-পুরুষই জানে তাদের ব্যর্থতা কিংবা সার্থকতার সংবাদ। কিন্তু তার কাঙ্ক্ষিত স্বর্গেও কখনো কখনো দেখা দেয় অমোঘ সঙ্কট। নৃশংসতা। বিজলীর যৌনজীবনের তাপিত সমস্যা। সর্বনাশের চাষাবাদ। এবং এই সমস্যাগুলোই পরবর্তীকালে ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা অসুস্থতার মূল হয়ে দাঁড়ায়। দুঃসংবাদ যে, আজও পর্যন্ত সতীদাহ–মানসিকতার সমাজে যৌন সমস্যা নিয়ে কথা বলা অশ্লীল। কাম, রতি, লিঙ্গ, যৌনতা বিষয়ক এসব সমস্যাগুলো যদিও মানুষের জীবনের অঙ্গ, কিন্তু ভুক্তভোগীরা এ সমস্যাগুলো বুকেই পুষে থাকতে হচ্ছে, কারণ যৌনজীবন যে একটি সুন্দর শিল্পও এই বোধ আমাদের নেই। বরং একে ঘিরে আছে শ্লীলতার চেয়েও অশ্লীলতা। তুচ্ছ তাচ্ছিল্য। একথা অবশ্যই বাস্তব যে, যৌনজীবন ব্যক্তির অন্যান্য সুখের মতোই বিনোদন, যা মানুষের বার্ধক্য ঠেকায়, মানুষকে উজ্জীবিত করে। তবে সমাজে এই সত্যের লজ্জা, লজ্জা, যা নিষিদ্ধ। ছিঃ…। বা ছি ছিক্কারে ভরা। অবৈধ প্রণয় হলে হবে তার কঠোর শাস্তি। কখনো দোররা, কখনো মৃত্যুদণ্ড। কেউ কেউ একঘরে। কেউ আমৃত্যু ছেনাল অপবাদ বয়ে বেড়ায়।
ওরা বলে অশ্লীল। ছেনাল। পুরুষ এবং নারী দেহের মিলনের সুখ সত্যই কি ছেনালি বা না? হোক সে ঘরে না হয় চৌকাঠের বাইরে। ক্ষণিক কিন্তু অফুরন্ত যার ঝরনাধারা, উজ্জীবিত করে যায় মন প্রাণ দেহ কল্পনা সব সবকিছু। যা মানুষের মস্তিষ্ক কোষে দেয় তাড়না। বাঁচার জন্যে যা একান্ত প্রয়োজন। তা কি করে ছেনাল? বিছানায় রতি সুখের অনুভূতি বিত্ত দিয়ে মাপা যায় না। এই সুখ প্রকৃতির গভীর থেকে ওঠে আসা। মানব দেহের গভীর, যেখানে সমুদ্র আছে। যে সমুদ্রে মুক্তো আছে। এখানে সবাই সমান। হোক বস্তিবাসী বা প্রাসাদবাসী। মাস্টার বা স্লেইভ। রানী বা গৃহহীন। এবং এখানে সমস্যা হলেই সকলেরই হবে সমূহ গণ্ডগোল। সব উল্টে-পাল্টে যায়। রাজত্ব, রাতের ঘুম, সব যায়।
বিজ্ঞান অনুযায়ী যৌনজীবনে বহুরকমের সমস্যা হয়। হতেই পারে। এবং এই সমস্যার জানলা খুলে দিলে কেন যে এখানে অশ্লীলতা কাজ করবে তা আমার জানা নয়। কেনই-বা তা নিষিদ্ধ জানা নয়! পিন আপ, কেন? কোন হিসেবে। তার কিছুই আমার জানা নয়। কারণ আমি বুঝি যে প্রক্রিয়া ছাড়া সন্তান সৃষ্টি হয় না, সেই প্রক্রিয়ার কোনও কিছুই নিষিদ্ধ, লজ্জা বা অশ্লীল হতে পারে না। সন্তান সৃষ্টির পূর্বশর্ত দোহের যোনি আর লিঙ্গের, স্নায়ুভিত্তিক সুখ ও পেষণের শারীরিক আনন্দ। ”ক্ষণিক তবে সুদূর প্রভাবিত।” পৃথিবীর প্রতিটি মানুষই তাদের বাবা ও মায়ের কামের চিহ্ন শরীরে বয়ে বেড়ায়। অর্থাৎ জন ডো বা রাইসু সেই ব্যক্তি যার বাবা এবং মা লিঙ্গ আর যোনিতে মিলে তাকে সৃষ্টি করেছে। এমন স্বর্গীয়, এমন সত্য, তা কি করে অশ্লীল?
যেখানে সমস্যা এত গভীর, নিত্যদিনের, এত সর্বজনীন, এতই মানবিক সেখানে লুকোবার কী আছে? যৌনজীবনের বিবিধ সমস্যার মধ্যে কেউ নপুংসক, কেউ বিকারগ্রস্ত, কেউ সমকামী আবার কেউ উভকামী, কেউ বিপত্নীক, কেউ কেউ আজীবন অবিবাহিত, যাদের মুক্ত বিহঙ্গের সঙ্গে তুলনা করা যায়। কারো সঙ্গী বা সঙ্গিনী দীর্ঘ বছর ধরে দূরে দূরে। এখন কারো মধ্যে যৌবন, কেউ বার্ধক্যে। সমস্যা অন্তহীন সব বয়সেই সব জীবনেই। বার্ধক্যেও যা মরে যায় না। কম বেশি থাকেই। নিভু নিভু বাতির মতো। তবে মধ্য বয়সের নারী উত্তাল তার মেনোপজের আগে আগে। আর ষাটের শুরুতে পুরুষ উত্তাল তার শিথিল শরীর ও বীর্যে ঘাটতি পড়ার আগে।
বয়স হরমোন ব্যক্তিত্ব এবং রুচির প্রভাবে পরিবর্তন হয় সময়ের দু’হাত ধরে। অতৃপ্ততা নাকি অনিচ্ছা! দাম্পত্য বাদ দিয়ে পরকীয়া। শীতল শিথিল অথবা অসুস্থ লিঙ্গ বা যোনি। অভ্যস্ত শরীর। অগণিত জানা-অজানা কারণে ব্যক্তির যৌনজীবন হতে পারে দুস্থ। এবং এই দুস্থতা প্রভাবিত করতে পারে জীবনের অন্যান্য অনেক কিছু। এমন কি বিবাহ। সমস্যা থেকে বিচ্ছেদ। সুতরাং এই সমস্যা ফেলনা নয়। অশ্লীলও নয়।
মানুষের ব্যক্তিগত সমস্যাগুলো যা এত গভীর তা আর রাখঢাক নয়। হোক তা বসার ঘরে, সিনেমা দেখতে দেখতে পরিবারের সবাই মিলে অন্যান্য যে-কোনও আলোচনার মতো।
.
২. ব্যর্থ যৌনজীবনের সদস্য সংখ্যা কত? দুস্থ যৌনজীবন! বার্ধক্যে বিপত্নীক যারা! মধ্য বয়সে হরমোনের তাণ্ডবে দিশেহারা যারা। বিকারগ্রস্ত কিংবা অকেজো যৌনাঙ্গ। দাম্পত্যে অরুচি বা অভ্যস্ত ছেড়ে, অনভ্যস্ত শরীরের প্রতি তীব্র আকর্ষণ।
