মেয়েদের হৃদয়ের ক্রাইসিস জাগে, পুরুষের প্রতারণা থেকে। প্রতারণা, পুরুষের স্বভাব। ওরা খেলুয়া পুরুষ, খেলে যতদিন খুশি। ওদের সুবিধে, ওদের পেট ফোলে না। ফোলে নারীর। পুরুষ পালিয়ে যায়। আর ভগ্ন হৃদয় নিয়ে নারী পড়ে এক মহা-সঙ্কটে। ভীষণ ভারি! ভীষণ বোঝা! কি যেন একটা পাথরের মতো ভারি সর্বক্ষণ চাপা দিয়ে রাখে হৃদয় নামের অদৃশ্য যন্ত্রটিকে। এই যন্ত্রণা যার হয় শুধু সেই বোঝে এর ভার! তার অন্য সকল সুখ এমনকি কোটি কোটি টাকাও তখন ভীষণ নগণ্য হয়ে যায়। তৃপ্ত হৃদয়, প্রস্ফুটিত গোলাপের মতো। তার দু’চোখ দেখলেই বোঝা যায় হৃদয়ের আবহাওয়া। আর্ত না আনন্দ। চোখই সে কথা বলে। দু’চোখের তারা। ব্যর্থ প্রেম, প্রতারণা, স্বপ্নভঙ্গ, হৃদয় নিয়ে খেলা, ক্রাইসিসের শত কারণ, চোখেই প্রথম প্রকাশ পায়। যে চোখ অন্ধকারে ভরা। চোখ, যা মৃত।
একথা জানা যে পুরুষের হৃদয় মেয়েদের তুলনায় কঠিন। পুরুষ, অপেক্ষাকৃত পাষাণ প্রকৃতির এবং আবহাওয়া বুঝে প্রতারক। প্রয়োজনে নির্মম ও নিষ্ঠুর। মেয়েদের নম্রতা, কমনীয়তা, আবেগ, অনুভূতি, সমর্পণ এবং বিশ্বস্ততা। পাশাপাশি, পুরুষের কিন্তু সেসবের কোনও বালাই নেই। হয়তো-বা এগুলো নারীর জন্যে তার স্বভাবজাত সম্পদ। তবে পুরুষ যে অপেক্ষাকৃত কঠিন হৃদয়ের সেকথা আর ঘটা করে না বললেও চলে।
মেয়েদের মিডলাইফ ক্রাইসিসের অন্যতম একটি কারণ, তার হৃদয়! যেখানে বোধ খুব কমই কাজ করে বা কখনই কাজ করতে পারে না। তার মহাসমস্যা তাকে নিয়ে পুরুষের ছিনিমিনি খেলা। মেয়েরা ওদের চরিত্র বুঝে উঠতে পারে না। ফলে মুহুর্মুহু ওদের নিষ্ঠুরতার জালে ফেঁসে যায়। পাষাণ হৃদয়, কঠিন চরিত্রের পুরুষ। পুরুষের প্রতারণার শিকার হয়ে কত মেয়েদের যে সর্বনাশ হয়ে গ্যাছে তার কি কোনও পরিসংখ্যান আছে? নেই। কোনও পুরুষ হয়তো কদিন বেমালুম লজ্জা লুটে পালিয়ে গ্যাছে, কাউকে গর্ভবতী করে, কাউকে মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে, কথা না রেখে, কেউবা অন্য মেয়েকে বিয়ে করে। সন্দেহ নেই যে, পুরুষ নিষ্ঠুর! তবে সবাই নয়। কিন্তু যারাই এধরনের অপকর্মের আওতায় পড়ে, তাদের সংখ্যা নেহাৎ কমও নয়। পুরুষের টিপিক্যাল চরিত্র। হাত ঝেড়ে-ঝুড়ে ভুলে যেতে পারে সবকিছু, যেন কিছুই হয়নি।
আমাকে বলবে, ভালোবাসে। ওকেও। তাকেও। সততা, স্থিরতা, নিমগ্নতা, সমর্পণ, ওরা দায়ভার অস্বীকার করতে পারে নিমেষে। না হলে ওরা হয়তো মনে করে এগুলো না থাকলে পুরুষের সংজ্ঞায় পড়বে না। ওদের এই মুখোশ সম্পর্কে যে নারী অবহিত তিনি নিরাপদ। আর যে চেনে না সে অবহেলিত। ছেলেদের থেকে তাকে কতটা দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হয়! এই না-জানা ভুলের মাসুলও গুণতে হয় প্রচুর। কিন্তু চাইলেও কি আর দূরে থাকা যায়? মেয়েরা স্বভাবজাত কারণেই পুরুষের ভালোবাসার প্রত্যাশী। তারা পুরুষ চায়; পুরুষদের বুক চায়। তার ওম ওম বুক চায়। দিতে চায় আবার পেতেও চায়। পুরুষ ছাড়া তাদের চলে না। বিয়ের পর স্বামী ছাড়া সে যেন কিছুই বোঝে না। কত সহজে তারা ত্যাগ করে পিতৃগৃহ। সব আপনজন ছেড়ে চিরতরে অচেনার এই ত্যাগ, শুধু মেয়েদের জন্যে প্রযোজ্য। পিতৃগৃহ ত্যাগ তারই। কি নিষ্ঠুরতা! কত ব্যথা! তারই। কি যদিও তা ঠিক নয়, কিন্তু এটাই নিয়ম। বিয়ের পর পুরুষ কখনো যাবে না আপন ঘর ছেড়ে, নারীর ঘরে। প্রশ্ন হয়, কেন যাবে না? কেন নারীকে দিতে হয় এই নিষ্ঠুর মূল্য। নিমগ্নতা, সততা, শুদ্ধিও মেয়েদেরই। ওদের অধিকাংশেরই কুৎসিত চরিত্র আমি দেখেছি তৃতীয় চোখ দিয়ে। হ্যাঁ, তবে ব্যতিক্রমী ভালো পুরুষ যে সেই তাও নয়। আছে। তবে খারাপ পুরুষ নিয়ে আমাদের বিড়ম্বনারও শেষ নেই। আমাদের সুরঞ্জনাদের ঘরে ঘরে, পুরুষ এখন একটা চরম নিষ্ঠুরতার নাম।
আমি প্রচুর মেয়েদের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলে দেখেছি মধ্য বয়সের সঙ্কট নিয়ে। শুনে বুঝি যে মেয়েরা তাদের চিরাচরিত সমস্যার কথা, না কাউকে বলতে জানে, না সইতে জানে। নপুংসক স্বামী, নিজের যৌন অভ্যেস, সমকামিতা, বিকার, অতৃপ্ততা, পছন্দ, অপছন্দ। পারলে জীবন অনেক সহজ হতো। কিন্তু বলতে পারার সেই ভাষা সেই সাহস মেয়েরা আদৌ রপ্ত করতে পারেনি আজও। অন্তত আমাদের মেয়েরা। মেয়েদের ক্রাইসিস, পুরুষ। ক্রাইসিসের কারণ তার শিশুসুলভ নির্মল হৃদয়। ক্রাইসিসের ফল, মানসিক ও মানবিক যন্ত্রণা। ক্রাইসিসের শেষ পরিণতি, মাথার গোলমাল দেখলে যখন রাস্তার লোকেরা ঢিল ছুঁড়ে মারে। তবে এ কথা প্রযোজ্য শুধু খেলুড়ে প্রেমিক এবং নির্যাতক স্বামীদের বেলায়।
খ. কিছু পুরুষ আছে যারা খুব সহজে মেয়েদের কাছে রীতিমতো ভীতিকর দুঃস্বপ্ন। খেলুড়ে প্রেমিক ওরা। হৃদয় নিয়ে খেলার প্রেমিক ওরা। মেয়েদের সবচেয়ে গোপন, সবচেয়ে নরম জায়গা নিয়ে ওরা মজা করে। মুখে ভালোবাসা বললেও, আসলে ওরা ভালোবাসে না। শুধু ভালোবাসার অভিনয় করে এবং মেয়েরা ওদেরকে বিশ্বাস করে করে অনেকদূর এগিয়ে যায়। মেয়েরা যেহেতু সঙ্গত কারণেই পুরুষ মানুষকে বিশ্বাস করতে চায় সেহেতু ভালোলাগার পুরুষ মানুষটিকে সে তার মনপ্রাণ এমনকি শরীরও দিয়ে দেয় খুব সহজেই। তাকে খুশি রাখতে। তার ভালোবাসা পেতে। পুরুষ বলে দাও না হলে চলে যাবো। মেয়েরা দেয়। তা সত্ত্বেও অধিকাংশই পালিয়ে চলে যায় নেয়া শেষ হলে।
