চাচনামা থেকে আরো জানা যায়, রাওয়ারে কাসিমের আক্রমণের সময় প্রায় ৩০,০০০ বন্দিকে ক্রীতদাস বানানো হয়, যাদের মধ্যে ছিল সেনাধ্যক্ষদের কন্যারা ও একজন ছিল রাজা দাহিরের বোনের মেয়ে। বন্দি ও লুণ্ঠিত মালামালের এক-পঞ্চমাংশ হাজ্জাজের নিকট প্রেরণ করা হয়। ব্রাহ্মণ্যবাদ যখন মুসলিম আক্রমণে পতিত হয়, জানায় ‘চাচনামা’: ৮,০০০ থেকে ২৬,০০০ লোককে নিধন করা হয়; এক-পঞ্চমাংশ বন্দিকে আলাদা করে গণনা করা হলে তাদের সংখ্যা দাঁড়ায় ২০ হাজার; অবশিষ্টদেরকে যোদ্ধাদের মাঝে ভাগ করে দেওয়া হয়। তার অর্থ পঁাড়ায়: এ আক্রমণে প্রায় ১০০,০০০ নারী ও শিশুকে ক্রীতদাস করা হয়েছিল।
খলিফার হিস্যা হিসেবে একবার প্রেরিত লুণ্ঠন দ্রব্য ও ক্রীতদাসদের মধ্যে ছিল ৩০,০০০ নারী ও শিশু এবং নিহত দাহিরের ছিন্ন মস্তক। সেসব বন্দির মধ্যে ছিল সিন্ধুর বিশিষ্ট মর্যাদাবান পরিবারের কিছু তরুণী কন্যা। হাজ্জাজ লুণ্ঠন দ্রব্য ও ক্রীতদাস বহনকারী বহর দামেস্কে খলিফা আল-ওয়ালিদের নিকট পাঠিয়ে দেন। সে সময়ের খলিফা যখন চিঠিটি পড়েন, লিখেছে চাচনামা: তিনি সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রশংসা করেন। তিনি সেনাধ্যক্ষদের কন্যাদের কিছুকে বিক্রি করে দেন এবং কিছু উপহার হিসেবে প্রদান করেন। তিনি রাজা দাহিরের ভগ্নির কন্যাদেরকে যখন দেখেন, তাদের সৌন্দর্য ও মনোহর রূপে এতই অভিভুত হন যে, হতবাক হয়ে আঙ্গুল কামড়াতে থাকেন।
আল-বিলাদুরী লিখেছেন, মুলতান আক্রমণে বন্দি হওয়া লোকদের মধ্যে মন্দিরের পুরোহিতদের সংখ্যাই ছিল ৬ হাজার। এ সংখ্যাটি আমাদেরকে একটা ধারণা দিতে পারে মুলতান আক্রমণে মোট কত সংখ্যক নারী ও শিশুকে ক্রীতদাস করা হয়েছিল। কাসিম একই রকমের অভিযান চালিয়েছিল সেহওয়ান ও ধালিলায়। সংক্ষিপ্ত তিন বছরের (৭১২ ১৫) নেহাতই ছোট কৃতিত্বে কাসিম সম্ভবত সর্বমোট তিন লাখের মতো লোককে ক্রীতদাস বানিয়েছিল।
ইসলামের এই আগ্রাসনের মতোই খ্রিস্টধর্মের অনুসারীরাও একই কায়দায় সারা পৃথিবী জুড়ে তাদের বিশ্বাসের সংক্রমণ ঘটিয়েছিল। মার্টিন লুথারের খ্রিষ্টীয় ভাইরাস ১৫০০ সালের দিকে জার্মানির অশিক্ষিত, কুশিক্ষিত এবং অজ্ঞ জনগণের মধ্যে সস্তা জনপ্রিয়তা পেয়ে ভাইরাসের মতোই ছড়িয়ে গিয়েছিল। লুথারের এই প্রটেষ্টান্ট ভাইরাস এতোই শক্তিশালী ছিল যে তার সংক্রমণ আগেকার ক্যাথলিক ভাইরাসের সংক্রমণকে পর্যুদস্ত করে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ইউরোপের জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল। এই সংক্রমণ যে সবসময় শান্তিপূর্ণ ছিল তা নয়। সে সময় ত্রিশ বছরের সহিংসতা ইতিহাসের সমস্ত হত্যাযজ্ঞকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল। ১৬১৮ সালে লুথারের অনুসারী প্রটেষ্টান্ট নেতারা প্রাগের দুইজন ক্যাথলিক মিশনারিকে জানালা দিয়ে বিল্ডিং এর বাইরে ফেলে দেয়। এর পর থেকে ক্যাথলিক এবং প্রটেস্টান্টদের মধ্যে সহিংসতা জার্মানি থেকে শুরু করে স্পেন, ইংল্যান্ড, হল্যান্ড, ডেনমার্ক, সুইডেন, ফ্রান্স এবং ইতালি সহ বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। সুইডেনের প্রটেষ্টান্ট সৈনিকেরা লুথারের ‘Ein ‘Feste Burg (আমাদের ঈশ্বরই আমাদের দুর্গ) ধ্বনি দিয়ে যুদ্ধ শুরু করেছিল। তিন দশক পরে মধ্য ইউরোপ যেন মৃতদেহের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছিল। একটা পরিসংখ্যানে দেখা যায় জার্মানির জনসংখ্যা এই সহিংসতার কারণে ১ কোটি আশি লক্ষ থেকে কমে চল্লিশ লাখে নেমে এসেছিল। ক্যালভিনিষ্ট ভাইরাস ছিল আবার লুথেরান ভাইরাসের মিউটেশন। এরকম আরো অনেক মিউটেশন তৈরি হয়েছিল খ্রিস্টধর্ম থেকে, তারা সবাই নিজেদের অনুগামীদের সাহায্যে যুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছিল একে অপরের সাথে।
অন্যদিকে ভারতবর্ষে একটা সময় আবার হিন্দু ধর্মের মিউটেশনে তৈরি হয়েছিল বৌদ্ধধর্ম যা খ্রিষ্টপূর্ব ৪৮০ শতক থেকে খ্রিস্টপূর্ব ১৮০ শতক পর্যন্ত শীর্ষ ভাইরাস হিসেবে পরিচালিত হয়েছিল। পরে উগ্র ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দু ভাইরাসের দাপটে ভারতবর্ষ থেকে প্রায় বিতাড়িত হতে হয় বৌদ্ধদের। শুধু হিন্দুরাই নয়, পরবর্তীকালে বখতিয়ার খিলজি সহ মুসলিম জিহাদি ভাইরাসের হাতে নালন্দা বিদ্যানিকেতন ধ্বংস হওয়াও বৌদ্ধধর্মের বিলীন হবার পেছনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।
.
সিকেল সেল অ্যানিমিয়া: ক্ষতিকর প্রকরণ কীভাবে টিকে থাকে
ওয়াল্টার ক্লেমেন্ট নোয়েল ১৮৮৪ সালে গ্রেনেডা দ্বীপপুঞ্জে জন্মেছিলেন। আফ্রিকান বংশোদ্ভূত এই ব্যক্তি পরিণত বয়সে আমেরিকা চলে আসেন। তিনি যখন আমেরিকা এসেছিলেন, সে সময় কালো মানুষদের নানা ধরণের সামাজিক বৈষম্যের শিকার হতে হত। খুব কমই সুযোগ পেতেন সাদাদের সাথে মিলে একাডেমিয়ায় এবং অন্যত্র একসাথে কাজ করার। কিন্তু নোয়েল ছিলেন সেই বিরল সংখ্যালঘু মানুষদের অন্যতম। নোয়েলের শিক্ষা, কর্মদক্ষতা এবং তার মেধার প্রতিদান হিসেবে শিকাগো কলেজ অব ডেন্টাল সার্জারি’ তে যোগ দিলেন ১৯০৪ সালে।
কিন্তু আমেরিকান বিদ্যায়তনে যোগদানের পর নোয়েল যে খুব সুখে ছিলেন তা নয়। কারণ তার সদা ভঙ্গুর স্বাস্থ্য। তার মাথা ব্যথা, গাঁটে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট সহ একগাদা সমস্যা লেগেই ছিল।
তিনি হাসপাতালে জেমস বি হেনরিক নামে এক নামকরা চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা শুরু করেন। তার রক্তের নমুনা পর্যবেক্ষণ করে ডাক্তার সাহেব এক অদ্ভুত জিনিস লক্ষ্য করলেন। তার রক্তকণিকাগুলোর আকার গোলাকার না হয়ে কেমন যেন চিকন কাস্তের মত দেখতে। এই ধরনের ঘটনা ডাক্তারবাবুর জন্য নতুন। এর মধ্যে নোয়েল বেশ কয়েকবারই মাংসপেশির খিচুনি এবং বিলিয়াস অ্যাটাক’-এ ভুগে প্রেসবেটেরিয়ান হাসপাতালে ভর্তি হলেন। কিন্তু কেন এগুলো হচ্ছে তার খুব একটা কুল কিনারা করতে পারছেন না ডাক্তারেরা।
