এদিকে বুটু ঘুম ভেঙে গিয়ে কাঁদতে শুরু করেছে। আমি তাড়াতাড়ি ওকে ঘুম পাড়াতে লাগলাম। অলপো পরেই ও আবার ঘুমিয়ে পড়লো। আমি বসে রইলুম। কিনতু কিছুই শুনতে পেলাম না।
এইরে, বুটুর জননো লেখা বইয়ে বুটুর কথাই অনেক লিখে ফেলেছি। তবে কোন ভয় নেই। বাঁধাবার আগে যখন পুফ (সুমিদের পেরেস আচে। ওরা পেসে পুফ দেখে, ঠিক তেমন করে আমিও পুফ দেখবো) দেখবো তখন কেটে বাদ দিয়ে দেবো। নয়তো বুটু হাসবে। এখন আর লিখবো না। ভীষণ ঘুম পাচে। (এখোন কিনতু ঘুম পাঁচচে না। যখোনকার কথা লিখছি তখোন ঘুম পাঁচচিলো তাই লিখলুম। বড়োরাও এমনি লেখে।)
*
সককালে উঠে যা দেখলাম কি বোলবো। এতো মজা আননদো আর খুশি হোল যে আমার নাচতে ইচচে কোরছিলো। সকালে উঠে দেখি রাননাঘরে পড়ে আছি। দরজা তো বাইরে থেকে বনধো। কেমনি করে বেরই। বুটু কিনতু ঘুমোচচে। বাচচা তো। তখনই দেখলুম বেড়ার তলার ফাঁকটা, যেখান দিয়ে ভুলু রাননাঘরে ঢোকে মাংসের হাড় খাবার জননো। চটপট সেখান দিয়ে বেরিয়ে পড়লুম। অমলকাকু যে ফ্রকটা দিয়েছিলো ওটা পরেছিলাম। একটু ছিঁড়ে গেলো। ছুটটে গিয়ে সদর দিয়ে বাড়িতে ঢুকলাম। তারপর রাননাঘরে গিয়ে দরজা খুলে বুটুকে বের করে আনলাম। তারপর শোওয়ার ঘরে গিয়েই আননদোটা হোল। তাড়াতাড়ি বুটুকে বিছানায় শুইয়ে দিলাম তারপর ছুটটে গেলাম মার কাছে। মা শুয়েচিলো আর–আর কি ফরসা। অনেক-অনেক ফরসা। আগের বারের মতোন শুধু হাত নয়, এবার পুরোটা ফরসা।
হটাৎ দেখি একটু দুরে মার আঁচলের চাবিটা পড়ে আচে আর এটটু রকতো। তাহলে বোধহয় মারামারির সময় বাবার হাত থেকে, মার হাত থেকে কাটা থেকে রকতো পড়েছে। বাবা দেখলুম রোজকার মতোনই বাড়িতে নেই। মাকে অনেক ডাকাডাকি কোরলুম–মা, দেখো, তুমি ফরসা হোয়ে গেচো। মা–ওমা। কি মজা এবার। তাহোলে আমিও ফরসা হবো। নীলাদি বোলেছিলো যে তোর মা যদি ফরসা হোত তবে তুইও ফরসা হোতিস। তাহোলে মা তো হয়েই গেছে, এবার আমি হব। বুটুর হওয়ার কোনো দরকার নেই–ও তো ছেলে। যতোককন মা ঘুমোচছে ততক্ষণ এটা লিখে ফেলছি। শেষদিকটা ইচচে করে একটু কঠিন দিলুম। পড়ার বই তো, গলপের বই তো নয় আর। আজ গিয়ে নমিতাকে কোষে বকুনি লাগাবো আমাকে কালি বলার জননো। রোজ রোজ ইয়ারকি ভালো লাগে না। ওকে বোলবো–এত বড় ধেড়ে মেয়ে হোয়ে মিতথে কথা বলিস কেমন করে রে। চোখের ওপর দেখছিস আমি ফরসা তবু কালি বোলচিস, বানচো তোদের কুকুরটার নাম কালি রাখিস। নাঃ, বড়ডো খিদে পেয়ে যাচে। কতোকখন যে বসে থাকতে হবে কে জানে। বাইরে মনে হয় কারা আসছে। একটা গাড়ির আওয়াজ পেলাম। তারপরই গসগস গসগস করে বুটের শবদো। বোধহয় হরিশ কাকুরা বেড়াতে এল। সোততি, কি অবাকই না ওরা হয়ে যাবে মাকে দেখে। কিনতু আর এটটু দেরি কোরে আসতে পারলো না ওরা! ততোকখনে আমিও ফরসা হোয়ে যেতুম। একেই বলে কানডোজ্ঞানহীন এর মতো কাজ করা। মরণ…!
আরশিনগরের অসভ্য লোকটা
০১.
বলব না বলব না করেও শেষ পর্যন্ত লোকটার কথা নন্দিনীকে বলে ফেললাম।
লোকটাকে আমি গত তিনদিন ধরে লক্ষ করছি। সবসময় চোরের মতো আড়চোখে তাকিয়ে রয়েছে। প্রথম-প্রথম ভাবতাম, লোকটা বুঝি লুকিয়ে-চুরিয়ে আমাকে দ্যাখে। কিন্তু এই তিনদিনেই বুঝেছি, না আমাকে না–লোকটা লুকিয়ে লুকিয়ে নন্দিনীকেই দেখার চেষ্টা করে।
অবশ্য সবসময় যে দ্যাখে তা নয়। লুকিয়ে দেখার জন্য ও ঠিক মোক্ষম মুহূর্তগুলোই বেছে নেয়। যেমন, নন্দিনী বাথরুম থেকে স্নান সেরে ঘরে এলেই লোকটা তৈরি হয়ে যায়। ওর চোখের মণি ঠেলে বেরিয়ে আসতে চায়। গলার শিরা ফুলে ওঠে। ফরসা মুখে রক্তের ফোয়ারা ছোটে। সব মিলিয়ে লালসা মাখানো কামুকনজরে ও চোখ বড়-বড় করে নন্দিনীকে দেখতে থাকে। কারণ ও জানে, এক্ষুনি নন্দিনী কাপড় ছাড়বে। তারপর..ওঃ, অসহ্য!
আর নন্দিনীকেও বলিহারি যাই! জানি, সুন্দর করে সাজানো অ্যাটাচ্ড বাথওয়ালা এই মাঝারি ফ্ল্যাট একেবারে আমাদের নিজের। বাথরুম থেকে স্নান সেরে নন্দিনী খালি গায়ে বেরোলেই-বা কে দেখতে পাবে–আমি ছাড়া! তখন ওর ফরসা গায়ে, বুকে, চুলে জলের ফোঁটা আটকে থাকে। এমনকী নাকের ডগায়, চোখের পাতায়, অথবা ঠোঁটেও ছুঁয়ে থাকে জলবিন্দু। তখন আমার তো আর মাথার ঠিক থাকে না, তাই ওকে জাপটে ধরে ঠোঁট দিয়ে সারা শরীরের জলের ফোঁটা মুছে নিই। আর স্পষ্ট বুঝতে পারি, কেন জলের আর-এক নাম জীবন। কারণ, ওই সময়ে নন্দিনীকে আদর করতে–পারলে আমি মরে যেতাম।
বিয়ের পর তিনটে বছর দারুণ কেটে গিয়েছিল। দিনে বা রাতে আমাদের ভালোবাসায় কোনও হেরফের হত না। মনে হত, ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় আমাদের ভালোবাসা যেমন ছিল, এখন তারই অ্যাকশান রিপ্লে চলছে। তা-ই চলত যদি না মাঝখান থেকে ওই অসভ্য লোকটা এসে দেখা দিত।
ভোরবেলা নন্দিনী যখন বিছানা ছেড়ে ওঠে তখন সে এক দেখার মতোই দৃশ্য! যাকে বলে টপ। মানে টপলেস। ব্লাউজ-এর বালাই নেই। আর শাড়ি-সায়াটা বায়না করা বাচ্চার মতো কোনওরকমে ওর কোমর আঁকড়ে ঝুলছে। তখন ঘুম জড়ানো চোখে যেই আমি নন্দিনীকে দেখি অমনি আমার ঘুম ছুটে যায়। হ্যাংলার মতো ওর দিকে তাকিয়ে থাকি। অথচ, কিছুক্ষণ আগেই, সারারাত ধরে ওকে নিয়ে কত-না হামলা-হামলি করেছি। শরীর-মন-বিছানা সব উথালপাতাল। তবুও সকালের আলোয় ওর ওই ফরসা ইয়েগুলো দেখলে আমি কেমন ইয়ে হয়ে যাই। এইজন্যেই বোধহয় মুনি-ঋষিরা বলেছেন : লোভ অতি বিষম বস্তু।
