ইগনোর করুন ব্রাহ্মণ্য-ব্যবস্থা। কীভাবে ইগনোর করবেন? শাস্ত্রের দোহাই দিয়ে ব্রাহ্মণদের নির্দেশ হলে এমন সব নির্দেশ অগ্রাহ্য করুন। কারণ তথাকথিত শাস্ত্র যা, শাস্ত্রের লিখন যা –তার সবই ব্রাহ্মণ-শাসক দ্বারা রচিত। যেমন– মন্ত্রপাঠ করে বিয়ে করা (রেজিস্ট্রি করে ম্যারেজ করুন, সামর্থ্য অনুযায়ী প্রীতিভোজ দিন)। শিশু প্রথম ভাত খাক এবং তা মামাই খাওয়াক (পুরোহিত আনবেন না), প্রীতিভোজও সামর্থ্য অনুযায়ী। পুজো করতে চাইলে আপনি নিজে করুন, পুরোহিতের প্রয়োজন নেই, মন্ত্রও লাগে না। প্রিয়জন বিয়োগে মৃতদেহ দাহ করুন বা মাটি দেন– এখানেই সৎকার শেষ করুন। হবিষ্যি খাওয়া, অশৌচ পালন, ধরা বাঁধা, মস্তক মুণ্ডনাদি ক্ষৌরকর্ম, পিণ্ডদান, ব্রাহ্মণভোজন, প্রীতিভোজ বাতিল করুন। সবচেয়ে উত্তম হয় যদি আপনার আত্মীয়ের মরদেহ মেডিক্যালে বিজ্ঞানের স্বার্থে দান করতে পারেন। উত্তম এই কারণে যে, মানুষের মৃত্যুর পর মরণোত্তর দেহদানের পর কী করণীয় তার কোনো শাস্ত্রীয় অঙ্গুলি-নির্দেশ বা বিধান নেই। তাই কোনো চাপও থাকছে না। অ-কার্যকর সংরক্ষণ ব্যবস্থার বিরোধিতা করুন, এ ব্যবস্থা আপনার কোনো কাজে লাগে না। এ ব্যবস্থা আপনাকে ভয়ানকভাবে চিহ্নিত করে যে, আপনি দুর্বল, অযোগ্য, আপনি ছোটোজাত, আপনি পরাজিতের দলে, আপনি অসুর দৈত্য-দানো। যোগ্যতার মাপকাঠিতে সমস্ত ক্ষমতা অর্জন করতে হবে, মর্যাদার সঙ্গে বাঁচতে হবে, নইলে নয়। দয়া নয়, অর্জন করে নিতে হবে। আপনারা সংখ্যালঘু নন, আপনারাই সংখ্যাগুরু।
————
সাহায্যকারী তথ্যসূত্র :
১. ভারতীয় ধর্মের ইতিহাস –নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য
২. বৌদ্ধ দর্শন– রাহুল সাংকৃত্যায়ন
৩. অলৌকিক নয় লৌকিক (তৃতীয় খণ্ড)– প্রবীর ঘোষ
৪. মুসলিম সমাজ কয়েকটি প্রাসঙ্গিক আলোচনা— মইনুল হাসান
৫. বাংলার সমাজে ইসলাম সুচনাপর্ব– অতীশ দাশগুপ্ত
৬. ব্রাহ্মণ্যবাদ– রণজিৎ কুমার সিকদার
৭, অনীক(অক্টোবর-নভেম্বর ২০০৫)
৮. আমি শূদ্র, আমি মন্ত্রহীন– কঙ্কর সিংহ
৯. মনুসংহিতা– সুরেন্দ্রচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
১০, ক্ষমতা হস্তান্তর ও দেশবিভাগ– লাডলীমোহন রায়চৌধুরী
১১. অনীক (অক্টোবর-নভেম্বর ২০০৫)।
১২. মানবাধিকার ও দলিত– দেৰী চ্যাটার্জী,
১৩. শূদ্র জাগরণ– গৌতম রায়,
১৪. বর্তমান ভারত– স্বামী বিবেকানন্দ,
১৫. প্রাচীন ভারতে শূদ্র– রামশরণ শর্মা,
১৬. জাতের বিড়ম্বনা– শ্রীউপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়।
মৃত্যুদণ্ড : রাষ্ট্র কর্তৃক নরমেধ যজ্ঞ
মৃত্যুদণ্ড বা প্রাণদণ্ড (Capital Punishment) হল আইনি পদ্ধতিতে কোনো ব্যক্তিকে শাস্তিস্বরূপ হত্যা করা। যেসব অপরাধের শাস্তি হিসাবে সাধারণত মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়ে থাকে, সেগুলিকে বলা হয় মৃত্যুদণ্ডাই অপরাধ। অতীতে প্রায় সকল দেশেই মৃত্যুদণ্ড প্রথা প্রচলিত ছিল। বর্তমানে মাত্র ৫৮টি দেশ প্রত্যক্ষভাবে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে থাকে। ৯৫টি দেশ এই প্রথা অবলুপ্ত করে দিচ্ছে। অবশিষ্ট দেশগুলি ১০ বছর এই দণ্ড ব্যবহার করছে না বা যুদ্ধ ইত্যাদি ব্যতিক্রমী ঘটনা ছাড়া মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগ করছে না। অনেক দেশেই মৃত্যুদণ্ড একটি বিতর্কের বিষয়। তবে একই রাজনৈতিক আদর্শ ও সাংস্কৃতিক অঞ্চলে মৃত্যুদণ্ড নিয়ে মতান্তর রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মৌলিক অধিকার সনদের ২ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভুক্ত দেশগুলির উপর মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অধিকাংশ দেশকেই ‘অ্যাবোলিশনিস্ট’ অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড বিলোপের পক্ষপাতী মনে করে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মৃত্যুদণ্ড বিলোপের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রসংঘে একটি অবাধ্যতামূলক প্রস্তাবনায় ভোটের অনুমোদন দিয়েছে। যদিও বিশ্বের ৬০ শতাংশ মানুষ সেই সব দেশে বাস করেন, যেখানে মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্বের সর্বাধিক জনসংখ্যাবিশিষ্ট চারটি দেশও (গণচিন, ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইন্দোনেশিয়া)। চারটি দেশই ২০০৮ খ্রিস্টাব্দে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় Resolution on a moratorium on the use of the death penalty’ এর বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। আসলে রাষ্ট্র তখনই সেই ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেবে, যে ব্যক্তি রাষ্ট্রের পক্ষে ঝুঁকিকর হতে পারে। রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে সেই মৃত্যুদণ্ডই কাক্ষিত, যদি কোনো ব্যক্তি বিদ্রোহী হয়– এই বিদ্রোহীদেরই ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ হিসাবেই প্রতিপন্ন করা হয় এবং মৃত্যুদণ্ডপূর্বক হত্যা করা হয়।
মৃত্যুদণ্ড হল অপরাধীর জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি। যদিও পৃথিবীর অনেক দেশ আছে, যেখানে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসাবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় না। কিন্তু বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিধি আছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পদ্ধতি একেক সময়ে একেক পদ্ধতিতে দেওয়া হয়েছে এবং হচ্ছেও। আমি এখানে মৃত্যুদণ্ডের ৩৬টি পদ্ধতি উল্লেখ করব। যদিও সবকটি পদ্ধতি এখন আর কার্যকর হয় না, তবুও জেনে রাখব।
(১) ইলেকট্রিক চেয়ার : মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিটিকে একটা চেয়ারের সঙ্গে বেঁধে বসিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সেই ব্যক্তির মাথায় একটা ভেজা স্পঞ্জ লাগানো হয়, যাতে বিদ্যুৎপ্রবাহ সহজেই কার্যকর হতে পারে। তার মাথায় এবং পায়ে ইলেকট্রোড লাগিয়ে দেওয়া হয়। সাধারণত দু-বার বিদ্যুৎপ্রবাহ তাঁর শরীরের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করানো করা হয়। প্রথমবার ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০০০ ভোল্ট বিদ্যুৎ। এর ফলে ব্যক্তিটির হৃৎপিণ্ড স্তব্ধ হয়ে যায়। এরপর দ্বিতীয়বারের বিদ্যুৎপ্রবাহের ফলে তার শরীরের ভিতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পুড়ে যায়।
