২০০ গজের মধ্যে একটি যৌনকর্মীর সঙ্গে যৌনকর্ম জড়ালে চার্জ করা যেতে পারে (৩ মাসের কারাদণ্ড )। যৌনকর্মী ১৮ বছর বয়সের নীচে হলে ক্লায়েন্টকে শাস্তি দেওয়া যেতে পারে। সেক্ষেত্রে শাস্তি ৭ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড। বাবু বা দালাল বা পোষ্য প্রেমিক, যাঁরা গণিকাবৃত্তির মাধ্যমে উপার্জন করে, তা দণ্ডনীয় অপরাধ। কোন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ যদি গণিকার সঙ্গে বসবাস করে এবং তা প্রমাণিত হয়, তবে তাকেও দোষী মনে করা হয়। শাস্তি জরিমানা সহ ২ বছরের কারাদণ্ড। বড়িওয়ালি এবং গণিকালয়-রক্ষীদের বিরুদ্ধে মামলা করা যেতে পারে। ভারতে গণিকালয় চালানো অবৈধ। প্রথম অপরাধের জন্য জরিমানা সহ ১ থেকে ৩ বছর কারাদণ্ড। কেউ যদি যৌন-শোষণের উদ্দেশ্যে আটক করে, তাহলে মামলা দায়ের করতে পারে। শাস্তি ৭ বছরের বেশি সময় কারাবাস। হোটেলে গণিকাবৃত্তি চালানোও একটি ফৌজদারি অপরাধ।
২০০৯ সালে সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় যে, আইন সংশোধন বিবেচনা করার জন্য গণিকাবৃত্তি আইনি করা উচিত এবং একটি প্যানেল গঠন করা উচিত। ২০১১ সালে সুপ্রিম কোর্টের মতে, মর্যাদা সহকারে বসবাসের অধিকার’ একটি সাংবিধানিক অধিকার এবং শ্রমকর্মীদের মর্যাদা সহকারে কাজ করার উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টির শর্ত সম্পর্কিত একটি আদেশ জারি করে। আদালতে কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে পুনর্বাসনের জন্য আগ্রহী দেশে যৌনকর্মীদের সংখ্যা নির্ধারণের জন্য একটি জরিপ পরিচালনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে ২০১২ সালে কেন্দ্রীয় সরকার সুপ্রিম কোর্টের কাছে একটি আপিল করেছিল যে যৌনকর্মীদের সাংবিধানিক মর্যাদা সহকারে বসবাসের অধিকার’ অনুযায়ী তাদের ব্যাবসা চালানোর অনুমতি দেওয়া উচিত নয়। সরকারি পরামর্শে বলা হয়েছে যে, আদালত কর্তৃক এ ধরনের কোনো অনুমোদন আইটিপিএর অত্যাবশ্যক হবে, যা সম্পূর্ণরূপে গণিকাবৃত্তিকে নিষিদ্ধ করে। বিরোধিতাকারী আইনজীবী এই আইনটি শুধুমাত্র গণিকাবৃত্তি কার্যক্রম এবং পিম্পসের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিষিদ্ধ করেছিল। সুপ্রিম কোর্টের এই আবেদনটি পর্যবেক্ষণ করার জন্য রাজি হয়েছে।
একনজরে ভারতীয় গণিকাবৃত্তির বিরুদ্ধে আইন :
যৌনকর্মী : কোনো গণিকা যদি প্রলুব্ধ করে বা আহ্বান জানায় তবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হবে। একইভাবে, কলগার্লরাও তাঁদের ফোন নম্বর জনসমক্ষে প্রকাশ করতে পারবে না। (জরিমানাসহ ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, ৮ নং পয়েন্ট)।
প্রকাশ্য স্থান অথবা ‘বিজ্ঞাপিত স্থানের’ কাছাকাছি গণিকাবৃত্তির জন্যও যৌনকর্মীদের শাস্তি হবে (জরিমানাসহ তিনমাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, পয়েন্ট ৭),
ক্লায়েন্ট : গণিকাদের সঙ্গে সঙ্গমে লিপ্ত হওয়ার জন্য একজন ক্লায়েন্ট অপরাধী হিসাবে গণ্য হবে এবং সে যদি কোনো প্রকাশ্য স্থানের কিংবা বিজ্ঞাপিত স্থানের’ ২০০ গজের মধ্যে কোনো যৌনকর্মীর সঙ্গে যৌনসংসর্গে লিপ্ত থাকে তবে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হবে। (তিনমাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, ৭ নং পয়েন্ট)। যৌনকর্মী যদি ১৮ বছরের নীচে হয় তাহলেও ক্লায়েন্টদের শাস্তি দেওয়া হবে (৭ থেকে ১০ পর্যন্ত কারাদণ্ড, যদি গণিকা শিশু অথবা নাবালিকা হয়ে থাকে)।
কুটনি বা বাবু : গণিকাদের আয়ের অর্থে জীবনযাপন করা কুটনি বা বাবু বা লিভ-ইন প্রেমিকেরাও অপরাধী। গণিকাদের সঙ্গে বসবাস করা যে-কোনো প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকেই অপরাধী হিসাবে ধরে নেওয়া হবে, যদি না সে নিজেকে দোষমুক্ত হিসাবে দেখাতে না পারে। (জরিমানাসহ ২ বছরের জেল, ৪ নং পয়েন্ট)।
গণিকালয় : গণিকালয়ের মালিক এবং এর রক্ষকের দণ্ডাজ্ঞা হতে পারে; গণিকালয় চালানো অপরাধ। (প্রথম অপরাধের জন্য জরিমানাসহ ১ থেকে ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে)। যৌন শোষণ করার জন্য কাউকে গণিকালয়ে আটক করে রাখলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। (৭ বছরের অধিক কারাদণ্ড, পয়েন্ট ৬)। হোটেলে গণিকাবৃত্তিও একটি আইনত অপরাধ।
জোগান দেওয়া এবং পাচার করা : কোনো ব্যক্তি যদি কুটনিগিরি করে অথবা করার চেষ্টা করে তবে উক্ত ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়া যেতে পারে। এছাড়াও কোনো ব্যক্তি যদি কাউকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যায় (মানব পাচার) তবে তাঁরও একই শাস্তি হবে। (প্রথম অপরাধের জন্য জরিমানাসহ ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং পরবর্তী ক্ষেত্রে আজীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে; পয়েন্ট ৫বি)।
উদ্ধারকৃত মহিলা : সাহায্যপ্রার্থী যে-কোনো যৌনকর্মীকে উদ্ধার করতে এবং নিশ্চিন্ত আশ্রয়ে তাকে পুনর্বাসন করাতে সরকার আইনত বাধ্য থাকবে। (পয়েন্ট ২১)।
এই আইন মোতাবেক প্রকাশ্য স্থানগুলি হল–সর্বসাধারণের ধর্মীয় পূজাঅর্চনার স্থান, শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠান, ছাত্রাবাস/হস্টেল, হাসপাতাল ইত্যাদি। PITA আইন মোতাবেক রাজ্য সরকার যেসব স্থানগুলিকে গণিকাবৃত্তি মুক্ত ঘোষণা করেছে সেগুলিকে বলা হবে ‘বিজ্ঞাপিত স্থান। এই আইন অনুসারে গণিকালয় হল এমনই একটি স্থান, যেখানে দুই অথবা ততোধিক যৌনকর্মী রয়েছে (২)। গণিকাবৃত্তি এমনিতে কোনো অপরাধ নয়, কিন্তু সলিসিটিং, গণিকালয়, কুটনি ইত্যাদি হল বেআইনি।
উন্নয়ন সংস্থা ‘সংলাপ’-এর বেশিরভাগ গবেষণা ইঙ্গিত করে যে, ভারতে বেশিরভাগ যৌনকর্মী নিজেদের বা তাঁদের সন্তানদের ভরণপোষণ করার জন্য গণিকা হিসাবে কাজ করেন। বেশিরভাগই মেয়েরা এই পেশাটি পছন্দ করেন না। কিন্তু বিবাহ বহির্ভূত, বিবাহবিচ্ছেদ এবং তাঁদের পরিবারের দ্বারা তাঁদের বাড়ি থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর এই পেশায় চলে আসে। যৌনকর্মীদের সন্তানরাও এই ধরনের কাজেও জড়িত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। অল বেঙ্গল উইমেন ইউনিয়নের ১৯৮৮ সালে একটি সার্ভে রিপোর্ট বলছে, কলকাতায় ১৬০ জন যৌনকর্মীদের মধ্যে একটি উপযুপরি নমুনা (random sample) সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে, তাতে দেখা গেছে—তাদের মধ্যে ২৩ জন দাবি করেছেন যে, তাঁরা তাঁদের এ পেশা নিজেরাই পছন্দ করে নিয়েছেন, বাকি ১৩৭ জন নারী যৌন-বাণিজ্য এজেন্টের মাধ্যমে এসেছে।
