কিছুদিন আগে ঊর্ধ্বাঙ্গ অনাবৃত করে কাস্টিং কাউচের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করেছিলেন তেলগু অভিনেত্রী শ্রী রেডি। একের পর এক নিজেদের সঙ্গে যৌন হেনস্থার বিরুদ্ধে মুখ খুলেছে এই তেলগু অভিনেত্রী। আর এক তেলগু অভিনেত্রী সন্ধ্যা নাইডু। তিনিও জানালেন–“বয়সের কারণে এখন তাঁর কাছে মা বা মাসির চরিত্রে অভিনয়েরই সিংহভাগ অফার আসে। সকালে শু্যটিংয়ের সময় তাঁকে বলা হয় ‘আম্মা’, আর রাত হলে বলা হয় “শুতে’। সন্ধ্যা নাইডু আরও বলেন–“একদিন একজন জিজ্ঞাসা করল, তিনি ভেতরে কী পরে আছেন? তা স্বচ্ছ কি না।” আমি নিশ্চিত, এই শ্ৰী রেড্ডি, সন্ধ্যা নাইডুরা ইন্ডাস্ট্রিতে থাকতে পারবে না। অভিনয় পেশা থেকে সরে আসতেই হবে। কেউ কাজ দেবে না। যেমনভাবে পপ সংগীতশিল্পী আলিশা চিনাই, তনুশ্রী দত্তদের ইন্ডাস্ট্রি থেকে সরে যেতে হয়েছে। অভিনেত্রী সুনীতা রেডিড নামে আর-এক অভিনেত্রীর কথায়–“জোর করে সকলের সামনে পোশাক পালটাতে বাধ্য করা হয় তাঁদের। অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে সকলের সামনে পোশাক পালটাতেই হয়। এমনকী ন্যাপকিন পালটানো, মলমূত্র ত্যাগের মতো প্রাকৃতিক কাজও মেটাতে হয় পাঁচজনের সামনেই।” মারাঠি সিনেমার অভিনেত্রী শ্রুতি মারাঠে ছবির প্রযোজককে মোক্ষম জবাব দিয়ে তাঁকে স্তম্ভিত ও হতচকিত করে দিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছিল। কেন? ‘হিউম্যানস অফ বম্বে’-এর একটি পোস্টে শ্রুতি মারাঠে তাঁর বক্তব্য শেয়ার করলেন। শ্রুতি লিখলেন–“আমাকে আমার রোলটি নিয়ে আলোচনা করার জন্য প্রযোজক ডেকে পাঠান। প্রথমে পেশাদার ভঙ্গিতেই কাজের কথা আলোচনা করছিলেন। একটু পরেই সুর বদলে যায়। তাঁর সঙ্গে আমাকে রাত কাটানোর অফার দেন।” প্রযোজকের প্রস্তাবের জবাবে শ্রুতি তাঁকে বলেন–“নায়িকার রোল পেতে হলে আমাকে আপনার সঙ্গে শুতে হবে? নায়ককে কার সঙ্গে শুতে বলেছেন?” এরপরেও যেসব অভিনেত্রীরা বলেন ‘অভিনয়ের জন্য, চিত্রনাট্যের চাহিদা মেটাতে আমরা পর্দায় নগ্ন হতে পারি, তাঁদের কিছু বলার নেই।
সিনেমা, টিভির অভিনেত্রীরা নিজেরা যে এসব যৌনবৃত্তির পুরোধা অথবা তাঁদের অনুসরণ করেই শেষপর্যন্ত বিস্তার ঘটে, সিনেমা শিল্পের গোড়া থেকেই মধ্যবিত্ত এমনকি উচ্চ মধ্যবিত্তেরা মন্তব্য করে এসেছিলেন। সাধারণ মানুষের মনে সর্বদাই সিনেমার অভিনেত্রী মানেই আসলে একজন গণিকা এবং সে কথা সংবাদপত্র পত্রপত্রিকায় ব্যক্ত হচ্ছে। মিডিয়াগুলো বলছে–গ্ল্যামার দুনিয়ার মেয়েরা অভিনেত্রী সাইনবোর্ড কাজে লাগিয়ে অধিক অর্থ কামানোর লালসায় অনৈতিক ব্যাবসায় জড়িয়ে পড়ছে। কারণ শরীরলোভী পুরুষরা সিনেমা অভিনেত্রী, মডেল তারকা, টিভি অভিনেত্রীদের বেশি পছন্দ করে। তার জন্য তাঁরা যথেষ্ট মূল্য দিতেও এক পায়ে রাজি থাকে। হাই-ফাই জীবনের স্বপ্ন দেখতে গিয়ে অনেকক্ষেত্রেই সবকিছু ধূলিস্যাৎ হয়ে যায়। তাঁদের কোনো ভদ্র যুবক বিয়ে করে না। যদিও-বা কোনো ক্লায়েন্ট রূপের মোহে মুগ্ধ হয়ে বিয়ে করে দু-এক বছর সংসার করে চম্পট দেয়। তখন এদের শরীর ছাড়া আর কোনো পুঁজিই থাকে না।
এক সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের সিনেমানগরী ঢাকার অনেক অভিনেত্রী আছে, যাঁরা পুরোপুরি গণিকাবৃত্তির সঙ্গে যুক্ত। এদের অনেকেই যৌবন হারিয়ে মাসির ভূমিকায় ব্যাবসা চালায়। সিনেমা জগতের গডফাদার থেকে শুরু করে বড়ো ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, সরকারি আমলারা এঁদের ক্লায়েট। এইসব ক্লায়েন্টের মধ্যে অনেকে আবার ভাড়া করা কলগার্ল, নিজের বান্ধবী নিয়ে ওইসব গণিকালয়ে ফুর্তি করতে যায়। অনেক অভিনেত্রী আবার তাঁদের ক্লায়েন্টদের নিয়ে সেক্স ট্রিপে যায় এইসব গণিকালয়ে। বর্তমানে যেসব অভিনেত্রী নিজে এবং কয়েকজন মেয়ে নিয়ে দেহব্যাবসা চালাচ্ছে, তাঁদের মধ্যে অন্যতমা একা। পুরোনো ঢাকার বাসিন্দা একা চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী হয়ে যতটুকু নামডাক অর্জন করেছিল, তার চেয়ে বেশি দুর্নাম কুড়িয়েছিল এই যৌনপেশায় এসে। অভিনেত্রীর খাতায় নাম লেখানোর পরপরই অভিনেত্রী একা দেহব্যাবসায় এসেছিলেন। শরীর বিক্রি করে প্রচুর অর্থ কামানোই ছিল তাঁর প্রধান উদ্দেশ্য। একসময় যৌনবাজারে নিজের চাহিদা কমে যাওয়ায় বাড়িতে কয়েকজন মেয়েকে বোন পরিচয়ে রেখে যৌনব্যাবসা চালাতে লাগল। বর্তমানে ইস্কাটন এলাকায় একা সেক্স সেন্টার চালায়। দেহব্যাবসাকে পেশা হিসাবে নিয়েছিল ঢাকার আর-এক বিতর্কিত অভিনেত্রী কেয়া। শুধু কেয়া একা নয়, তাঁর অপর ছয় বোন বীথি, সাথী, লাকি, তানিয়া, যুঁথি আর ইতিকে নিয়ে এক জমজমাট যৌথ যৌনব্যাবসা চালায় তাঁর গর্ভধারিণী মা সুফিয়া বেগম। যশোরের বহুল আলোচিত মক্ষীরানি সুফিয়া বেগম গুলশান অঞ্চলের ‘শেলফোর্ড নামের বাড়িতে যৌনব্যাবসা পরিচালনা করে, যে বাড়িটির মাসিক ভাড়া বাংলাদেশী মুদ্রায় ৫৫,০০০ টাকা। বাংলাদেশের অভিনেত্রী সাদিয়া আফরিনকেও গণিকাবৃত্তির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়েছে। একটি বাংলাদেশী এসকর্ট সার্ভিস প্রোভাইডার সাইটে ছবি সহ প্রোফাইল দেখা গেছে ‘নিনা’ ছদ্মনামে। অভিনেত্রী সাদিয়া আফরিন বিনোদন বিচিত্রা সেরা ফোটোসুন্দরী প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ২০১১ সালে মিডিয়ায় পা রাখে। মডেলিংয়ের পাশাপাশি বেশ কিছু সিনেমান আইটেম গানে কাজ করেন। এছাড়া বেশ কিছু সিরিয়াল ও টেলিফ্লিমেও কাজ করেছেন। এই হল অবস্থা! সেই কারণেই বোধহয় জনপ্রিয় মালয়ালাম অভিনেতা-সাংসদ ইনোসেন্ট ভারিদ থেক্কেথালা অবলীলায় বলে ফেলতে পারেন–“ছবিতে চরিত্র পাওয়ার জন্য তাঁদের যৌন-শোষণের মুখোমুখি হতে হয় না। যদি মেয়েটি খারাপ হয়, তবেই সে বিছানায় যায়।”
১৪. স্বাধীনতা সংগ্রামে গণিকা
ভারতে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামে গণিকাদের অংশগ্রহণ স্মরণীয়। স্বাধীন ভারত তাঁদের কথা ভুলে গেলেও এ প্রবন্ধকার ভোলেনি। ১৯০৭ সালে অনুশীলন সমিতির বিপ্লবী যুবকদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছিল প্রচুর গণিকা নারী। ১৯০৭ সালের অক্টোবর মাসে অনুশীলন সমিতির যুবকেরা ঠিক করলেন সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে বিডন স্কোয়ারে একটা সভা করবেন। সভা শুরু হল, ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায় জ্বালাময়ী ভাষণ দিলেন। আর তারপরেই শুরু হল পুলিশের লাঠিচার্জ। বিপ্লবী যুবকেরা ইট-পাথর ছুঁড়ে পাল্টা আক্রমণ চালাল। আর সেই সময় দেখা গেল চিৎপুরের বাড়ির ছাদ, বারান্দা, জানালা থেকে গণিকা নারীরা পুলিশের উপর ইট ছুঁড়ে তাঁদের তাড়িয়ে দিচ্ছে।
