মধ্য চল্লিশের নিঃসঙ্গ মহিলা হন কিংবা যৌনসুখে আসক্ত যুবতী–যে কেউ হতে পারে পুরুষ যৌনকর্মীর ক্লায়েন্ট। এইসব মহিলারা নিভৃতে ও গোপনে যৌনসুখ পেতে পুরুষ যৌনকর্মীদের ‘কল’ করে। সময়-দিন চূড়ান্ত করে পুরুষ যৌনকর্মী নির্দিষ্ট গন্তব্যস্থলে চলে আসে। কোনো কোনো পুরুষ যৌনকর্মীর এটাই একমাত্র পেশা, কেউ কেউ আবার অন্য পেশায় যুক্ত থাকলেও বাড়তি রোজগারের জন্যেও আসে। কেউ অবিবাহিত, কারোর-বা স্ত্রী-সন্তানও আছে। মোটা অঙ্কের রোজগারের জন্য অথবা স্রেফ স্ফুর্তির জন্য অথবা উভয়রেই জন্য এ পেশায় আসার সংখ্যা ক্রমশই বাড়ছে। এখন যেন নেশায় পরিণত হয়েছে। জিগোলো বা কলবয়ের পেশায় আসছে স্কুল-কলেজের ছাত্ররাও। আগেই বলেছি মধ্যবয়সি মহিলাদের কাছে কম বয়সি পুরুষদের চাহিদা বেশি। অজাচারের সুপ্ত ইচ্ছাটাও পূরণ হয় এতে। এক্ষেত্রে পুরুষ যৌনকর্মীদের কাছে ক্লায়েন্টের বয়স যত বেশি হয় রেটও তত বেশি হয়। অবাক হবেন না, পুরুষ যৌনকর্মীদের মুখ থেকেই শোনা যায়, ১৭ থেকে ৭০ সব বয়সি মহিলারা ক্লায়েন্ট হয় তাঁদের। এমনকি মায়ের বয়সি প্রৌঢ়া মহিলাদের সঙ্গেও যৌন-সম্পর্ক করতে হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক পুরুষ যৌনকর্মীর অভিজ্ঞতা বলছে–“একবার কিছুদিনের জন্য এক মহিলার স্বামীর ভূমিকায় থাকতে হয়েছিল। আবার আলিপুরের এক মহিলার স্বামী আমাকে ভাড়া করে নিয়ে গিয়েছিলেন তাঁরই স্ত্রীর জন্য। ভদ্রলোক অসম্ভব পয়সাওয়ালা, কিন্তু যৌনতায় অক্ষম। তাই স্বামী-স্ত্রীর সমঝোতায় এই ব্যবস্থায় এসেছিলেন। ভদ্রলোকের একটাই শর্ত ছিল–তাঁর সামনেই তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে কাজ করতে হবে। আর একটি ক্লায়েন্টের কথা বলি। এখানেও স্বামীর সামনে স্ত্রীর সঙ্গে কাজ করতে হয়েছিল। এক্ষেত্রে ক্লায়েন্ট ছিল সরাসরি মহিলাটিই। প্রৌঢ়া মহিলা, তবে বেশ সুন্দরী এবং আকর্ষণীয়। মহিলাটিই আমাকে কল করেছিলেন। যেদিন কাজ করতে গিয়েছিলাম সেদিন দেখলাম ওনার স্বামী বেডরুমে উপস্থিত ছিল। এই সময়ে ওই মহিলাটি কাজ শুরু করতে বলে। ঘরে অন্য এক তৃতীয় ব্যক্তির (যে কিনা ওনার স্বামী) উপস্থিতিতে বেশ অস্বস্তি হচ্ছিল আমার। স্বামীটিই আমার অস্বস্তি কাটিয়ে দিয়ে আমার ডান হাতটা ওর স্ত্রীর একটি স্তনের উপর চেপে ধরল। আমি বুঝলাম ওনার সামনেই কাজটা করতে হবে। একটা সময় ওই ভদ্রলোক আমার প্যান্ট খুলে উলঙ্গ করে দিলেন এবং আমার পেনিসটি মুখে নিয়ে ওরাল করতে থাকল। তারপর একটা সময় উনিই বললেন এবার দিয়ে দাও। আমি নির্দেশ পালন করলাম। পরে আরও কয়েকবার যেতে হয়েছিল, ওই মহিলার সঙ্গে কাজ করতে হয়েছিল। তবে এই ভদ্রলোক যৌনতায় অক্ষম ছিল কি না কোনোদিন জানা হয়নি। একবার বেশ বড়োলোক বাঙালি বাড়ির ২৪-২৫ বছরের ছেলে তাঁর মধ্যবয়সি মায়ের জন্য আমাকে ভাড়া করেছিল। অবশ্যই মায়ের সম্মতিতেই। অত্যন্ত সুন্দরী ছিলেন সেই ভদ্রমহিলা। এক বয়স্ক মহিলা আমার ক্লায়েন্ট ছিল, তিনি তাঁর বিধবা মেয়ের জন্য আমাকে ভাড়া করতেন।
“শুধু সিঙ্গল বেড পার্টনার নয়, পুরুষ যৌনকর্মীদের ডাক পড়ে গ্রুপ সেক্স বা কাপল সেক্সের জন্যেও। গ্রুপ সেক্স মানে একটি সিটিংয়ে তিন-চার বা তারও বেশি বিভিন্ন বয়সি বা সমবয়সি মহিলাদের সঙ্গে কাজ করতে হবে। এক্ষেতে পারিশ্রমিকও বেশ ভালো পাওয়া যায়। তবে এক্ষেত্রে বলতে গেলে আমাকে কিছুই করতে হয় না। যা করার ওরাই সমবেতভাবে করে। এরা পরস্পর পরস্পরের পরিচিত হয়ে থাকেন। নিজেদের মধ্যে বোঝাবুঝিও খুব মসৃণ। কাপল সেক্সটা হল স্বামী-স্ত্রী যৌথভাবে কোনো একজন পুরুষ যৌনকর্মীকে ভাড়া করেন। সেক্ষেত্রে একজন কলগার্লকেও নিয়ে যেতে হয় ওই পুরুষ যৌনকর্মীকে। হবে পার্টনার সোয়াপিং। পুরুষ যৌনকর্মীটি মহিলার (স্ত্রী) সঙ্গে এবং মহিলা যৌনকর্মীটি পুরুষের (স্বামী) সঙ্গে। অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রী উভয়ই যৌনকর্মীর সঙ্গে যৌনসঙ্গম করবে। হাই প্রোফাইল মহিলারা চাকরি বা ব্যাবসায় সূত্রে আসেন নামীদামি হোটেল-রিসর্টে। এই মহিলাদের কেউ ডমিনেটিং, কেউ প্রচণ্ড কামার্তা, কেউ বিকৃতকামী।” অভিজ্ঞতার কথাগুলো বললেন নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক পুরুষ যৌনকর্মী।
পুরুষ যৌনকর্মীরা বিবিসি-কে জানার, মহিলারা নানা কারণেই যৌনতার জন্য অর্থ ব্যয় করতে চান। যৌনতায় আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া, নতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা ইত্যাদি। এছাড়াও কর্পোরেট মহিলারা সময়ের অভাবে তাঁদের স্বামীর সঙ্গে মিলিত হতে পারে না। ফলে তাঁরাও এই বাড়িতে আসেন কিংবা ডেকে নেন তাঁদের নিরাপদ স্থানে। ইতিমধ্যে ব্রিটেনে বেশ জনপ্রিয় হয়েছে এই পরিসেবা। পুরুষরাও আসছেন এই পেশায়। নিকোল জানাচ্ছে, “ইংল্যান্ডে বেকারত্ব সমস্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন ঘণ্টাপ্রতি ৬০ পাউন্ডেও পুরুষ যৌনকর্মী ভাড়া পাওয়া যায়। যা কিনা ভারতীয় মুদ্রায় মাত্র সাড়ে ৫ হাজারের মতো। গড়পড়তায় ঘণ্টায় সর্বনিম্ন ১০০ থেকে ১৫০ পাউন্ড খরচ করলেই মিলবে কাঙ্খিত যৌনসুখ।”
পুরুষদের এসকর্ট সার্ভিস এখন সারা পৃথিবীতেই ছড়িয়ে পড়েছে। ভারত, বাংলাদেশ কোনো দেশই বাদ নেই। আছে এই কলকাতাতেও। তবে প্রকৃত এসকর্ট সার্ভিসে চেয়ে প্রতারক এসকর্ট সার্ভিসই বেশি গজিয়ে ওঠেছে। প্রতারক এসকর্ট সার্ভিসগুলি থেকেই জানা যায় আগ্রহী পুরুষ যৌনকর্মীর সংখ্যা যথেষ্ট বাড়ছে। সেসব আগ্রহী পুরুষরা অনেকক্ষেত্রেই ভুয়ো এসকর্টের খপ্পরে পড়ে অর্থদণ্ড দেয়। পুরুষ এসকর্ট সার্ভিস থেকে কীভাবে পুরুষ। যৌনকর্মী আহ্বান করা হয়? একটা নমুনা দিলাম। বিধিবদ্ধসতর্কীকরণ : উল্লেখিত বিজ্ঞাপন থেকে কেউ যোগাযোগের চেষ্টা করবেন না। যদি করেন, তা নিজ দায়িত্বে। লেখক কোনো দায় নেবে না। কারণ এই বিজ্ঞাপন যাচাই করা হয়নি। দেখুন–WELCOME TO GIGOLO CLUB (ALL OVER INDIA)
