রাষ্ট্রপতি ২৩৩/২০০৩ যৌন পাচার এবং জোরপূর্বক যৌনশ্রম উভয়ই নিষিদ্ধ এবং ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের শাস্তি নির্ধারণ করে। ২০১৫ সালে পুলিশ ১৮ টি যৌন পাচারের ঘটনা তদন্ত করেছিল। সরকার ২০১৬ সালে যৌন পাচারের জন্য ২৫ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। পুলিশ ২০১৫ সালে ৩৪ জনের মধ্যে পাঁচ শিশু সহ ২৬ জন যৌন পাচারের শিকারকে সনাক্ত করেছে।
(১৩) বাংলাদেশ : বাংলাদেশে গণিকাবৃত্তি আইন অনুযায়ী বৈধ, তবে তা নিয়ন্ত্রিত। গণিকা হিসাবে কাজ করতে হলে তাঁকে অবশ্যই রেজিস্ট্রি করতে হবে এবং আদালতে উপস্থিত হয়ে একটি হলফনামা জমা দিতে হবে এই মর্মে যে, তাঁরা তাঁদের নিজস্ব পছন্দ ও জোরজবরদস্তি ছাড়াই গণিকাবৃত্তিকে পেশা হিসাবে বেছে নিয়েছে এবং তাঁরা অন্য কোনো পেশা খুঁজে পেতে অসমর্থ। তবে বাংলাদেশের সংবিধান বলছে যে, “রাষ্ট্র জুয়া ও গণিকাবৃত্তি প্রতিরোধ করবে।” তবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিশু গণিকাবৃত্তি, জোরপূর্বক গণিকাবৃত্তি, অবৈধ গণিকালয় ইত্যাদির বিরুদ্ধে আইন বলবৎ আছে। বিভিন্ন আইন কখনো-কখনো গণিকাবৃত্তির বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়। ২০০০ সালে বাংলাদেশের উচ্চ আদালত রায় দেয় যে, দেশে ১০০ জন গণিকা গ্রেফতার অভিযান ছিল বেআইনি। যদিও এ দেশে গণিকাবৃত্তি একটি বৈধ পেশা। তবে প্রায়ই পুলিশ বাহিনী বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ করে হোটেলে বেআইনি গণিকাবৃত্তির বিরুদ্ধে অভিযান করে এবং গণিকা ও তাঁদের গ্রাহক উভয়কে গ্রেপ্তার করে আদালতে চালান করে দেয়। বাংলাদেশের দণ্ডবিধির ৩৭২, ৩৭৩, ৩৬৪ (ক) ও ৩৬৬ (খ) ধারায় গণিকাবৃত্তির উদ্দেশ্যে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্রয়-বিক্রয়ের শাস্তির বিধান বর্ণনা করা হয়েছে।
এক সময় গণিকাবৃত্তি কেবল গণিকালয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ফলে সে সময় গণিকাদের সংখ্যা নিরূপণ করা সহজ ছিল। বর্তমানে অনিবন্ধিত বা পার্টটাইম দেহব্যবসায়ীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে। শুধুমাত্র গণিকালয়ে জরিপ চালিয়ে পরিসংখ্যান তৈরি করা সম্ভব নয় কত সংখ্যক মহিলা যৌনপেশায় জড়িত। স্থানীয় কিছু এনজিওর হিসাবে ২০০৮ সালে মহিলা গণিকার সংখ্যা ছিল আনুমানিক ১,০০,০০০ লাখ। ২০১৬ সালে ইউএনএইডসের হিসাবে এই সংখ্যাটি দাঁড়ায় ১,৪০,০০০।
বাংলাদেশে ১৪ টি বৈধ গণিকালয় আছে। অর্থাৎ এই গণিকালয়গুলি বাংলাদেশে সরকার দ্বারা অনুমোদিত। এগুলি হল টাঙ্গাইল শহরের বেবিস্ট্যান্ড কান্দাপাড়া গণিকালয়, রাজবাড়ি জেলার দৌলতদিয়া গণিকালয়, খুলনার সুন্দরবন সংলগ্ন বাণীশান্তা গণিকালয়, যশোরের বাবুবাজার গণিকালয়, মাড়োয়ারি মন্দির গণিকালয়, ঝালাইপট্টি গণিকালয়, ফরিদপুর শহরের রথখোলা গণিকালয়, ময়মনসিংহ গাঙ্গিনাপাড় গণিকালয়, জামালপুরের রানিগঞ্জ গণিকালয় ইত্যাদি। এসব গণিকালয়ে সরকার অনুমোদিত লাইসেন্সধারী গণিকা আছে। মজার বিষয় হচ্ছে, এইসব লাইসেন্সধারী গণিকাদের একটি বড়ো অংশই হল ১৮ বছরের নিচে। এঁরা নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে লাইসেন্স নিয়ে কাজ করছে। “The Global March Against child Labour’-এর হিসাব মতে বাংলাদেশে ১৮ বছরের নিচে গণিকার সংখ্যা প্রায় ২০,০০০। ২০০৫ সালে মার্কিন সরকারের মানবাধিকার রিপোর্ট অনুসারে অবশ্য ১৮ বছরের নিচে গণিকার সংখ্যা ছিল ২৯ হাজারের বেশি। এসব শিশু গণিকারা শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গ্রোথ বাড়ানোর জন্য গোরুর জন্য ব্যবহৃত মোটা-তাজাকরণ ট্যাবলেট সেবন করে এবং দৈনিক ১৫-২০ জন পুরুষের সঙ্গে মিলিত হয়। গত ২০১৬ সালে ব্রিটেনের ‘ইন্ডিপেনডেন্ট’ পত্রিকা বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার কান্দাপাড়া গণিকালয় নিয়ে একটি রিপোর্ট পেশ করে। রিপোর্টে জানানো হয়, এই গণিকালয়ে একটি নারী প্রবেশ করে ১২-১৪ বছর বয়সে। গত বছর বিদেশি কয়েকটি মিডিয়ায় বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার কান্দাপাড়া গণিকালয় গণিকাদের ছবিসহ নাম প্রকাশ পায়। সেখানে খদ্দেরকে আলিঙ্গনরত অবস্থায় ১৪ বছর বয়সি আসমা, ১৭ বছর বয়সি কাজল, ১৫ বছর বয়সি পাখি, ১৭ বছর বয়সি সুমাইয়াকে দেখা যায়। বাংলাদেশ মানব পাচারের জন্য একটি উৎস, ট্রানজিট ও গন্তব্য দেশের মধ্যে অগ্রগণ্য। এখানে নারী ও শিশুদের পাচারের শিকার হতে হয়। এখানকার মেয়েদের পাচার করে ভারত, পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পাচার করা হয়, যাঁদের অধিকাংশই যৌনপেশায় জড়িয়ে পড়ে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে যে-কটি গণিকালয় আছে, তার মধ্যে দৌলতদিয়া গণিকালয় দেশের মধ্যে বৃহত্তম। এটি পৃথিবীর বড়ো কয়েকটি গণিকালয়ের মধ্যেও একটি। এখানে আমি দৌলতদিয়া গণিকালয় ছাড়াও বেশ কয়েকটি প্রথম সারিতে থাকা গণিকালয়ের কথা উল্লেখ করব। দৌলতদিয়া গণিকালয় দিয়ে শুরু করি।
দৌলতদিয়া গণিকালয় : দৌলতদিয়া গণিকালয় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড়ো গণিকালয়। এটি এশিয়ার সবচেয়ে বড়ো গণিকালয়গুলোর একটি। এখানে প্রায় ৪,০০০ যৌনকর্মী যৌনপেশার সঙ্গে যুক্ত। দৌলতদিয়া গণিকালয়টি বাংলাদেশের রাজবাড়ি জেলার অন্তর্গত গোয়ালন্দ উপজেলায় অবস্থিত। গোয়ালন্দ উপজেলার একটি ইউনিয়ন হল দৌলতদিয়া। দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে গণিকালয়টি অবস্থিত। ১৯৮৮ সালের দিকে এটি প্রতিষ্ঠিত বলা হলেও সংশ্লিষ্ট স্থানে বহুকাল আগে থেকেই গণিকাবৃত্তির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা বাস করতেন এবং অননুমোদিত ও অবৈধ গণিকালয় হিসাবে কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছিল। বর্তমানে এখানে সরকারি হিসাবে প্রায় ১,৫০০ যৌনকর্মী থাকে। প্রতিদিন প্রায় ২০০০ থেকে ৩০০০ জন ব্যক্তি এখানে যৌন পরিসেবা নিতে আসেন। শরীরে জৌলুস। বাড়াতে বা অক্ষুণ্ণ রাখতে কাউ প্রোটিন albumin সেবন করে থাকে। ২০ টি ট্যাবলেটের দাম ১০ টাকা।
