মাথায় হাত ছুঁইয়ে ছুঁইয়ে সবাইকে আশীর্বাদ করলো রামেন্দু-বাবা। শুধু আমাকেই হেঁচকা একটা টান দিয়ে নিজের কোলের কাছে নিয়ে পিঠে আর মাথায় হাত বুলিয়ে বুলিয়ে বললো, ‘এ খুব দুষ্টু, তাই না, এ তো আমাকে প্রণাম পর্যন্ত করলো না, কী, এই মেয়ে কি ভগবানে বিশ্বাস করে না?’ মা তাড়াতাড়ি বললো, ‘হ্যাঁ তা নিশ্চয়ই করে, আসলে ওর অনেকদিন মনটা ভালো নেই, শরীরটাও ভালো যাচ্ছে না। উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করলো। এন্ট্রান্স পরীক্ষা নিয়ে টেনশনে থাকে খুব। অনেক জায়গায় অ্যাপ্লাই করেছে’।
রামেন্দু-বাবা হেসে বললো, ‘তাই নাকি? তাহলে ওকে শনিবারে আর মঙ্গলবারে পাঠিয়ে দিও আমার কাছে, বিকেল পাঁচটায় চলে এসো মা, বুঝলে? দু’চারদিন আর্শীবাদ নাও, আমার কথা মেনে কাজ করো, শরীর মন সব ঠিক হয়ে যাবে। এন্ট্রান্স পরীক্ষায় পাশ হবে। চিন্তামুক্ত থাকো’।
কথা বলতে বলতে কত রকম যাদু দেখাচ্ছিল যে রামেন্দু বাবা, পকেট থেকে একটা টাকা বার করলো, মুহূর্তের মধ্যে টাকাটাকে উধাও করে ফেললো, পাশ থেকে একটা রুমাল তুলে নিল, রুমালটা হঠাৎ কলম হয়ে গেল। এসব দেখে সবচেয়ে বেশি খুশি হল সন্তু। তারপর হল মা। মা তো ভক্তিতে গদগদ। পারলে আশীর্বাদের জন্য আজকেই আমাকে রেখে যায় রামেন্দু-বাবার আশ্রমে।
আমাকে শনিবারে আসতেই হয়েছে রামেন্দু–বাবার কাছে। ধরে বেঁধে বাবা মা দুজনই রেখে গেছে রামেন্দু-বাবার দায়িত্বে। রামেন্দু-বাবা আমাকে ভেতরের ঘরে নিয়ে অনেকবার ধর্ষণ করেছে। আমি আর ধর্ষণের ঘটনাগুলো বর্ণনা করতে চাই না। করলে আমি জানি আমি আর পারবো না কথা বলতে, আমার সারা শরীর কাঁপবে, আমি কাঁদবো, আমি চিৎকার করবো, সেদিন যেমন করেছিলাম, আর আমার হাত পা ধরে রেখেছিল দুটো লোক, মুখ চেপে রেখেছিল এক মহিলা, আর উলঙ্গ রামেন্দু-বাবা আমাকে যেন কাচা খেয়ে ফেলবে এমন করে ধর্ষণ করেছে। এরপর আমাকে একটা বাথটাবের গরম জলে শুইয়ে রাখা হয়েছে। মুখ চেপে ধরা মহিলা সুগন্ধী সাবান মাখা নরম একটা স্পঞ্জ আমার সারা গায়ে বুলোতে থাকে। এভাবে কোনওদিন আমি স্নান করিনি। বাবা আমাকে ফেরত নিতে এলে রামেন্দু-বাবা বলে দিয়েছে, ‘ও ঘুমোচ্ছে, ওকে টেক কেয়ার করছে আশ্রমের মন্দিরা, আজ রাতটা ও আশ্রমেই কাটাক। চরম ডিপ্রেশনে ছিল মেয়েটা। এখন ঠিক হয়ে যাবে, চিন্তা করো না। ‘মন্দিরা, স্নান করানো মহিলা আমাকে জানালো ঠিক কী বলেছে বাবাকে রামেন্দু। মন্দিরা আমাকে বাথটাব থেকে তুলে নরম একটা সাদা তোয়ালে দিয়ে আলতো করে গা মুছিয়ে একটা ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা ল্যাভেণ্ডারের গন্ধ ছড়ানো ঘরে নিয়ে আসে। শুইয়ে দেয় সাদা নরম বিছানায়। অনেকগুলো সুস্বাদু মিস্টি খাইয়ে দেয়, হলুদ হলুদ রঙের ঠাণ্ডা শরবত মুখের সামনে ধরে, খেতে হয়। আমাকে এমন যত্ন করা হয়, যেন আমার কঠিন কোনও অসুখ হয়েছে। কিছু তো একটা হয়েছেই। শরীরে কোনও শক্তি পাচ্ছি না। এই ঘুমোচ্ছি, এই জাগছি। সম্ভবত ঘুমের ওষুধ আর ব্যাথার ওষুধও দুটোতেই আমাকে ডুবিয়ে রাখা হয়েছে। রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে দেখি ঘরে আর কেউ নেই, আমার শরীরের ওপর রামেন্দুর মস্ত বড় শরীর। তার ওই শরীরটা আমাকে চেপে চ্যাপ্টা করে ফেলছে। লোকটা আমার বাবার থেকেও অনেক বয়সে বড়। আমার মুখ দিয়ে আর শব্দ বেরোয় না। আমি দাঁতে দাঁত চেপে যন্ত্রণা সহ্য করি। কেন করি, কে জানে। আমি তো চিৎকার করে লোকটাকে শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে সরিয়ে দৌড়ে বেরিয়ে যেতে পারি, অন্তত চেষ্টা তো করতে পারি। কিন্তু শরীরে এক ফোঁটা শক্তি আছে বলে মনে হয় না। এমন কী চিৎকারটুকুও চেষ্টা করে দেখেছি, পারি না।
দু’দিন পর বাড়ি পোঁছেছি। বাড়িতেও ঘুমোচ্ছি। কারও সঙ্গে কোনও কথা বলিনি। মা খাটের পাশে টেবিলে খাবার রেখে গেছে। একটু খেয়ে আবারও ঘুমিয়ে পড়েছি। সম্ভবত কোনও কঠিন ঘুমের ওষুধ আমাকে রামেন্দু-বাবা খাইয়েছিল। এত ঘুম দেখে বাবা মা দুজনই ভেবেছে আমার বোধহয় দুশ্চিন্তা ঘুচেছে। রামেন্দু-বাবার কাছে যাওয়ার আগে আমার ঘুমই হত না ভালো। ইনসোমনিয়ায় ধরেছিল। সেটি তো অন্তত গেল! মায়ের চোখ আমার শরীরে ঘটে যাওয়া ধর্ষণটি দেখতে পাচ্ছে না! মেয়েরা তো মেয়ের শরীর বোঝে বলে জানতাম। ভক্তি বোধহয় মানুষকে অন্ধ করে দেয়।
এর পরের সপ্তাহে আবারও আমাকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয় রামেন্দু-বাবার আশ্রমে। ওখানে রেখে আসা হয়, দু’দিন পর বাড়ি ফিরিয়ে আনা হয় আমাকে। বাবা কি বুঝতে পারে না, মাও কি পারে না যে আমাকে ওই ধর্ষকের বাড়ি রেখে আসাটা ঠিক হচ্ছে না! নাকি একটা ভালো চাকরির জন্য বা ভালো ব্যাবসার জন্য নিজের মেয়ের সর্বনাশ করতে দ্বিধা করছে না ওরা! হয়তো সব জেনেও না জানার ভান করছে।
দ্বিতীয়বার বাড়ি ফিরে আমি বাবা আর মা দুজনকেই বলেছি, রামেন্দু-বাবা আমাকে ধর্ষণ করেছে। শুনে বাবা শক্ত একটা চড় মেরেছে আমার গালে। বলেছে, ‘খবরদার গুরুজীর নামে আর একটা মিথ্যে কথা উচ্চারণ করবি না’। লোকটা যে ভগবানের দূত নয়, একটা ধর্ষক, তা বারবার বলেছি আমি, কিন্তু আমার কথা শোনার মত বা বোঝার মতো মন কারওর নেই। ভগবান বললে সন্তানের গলাও কাটতে পারে লোকে। আমার বাবা মা আর সবার মতোই। মা বলেছে, ‘এর ধর্মে বিশ্বাস নেই। পুজো আচ্চা তো কিচ্ছু করেই না। মাথায় শুধু পাপের চিন্তা’।
