–কেমন মানায় তোমার ভাগনের সঙ্গে?
—কী আবার মানাবে হাঁটুর বয়েসি ছেলের সঙ্গে। ওই প্রমথেশ, দুর্গাদাসের সঙ্গেই ঠিক আছে। এবার খুব গম্ভীর হয়ে উঠল চপলাকান্তের গলা। বললেন, তা এখন কী করতে বলো বউদি?
মালিনী অনেকক্ষণ চুপ করে থেকে শেষে স্বগতোক্তির মতো বললেন, আসলে বিয়ে হয়ে গেছে তো। হিন্দু নারী বলে কথা…
মালিনী তাঁর কথার সমর্থন খোঁজার জন্য ঠাকুরপোর দিকে মাথা ঘোরালেন। কিন্তু কোথায় ঠাকুরপো? বউদির কথার মাঝখানেই পকেট চিরুনিতে চুল আঁচড়াতে আঁচড়াতে ঘর থেকে বেরিয়ে উদাসভাবে কোথায় যে যেতে শুরু করেছেন চপলাকান্ত তা তিনি নিজেও জানেন না।
২.
বেলা দেড়টা নাগাদ চপলাকান্ত যখন এসে কড়া নাড়লেন গুপ্তবাড়ির একতলার ফ্ল্যাটে, ন্যাপা তখন সবে আড়ামোড়া ভাঙছে। মণিবালা কাজের মেয়েটাকে দিয়ে ডাল ভাত আলুসেদ্ধ আর ডিমের ডালনা করিয়ে রেখেছে, কিন্তু কর্তাটিকে ডাকার চেষ্টা করেনি। কাল সারাটা রাত যা গেছে বাবুর।
ন্যাপার আর সাহসে কুলোচ্ছিল না ঘড়ির দিকে চাওয়ার। ছি! ছি! ছি! কী যে একটা রাত গেল। কখন যে কীভাবে বিছানায় পড়ে জ্ঞান হারিয়েছে মনেও পড়ে না। কাঁথার ভিতর হাত চালিয়ে আণ্ডারওয়ারটার পরিস্থিতি যাচাই করতে গিয়ে আঁতকে উঠল ন্যাপা। ও মা, ও যে কাঁথার নীচে দিব্যি দিগম্বর!
সঙ্গে সঙ্গে বিছানা থেকে লাভ মেরে উঠে আলনা থেকে ফরসা পাজামাটা নিয়ে তাতে পা গলিয়ে ফেলল ন্যাপা। হ্যাঁ, মনে পড়ল, এই ছিল কাল রাতের সমস্যা। পাজামার দড়ি নেই। ফলে পাজামা রেখে আণ্ডারওয়ার চড়াতে গিয়ে শুনল মণিবালা বলছে, দোহাই তোমার, ওই ছাড়া আণ্ডারওয়ার পরে শুয়ো না। তার চেয়ে ওই ধুতিটাই লুঙ্গি করে নাও। ঢের ভালো।
ন্যাপা তখন সবে লুচি-মাংস শেষ করে নাইটক্যাপ হিসেবে এক পেগ ব্র্যাণ্ডি নিয়ে বসেছে, সে বললে, মণি, জন্মেও শুনেছে কেউ আণ্ডারপ্যান্টে ব্র্যাণ্ডি খাচ্ছে! ও তোমাদের বায়োস্কোপের গবেটরা করে। তার চেয়ে আমি ন্যাংটা শিব হবে ব্রাণ্ডি খাব।
ছোকরা বরের কায়দাকানুনের বেশ একটা ধারণা হয়েছে মণিবালার এই ক-দিনে। যেটা বেশি বারণ করা যায় সেটাই সে আগে করবে। তাই চোপা না করে মণিবালা একটা কারের জোগাড়ে গেল পাশের ঘরে। আর ন্যাপা উদোম দেহে বিছানায় গ্যাট হয়ে বসে ব্র্যাণ্ডিতে চুমুক দিতে দিতে গান ধরলে জ্ঞান গোঁসাইয়ের ‘শূন্য এ বুকে পাখি মোর ফিরে আয়।
ন্যাপার গলাটা মন্দ না, সিনেমার গান ভালোই তোলে। তবে বড়োমামা দু-চার কলি গাইতে বললে সবসময় রাগপ্রধান ধরে। বিশেষ করে জ্ঞান গোঁসাই বা কেষ্টবাবুর গান ধরলে আবেশে মামার চোখ বুজে আসে। এখন যেমন বুজে আসছে ওর নিজের চোখই।
মণিবালা বাস্তবিকই কোত্থেকে একটা কার জোগাড় করে পাজামায় পরিয়ে নিয়ে এল বরের কাছে—এই নাও পাজামা। চটপট গলিয়ে ফেলো তো।
হাতে গেলাস নিয়ে চোখ বুজে সুর লাগাচ্ছিল ন্যাপা—’তুই ফিরে এলে ওরে উন্মাদ, পান্ডুর হবে আকাশের চাঁদ’, সেই অবস্থায় এই ব্যাঘাতে সে গান থামিয়ে বলে উঠল, রাখো তো তোমার পাজামা! এই ন্যাংটা আমি কি দেখতে খারাপ? তুমি বরং বসো, আমার গান শোনো।
ন্যাপা পাজামাটা ছুড়ে ফেললে মেঝেতে আর শুরু হল ওর গান। মণিবালা পাজামাটা মাটি থেকে তুলে বসল স্বামীর পায়ের কাছে। বরং যাতে গানে ডুবে যায় মণিবালা ততই ধরে ধরে পাজামা গলায় পা বেয়ে। শেষে কোমর অবধি এসে গেছে যখন পরিধানটা তখন জ্ঞানবাবুর রেকর্ডের ধারায় ‘শূন্য’ বলে একটা তান মেরে খপাৎ করে বাগিয়ে ধরল বউকে। আর ধরা মানে সে কী ধরা! রাগের পকড় যেন। ধরেই বউকে চিত করে ফেললে কোলের উপর,
তারপর সুরাপানের মতো করে তার ঠোঁটের জুস পান করা শুরু করলে। কয়েক মুহূর্ত আগে ব্র্যাণ্ডির চাইতেও ঢের আগুন মণিবালার ঠোঁটে। তারপর পটপট করে খুলে ফেললে তার বুকের ব্লাউজ। আলতো করে হাত বোলাল ধবধবে ফরসা দু-টি স্তনে। আর বললে, মণি, প্রমথেশ-দুর্গাদাসের সাধ্যি নেই এইরকম আনন্দ দেয়।
ন্যাপা এবার হাত বুলোনো চুলোয় দিয়ে হিংস্র ক্রীড়া শুরু করল মণিবালার শরীরের উপর। সদ্য কেনা আমকাঠের পলকা পালঙ্ক থড়বড় করে কাঁপতে লাগল, ন্যাপার তরতাজা খেলুড়ে শরীরের তলে চিড়েচ্যাপটা হতে হতে মণিবালার কেবলই মনে হতে থাকল—এ সুখের স্বাদই আলাদা।
আর ঠিক তক্ষুণি দড়াম দড়াম ধাক্কা পড়ল ফ্ল্যাটের দরজায়। চমকে উঠেছিল ন্যাপা, মণি দু-জনাই— সত্যিই তো, এত রাতে কোন আপদ ভর করলে। ন্যাপা যেমনটি পড়েছিল বউয়ের উপর ঠিক তেমনিই পড়ে রইল। চিড়েচ্যাপটা মণিবালা মস্ত মস্ত শ্বাস ফেলে ফেলে পড়ে রইল বরের তলায় যেমনকে তেমন। আর ওই দুমদাম চলতেই রইল।
শেষে বউয়ের মুখের উপর থেকে মুখ তুলে ন্যাপা বললে, না মণি, এ তো ভূত নয়।
বরের কথায় এই ঘোর বিপত্তিতেও হেসে ফেলল মণিবালা। বলল, তা হলে তুমি এই ভয়েই এতক্ষণ মুখ লুকুচ্ছিলে?
মুখ লুকোচ্ছিলাম। আমি? কলকাতার ফাস্টরেট স্কাউড্রেল, দি ওয়ান অ্যাণ্ড ওনলি নৃপেন ব্যানার্জি। হাজব্যাণ্ড অব দি গ্রেটেস্ট বেঙ্গলি হিরোইন মণিবালা দাসী! ভাগনে অব দি ওয়ান অ্যাণ্ড ওনলি ব্যারিস্টার বরদাকান্ত চ্যাটার্জি! আমি মুখ…
ন্যাপা আর কথা শেষ করতে পারেনি, বিছানার নীচে পড়ে থাকা পাজামাটা কোনোমতে গলাতে গলাতে দরজার দিকে ছুটে গেল! মণিবালা প্রমাদ গুনল সর্বনাশ। ঘর বলতে তো এই একটিই, সেখানে ভদ্দরলোককে বসানো যায়। দৈবাৎ এ যদি ওর মামাবাড়ির কেউ হয়। ও কোনো মতে নগ্ন শরীরটাকে শাড়ির আলগা আলগা প্যাঁচে ঢাকতে ঢাকতে পাশের ঘরটায় গিয়ে লাইট না জ্বালিয়েই চুপচাপ দাঁড়িয়ে পড়ল।
