.
৪.
অন্ধকারের আবরণে উন্মত্ত পৌরুষ এখন আদিম গুহামানবের মতই ধ্বনিসর্বস্ব। অস্ফুট গোঙানি আর অধৈর্য উন্মোচনের ব্যস্ততায় চম্পার শরীরের সমুদ্রে তোলপাড় করছে একটা জীবন্ত ডুবোজাহাজ। সেই গোঙানির মধ্যে মিশে যাচ্ছে অজস্র স্তুতির উপচার, তাৎক্ষণিক আবিষ্কারের অন্ধ আবেগ আর তীব্র পিপাসার গোপন শারীরিক সংকেতের টুকরো টুকরো ভাষা। চম্পার কানের লতিতে, গলায়, নীচের ঠোঁট আর স্তনের বিভাজনে ঘষটে যাচ্ছে সেইসব ধ্বনি আর সংকেত। চোখ মুখের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে ঘন উত্তপ্ত নিঃশ্বাসের হলকা। তাতে উগ্র কোহলের ঝাঁঝ।
উন্মোচনের প্রাথমিক পর্বে চম্পাবতী আজ নিজের থেকেই অনেক বেশি সক্রিয়। উদ্দামতায় নয়, যেন পরম মমতায় সে তার অধৈর্য পুরুষকে ধীরে ধীরে বাহ্যিক খোলস থেকে মুক্ত করে নিচ্ছিল। বোধহয় এই প্রথম।
—আমার চঁপা ফুল। আমার চম্পু ….. আমার পরী বউ ….. তুই আমার সুখরানি, সোহাগমুকি, আদরখাকি ….. আজ ……
কানের ওপর গরম শাস, অস্ফুট অপ্রাকৃত আদিম শব্দের হনন চম্পাকে আজ যেন তেমন করে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে না। সে কি বড় বেশি সাবধান আজ। নাকি ভীষণ সতর্ক। কোথাও একচুল ভুলচুক হলে চলবে না। যন্ত্রের মত তার সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সাড়া দিয়ে যাচ্ছিল পুরুষের সেই প্রক্রিয়ায়। তবু অন্ধকারের মধ্যে মাঝে মাঝে তার মনের একটা মূল অংশ যেন শরীরের এই সংবহন থেকে আলাদা হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিল তাদেরই দেহবেষ্টনীর চারপাশে। ক্ষণে ক্ষণে উপরের সারির দাঁতের আঘাতে নিচের ঠোঁটে রক্ত স্ফুটনের চিহ্ন জেগে উঠছিল। বার বার মনে পড়ছিল সন্ধের পরে স্বামীর ফিরে আসার মুহূর্তটুকু।
প্রথমে বিস্ময়। তারপরে তাকে পাঁজাকোলা করে চার চরকি পাক। ধপাস করে মেঝের ওপর নামিয়ে দিয়েই ছিটকে দুহাত পিছিয়ে গিয়ে চোখ কুঁচকে নিরীক্ষণ।
—তব্বে। শালা, বার করুক তো এরকম একটা জিনিস। জানিস বউ, ছেলে পুলে না হয়ে ক্ষতির চেয়ে লাভই বেশি হয়েছে। তোর এই বাঁধুনি কি আর এতদিন এমন থাকত। ঠকে চিত্তির। ছানা পোনার ঘ্যানঘ্যানানিতে আমাদের মধ্যের এই যে পিরিতের আঠা কবে শুককে যেত। এই শালা বেশ আছি। তুই আর মুই। কোন ঝুট ঝঞ্ঝা নেই। শালা, শহরের যাত্রারানি সরলাবালাও আজ তোকে দেখলে ভিরমি খেয়ে যাবে।
বলেই দুহাত বাড়িয়ে আবার এগিয়ে আসতে থাকা স্বামীকে চম্পা গামছা আর লুঙ্গি হাতে ধরিয়ে ঠেলে দুয়ারের বাইরে ঠেলে পাঠিয়ে দিয়েছিল।
আর স্বামী বেরিয়ে যেতেই শির শির করে একটা অদ্ভুৎ ভয় তার শিরদাঁড়া বেয়ে নিচে নামতে শুরু করেছিল। অজানা একটা আশংকা।
হঠাৎ তলপেটের কাছাকাছি একটা তীব্র অনুভূতি চম্পাকে ফিরিয়ে নিয়ে এল সেই মুহূর্তের প্রক্রিয়ায়। একটা চঞ্চল ব্যস্ত হাতকে নাভির কাছ থেকে তুলে নিয়ে এসে চম্পা যেন নিতান্ত খেলাচ্ছলেই তার শরীরের অন্য সম্পদে স্থাপনা করে নিল। তারপর অনেকটা জোর করেই তার অবচেতনে শিথিল হয়ে আসা শরীরটাকে টান টান করে নেবার চেষ্টায় ব্রতী হল। ডানহাতের মুঠোয় আঁকড়ে ধরল তার শরীর জমিনের উপর উদভ্রান্ত হয়ে ওঠা কৃষকের চুলের মুঠি। পরিপূর্ণ আকর্ষণে।
সব বাধা পেরিয়ে যাবার মুহূর্তে চম্পা যখন প্রাণপণে সেই জ্যোতির্ময় পুরুষের কাছে সৃষ্টি সুখের প্রার্থনায় একাত্ম হবার চেষ্টা করছে, আর বার বার নিশ্চিত হবার চেষ্টা করছে সই-এর সেই নির্দেশ—সেই চরম মুহূর্তে ঐ আশীর্বাদী মাদুলি একবারের জন্যে হলেও যেন স্পর্শ করে স্বামীর অঙ্গ, ঠিক তখনই তার শরীরের ওপর পাগল হয়ে ওঠা পুরুষের ক্রমশ হালকা হয়ে ওঠা শরীরটা আচমকা থেমে গেল। একদম স্থির। শক্ত। তারপর জোর করে পিঠের ওপর থেকে চম্পার দুহাত সরিয়ে হ্যাচকা টানে আলাদা হয়ে গেল।
একটা ঘামে ভেজা হাতের মুঠো অন্ধকারের মধ্যেই অব্যর্থ নিশানায় চম্পার তলপেটের নিচে থাবা বসাল।
চম্পা অস্ফুটে ককিয়ে উঠতে গিয়েও থেমে গেল।
একটা হিসহিসে গলায় গরগর করছে রাগ।
—এটা কী? এই চাপি, কোমরে এটা কী পরেছিস? কে দিয়েছে তোকে?
বোবা চম্পা ভয়ে লজ্জায় সম্পূর্ণ নিরাবরণ কুঁকড়ে শুয়ে আছে। এতক্ষণে চোখ সয়ে যাওয়া অন্ধকারে আর জানলা দিয়ে আসা ফিকে আলোয় মশারির মধ্যে তার পাশের মানুষটাকে তার কেমন যেন একটা আদিম হিংস্র পশুর মত ভয়ঙ্কর লাগছে। চম্পার মুখ দিয়ে কোন শব্দ বেরুচ্ছে না।
একটা হ্যাচকা টানে চুলের মুঠি ধরে সেই অন্ধকারের শরীরটা তাকে আধশোয়া করে তুলে ধরল। তারপর, যেন একটা আদিম লোমশ মানুষ গর্জন করে উঠল।
–বল মাগি বল, এতক্ষণ ধরে সন্ধে থেকে আমার সাথে ছেনালি হচ্ছিল। এতদিন তবে পীরিত নয় অ্যাক্টো হচ্ছিল। তাই বলি, হঠাৎ রাস্তার মাগিদের মত এত নতুন নতুন ঢং। শালী, কত রকম ন্যাকামি। আমি বাঁজা, তুমি সতীন নিয়ে এস। তুই শালী ঠিক জানিস, আমার শরীরেই বীজ নেই। তাই সতীন এনে সেটা সবার সামনে পরখ করতে চেয়েছিলি। বল ঠিক কিনা, বল।
চরম আক্রোশে সেই উন্মত্ত পুরুষ যেন মশারি ছিঁড়ে তাকে টেনে হিঁচড়ে ঘরের মেঝের ওপর নামিয়ে নিয়ে এল। তারপর অন্ধকারের মধ্যে সপাটে চম্পার তলপেটে একটা লাথি এসে আছড়ে পড়ল।
দুমড়ে মুচড়ে ঘরের নর্দমার কোণে পড়ে যাওয়ার সময় তার কানে গরম সিসের মত আছড়ে পড়ল আক্রোশ।
