তাড়াহুড়োর কিছু নেই। সে সবসময় অপেক্ষাকৃত ভাল হোস্ট খুঁজছে। শেরিফ নিকোল কোহলের চেয়ে হোস্ট হিসেবে অনেক ভাল। কিন্তু সে এখানে থাকে না, তাকে উইলকক্সে, অনেক দূরে, তার রেঞ্জের বাইরে। আপাতত এ শহরে তার রেঞ্জের মধ্যে আছে রেডিও টেলিভিশন রিপেয়ারম্যানটা। তবে ওর কাছে যেতে হরে অন্য হোস্টের ওপর নির্ভর করে, এমন একজন হোস্ট যে গুপ্তচরের কাজ করতে পারে চমৎকার। আর এ কাজে বেড়ালের তুলনা নেই।
কাজেই সে খামার বাড়ির ঘুমন্ত এক বেড়ালকে টার্গেট করল আবার।
এগারো
দুপুরের ঠিক আগে আগে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হলো বার্টলসভিল শহরে। রেডিও এবং টেলিভিশন রিপেয়ারম্যান বিলি র্যামন তার দোকানের জানালা দিয়ে বৃষ্টি দেখছিল। ভাগ্য ভাল খাবার নিয়ে এসেছে। লাঞ্চ করতে আর বৃষ্টিতে ভিজে রেস্টুরেন্টে ঢুকতে হবে।
বিলি র্যামনের ব্যবসার অবস্থা ভাল না। আকণ্ঠ ডুবে আছে দেনার বোঝায়। তিন বছর আগে ভুল একটা সিদ্ধান্তের খেসারত দিতে হচ্ছে এখন তাকে। ভেবেছিল বার্টলসভিলে রেডিও টিভি সারানোর দোকান দিলে খদ্দেরের অভাব হবে না। এ শহরের সবার বাড়িতেই রেডিও আছে, কিছু লোকের টিভি রেডিও দুটোই আছে। তবে সমস্যা হলো এ শহরের লোকের রেডিও নষ্ট হয় না বললেই চলে, আর যাদের টিভি আছে তারা সেটের সামনে বসে খুব কমই।
বিলি র্যামনের বয়স বত্রিশ, লম্বা, রোগাটে গড়নের এই যুবক সব সময় চোখে চশমা পরে। সর্বদা হাসি মুখ করে থাকার জন্যে শহরের লোক তাকে পছন্দ করে। কালে-ভদ্রে রেডিও বা টিভি নষ্ট হলে বিলি র্যামনকে দিয়েই সেটা মেরামত করায়। তবে ঘটনাগুলো যেহেতু সচরাচর ঘটে না তাই পক্ষাঘাতগ্রস্ত অসুস্থ মা এবং নিজের পেট চালাতে হিমশিম খেতে হয় বিলি র্যামনকে। হোলসেলারের কাছ থেকে টিউব আর নানা পার্টস বাকিতে নিতে নিতে এখন আর কেউ তাকে বাকি দিতে চায় না। অন্য কোথাও গিয়ে যে চাকরি করবে, সে রকম কাজও তো নেই। তা ছাড়া অসুস্থ মা বিলি র্যামনের ‘সাহায্য ছাড়া এক পা-ও চলতে পারে না। তাকে রেখে দূর দেশ যেতেও মন চায় না বিলি র্যামনের। সব মিলে খুব সমস্যায় আছে বেচারা।
জানালা দিয়ে বৃষ্টি দেখছিল আর নিজের পোড়া কপাল নিয়ে ভাবছিল বিলি র্যামন, ফোঁস করে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ঘুরে দাঁড়াল। বেঞ্চির ওপর বসে টেনে নিল র্যাপারে মোড়া গরম কফির থার্মোফ্লাস্ক আর এক জোড়া স্যান্ডউইচ। একটা পিনাট বাটার, অন্যটা জেলি মাখানো। পয়সা খরচের ভয়ে সে মাংসের পুর দেয়া স্যান্ডউইচ খায় না বহুদিন হলো। তিন মাস আগে, ওয়াল্টার শ্রোয়েডারের টিভি ঠিক করে দেয়ার পর লোকটা ওকে স্মোকড হ্যাম খাইয়েছিল। সে স্বাদ জিভে লেগে আছে এখনও।
পিনাট বাটার শেষ করে জেলি স্যান্ডউইচে কামড় বসাল বিলি র্যামন, একই সাথে কাপে ঢেলে নিল গরম কফি। ঠিক তখন জানালায় কিছু একটা আঁচড় কাটার শব্দ শুনে ওদিকে তাকাল সে। একটা বেড়াল। সাইড জানালার পাশে বসে একটা থাবা দিয়ে খচর-মচর আঁচড় কাটছে কাচে। বেড়ালটা আকারে বিশাল। কুচকুচে কালো। ভিজে চুপচুপে হয়ে গেছে, যেন সাঁতার কেটে এসেছে। জানালার কাছে গেল বিলি র্যামন, তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাল বেড়ালটার দিকে। এ বেড়ালটাকে আগে কখনও দেখেছে কিনা মনে করতে পারল না। ‘কীরে, কী চাস?’ জিজ্ঞেস করল বিলি র্যামন। বেড়াল তার পছন্দের প্রাণী।
বেড়ালটাকে মনে হলো অভুক্ত। বৃষ্টিতে ভিজে লোম সেঁটে গেছে গায়ে বিলি র্যামনের প্রশ্নের জবাবে মুখ হাঁ করল ওটা, সম্ভবত ম্যাও বলল, বন্ধ জানালা দিয়ে শোনা গেল না আওয়াজ। আবার থাবা আঁচড়াল সে জানালায়।
‘ভেতরে আসবি?’ বলে জানালা খুলে দিল বিলি র্যামন। এক লাফে ভেতরে চলে এল কালো বেড়াল। দরজা বন্ধ করে বিলি র্যামন আবার তাকাল বেড়ালটার দিকে। খিদে পিয়েছে?’ আপন মনে প্রশ্ন করল সে। ‘নে এটা খা।’ আধ খাওয়া, জেলি মাখানো স্যান্ডউইচটা ছুঁড়ে দিল সে বেড়ালকে। এক কামড়ে স্যান্ডউইচ গিলে ফেলল বেড়াল।
‘তেষ্টাও পেয়েছে বুঝি?’ বলে সিঙ্ক থেকে এক বাটি পানি এনে দিল ওকে বিলি র্যামন। বেড়ালটা চুকচুক করে পানি খেল। সিঙ্কে দুটো তোয়ালে ঝুলছে। একটাতে কালিঝুলি মাখা। ওটা দিয়ে বেড়ালটার গা মুছতে লাগল। আরামে চোখ বুজে এল বেড়ালের। কাজটা প্রায় শেষ করে এনেছে বিলি র্যামন, এমন সময় বেজে উঠল ফোন। জবাব দিল বিলি র্যামন, ‘ বিলি র্যামন বলছি, রেডিও এন্ড টিভি রিপেয়ারম্যান।’
‘ক্যাপ হেডেন বলছি, বিলি র্যামন, ক্যাপ হেডেন জেনারেল স্টোর চালায়, পাশাপাশি পোস্ট মাস্টারের দায়িত্বও পালন করছে। ‘শিকাগো থেকে একটা প্যাকেজ এলে ফোন করতে বলেছিলে। এসেছে ওটা।’
‘দারুণ, ক্যাপ। আসছি আমি এক্ষণি।
দাঁড়াও, দাঁড়াও। কিছু টাকাও নিয়ে এসো। ওটা ছাড়াতে আমার সাত ডলার লেগেছে।’
‘এইরে, সেরেছে। শোনো ভাই, ডলফ মার্শের টিভি’র জন্যে একটা টিউবের দরকার ছিল। সেটাই তোমার ঠিকানায় এসেছে। টিভি’র কাজ প্রায় শেষ করে এনেছি। শুধু টিউবটা লাগানো বাকি। ডলফ আমাকে নগদ পেমেন্ট করবে বলেছে। সমস্যা হলো আমার কাছে এ মুহূর্তে তিন ডলারের বেশি নেই। তুমি যদি বাকি টাকাটা ধার হিসেবে রাখো তা হলে বড় উপকার হয়, ভাই। কথা দিচ্ছি, ডলফ পেমেন্ট করা মাত্র তোমার টাকা দিয়ে দেব।’
