‘না। কাউকে কামড়ায়নি। তবে কুকুরটা কার-শাই ছিল জানার পর ওটার প্রতি আমি কৌতূহলী হয়ে উঠি। জানতে চাই জানোয়ারটা অন্ধের মত কেন আমার গাড়ির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। র্যাবিস থাকলে না হয় এর একটা ব্যাখ্যা পাওয়া যেত।
‘আরে, একটা সামান্য কুকুর নিয়ে এত ভাবছেন কেন আপনি? এ ধরনের কুকুর প্রায়ই গাড়ি চাপা পড়ছে। হয়তো খরগোশ ধরতে গিয়ে ওটা আপনার গাড়ির নীচে পড়েছে। এ নিয়ে নিশ্চয়ই রাতের ঘুম হারাম করছেন না আপনি?’
‘না, তা নয়। তবে-আচ্ছা, শেরিফ, কোহলের আত্মহত্যার ঘটনায় অস্বাভাবিক কিছু চোখে পড়েছে আপনার?’
‘তেমন অস্বাভাবিক কিছু চোখে পড়েনি। তবে দৃশ্যটা দেখে গা গুলিয়ে উঠেছে। গড, রক্ত আর মগজ ছড়িয়ে ছিটিয়ে যা-তা অবস্থা।
‘কোনও মামলা বা ইনকোয়েস্ট হবে না?
‘কীসের ভিত্তিতে? কোহল নিজের হাতে লিখে গেছে সে আত্মহত্যা করেছে।’
ড্রিংক খেতে খেতে টুকটাক আরও কথা হলো। শেরিফ পেঁচা এবং বেড়ালের কথাও জানালেন। পেঁচা এবং বেড়ালের মৃত্যুর কথা শুনে ডক্টর কেমন আড়ষ্ট হয়ে উঠলেন, লক্ষ করলেন না শেরিফ।
দশ
হেলমুট কোল আত্মহত্যা করার পর যে ঘটনাগুলো ঘটল, তা খুবই অবাক করে তুলল ভিনগ্রহের হন্তারককে। তার ধারণাতেও ছিল না একটা মানুষ, যে চিরকুট পর্যন্ত লিখে গেছে স্বইচ্ছায় আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে, তাকে নিয়ে এত হৈ চৈ হবে।
হেলমুট মুখে বন্দুক পুরে ট্রিগার টেপার পরের দৃশ্যগুলো ভিনগ্রহের প্রাণীর স্মৃতিতে জ্বলজ্বল করছে। হেলমুটের স্ত্রী গুলির শব্দে জেগে যায়, নীচে নেমে স্বামীকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তার সে কী চিৎকার। তখুনি দৌড়াতে দৌড়াতে চলে যায় সে প্রতিবেশী লুরসাটদের (যাদের বাড়িতে অসুস্থ বাচ্চা আছে) খবর দিতে। লুরসাট পরিবার সাথে সাথে শেরিফকে ফোন করে। ঘণ্টাখানেক পরে শেরিফ এসেছে। হেলমুটের স্ত্রীকে নানা জিজ্ঞাসাবাদও করেছে। নিকোল কোহল কাঁদতে কাঁদতে তাকে বলেছে স্বামী চিরকুটে আত্মহত্যার কথা লিখলেও তার মনে পড়ে না বাতরোগটা হেলমুটকে অত বেশি কি কাবু করেছিল যে নিজেকে এভাবে ধ্বংস করে দিতে হবে?
ভিনগ্রহের প্রাণী মানুষগুলোর আচরণ যত দেখেছে ততই অবাক হয়েছে। যে লোক আত্মহত্যা করেছে, আত্মহত্যার কারণও ব্যাখ্যা করে গেছে, তার মৃত্যুকে ঘিরে এত প্রশ্ন কেন সবার?
পরদিন দুপুরে শেরিফ আবার এলেন হেলমুটের বাড়িতে। এবার তাঁর সাথে আরও একজন আছেন। লোকটির সাথে বিধবা কোহলের পরিচয় করিয়ে দিলেন শেরিফ। লোকটির নাম আবরার, পেশায় বিজ্ঞানী, বার্টলসভিলে এসেছেন ছুটি কাটাতে। রনির রহস্যময় আত্মহত্যার ঘটনা তাঁকে কৌতূহলী করে তুলেছে। তিনি এ মৃত্যুর একটি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা খুঁজছেন। আর হেলমুটের আকস্মিক আত্মহত্যার ঘটনা তাঁর কৌতূহল আরও বেশি বাড়িয়ে দেয়। কারণ এত অল্প সময়ে দুটো আত্মহত্যার ঘটনা সচরাচর দেখা যায় না। আবরার এ ব্যাপারে বিধবা নিকোল কোহলের সাথে দু’একটা কথা বলতে চান। অবশ্য তিনি যদি অনুমতি দেন তা হলে।
নিকোল কোহল কথা বলতে আপত্তি করল না! শুধু তাই নয় সে ওদের জন্যে কফিও বানিয়ে আনল।
ছোটখাটো আবরারের কৌতূহল অপরিসীম। কমপক্ষে একশো প্রশ্ন করলেন তিনি নিকোল কোহলকে। নিকোল কোহল সমস্ত প্রশ্নের জবাব দিল! লুরসাটদের বাড়িতে বেড়ালের মৃত্যু বা ফ্রিজ থেকে সুপ আর মাংসের ঝোল অদৃশ্য হবার ব্যাপারগুলো আবরারকে কৌতূহলী করে তুলল।
আনরার এবং কোহলের কথোপকথন সবই শুনতে পাচ্ছে ভিনগ্রহের প্রাণীটি। লোকটার ব্যাপারে সে আগ্রহ বোধ করছে। কী ধরনের বিজ্ঞানী এই লোক? একে হোস্ট বানালে কেমন হয়? এ নিশ্চয়ই বার্টলসভিলের টেলিভিশন মেকানিকের চেয়ে চৌকস হবে। সে সিদ্ধান্ত নিল এ লোকের ব্যাপারে খোঁজ খবর নিতে হবে। কোথায় থাকে জানা দরকার। তাকে হোস্ট বানালে কতটুকু উপকারে সে আসবে তাও জানা দরকার। তবে আবরার নামের লোকটিকে বিশ্লেষণ করার সুযোগ তার আর হলো না। কারণ সৈ প্রশ্নপর্ব শেষ করে উঠে পড়েছে, চলে যাচ্ছে শেরিফের সাথে নিজের গাড়িতে, ক্রমশ সরে যাচ্ছে রেঞ্জের বাইরে।
যাক, ক্ষতি নেই। সে এরকম হোস্ট বহু পাবে। শেরিফ এবং আবরার মিসেস কোহলের সাথে অনেক কথাই বলেছেন। ভিনগ্রহের হন্তারক জানতে পেরেছে মিসেস কোল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন খামার বাড়ি বিক্রি করে তার ছেলে বা মেয়ের কাছে চলে যাবে। তার মেয়ে মার্থা শেষ চিঠিটি মাকে লিখেছিল সিনসিনাটি থেকে, ছেলে ম্যাক্স থাকত মিলওয়াকিতে। শেরিফ মহিলাকে কথা দিয়েছেন তার ছেলে-মেয়েদের ঠিকানা খুঁজে বের করবেন। কাজটা তাঁর পক্ষে সহজ। কারণ ওই দুটি রাজ্যের পুলিশ শেরিফের বন্ধু মানুষ।
মিসেস কোহল খামার বাড়ি বিক্রি করতে চেয়েছে তার প্রতিবেশী লুরসাটদের কাছে। তা করুক। তাতে ভিনগ্রহের প্রাণীর কোনও অসুবিধে নেই। একবার ভেবেছিল মিসেস কোহলকে তার হোস্ট বানাবে। কিন্তু পরক্ষণে নাকচ করে দিয়েছে চিন্তাটা। কারণ মিসেস কোলকে হোস্ট করা মানে তাকে হত্যা করা। মিসেস কোহলের মৃত্যুও অ্যাক্সিডেন্টের আদলে ঘটানো যায়। কিন্তু তাতে সুবিধের চেয়ে অসুবিধেই হবে বেশি। কারণ খামার বাড়িতে পরপর দুটি মৃত্যু লোকজনের মনে সন্দেহ জাগিয়ে তুলবে।
