হেলমুট তাকে ঝোলের পাত্র থেকে তুলে নিয়ে সিঁড়ির গোড়ায় চলে এল। মোটামুটি গভীর একটা গর্ত খুঁড়ল সে, তারপর সাবধানে কচ্ছপের খোলটাকে ভেতরে রেখে মাটি চাপা দিল। এখন আর কারও চোখে পড়ার সম্ভাবনা রইল না।
হেলমুট এবার ঘরে ঢুকল। প্রথমেই প্যানের অবশিষ্ট ঝোলটুকু ঢেলে ফেলে দিল ড্রেনে। তারপর যে জিনিসগুলো সে ব্যবহার করেছে, প্রতিটি জিনিস ভাল করে ধুয়ে ফেলল। প্যান, বাটি, জার ইত্যাদি ঠিকঠাক জায়গায় রেখে দিল। সব কাজ শেষে বসে পড়ল রান্নাঘরের টেবিলে। ভিনগ্রহের হন্তারক ওকেও আত্মহত্যায় বাধ্য করবে। তবে এবারের হত্যাকাণ্ড যাতে কারও মনে সন্দেহ জাগাতে না পারে সে জন্য হেলমুটকে দিয়ে একটা চিরকুট লেখাবে বলে ঠিক করেছে সে। রনি’র মৃত্যু থেকে এ শিক্ষাটা পেয়েছে সে। রনি যদি লিখে যেতে পারত সে স্বেচ্ছায় মৃত্যুকে বরণ করে নিয়েছে, তা হলে তাকে নিয়ে এত হৈ চৈ হত না। কাজেই হেলমুটের মৃত্যু এমনভাবে দেখাতে হবে যাতে কারও মনে বিন্দুমাত্র সন্দেহ না জাগে। সে হেলমুটকে দিয়ে লেখাল।
‘বাতের ব্যথার যন্ত্রণা আমি আর সহ্য করতে পারছিলাম না। তাই আত্ম হননের পথ বেছে নিলাম।
হেলমুট
নিজের নাম সই করে কিচেন ক্লজিট খুলল হেলমুট, বের করল শটগান। বন্দুকে গুলি ভরে আবার টেবিলে এসে বসল। মুখের ভেতর মাজল ঢুকিয়ে টেনে দিল ট্রিগার। রক্ত আর মগজ ছিটকে পড়ল চিরকুটের ওপর, তবে লেখাগুলো চেনা গেল।
সিঁড়ির গর্তের নীচে, নিজের শরীরের ভেতর ফিরে আসা ভিনগ্রহের প্রাণী তার উপলব্ধি ক্ষমতা দিয়ে শুনতে পেল গুলির শব্দের সাথে সাথে জেগে উঠেছে নিকল কোহল, দোতলা থেকে চিৎকার করে ডাকছে স্বামীর নাম ধরে। দেখল বেডরুমের আলো জ্বলে উঠেছে, তারপর হলঘর, সবশেষে নীচতলার ঘরের আলো।
নয়
ঘুম থেকে ধীরে ধীরে জেগে উঠলেন ড. আবরার, চিৎ হলেন, চোখের সামনে হাত এনে ঘড়ি দেখলেন।
সাড়ে দশটা বাজে। বাজতেই পারে। কাল অনেক রাতে ঘুমিয়েছেন তিনি। যাক, এবার গ্রীনবে-তে ফোন করে জানা যাবে কুকুরটার সুরতহাল রিপোর্ট।
মুখ হাত ধুয়ে বার্টলসভিলের স্থানীয় একটা ড্রাগস্টোরে ঢুকে গ্রীনবে- হাসপাতালে ফোন করলেন আবরার। জানা গেল, কুকুরটার র্যাবিস হয়নি। আর তার শরীরে কোনও রোগও ধরা পড়েনি যার কারণে সে মাথা খারাপ হয়ে গাড়ির ওপর লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করতে পারে।
দীর্ঘশ্বাস ফেললেন প্রফেসর। ঘটনাটা শেরিফকে জানানো দরকার। তিনি হয়তো ব্যাপারটাতে আগ্রহ প্রকাশ করতে পারেন। কফি খেয়ে, ড্রাগস্টোর থেকে ফোন করলেন উইলকক্সে, শেরিফকে। অফিসেই পাওয়া গেল তাঁকে।
‘ড. আবরার বলছি, শেরিফ,’ বললেন প্রফেসর। ‘জরুরী কিছু কথা আছে আপনার সাথে। এখানে আসতে পারবেন নাকি আমি যাব আপনার অফিসে?’
‘আমি এক্ষুণি বার্টলসভিলের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছিলাম, ডক্টর।’ জবাব দিলেন শেরিফ, ‘কোত্থেকে বলছেন আপনি।’
ড্রাগস্টোর থেকে। পাশের পাবে ঢুকছি আমি। আসুন, ড্রিঙ্ক খেতে খেতে কথা বলি।’
শেরিফ জানালেন আধ ঘণ্টার মধ্যে আসছেন তিনি।
এখানে প্রায়ই লাঞ্চ বা ডিনার করতে আসেন ডক্টর। হ্যানস উইস নামের এক মুদি দোকানদারের কাছ থেকে নিয়মিত গ্রোসারি কেনেন। পাবে মাঝে মাঝে পোকারও খেলেন। ফলে স্থানীয় লোকজনের সাথে দোস্তী হয়ে গেছে তাঁর। ড্রাগস্টোরের মালিকের সাথে গতরাতেও পোকার খেলেছেন তিনি। সে আগ্রহ নিয়ে জানতে চাইল, ‘শেরিফকে ফোন করলেন শুনলাম, ডক। কোনও সমস্যা নয় তো?’
‘আরে না! ওখানে কিছু খবর দেয়ার জন্যে ফোন করা।’
‘ভাল কথা, ডক। আপনি তো বাসকোম্ব রোডে থাকেন, তাই না?’ মাথা ঝাঁকালেন আবরার। ‘হ্যাঁ। রাস্তার শেষ বাড়িটাতে। ‘কেন?’
‘আপনাদের ওদিকে কালরাতে একটা আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। শুনেছেন?’
ডক্টরের ঘাড়ের পেছনে কী যেন একটা কিলবিল করে উঠল। ‘না, শুনিনি। এই মাত্র শহরে ঢুকেছি। কে মারা গেল?’
‘এক বুড়ো। হেলমুট। শহর থেকে পাঁচ মাইল দূরে থাকত লোকটা আপনার বাড়ি থেকে মাইল তিনেক দূরে। বুড়োর মৃত্যুতে কেউ তেমন মন খারাপ করেনি। কারণ কারও সাথেই সদ্ভাব ছিল না লোকটার।
ওষুধের দোকানদারকে জিজ্ঞেস করে শুধু এটুকুই জানা গেল, বুড়ো শটগান মুখে পুরে আত্মহত্যা করেছে। আর মরার আগে একটা চিরকুট লিখে গেছে।
চিন্তিত ভঙ্গিতে পাবে ফিরে এলেন ডক্টর আবরার। বিয়ারের অর্ডার দিলেন। খানিক পর শেরিফ এসে ঢুকলেন পাবে। আবরারকে বিয়ার খেতে দেখে বললেন, ‘টেনশনে আছি। শুধু বিয়ারে চলবে না। ডাবল বুরবনের অর্ডার দিন।
বারটেন্ডারকে ডাবল বুরবনের অর্ডার দিয়ে শেরিফের দিকে প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকালেন প্রফেসর।
‘হেলমুটের কথা বোধহয় শুনেছেন,’ বললেন শেরিফ। কাল অনেক রাতে ওখান থেকে বাসায় ফিরেছি। ঘুমাতেই পারিনি। গড়, ভয়ানক ক্লান্ত আমি। এখন আবার কোলের বাড়ি ছুটতে হবে।’
‘আমি যদি আপনার সাথে যাই অসুবিধা আছে?’ জানতে চাইলেন আবরার।
‘না, অসুবিধা নেই। ফোন করেছিলেন কেন? কোল সম্পর্কে কথা বলতে?’
‘না, ফোন করার আগেও আমি ব্যাপারটা জানতাম না। জনের কুকুরটাকে নিয়ে কথা বলতে চেয়েছি। ওটার র্যাবিস হয়নি।’
শেরিফ ঝোপের মত ভুরু তুলে প্রশ্ন করলেন, ‘আপনি চেক করেছেন নাকি? কুকুরটা কাউকে কামড়েছে?’
