রাত 10: 30 মানুষের জন্ম
রাত 11: 00 মানুষের পাথরের অস্ত্র ব্যবহার
রাত 11:46 আগুন আবিষ্কার
রাত 11:59 ইউরোপের গুহায় মানুষের ছবি আঁকা
দেখাই যাচ্ছে আমরা বছর শেষ হবার একেবারে শেষ মিনিটে পৌঁছে গেছি এখন সেকেন্ড হিসেব করে দেখা যেতে পারে। মনে রাখতে হবে এখানে প্রতি সেকেন্ড হচ্ছে পাঁচশত বছর।
20 সেকেন্ড চাষ আবাদ শুরু
35 সেকেন্ড প্রথম শহরের পত্তন
50 সেকেন্ড মানুষের জ্যোতিবিদ্যার জ্ঞান অর্জন, মিশরের সভ্যতা
52 সেকেন্ড ব্যাবিলনের সভ্যতা
53 সেকেন্ড কম্পাস আবিষ্কার, ট্রজানের যুদ্ধ
54 সেকেন্ড লোহার ব্যবহার শুরু
55 সেকেন্ড গৌতম বুদ্ধের জন্ম
56 সেকেন্ড ইউক্লিডের জ্যামিতি। যিশুখ্রিস্টের জন্ম।
57 সেকেন্ড হজরত মুহম্মদ (স:) এর জন্ম। শূন্য আবিষ্কার।
58 সেকেন্ড মায়া সভ্যতা, ক্রুশেডের যুদ্ধ।
59 সেকেন্ড । ইউরোপে রেনেসাঁ। নূতন বিজ্ঞানের জন্ম।
60 সেকেন্ড বা বর্ষ-শেষ মুহূর্ত — বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির বিকাশ। মানুষ কর্তৃক নিজেকে ধ্বংস করার ক্ষমতা অর্জন । মহাকাশ অভিয়ান, সারা পৃথিবীর সকল মানুষ নিয়ে বিশ্বসংস্কৃতির জন্ম।
মহাজাগতিক বছরের শেষে এখন আমাদের দেখার সময় নূতন বছরে আমাদের জন্যে কী অপেক্ষা করছে।
.
24. হারিয়ে যাওয়া ভর
আমরা সবাই কখনো না কখনো একটা মোমবাতি জ্বালিয়ে তার কোমল শিখাঁটির দিকে তাকিয়ে থেকেছি। আমরা না চাইলেও লক্ষ করেছি যে মোমবাতিটি আলো দিতে দিতে ছোট হয়ে আসছে। যখন মোমটুকু শেষ হয়ে গেছে শেষবারের মতো বার কয়েক দপদপ করে জ্বলে সেটি নিভে গেছে।
মানুষ একসময় সূর্যের দিকে তাকিয়ে এ-রকম একটা দুর্ভাবনা করতো। সূর্য যেহেতু “জ্বলছে নিশ্চয়ই সেখানে মোমের মতো কোনো এক ধরনের জ্বালানী “পুড়ছে”। একসময় জ্বালানী যখন শেষ হয়ে যাবে তখন কি সূর্যটাও শেষবারের মতো দপদপ করে জ্বলে চিরদিনের মতো নিভে যাবে? সারা পৃথিবী ঘন কালো অন্ধকার ডুবে যাবে?
বিজ্ঞানীরা আমাদের নিশ্চিত করেছেন, তারা বলেছেন–এধরনের কোনো দুর্ভাবনা নেই। সূর্য প্রায় পাঁচ বিলিওন বছর (পাঁচশ কোটি) থেকে আলো, তাপ আর শক্তি দিয়ে আসছে। আরো পাঁচ বিলিওন বছর এটি টিকে থাকবে। তার কারণটা সহজ সূর্য তার আলো আর তাপ মোমের মতো জ্বালানী থেকে পায় না। সূর্য তার শক্তিটুকু পায় ফিউসান নামের নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া থেকে। এই শক্তি প্রায় অফুরন্ত!
সূর্য এক ধরনের নক্ষত্র, নক্ষত্রের জীবন অনেকটা বেহিসেবী মানুষের মতো। যেই নক্ষত্রের আকার যত ছোট সেটা তত বেশিদিন টিকে থাকে। যে নক্ষত্রের আকার বড় সেটা তত বেশি উজ্জ্বল হয়ে জ্বলে তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যায়। সূর্যের নিউক্লিয়ার জ্বালানী যখন শেষ হয়ে যাবে তখন তার মৃত্যুটি হবে মোটামোটি সাদামাটা, নিষ্প্রভ একটা হোয়াইট ডোয়ার্ফ হয়ে সেটি বাকি জীবন কাটিয়ে দেবে। তবে নক্ষত্রের আকার যদি সূর্য থেকে কমপক্ষে দেড়গুণ বড় হয় তাহলে নক্ষত্রের মৃত্যুটি হয় চমকপ্রদ। নিউক্লিয়ার জ্বালানী শেষ হবার পর তার ভেতরটা প্রবল মহাকর্ষ বলের কারণে সংকুচিত হয়ে যায়, এই ভয়াবহ সংকোচনের কারণে যে প্রচণ্ড শক্তির জন্ম হয় সেই শক্তি পুরো নক্ষত্রের বাইরের অংশটুকু ভয়ংকর বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেয়। এই ধরনের নক্ষত্রকে বলে সুপার নোভা এবং একটা সুপার নোভা সূর্য থেকে কোটি কোটি গুণ উজ্জ্বল হয়ে জ্বলতে থাকে। সুপার নোভার ঔজ্জ্বল্য খুবই ক্ষণস্থায়ী, মাত্র কয়েক সপ্তাহ–তারপর সেটি তার ঔজ্জ্বল্য হারিয়ে নিষ্প্রভ হয়ে যায়।
পৃথিবীর মানুষ মাঝে মাঝেই সুপার নোভা দেখেছে। সর্বশেষ সুপার নোভার বিস্ফোরণ ঘটেছে 1987-এর 24 ফেব্রুয়ারিতে (আমি তখন উইসকনসিনে একটি পদার্থবিজ্ঞানের কনফারেন্সে, মনে আছে সেই বিস্ফোরণের খবর পেয়ে সব বিজ্ঞানীদের সে কী উত্তেজনা!)। এটি শুধু যে একটা চমকপ্রদ বিস্ফোরণ তাই নয়–আমাদের অস্তিত্বের পেছনেও রয়েছে এই সুপার নোভা! আমাদের শরীরের, গাছপালা বা প্রাণিজগতের এমনকি সারা পৃথিবীর সকল কিছু যে পরমাণু দিয়ে তৈরি তার কেন্দ্রের নিউক্লিয়াসগুলো এসেছে সুপারনোভার বিস্ফোরণ থেকে।
প্রকৃতিতে 92 (বিরানব্বই) টি ভিন্ন ভিন্ন পরমাণু রয়েছে। সবচেয়ে সহজ পরমাণুটি হচ্ছে হাইড্রোজেন, তার কেন্দ্রে একটা মাত্র প্রোটন এবং তাকে ঘিরে ঘুরছে একটা মাত্র ইলেকট্রন। এর পরের পরমাণুটি হচ্ছে হিলিয়াম, তার কেন্দ্রে দুটি প্রোটন এবং তাকে ঘিরে ঘুরছে দুটি ইলেকট্রন। তবে শুধু দুটি প্রোটন একসাথে থাকতে পারে না, তাদের চার্জের কারণে প্রবল শক্তিতে এরা একে অপরকে বিকর্ষণ করে। এগুলোকে আটকে রাখতে হলে নিউট্রন নামে এক ধরনের কণা দরকার, যার ভর প্রোটনের কাছাকাছি কিন্তু কোন চার্জ নেই। নিউট্রনগুলো অনেকটা আঠার মতো কাজ করে প্রোটন দুটিকে আটকে রাখে। নক্ষত্রের ভেতরে প্রোটন এবং নিউট্রন প্রবল শক্তিতে একটা আরেকটাকে ধাক্কা দিয়ে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ার শুরু করে সহজ হাইড্রোজেন থেকে শুরু করে প্রথমে হিলিয়াম এবং তারপর পরবর্তী নিউক্লিয়াসগুলো তৈরি করতে শুরু করে।
একটা হিলিয়ামের নিউক্লিয়াসে রয়েছে দুইটা প্রোটন এবং দুইটা নিউট্রন। আলাদা আলদাভাবে দুইটা প্রোটন এবং দুইটা নিউট্রনের যত ভর, হিলিয়াম নিউক্লিয়াসের ভর তার থেকে অল্প একটু কম, সঠিকভাবে বলতে হলে বলা যায় 0.007 ভাগ (বা 0.7%) কম। যখন দুটি প্রোটন এবং দুটি নিউট্রন মিলে একটা হিলিয়াম নিউক্লিয়াস তৈরি করে তখন যে ভরটুকু কমে যায় সেটাই আইনস্টাইনের সেই বিখ্যাত সূত্র E = mc^2 অনুযায়ী শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে যায়। নিউক্লিয়ার শক্তি রাসায়নিক শক্তি থেকে শতকোটি গুণ বেশি, তাই সূর্য অচিরেই মোমবাতির মতো জ্বলতে জ্বলতে শেষ হয়ে যাবার কোনো আশঙ্কা নেই। সূর্যের শক্তির বড় অংশ আসে হাইড্রোজেনের হিলিয়ামে রূপান্তরিত হওয়া থেকে। এর মাঝে খুব বড় একটা ভূমিকা পালন করে নিউক্লিয়াসের হারিয়ে যাওয়া 0.007 ভাগ ভর।
