–হ্যাঁ আছে। এখন সেই যোগটা খুঁজে দেখতে হবে। মনে হয় আজ রাতেই সেই যোগটা খুঁজে পাবো। ফ্রান্সিস বলল।
কিন্তু চারজন যোদ্ধা পাহারায় থাকবে। হ্যারি বলল।
–না। ওদের নজর এড়িয়ে আমি আর শাঙ্কো আসব। ফ্রান্সিস বলল।
–বেশ না হয় জল নেমে এল। তাতে কী হল? হ্যারি বলল।
-মৃত্যু-সায়রের শুকনো তলদেশটা দেখতে পারবো। আমার কেমন মনে হচ্ছে। ওটার তলদেশে নিশ্চয়ই কিছু পাওয়া যাবে। ফ্রান্সিস বলল।
–অসম্ভব নয়। হ্যারি বলল।
যোদ্ধারা ওদের দেশীয় ভাষা কিছুই বুঝল না। বোকার মত তাকিয়ে রইল।
–এখন ফিরে চলো। আর কিছু দেখবো না। ফ্রান্সিস বলল।
সবাই ফিরে চলল। নৌকোয় উঠে মারিয়া মৃদুস্বরে বলল–গুহা দেখে কিছু হদিশ পেলে?
–প্রায়। তবে আজ রাতে সব লুকিয়ে দেখতে হবে। ফ্রান্সিসও গলা নামিয়ে বলল।
ঘরে এসে ফ্রান্সিস ঘাসের বিছানায় শুয়ে পড়ল। চোখ বুজে চিন্তা করতে লাগল। চোখ বুজেই ডাকল–শাঙ্কো। শাঙ্কো এগিয়ে এল।
–সেনাপতিকে বলে একটা কুড়ল নিয়ে এসো। ফ্রান্সিস চোখ বুজেই বলল।
শাঙ্কো চলে গেল। একটু পরেই একটা কুড়ুল নিয়ে ফিরল। পেছনে পেছনে সেনাপতিও এল। হেসে বলল-কুড়ুল দিয়ে কী করবে?
–মই বানাবো।
–মই? মই দিয়ে কী করবে?
–লুভিনা পাহাড়ের মাথায় উঠবো। পাহাড়ের চূড়োটা দেখা হয়নি।
–মইয়ে চড়ে চুড়োয় উঠবে? অদ্ভুত কথা শোনলে। সেনাপতি হাসতে লাগল।
-হ্যাঁ। আমরা একটু অদ্ভুত। আমাদের কান্ডকারখানাও একটু অদ্ভুত। ফ্রান্সিস হেসে। বলল। সেনাপতি হাসতে হাসতে চলে গেল।
রাত হল। খাওয়াদাওয়া শেষ। ফ্রান্সিস শুয়ে পড়তে পড়তে বলল–শাঙ্কো এখন একটু ঘুমিয়ে নাও। গভীর রাতে লুভিনা পাহাড়ে যেতে হবে।
–রাতে কী খোঁজাখুঁজি করবে? শাঙ্কো জানতে চাইল।
–আছে–আছে। এখনও দেখার মত কিছু আছে। ফ্রান্সিস বলল।
–পাহারাদার যোদ্ধারা? শাঙ্কো বলল।
খুব গোপনে যেতে হবে। ফ্রান্সিস বলল। মারিয়ার খাওয়া হয়ে গিয়েছিল।
বলল–তাহলে আমিও যাবো।
-না মারিয়া। এই কাজটা খুব গোপনে সারতে হবে। তোমাকে নিয়ে গেলে ধরা পড়ে যেতে পারি। ফ্রান্সিস বলল।
–ঠিক আছে। আমি রাজবাড়ি শুতে যাচ্ছি। কাল ভোরে এসে সব শুনবো।
মারিয়া রাজবাড়ি চলে গেল।
ফ্রান্সিসরা ঘুমিয়ে পড়ল।
রাত গভীর হল। ফ্রান্সিসের ঘুম ভেঙে গেল। ডাকলশাঙ্কো। কুড়ুল আর মশাল।
–সব গুছিয়ে রেখেছি।
ফ্রান্সিস উঠে দাঁড়াল। বলল–হ্যারি তোমাকে আর নিয়ে যাব না।
-না-না। লোক যত কম হয় ততই ভালো। হ্যারি বলল।
ফ্রান্সিস আর শাঙ্কো তৈরি হয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এল। প্রান্তরে উজ্জ্বল জোৎস্না। ফ্রান্সিস দেখল রাজবাড়ির ছায়া পড়েছে। ও শাঙ্কোর হাত টেনে সেই ছায়ায় নিয়ে এলো। ছায়ার মধ্যে দিয়ে দুজন চলল।
প্রান্তর শেষ। বসতি এলাকার শুরু। পাহারাদারদের এলাকাটা নির্বিঘ্নে পার হওয়া গেল।
নৌকোয় খাঁড়ি পার হয়ে বনভূমি পার হয়ে যাচ্ছে তখনই শাঙ্কোকে বলল-লম্বা গাছ কেটে মই বানাতে হবে। চলো গাছ কাটতে হবে। খুঁজে খুঁজে দুটো সরু অথচ লম্বা গাছ পেল। গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে চাঁদের আলো পড়েছে। সেটুকু আলো কাজে লাগাল। দুটো লম্বা গাছ কাটল। তারপর গাছের ডালগুলো কাটল। বুনো শুকনো লতা জোগাড় করে কাটা ডাল বেঁধে বেঁধে মই বানাল।
এবার লুভিনা পাহাড়ের দিকে চলল। শাঙ্কো মই কাঁধে চলল।
গুহামুখে এসে দাঁড়াল। মশাল জ্বালল। মশাল আর মই নিয়ে দুজনে গুহায় ঢুকল। যেতে যেতে প্রায় মাঝমাঝে জায়গায় মইটা নিয়ে এল। মশালের আলোয় ফ্রান্সিস খোদলটা দেখল। তারপরমই পাতল। মইটা প্রায় মাপমত হল। শাঙ্কোকেমইটা ধরতে বলে ফ্রান্সিস মই বেয়ে ওপরে উঠতে লাগল। হাতে মশাল। মশালের আলোয় দেখল খোদলটা ওপরে বড়। একপাশে পাথরের থাক। সেই থাকটা আর সামনের পাথুরে অংশটা কেটে কেটে তৈরি। প্রকৃতির সৃষ্টি নয়। মানুষের হাত পড়েছে এখানে। এখানে মানুষ এসেছিল কেন?
ফ্রান্সিস মশালটা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে চারদিক দেখতে লাগল। তখনই স্তম্ভের মত পাথরের গায়ে একটা পাথরের ফলক মত দেখল। ফলকটা মোটামুটি কেটে মসৃণ করা। বাঁদিকে একটা পাথুরে খাঁজ। সেই খাঁজে মশালটা রেখে ফলকটায় হাত দিয়ে দেখল। কী যেন কুঁদে ভোলা আছে। নিশ্চয়ই কুঁদে কিছু লেখা। ফ্রান্সিস লেখাটা পড়বার চেষ্টা করল। নাঃ কিছুই বুঝতে পারল না। শুধু বুঝল স্পেনীয় অক্ষর। তাও দুর্বোধ্য। ও ফলকটা ধরে কয়েকবার নাড়া দিল। আশ্চর্য। ফলকটা নড়ে গেল। ও চাপাস্বরে বলল– শাঙ্কো কুড়ুলটা। শাঙ্কো মই বেয়ে উঠে ওকে কুড়ুলটা দিয়ে গেল। ও কুলের মাথা এ ফলকের কোনাগুলোতে চেপে চেপে আস্তে ঠুকতে লাগল। ফলকটা নড়ল। তারপর আস্তে আস্তে খুলে এল। ফ্রান্সিস আর দাঁড়াল না। ফলকটা একহাতে ঝুলিয়ে নিল। মশালটা পাথুরে দেয়ালে ঘষে নিভিয়ে ফেলল।
এবার নামা। ফ্রান্সিস ফলকটা বাঁহাতে ঝুলিয়ে নিয়ে আস্তে আস্তে মই বেয়ে নেমে এল। শাঙ্কো বলল–কিছু হদিশ পেলে?
–একটা সূত্র পেয়েছি। এই ফলকটা। এটায় কিছু কুঁদে লেখা। লেখাটা কী সেটা জানতে হবে। তবে অক্ষরগুলো স্পেনীয় ভাষায়। চলো। আগে এই ফলকের পাঠোদ্ধার করতে হবে। ফ্রান্সিস বলল।
–মইটা কী করবে? শাঙ্কো বলল।
–মইটা নিয়ে চলো। জঙ্গলে কোথাও লুকিয়ে রাখবো। ফ্রান্সিস বলল।
