–হুঁ। ফ্রান্সিস মুখে শব্দ করল।
–আর এখানে নয়। নেমে চলল। হ্যারি বলল।
–হ্যাঁ। মৃত্যু-সায়রটাই দেখা বাকি ছিল। চলো। কথাটা বলে ফ্রান্সিস মারিয়ার কাছে এল। মারিয়া তখনও ফেঁপাচ্ছে। মারিয়ার মাথায় হাত রেখে মৃদুস্বরে বলল–কেঁদো না। অত সহজে আমার মৃত্যু হবেনা। এবার তো বুঝলে এসবঅভিযানে এমনি ভয়ানক ঘটনা ঘটে। তাই তোমাকে সঙ্গে আনিনা। যাগেশান্ত হও। মারিয়ার ফোঁপানি বন্ধ হল।
এবার ফ্রান্সিসরা পাহাড়ের দক্ষিণ দিক দিয়ে নামতে লাগল। নামতে নামতে হ্যারি, মৃদুস্বরে বলল–এর মূলে স্তিফানো। নিশ্চয়ই ওর এরকম নির্দেশ ছিল।
–অসম্ভব নয়। ফ্রান্সিসও গলা নামিয়ে বলল। ফ্রান্সিস দেখল দক্ষিণ দিক দিয়ে পাহাড়টায় ওঠানামা সহজ। প্রান্তরের কাছে এসে যোদ্ধাটি সৈন্যাবাসের দিকে চলে গেল।
ফ্রান্সিসরা ঘরে ঢুকল। মারিয়া দেয়ালে হেলান দিয়ে বসল। হ্যারি শাঙ্কো বিছানায় বসল। ফ্রান্সিস শুয়ে পড়ে চোখ বুজল। কেউ কোন কথা বলল না।
বেশ কিছুক্ষণ পরে ফ্রান্সিস বলল–কালকে আবার লুভিনা পাহাড়ে যাবো। গুহাটা। ভালো করে দেখা হয়নি। গুহাটা আর তার চারপাশ ভালো করে দেখতে হবে।
-আমিও যাবো। মারিয়া বলল।
–বেশ। যেও। ফ্রান্সিস বলল।
পরদিন সকালে সেনাপতি এল। ফ্রান্সিসকে বলল
–তোমাকে রাজা মন্ত্রীমশাই দু’জনেই ডেকেছেন। রাজসভায় চলো।
–ফ্রান্সিস কালকের ব্যাপারটা। হ্যারি মৃদুস্বরে বলল। ফ্রান্সিসও মৃদুস্বরে বলল বোঝাই যাচ্ছে।
ফ্রান্সিস উঠে দাঁড়াল। বলল–আমি আর হ্যারি যাচ্ছি।
দুজনে যখন রাজসভায় পৌঁছল দেখল রাজসভায় কোন বিচার চলছেনা। বোধহয়। আগেই সে সব কাজ সেরে ফেলা হয়েছে। রাজসভায় প্রজাদের ভিড় নেই।
রাজা প্রোফেন ফ্রান্সিসদের এগিয়ে আসতে বললেন। পাশে বসা মন্ত্রী স্তিফানোর মুখ বেশ গম্ভীর।
কালকে তোমরা লুভিনা পাহাড়ে গিয়েছিলে? রাজা বললেন।
–হ্যাঁ। ফ্রান্সিস মাথা কাত করে বলল।
–আমাদের একজন যোদ্ধা কী করে মৃত্যু-সায়রে পড়ে গেল? রাজা বললেন।
–সে আমাকে ঠেলে মৃত্যু-সায়রে ফেলতে চেয়েছিল। আমি সময়মত সরে যেতে সে শরীরের ভারসাম্য রাখতে না পেরে মৃত্যু-সায়রে পড়ে গিয়েছিল। ফ্রান্সিস বলল।
–দুর্ঘটনাটা কি এভাবেই ঘটেছিল? স্তিফানো বলল। ফ্রান্সিস চারপাশে তাকাল। দেখল সঙ্গী যোদ্ধাটি কখন ওর পেছনে এসে দাঁড়িয়েছে। ফ্রান্সিস তাকে দেখিয়ে বলল–আমাদের কথা বিশ্বাস না হলে এই যোদ্ধাটিকে জিজ্ঞেস করুন। সত্যি ঘটনাটা ওই বলবে।
–ও যা বলার বলেছে। রাজা বললেন।
নিশ্চয়ই দুর্ঘটনার কথা বলেছে। ফ্রান্সিস বলল।
–তা বলেছে কিন্তু আমার সন্দেহ যাচ্ছেনা। স্তিকানো বলল।
–আমি অকারণে নরহত্যা করি না। তাছাড়া সেই যোদ্ধা এদেশের একজন যোদ্ধা। ওর সঙ্গে তো আমার রাগদ্বেষের সম্পর্ক থাকার কথা নয়। ও নিজেই পা পিছলে পড়ে গেছে।
যাক গে–ব্যাপারটা আমি দেখছি। তোমরা এ দেশ ছেড়ে যেতে পারবে না। স্তিফানো বলল।
–আমরা গুপ্ত ধনভান্ডারের খোঁজ করছি। কাজেই এখান থেকে চলে যাওয়ার প্রশ্ন উঠছে না। তাছাড়া আমাদের সঙ্গে আমার স্ত্রী রয়েছে। তাকে ফেলে রেখে আমরা পালাতেও পারবো না। ফ্রান্সিস বলল।
–তোমরা কি লুভিনা, পাহাড়ে আবার যাবে? রাজা বললেন।
–হ্যাঁ। আজ দুপুরে যাবো। ফ্রান্সিস বলল।
এবার চারজন যোদ্ধা তোমাদের পাহারা দিতে যাবে। স্তিফানো বলল।
–সমস্ত সৈন্যবাহিনী গেলেও আমাদের আপত্তি নেই। ফ্রান্সিস বলল।
–বেশি বাজে বকো না। স্তিফানো প্রায় গর্জে উঠল। হ্যারি চাপাস্বরে বলে উঠল– ফ্রান্সিস? ফ্রান্সিস আর কোন কথা বলল না। তারপর বলল
–মান্যবর রাজা আমরা তাহলে চলে যাচ্ছি। ফ্রান্সিস বলল।
দুজনে রাজবাড়ি থেকে চলে এল।
মারিয়া জানতে চাইল রাজা ডেকেছিলেন কেন? ফ্রান্সিস সব কথা বলল।
–আশ্চর্য। তুমি ঐ যোদ্ধাকে হত্যা করেছে বলে সন্দেহ করছে? মারিয়া বলল।
–হ্যাঁ। আমাকে বিপদে ফেলাই স্তিফানোর উদ্দেশ্য। ফ্রান্সিস বলল।
দুপুরে ফ্রান্সিস শাঙ্কোকে সেনাপতির কাছে পাঠাল। কিছু পরে চারজন যোদ্ধার সঙ্গে শাঙ্কো ফিরে এল। যোদ্ধারা ফ্রান্সিসদের ঘরের দরজায় এসে দাঁড়াল।
ফ্রান্সিসরা তৈরি হয়ে প্রান্তরে এসে নামল। পেছনে চারজন যোদ্ধাও চলল।
জেলেপাড়াঘাট বন পার হয়ে লুভিনা পাহাড়ের গুহামুখে এল। শাঙ্কো দুটো মশাল জ্বালল। শাঙ্কো আর ফ্রান্সিস মশাল হাতে গুহায় ঢুকল।
গুহার এবড়োখেবড়ো মেঝের ওপর দিয়ে হেঁটে চলল সবাই। প্রায় মাঝামাঝি এসে মাথার ওপর খোঁদলের জায়গাটা পার হবার সময় ওপরের খোদলটা দেখল একবার। খোদলটা হাত দশবারো উঁচুতে। একনজর দেখে হাঁটতে শুরু করল ফ্রান্সিস।
গুহা শেষ। উত্তর দিকে সামনেই সেই অনুর্বর এলাকা। ফ্রান্সিস এবার বলল–হ্যারি এখন আমরা দেশীয় ভাষায় কথা বলবো। যোদ্ধারা কিছু কিছু স্পেনীয় ভাষা বোঝে। শোন–সামনে যে অনুর্বর লম্বাটে জায়গাটা দেখছো সেই জায়গা দিয়ে নিশ্চয়ই অন্তত একবার মৃত্যু-সায়রের বিষাক্ত জল বয়ে গিয়েছিল। কারণ গুহার ঢালটা এদিকেই। কিন্তু পাহাড়ের ওপর থেকে বিষাক্ত জল নামল কী করে?
-কোনভাবে নেমেছে।
জল বাইরে দিয়ে পড়ে নি। গুহার মধ্যে পড়ে এসেছিল। ফ্রান্সিস বলল।
–তাহলে মৃত্যু-সায়রের সঙ্গে গুহাটার যোগ আছে? হ্যারি বলল।
