রাতের খাবার খেয়ে মারিয়া ফ্রান্সিসদের কাছে এল। বলল–বিস্কোর বিয়ে হয়ে গেলেই তো তোমরা জাহাজে ফিরে যাবে।
–এই বার আসল কথা। ফ্রান্সিস হেসে বলল।
–আবার গুপ্তধন–তাইনা? মারিয়া বলে উঠল।
–ঠিক ধরেছো। ফ্রান্সিস হেসে বলল।
–শাঙ্কোর কাছে কিছু কিছু শুনলাম। মারিয়া বলল। ফ্রান্সিস গুপ্তধনের সমস্ত ব্যাপারটা বলল।
-আমি গুপ্তধন খোঁজার সময় তোমার সঙ্গে থাকবো। মারিয়া বলল।
–দেখি। ফ্রান্সিস বলল।
–দেখি না। আমাকে সঙ্গে নিতেই হবে। মারিয়া গলায় জোর দিয়ে বলল।
বেশ–যে সব জায়গায় তোমাকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। এবার একটা কথা বলি। তুমি রানিকে বলো রাজবাড়ির অন্তঃপুরে কোথাও গুপ্তধন থাকার মত জায়গা আছে কি না। ফ্রান্সিস বলল।
–রানি কি সেরকম কোন হদিশ দিতে পারবে? মারিয়া বলল।
–তা পারবেন না। তবে কোন গোপন জায়গার কথা নিশ্চয়ই বলতে পারবেন। তুমি একবার কথার কথা বল তো। ফ্রান্সিস বলল।
–আচ্ছা। বলবো। মারিয়া বলল।
একটু পরেই হ্যারি রাজকুমারীকে নিয়ে রাজবাড়িতে পৌঁছে দিয়ে এল।
ওদিকে শাঙ্কো পাঁচজন বন্ধুকে নিয়ে জেলেপাড়ার ঘাটে চলে গেছে। নৌকা থেকে একটা বড় গাঠারি নিয়ে এল সবাই মিলে। শাঙ্কো গাঠারিতে ভরে এনেছে সকলের। নতুন পোশাক। বিস্কোর বিয়ে বলে কথা। সবাই নতুন পোশাক পরবে বিয়ের রাতে। বন্ধুরা শাঙ্কোকে বাহবা দিল। এতে বন্ধুরা আরোও খুশি হল।
পরদিন সকালেই মারিয়া রাজবাড়ি থেকে চলে এল ফ্রান্সিসদের ঘরে। ফ্রান্সিস বলল–রানির সঙ্গে কিছু কথা হল?
–হ্যাঁ। উনি বললেন এর আগে নাকি রাজবাড়িতে খোঁজাখুঁজি হয়েছে। কিন্তু কেউ। ঐ গুপ্তধনের হদিশ করতে পারেননি। মারিয়া বলল।
–হুঁ। কিন্তু কোন গোপন জায়গার কথা কিছু বলেছেন। ফ্রান্সিস জানতে চাইল।
–একটা গর্ভ গৃহের কথা বলেছেন। রাজবাড়ির পূর্বকোণায় নাকি মেঝের নিচে একটা ঘর আছে। মারিয়া বলল।
-ঘরটা কি পরিত্যক্ত? ফ্রান্সিস বলল।
–এখন পরিত্যক্তই। রানির বক্তব্য ঐ ঘরটা নাকি অতীতে কয়েদঘর হিসাবে ব্যবহৃত হত। মারিয়া বলল।
–হুঁ। ঘরটা দেখতে হবে। ফ্রান্সিস মাথা ওঠানামা করল।
দুপুরে খাওয়া দাওয়ার পর সবাই শুয়ে বসে বিশ্রাম নিল। মারিয়াও রাজবাড়িতে গেল না। ফ্রান্সিসদের সঙ্গে খেল। ঐ ঘরেই থাকল।
ফ্রান্সিস শুয়ে শুয়ে রাজা মুন্ডাকিমের গুপ্ত ধনভান্ডারের উদ্ধারের কথাই ভাবছিল।
বিকেল হল। ফ্রান্সিস উঠে বসল। গলা চড়িয়ে বলল–ভাইসব–তৈরি হও। আজ যুদ্ধ নয়–বিয়ে। শাঙ্কো সবার নতুন পোশাক নিয়ে এসেছে। পরে টরে তৈরি হও।
মারিয়া নিজের ভালো পোশাকটা একটা চমড়ার থলিতে ভরে নিয়ে এসেছিল। বিয়ের কথা শুনে রানি বলেছিলেন উনিই তো সাজিয়ে দেবেন।
বেশ তো। তুমি এলে আমরা রওনা হবো। ফ্রান্সিস বলল।
মারিয়া চামড়ার থলিটা নিয়ে রাজবাড়িতে চলে গেল।
সন্ধ্যের আগেই মারিয়া চলে এল। রানি মারিয়াকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে দিয়েছেন। ফ্রান্সিস আর বন্ধুরা অবাক হয়ে মারিয়ার দিকে তাকিয়ে রইল। রাজকুমারীর মতই। দেখাচ্ছে মারিয়াকে। এই রূপসজ্জায় মারিয়াকে দেখে ফ্রান্সিসেরও ভালো লাগল। মারিয়ার সেই দুধে আলতায় গায়ের রংটা তামাটে হয়ে গেছে। তবু এখনও মারিয়া সাজগোজ করলে অতি সুন্দরী। মারিয়া তখন হাসিখুশিতে উজ্জ্বল।
ওদিকে ভাইকিং বন্ধুরাও নতুন পোশাক পরে নিয়েছে। সবাই খুশি। মারিয়া। ফ্রান্সিসকে নতুন পোশাক পরিয়ে দিল।
সবাই তৈরি হলে ফ্রান্সিস গলা চড়িয়ে বলল–চলো সব।
দল বেঁধে ওরা প্রান্তর পার হল। বসতি এলাকায় এল। আশপাশের ঘর থেকে স্থানীয় লোকজন ফ্রান্সিসদের দেখে বেশ অবাক হল। নতুন পোশাক পরে বিদেশীরা কোথায় যাচ্ছে? আবার লড়াই করতে? কিন্তু কারো হাতে হোতরোয়াল নেই? খুশিতে হৈ হৈ করতে করতে যাচ্ছে সবাই।
ওরা যখন জেলেপাড়ার ঘাটে পৌঁছল তখন আকাশের নিষ্প্রভ চাঁদ উজ্জ্বল হয়েছে। জ্যোৎস্না পড়েছে জেলেপাড়ায় খাড়ির জলে লুভিনা পাহাড়ে নিচের বনভূমিতে।
একটা নৌকোয় মারিয়াকে নিয়ে ফ্রান্সিস উঠল। ওদের বৈদ্যি ভেনকেও তুলে নিল। ফ্রান্সিস নৌকো বেয়ে চলল ওপারে। অন্য ভাইকিং বন্ধুরা খাঁড়ির জলে নামল। জলে, শব্দ তুলে হেঁটে চলল ওপারের দিকে।
ফাঁড়ি পার হল সবাই। তারপর বনভূমিতে ঢুকল। প্রায় অন্ধকার বনতল দিয়ে মাঠমত জায়গাটায় যখন বসতি এলাকার মধ্যে দিয়ে রেজাম চত্বরে এসে পৌঁছল তখন রাত হয়েছে।
দেখা গেল রেজাম চত্বরেই বিয়ের আয়োজন হয়েছে। ফ্রান্সিস একটা জিনিস দেখে খুশি হল যে চত্বরের মাঝখানের খুঁটিটা তুলে ফেলা হয়েছে। দেখা গেল ফুল পাতা দিয়ে। চত্বরময় ঝালরের মত টাঙানো হয়েছে। চারদিকে বেশ কিছু মশাল জ্বলছে। তার ওপর চাঁদের আলোও রয়েছে। জায়গাটা আলোকিত।
ফ্রান্সিস দেখল সর্দার ঘুরে ঘুরে সবকিছু দেখাশুনো করছে। চড়য়ের মাঝখানে চারকোণে গাছের ডাল পোঁতা হয়েছে। মাঝখানে একটা কাঠের লম্বা পাটাতন। তাতে হলুদ রঙের ফুলপাতা আঁকা। ওটা বোধহয় রবকনের বসার আসন।
সর্দারের নির্দেশে চত্বরে মোটা কাপড় পেতে দেওয়া হল। ফ্রান্সিসরা বসল তাতে। শাঙ্কো এসে মারিয়াকে বিস্কোর নতুন পোশাক দিয়ে গেল। মারিয়া পোশাক নিয়ে হ্যারিকে বলল–চল–বিস্কোকে তো সাজিয়ে গুজিয়ে দিতে হবে।
