এবার ফ্রান্সিস বলল–এখানে আর থাকা নয় আমাদের সঙ্গে ফিরে চলো।
–না ফ্রান্সিস–আমি আর ফিরে যাবো নাবিস্কো বলল।
–সে কি? এখানে পড়ে থাকবে? তুমি তো এখনও সম্পূর্ণ সুস্থনও। হ্যারি বলল।
না। আমি পোমাকে বিয়ে করবো। বিস্কো বলল।
–সর্বনাশ। ফ্রান্সিস আঁৎকে উঠল।
এতে সর্বনাশের কিছু নেই। পোমাকে ছাড়া আমি বাঁচবোনা। বিস্কো বলল।
তাহলে ব্যাপার অনেকদূর গড়িয়েছে। ঠিক আছে বিয়ে করে জাহাজে নিয়ে চলো। ফ্রান্সিস বলল।
না। আমি এখানেই থাকবো। বিস্কো বলল।
–দেশে ফিরলে তোমার বাবা মা যখন জানতে চাইবে তুমি ফিরলে না কেন আমি কী বলবো তখন? ফ্রান্সিস বলল।
–এখানে যা ঘটল আর যা ঘটবে সব বলবে। বিস্কো বলল।
–কিন্তু তোমার জীবনের মরণের দায়িত্ব নিয়েছি আমি। ফ্রান্সিস বলল।
–আর তোমার কোন দায়িত্ব রইল না। আমি যা করছি স্বেচ্ছায় করছি। বিস্কো বলল।
–তাহলে তুমি ফিরে যাবে না? হ্যারি বলল।
–না। এটাই আমার সিদ্ধান্ত। বিস্কো বলল।
–কিন্তু একটা বিদেশী মেয়ে–হ্যারি বলতে গেল।
–আমরা আকার ইঙ্গিতে সব কথাই বলি। ওদের কথাও আমি কিছু কিছু শিখেছি। বিস্কো বলল।
হ্যারি মাথা দুলিয়ে বলল–ফ্রান্সিস কিছু বলে লাভ নেই। বিস্কো আর ফিরবে না।
তখনই পোমার বাবা ঘরে ঢুকল? ফ্রান্সিস তাকে জিজ্ঞেস করল–আপনি কে?
–উনি প্রামার বাবা। বিস্কো বলল।
–আপনি কি জানেন ওরা বিয়ে করবে? ফ্রান্সিস বলল। প্রোমার বাবা কিছুই বুঝল না। ফ্রান্সিস বুঝল প্রোমার বাবা রাজি। আরকী বলার আছে। বিস্কোর আর ফেরার আশা নেই।
–তাহলে এখানেই বিয়ে হবে? হ্যরি বলল।
–হ্যাঁ। বিস্কো বলল।
–কবে? ফ্রান্সিস জানতে চাইল।
–এখনও দিনঠিকহয়নি। তোমরাই বলো কবেহলে তোমাদেরসুবিধেহয়। বিস্কো বলল।
পরশু বিয়ের দিন স্থির করেছি। মারিয়া আর ভেনকে জাহাজ থেকে এখানে আনতে হবে তো। ফ্রান্সিস বলল।
রাজকুমারী আসবেন? বিস্কো সাগ্রহে বলল।
নিশ্চয়ই আসবেন। তোমার বিয়ে। আমাদের সবার কাছে কত আনন্দের দিন আর মারিয়া আসবে না? ফ্রান্সিস বলল।
দুপুরের দিকে ফ্রান্সিস আর হ্যারি ফিরে এল। বন্ধুরা সবাই ছুটে এল। হ্যারি বলল–বিস্কোকে পাওয়া গেছে। তবে কাঁধে একটা বর্শার ঘায়ের ক্ষত হয়েছে। এখন ভালোর দিকে। ফ্রান্সিস একবার বন্ধুদের মুখের দিকে তাকাল। দেখল। তারপর ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বলল–পরশু বিস্কোর বিয়ে? দু’তিনজন চেঁচিয়ে বলে উঠল–বিয়ে?
–হ্যাঁ। ফ্রান্সিস বিছানায় বসতে বসতে আস্তে আস্তে সব কথা বলতে শুরু করল। কথা শেষ হতে বন্ধুরা অবাক হয়ে ফ্রান্সিসের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। কারো মুখে কথা নেই। ফ্রান্সিস হেসে বলল–সবাই বোবা হয়ে গেলে যে। বিস্কোর বিয়ে বলে কথা। আনন্দ কর। হৈ হৈ কর।
–এটা আমাদের কাছে খুবই আনন্দের সংবাদ সন্দেহ নেই। কিন্তু আর এক বন্ধুকে আমরা হারালাম এটা দুঃখের। শাঙ্কো বলল।
–তোমরা বিস্কোকে বোঝাতে পারতে। সিনাত্রা বলল।
–অসম্ভব। বিস্কোর দৃঢ় প্রতিজ্ঞা। হ্যারি বলল।
–যা হবার হবে। দুঃখ নয়-খুশির হাওয়া তোল। ফ্রান্সিস হেসে বলল।
এবার সব বন্ধু ধ্বনি তুলল–ও-হো-হো।
ফ্রান্সিস শাঙ্কোকে বলল–তোমাদের তো খাওয়া হয়ে আছে?
–হ্যাঁ। শাঙ্কো ঘাড়কাত করে বলল।
–তাহলে শাঙ্কো–তোমাকে একবার জাহাজে যেতে হবে। মারিয়া আর ভেনকে আনতে হবে। ফ্রান্সিস বলল।
নিশ্চয়ই যাবো। শাঙ্কো বলল-সন্ধ্যে নাগাদ পৌঁছবো। আজকে রাতটা জাহাজে কাটিয়ে কালকে দুপুরের মধ্যে রাজকুমারী আর ভেনকে নিয়ে আসবো।
অল্পক্ষণের মধ্যেই শাঙ্কো তৈরী হয়ে নিল। ওদের দুটো নৌকা জেলেদের ঘাটে বাঁধা ছিল। শাঙ্কো সেই ঘাটে গেল। বাঁধা দড়ি খুলে নৌকা ভাসিয়ে দিয়ে দাঁড় তুলে নিল। নৌকা চালাল খাঁড়ির মুখের দিকে। কিছু পরে নৌকা সমুদ্রে পড়ল।
পরের দিন দুপুরেই মারিয়া আর ভেন এল। ফ্রান্সিস ওদের আসার পথ চেয়ে ঘরের বাইরে বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল। দূরে প্রান্তরের ওপরে মারিয়াদের আসতে দেখল। প্রান্তরে মাঝামাঝি আসতে শাঙ্কো আঙ্গুল তুলে ফ্রান্সিসকে দেখাল। মারিয়া প্রায় ছুটতে ছুটতে আসতে লাগল। প্রান্তরের হাওয়ার মারিয়ার মাথার চুল উড়ছে। পোশাকের প্রান্ত দেশ উড়ছে। মারিয়া হাসছিলও। মারিয়ার এই উচ্ছল রূপ দেখে ফ্রান্সিসের মন খুশিতে ভরে গেল। মারিয়ার এক নতুন রূপ দেখল।
মারিয়া ফ্রান্সিসের সামনে এসে দাঁড়াল। হাঁপাতে হাঁপাতে বলল–বিস্কোর বিয়ে। আমি না এসে পারি।
তাই তো শাঙ্কোকে পাঠালাম। শাঙ্কোর কাছে মারিয়া সবই শুনেছে। বলল বিস্কো আর আমাদের সঙ্গে থাকবে না এটা জেনে কিন্তু আমার মন খারাপ হয়ে গেছে।
–কী আর করা যাবে। মানুষের মন। ফ্রান্সিস হাসল। বলল–ঘরে এসো।
ঘরে ঢুকে মারিয়া এক পাশে বসল। প্রায় সকলেই এসে এসে মারিয়াকে কেমন আছে জানতে চাইল। মারিয়াও বার বার বলল–আমি আর ভেন ভালো আছি। তোমরাও ভালো আছো নিশ্চয়ই।
–আমাদের দু’জন বন্ধু মারা গেছে। একজন অবশ্য এখানকার বন্ধু। শাঙ্কো বলল। মারিয়া একটু বিষণ্ণ হলো। ফ্রান্সিস প্রসঙ্গটা পাল্টাতে বলল–
শাঙ্কো মরিয়াদের খাওয়ার ব্যবস্থাটা কর।
শাঙ্কো চলে গেল।
সন্ধ্যেবেলা ফ্রান্সিস হ্যারিকে নিয়ে রাজার সঙ্গে দেখা করতে গেল। রাজা মন্ত্রণাকক্ষে ফ্রান্সিসদের সঙ্গে দেখা করলেন। ফ্রান্সিসেরঅনুরোধেমারিয়ারঅন্তঃপুরে থাকার ব্যবস্থা হল।
