হ্যারি মারিয়াকে নিয়ে প্রোমাদের ঘরে নিয়ে এল। মারিয়াকে দেখে বিস্কো হেসে উঠে দাঁড়াল। বলল–আপনি এসেছেন। খুব খুশি হলাম। পাশের ঘর থেকে প্রামা এই ঘরে এল। মারিয়া দেখিয়ে বলল–উনি আমাদের দেশের রাজকুমারী। বিস্কো আকার ইঙ্গিতেও সেটা বোঝাল। পোমা মোটামুটি বুঝল। খুশির হাসি হাসল। মারিয়া বলল বিস্কো–এবার তোমাকে সাজিয়েগুছিয়ে দিচ্ছি। মারিয়া নতুন পোশাক নিয়ে কাজে নেমে পড়ল। মারিয়া পোমাকেও সাজিয়ে গুজিয়ে দিল। কিছু প্রসাধনী সঙ্গে করে এনেছিল। সেসব কাজে লাগল।
তখনই প্রোমার বাবা ঘরে ঢুকল। প্রোমাকে কিছু বলল। প্রোমা বিস্কোকে আকার ইঙ্গিতে বোঝাল-তলব এসেছে। এখন যেতে হবে। কয়েকজন স্ত্রীলোক ঘরে ঢুকল। ওদের পেছনে পেছনে বিস্কো আর প্রোমা রেজাম-চত্বরের দিকে চলল। সঙ্গে মারিয়া আরহ্যারি।
ততক্ষণে চত্বর লোকজনে ভরে গেছে। বিদেশীর সঙ্গে বিয়ে। কাজেই তাদের ঔৎসুক্য সীমাহীন। কয়েকজন যোদ্ধা ধ্বনি তুললকু-উ-উ-। ফ্রান্সিস শাঙ্কোর দিকে তাকিয়ে হেসে বলল–কু-উ-উ-টা লড়াইয়ের ডাক আবার আনন্দেরও ধ্বনি। শাঙ্কোও হাসল।
বিস্কো আর থোমাকে কাঠের পাটাতনে বসানো হল। একজন ভীষণ রোগামত লোক ওদের সামনে দাঁড়িয়ে নাকিসুরে কিছুক্ষণ কী আউড়ে গেল। তারপর দুজনের গলায় ফুলপাতার মালা পরিয়ে দিল।
মারিয়া ফ্রান্সিসের পাশে এসে বসল। ফিসফিস করে বলল–আমার এতভালো লাগছে।
–তুমি খুশি থাকলে আমিও খুশি। ফ্রান্সিস হেসে বলল।
বেশ কিছুক্ষণ ধরে এলুডার নিয়মরীতি মেনে বিয়ে শেষ হল। বিস্কো আর পোমা হাত ধরাধরি করে চলে গেল। পেছনে একদল স্ত্রীলোক।
এবার খাওয়া দাওয়া। সর্দার এসে ফ্রান্সিসদের ওখানেই খেয়ে যেতে অনুরোধ করল। ফ্রান্সিসরা মোটামুটি সারি দিয়ে বসল। পাত পাতা হল। খেতে দেওয়া হল আনাজের মোটা রুটি আর মাংস। সবাই তৃপ্তি করে খেল। কেউ কেউ দুতিনবারও খাবার চাইল। উপস্থিত দেশীয় লোকজনের সঙ্গেই ওরা খেল।
তারপরই হল বিপত্তি। দেশীয় এক ধরনের ফলের রস কাঠের গ্লাসে করে খেতে দেওয়া হলা। সর্দার দ্রুত ফ্রান্সিসের কাছে এল। বলল-ফলরস–খুব নেশা–কম– বলুন। ফ্রান্সিস গলা চড়িয়ে বলল–ভাইসব–এই ফলের রসে ভীষণ নেশা হয়। কম করে খাও। ফ্রান্সিস মারিয়া হ্যারি ভেন সেই রস খেল না। বন্ধু ভাইকিংরা ততক্ষণে দু’এক গ্লাশ খেয়ে ফেলেছে। সবচেয়ে বেশি খেয়েছে শাঙ্কো। ফলের রসের প্রতিক্রিয়া শুরু হল। ভাইকিংদের মাথা ঘুরতে লাগল। শাঙ্কো তো শুয়েই পড়ল। কিছুক্ষণের মধ্যে আরো কয়েকজন শুয়ে পড়ল। ফ্রান্সিস একটু অবাক হয়েই দেখল ঐ দেশীয় লোকেদের মধ্যে তেমন প্রতিক্রিয়া হল না। তার কারণ বোধহয় ওরা এই ফলের রস খেয়ে অভ্যস্ত।
ফ্রান্সিসরা ওখানেই শুয়ে পড়ল। ঘুম তেমন হল না। মারিয়া তো ঘুমুতেই পারল না।
ভোর হল। সিনাত্রা আর কয়েকজন উঠে বসল। বাকিরা উঠতেই পারল না।
সকালে সবাইকে সকালের খাবার দেওয়া হল। যাদের একটু বেশি নেশা হয়েছিল তারা শুয়েই রইল। উঠে বসে খেতে পারল না। শাঙ্কো একেবারে অসাড়।
ফ্রান্সিস চিন্তায় পড়ল। সবাইকে নিয়ে কীভাবে ফিরবে?
বেলা বাড়ছে দেখে ফ্রান্সিস গলা চড়িয়ে বলল–ওঠো সবাই। ফিরতে হবে।
যারা উঠে দাঁড়াতে পারছিল তারা উঠল। শাঙ্কো উঠতেই পারল না। ফ্রান্সিস শাঙ্কোকে টেনে তুলল। বলল–যাও–বিস্কোকে ডেকে নিয়ে এসো। আমরা এখান যাবো।
–আমি দাঁড়াতেই পারছি না। শাঙ্কো ধরা গলায় বলল।
–বলো কি! ঠিক আছে। আমাকে ভর দিয়ে দাঁড়াও। শাঙ্কো প্রায় ফ্রান্সিসের গায়ে গা ছেড়ে দিয়ে দাঁড়াল। ফ্রান্সিস বলল–হ্যারি–্যও বিস্কোকে ডেকে নিয়ে এসো। ওকে বলো আমরা ফিরবো।
হ্যারি বিস্কোকে ডেকে নিয়ে এল। ফ্রান্সিস বলল–বিস্কো আমরা এবার যাচ্ছি। আরো কয়েকটা দিন আমরা কয়েকজন রাজা প্রোফেনের রাজত্বে থাকবো। তুমি যদি এর মধ্যে প্রোমাকে নিয়ে জাহাজে যেতে চাও যেও।
–দেখি। বিস্কো বলল।
বন্ধুরা একে একে বিস্কোর কাছে বিদায় নিল। এবার সবাই চলল বনভূমির দিকে। কয়েকজন বন্ধু এলেমেলো পা ফেলে হাঁটছিল। ফ্রান্সিস ধমক দিয়ে বলল–ঠিক করে হাঁটো। টাল খাওয়া শরীর সামলে কোনরকমে হেঁটে চলল। ফ্রান্সিস শাঙ্কোকে প্রায় জড়িয়ে ধরে নিয়ে চলল।
বন পার হয়ে খাঁড়ির ঘাটে আসতে বেশ সময় লাগল। ফ্রান্সিস শাঙ্কোকে ধরে ধরে নৌকোয় বসালো। মারিয়া ভেনও নৌকোয় উঠল। যাদের হাত-পা টলছিল ফ্রান্সিস তাদের বলল–আমি ওপারে গিয়ে নৌকো নিয়ে আসছি। তোমরা জলে নামবে না। বাকিরা জলে নেমে পার হও।
নৌকো চালিয়ে ফ্রান্সিস ওপারে গেল। আবার নৌকো নিয়ে ফিরে এল। হাত-পা টলা বন্ধুদের নৌকোয় তুলে পার করে দিল। শাঙ্কো তখনও পারে বসে আছে। ফ্রান্সিস ওকে ধরে ধরে প্রান্তর পার হয়ে ঘরে নিয়ে এল।
রাতে ফ্রান্সিস মাথার নিচে দুহাত রেখে চোখ বুজে শুয়েছিল। ভাবছিল রাজা মুন্ডাকিমের গুপ্ত ধনভান্ডার কোথায় থাকতে পারে? রাজবাড়িতে বনভূমিতে লুভিনা পাহাড়ে–এসবের মধ্যে যে কোন জায়গায় থাকতে পারে। সব তন্ন তন্ন করে খুঁজতে হবে। হ্যারি পাশেই শুয়ে ছিল। বলল–ফ্রান্সিস কী ভাবছো?
রাজা মুন্ডাকিমের গুপ্তধনের কথা। ফ্রান্সিস বলল।
রাত হচ্ছে। ঘুমিয়ে পড়ো। হরি বলল।
