কী হবে? স্তিফানো যেভাবে রাজাকে কৰ্জা করেছে তা থেকে রাজার মুক্তি নেই। ফ্রান্সিস বলল।
–তবু ব্যাপারটা কী তা তো বোঝা যাবে। হ্যারি বলল।
–বলছো যখন–চলো। ফ্রান্সিস যেতে রাজি হল।
দু’জনে রাজসভায় গেল। আজকে স্তিফানো আসন ছেড়ে উঠে উপস্থিত প্রজাদের স্পেনীয় এদেশী দুই ভাষা মিশিয়েই কিছু বলছিল। ফ্রান্সিসদের দেখেই বোধহয় তাড়াতাড়ি বক্তৃতা থামিয়ে বসে পড়ল।
উপস্থিত প্রজারা চলে গেল। রাজা ইশারায় ফ্রান্সিসদের কাছে ডাকল। ফ্রান্সিস কাছে আসতেই হেসে বলল–তোমরা সত্যিই বীরের জাতি। ফ্রান্সিস মৃদু হাসল। তারপর বলল–হ্যাঁ মাননীয় রাজা–আপনার যোদ্ধাদের সাহায্য ছাড়াই আমরা লড়াইয়ে জিতেছি।
–তার মানে? রাজা বেশ আশ্চর্য হলেন।
–আপনার মন্ত্রী মশাই বোধহয় জানেন ব্যাপারটা। ফ্রান্সিস বলল।
–আমি কিছু জানি না। স্তিফানো সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল।
-তাহলে আর জেনে দরকার নেই। লড়াইয়ে আমরা দু’জন বন্ধুকে হারিয়েছি। একজন এখনও নিখোঁজ। ফ্রান্সিস বলল।
–তোমরা লড়াই করতে চেয়েছিল। স্তিকানো বলল।
-তা ঠিক। যাহোক এলুডাবাসীকে বলে এসেছি তারা যেন আপনাদের সঙ্গে সভাব রাখে। আপনার ও তাদের সঙ্গে সদ্ভাব রাখবেন এই অনুরোধ। আর কিছুই বলার নেই। ফ্রান্সিস বলল।
–কিন্তু তুমি বলেছিলে–রাজা মুস্তাকিমের গুপ্তধন উদ্ধার করবে। রাজা বললেন।
-হ্যাঁ। কিন্তু সবার আগে নিখোঁজ বন্ধুর হদিশ পাই। তারপর কাজে নামবো। ফ্রান্সিস বলল।
-বেশ। রাজা বললেন। তারপর বললেন–হয়তো তোমার বন্ধু আহত হয়ে ঐ এ এলুডাতেই আছে।
–হ্যাঁ। কয়েকদিন অপেক্ষা করে বন্ধুর খোঁজে এলুডাতে যাবো। খোঁজ পেলে কাজে নামবো। ফ্রান্সিস বলল।
তাড়া কিছু নেই। তোমার সুবিধে মতো যা কিছু করার করো। রাজা বললেন।
–ঠিক আছে। ফ্রান্সিস মাথা ওঠা নামা করে চলল। দু’জনে রাজসভা থেকে ফিরে এল।
ওদিকে বিস্কো তিন চারদিন যাবৎ পোমাদের সংসারে আছে। এখন অনেকটা সুস্থ। পোমা নিয়মিত ওর কাঁধের ঘায়ে ওষুধ দেয়। ওর সেবা শুষা করে। বিস্কোর যাতে .কোন কষ্ট না হয় তার জন্যে ওর চেষ্টার অন্ত নেই। প্রোমা ঘরে ঢুকলে বিস্কো পোমার দিকে তাকিয়ে হাসে। প্রোমাও হাসে। আকার ইঙ্গিতে দু’জনেই এখন দু’জনের কথা বোঝে। বিস্কো কয়েকটা দেশীয় শব্দও শিখেছে। যেমন–জল–ওষুধ খিদে। প্রোমার বাবাও বিস্কোকে খুব স্নেহ করে। দেশীয় ভাষায় বলে বিস্কো কী খেতে চায়? বিস্কো বোঝে না। পোমা বুঝিয়ে দেয় বিস্কো মাংস খেতে চায়। প্রোমার বাবা পাখির মাংস নিয়ে আসে। বিস্কো তৃপ্তি করে খায়। এই কয়েকদিনের মধ্যেই বিস্কো পোমার ওপর একটা টান অনুভব করে। পোমা ওর পাশে এসে বসে। আকার ইঙ্গিতে নানা কথা বলে। বিস্কো কোনটা বোঝে কোনটা বোঝে না। তবু সব কথা বোঝার চেষ্টা করে। পরস্পরের সঙ্গ ভালোবাসে। পোমার বান্ধবীরা আসে। বিস্কোকে দেখিয়ে নিজেদের মধ্যে হাসি ঠাট্টা করে। বিস্কো সেসবের কিছুই বোঝে না। পোমা আকার ইঙ্গিতে বোঝয় বান্ধবীরা কী বলে গেল।
চার পাঁচ দিন কেটে গেল। বিস্কোর কোন খোঁজ পাওয়া গেল না। ফ্রান্সিস ভীষণ চিন্তায় পড়ে। বন্ধুদের মনও ভালো নেই। বিস্কো এভাবে নিখোঁজ হয়ে গেল।
তবে কি বিস্কো মারা গেছে? ফ্রান্সিস চিন্তিতস্বরে একদিন হ্যারিকে বলল।
–তাহলে তো ওর মৃতদেহ আমরা পেতাম। হ্যারি বলল।
–হয়তো বনের মধ্যে কোথাও। ফ্রান্সিসকে থামিয়ে দিয়ে হ্যারি বলল–বড় বেশি ভাবছো। শান বিস্কোর কিছুই হয়নি। ও ভালোই আছো। কালকে এলুডায় চলো। ওখানে ভালোভাবে খোঁজ করতে হবে।
–আমি জাহাজে খোঁজ করতে যাবো? শাঙ্কো বলল।
তার আগে এলুডায় যাবো। হ্যারি বলল।
পরদিন সকালে খাবার খেয়ে ফ্রান্সিস আর হ্যারি এলুডার দিকে চলল। প্রান্তর আর খাঁড়ি বনভূমি পার হয়ে এলুডায় এসে পৌঁছাল। প্রথমেই গেল সর্দারের বাড়িতে। সর্দার ঘর থেকে বেরিয়ে ফ্রান্সিসদের দেখে হাসল। বলল কী ব্যাপার?
–আমাদের এক বন্ধু এখানে কোথাও আছেন্নি খুঁজতে এসেছি। দু’জন লোকদাও।
বেশ তো। সর্দার বলল। তারপর হাততালি দিল। তিনচারজন যোদ্ধা আশপাশের বাড়ি থেকে ছুটে এল। সর্দার তাদের বুঝিয়ে বলল। দু’জন যোদ্ধা ফ্রান্সিসদের ইঙ্গিত করল ওদের সঙ্গে আসার জন্যে।
ফ্রান্সিসরা যোদ্ধা দু’জনের পেছনে পেছনে চলল। দু’জন যোদ্ধা এ বাড়ি ও বাড়ি ঘুরে ঘুরে খোঁজ নিতে লাগল। বেশ কিছুক্ষণ ঘোবাঘুরি করেও বিস্কোর কোন হদিশ, করা গেল না। রেজাম চত্বরের কাছে একজনকে কি জিজ্ঞেস করল যোদ্ধারা। লোকটি আঙ্গুল তুলে পোমাদের ঘরটা দেখাল। ফ্রান্সিস ছুটে গেল সেই ঘরের দিকে। যোদ্ধারা ডেকে কী বলল। পোমা বেরিয়ে এল। যোদ্ধারা বোধহয় জিজ্ঞেস করল কোন বিদেশী ওখানে আশ্রয় দিয়েছে কিনা। প্রোমা ঘাড় কাত করল। ফ্রান্সিস প্রোমাকে সরিয়ে ঘরটায় ঢুকে পড়ল। দেখল–বিস্কো বিছানায় বসে আছে। ফ্রান্সিস বিস্কোকে জড়িয়ে ধরল। বিস্কো উঃকরে বলে উঠল-কাঁধে ঘা। এখনও সারেনি। হ্যারিও ছুটে এল। বলল–কী চিন্তায় ফেলেছে আমাদের। কী হয়েছিল? ফ্রান্সিস জানতে চাইল। বিস্কো আস্তে আস্তে সব ঘটনা বলল। ততক্ষণে প্রামা ওদের কাছে এসে দাঁড়িয়েছে। প্রোমাকে দেখিয়ে বিস্কো বলল–এই মেয়েটির নাম প্রোমা। ওর বাবার চিকিৎসায় আর ওর সেবা শুশ্রূষায় আমি বেঁচে গেছি। নয়তো ঘা বিষিয়ে উঠে মরেই যেতাম। ফ্রান্সিস প্রোমার দিকে ফিরে তাকাল। এ দেশীয় মেয়ে। গায়ের রং তামাটে। তবে চেহারায় লাবণ্য আছে। ফ্রান্সিস বার বার পোমাকে ধন্যবাদ জানাল। বিস্কো ইঙ্গিতে বোঝাল সেকথা। প্রোমা হেসে মাথা নিচু করল। মেয়েটিকে বড় ভালো লাগলো ফ্রান্সিসের।
