–আমি সেই ধনসম্পদ উদ্ধার করবো। ফ্রান্সিস বলল।
স্তিফানো হো হো করে হেসে উঠল। বলল–রাজা প্রেফেনের পূর্বপুরুষরা কেউ কেউ চেষ্টা করেছেন রাজা প্রাফেনও কম চেষ্টা করেননি–কেউ সেই ধনভান্ডারের হদিশ পেল না আর তুমি কোত্থেকে এলে সেসব উদ্ধার করতে। এসব পাগলামি ছাড়ো।
–ঠিক আছে। ধরে নিন না এটা আমার পাগলামি। রাজার সঙ্গে কথা বলার ব্যবস্থা করে দিন। ফ্রান্সিস বলল।
–বেশ। কাল সকালে রাজসভায় এসো। তবে এটাও জেনো রাজার পূর্বপুরুষ রাজা এবং আমিও তোমার চাইতে কম বুদ্ধিমান নই। স্তিফানা বলল।
–তাহলে কাল সকালে আমরা রাজসভায় যাবো? শাঙ্কো বলল।
–এসো। দেখ কথা বলে। তবে গুপ্ত ধনভান্ডার খুঁজতে গিয়ে কয়েকদিনের মধ্যেই হাল ছেড়ে দেবে। যেমন অনেকেই অনেকদিন আগেইহাল ছেড়ে দিয়েছে। স্তিফানো বলল
–দেখা যাক। শাঙ্কো বলল।
স্তিফানো হাসতে হাসতে চলে গেল।
পরদিন ফ্রান্সিসরা সবে সকালের খাবার খাওয়া শেষ করেছে একজন প্রহরী কয়েদঘরের দরজার কাছে এল। বলল–চলোতোমাদের রাজসভায় নিয়ে যাবার হুকুম হয়েছে। কিন্তু সার্ভো নামে যে আছে সে যেতে পারবে না। শাঙ্কো সার্ভোকে বলল–তুমি ভাই থাকো। আমরাই যাচ্ছি।
ফ্রান্সিসদের কয়েদঘর থেকে বের করা হল। তিনজন প্রহরী খোলা তরোয়াল হাতে ফ্রান্সিসদের পাহারা দিয়ে নিয়ে চলল।
ফ্রান্সিসরা যখন রাজসভায় পৌঁছল তখন বিচারের কাজ চলছিল। ফ্রান্সিসদের অপেক্ষা করতে হল।
বিচার শেষ। বিচার প্রার্থী চলে গেল। ফ্রান্সিস একটা জিনিস লক্ষ্য করল বিচারের। সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়ও রাজা স্তিফানোর সঙ্গে পরামর্শ করে নিচ্ছেন। বোঝাই গেল। স্তিফানো রাজাকে বেশ ভালো ভাবে কজা করেছে।
এবার রাজা ফ্রান্সিসদের দিকে তাকালেন। কাছে যেতে ইঙ্গিত করলেন।
ফ্রান্সিস এগিয়ে মাথা একটু নুইয়ে সম্মান জানিয়ে বলল–মহামান্য রাজা বিশেষ প্রয়োজনে আপনার কাছে এসেছি।
-কী প্রয়োজন?
ফ্রান্সিস রাজা মুস্তাকিমের গুপ্ত ধনের কথা বলে বলল–আপনার কাছে জানতে এসেছি এ ব্যাপারে আপনি কী জানেন?
–কেন বলো তো? রাজা বললেন।
–আমরা সেই গুপ্তধন খুঁজে বের করব। ফ্রান্সিস বললেন।
–অসম্ভব। পারবেনা। রাজা বললেন।
–আমি ওদের সেকথা বলেছি। স্তিফানো হেসে বলল।
-ঠিক আছে। মান্যবর রাজা–তবু আপনাকে অনুরোধ করি–এ ব্যাপারে আপনি যা জানেন বা শুনেছেন বলুন। ফ্রান্সিস বলল।
–সত্যি বলতে কি আমাদের পূর্বপুরুষ রাজা মুস্তাকিম বেশ খেয়ালি ধরনের মানুষ ছিলেন। সময় নেই অসময় নেই মাঝে মাঝেই ঐ লুভিনা পাহাড়ে জঙ্গলে ঘুরে বেড়াতেন। তখন তিনি তাঁর দেহরক্ষীদেরও সঙ্গে নিতেন না। রাজা বললেন।
–আচ্ছা–এইরাজবাড়িতেও খোঁজা হয়েছে? ফ্রান্সিস জানতেচাইল। রাজাস্তিফানোর দিকে তাকালেন। স্তিফানো বলল–ন্ন তন্ন করে খোঁজা হয়েছে। কোন হদিশ মেলেনি।
-ঠিক আছে। এবার আমার একটা অনুরোধ। ফ্রান্সিস বলল।
–বলো। রাজা বললেন।
–পাশের রাজ্য এলুডায় নিরপরাধকেও পুড়িয়ে মারা হয়। এই পাশবিক শাস্তি বন্ধ হোক এটাই আমি চাই। ফ্রান্সিস বলল।
–তাহলে এলুডা জয় করতে হয়। রাজা বললেন।
–আমি তাই করতে আপনাকে অনুরোধ জানাচ্ছি। ওখানকার সর্দারকে আমরা হত্যা করেছি। কিন্তু আবার কেউ না কেউ সররাদ্র হয়েছে আর ঐ অমানবিক শাস্তির নিয়ম চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা ঐ ব্যবস্থা বন্ধ করতে চাই। ফ্রান্সিস বলল।
–কিন্তু তোমরা তো মাত্র তিনজন। রাজা বললেন।
-না। আমাদের জাহাজে আরোও পঁচিশ তিরিশ জন বন্ধু রয়েছে। সবাই মিলে আমরা এলুডা আক্রমন করবো। আমাদের জয় হবেই। ফ্রান্সিস বলল।
রাজা পোফেন স্তিফানোর দিকে তাকালেন। স্তিফানো কিন্তু ফ্রান্সিসের অনুরোধে রাজি হল। ফ্রান্সিস একটু অবাকই হল যখন স্তিফানো বলল–এ তো ভাল কথা। এলুডা জয় করতে পারলেই আমরা ঐ শাস্তির ব্যবস্থা বন্ধ করতে পারবো।
–আর একটা অনুরোধ। ফ্রান্সিস বলল।
–বলো। রাজা বললেন।
আমাদের বন্ধুদের এখানে নিয়ে আসতে হবে। তাদের তো এনে কয়েদঘরে তোলা যায় না। আপনি একটা বড় ঘরের ব্যবস্থা করুন। কথা দিচ্ছি-আমরা পালাবো না। ফ্রান্সিস আরো বলল–তাছাড়া গুপ্ত ধনসম্পদ খুঁজতে গেলে আমাদের তিনচারজনকে স্বাধীনভাবে চলা ফেরার সুযোগ তো দিতে হবে। রাজা স্তি ফানোর দিকে তাকালেন।
এ ব্যাপারে আমার একটা নিয়ম তোমাদের মানতে হবে। স্তিফানো বলল–
–বলুন–কী নিয়ম? ফ্রান্সিস জানতে চাইল।
–এক–তোমরা জঙ্গল পাহাড় থেকে পালাতে পারবে না। দুই–গুপ্তধন উদ্ধার, করে সেসব নিয়ে পালাতে পারবে না। স্তিফানো বলল।
–বেশ–আপনার নিয়মে আমরা রাজি। তবে এই সঙ্গে বলে রাখি গুপ্ত ধনভান্ডার উদ্ধার করতে পারলে একটা রুপোর মুদ্রাও আমরা নেবনা। রাজাকেইসব দেব। কারণ গুপ্তধনের উপর একমাত্র তারই অধিকার আছে। ফ্রান্সিস বলল।
স্তিফানো হেসে বলল–এমন ভাবে বলছ যেন এরমধ্যেই গুপ্তধন আবিষ্কার করে ফেলেছো।
–এখনই সে কথা বলার সময় যে আসেনি–সেটা আমি জানি। গুপ্তধন আবিষ্কার করার পর আমরা কি করব সেটাই বলে রাখলাম। এবার আমাদের থাকার ব্যবস্থা করে দিন। ফ্রান্সিস বলল।
স্তিফানো সেনাপতিরদিকেতাকিয়ে বলল–যান–সৈন্যাবাসের একটা ঘর ওদের ছেড়ে দিন। সেনাপতি আসন থেকে উঠে ফ্রান্সিসদের তার সঙ্গে আসার জন্যে ইঙ্গিত করল।
