একটু বেলায় দু’জন প্রহরী খাবার নিয়ে এল। গোল একটা পোড়া রুটি। আর সামুদ্রিক মাছের ঝোল। খেতে খেতে শাঙ্কো বলল–এখন কেমন বোধ করছো?
–ভালো। জ্বালা যন্ত্রনা অনেকটা কমেছে ফ্রান্সিস বলল।
–স্তিফানো আমার ওপর এত সদয় হল–বৈদ্যি পাঠাল। সিনাত্রা বলল।
–স্তিফানো ধুরন্ধর পুরুষ। সময় সুয়োগ বুঝে ঠিক আমাদের ক্ষতি করতে চাইবে। ওকে বিশ্বাস নেই। দীর্ঘদিন নিরস্ত্র নিরীহ জাহাজ যাত্রীদের হত্যা করেছে। দয়া মায়া বলে ওর মনে কিছু নেই। ফ্রান্সিস বলল।
— আমারও তাই মনে হয়। তার ওপরে রাজার সামনে প্রজাদের সামনে যোদ্ধাদের সামনে ওভাবে তোমার কাছে হেরে গেল। শোধ তুলতে ও তক্কে তক্কে থাকবেই। অন্তত আমার তো তাই মনে হয়। শাঙ্কো বলল।
–ঠিক বলেছো। আমাদের সাবধানে থাকতে হবে। ফ্রান্সিস বলল। সার্ভো ফ্রান্সিসদের কথা শুনছিল। এবার বলল–স্তিফানো অনেক বড়কিছুর জন্যে এখানে ঘাঁটি গেড়েছে।
-বড় কিছু মানে? ফ্রান্সিস সার্ভোর দিকে তাকাল।
–তাহলে তো তোমাদের এখানকার এক অতীত ইতিহাস বলতে হয়। সার্ভো বলল।
বেশ বলো।
–খেয়ে নিয়ে বলছি। সাভো বলল।
দুপুরেখাওয়ার পাটকল। এবারফ্রান্সিস বলল–এখানকারঅতীতইতিহাসকী বলছিলে।
–এখানে এসেই জেনেছি সেই ইতিহাস। একটু থেমে সার্ভো বলতে লাগলপ্রায় শ’দড়েক বছর আগে এখনকার রাজা প্রোফেনের এক পূর্বপুরুষ রাজা ছিলেন মুস্তাকিন। প্রচুর ধনসম্পদের মালিক ছিলেন তিনি। সোনা হীরেমনি মুক্তোর ভান্ডার ছিল তার। কীভাবে তিনি সেসব সংগ্রহ করেছিলেন তা কেউ জানে না। এই নিয়ে নানা জনে নানা কথা বলে। তিনি সেসব কোথায় গোপনে রাখতেন তা তার রানিও জানতেন না। সার্ভো থামল।
–তাহলে রাজা মুত্তাকিনের ধনসম্পদেরহদিশ কেউ জানেনা? ফ্রান্সিস জানতে চাইল।
–হ্যাঁ। রাজা প্রোফেনও কিছু জানে না?
–রাজা প্রোফেন সেই ধনভান্ডার উদ্ধার করার চেষ্টাও করেন নি?
–শুনেছি রাজা হয়ে পোফেন অনেক চেষ্টা করেছিলেন ঐ ধনভান্ডার উদ্ধার করতে কিন্তু পারেন নি। সার্ভো বলল।
–স্তিফানো? ফ্রান্সিস জিজ্ঞেস করলো।
–সেটাই তো আমার বলার। ঐ ধনভান্ডার খুঁজে বেড়িয়েছে। তখন আমার সঙ্গে সম্পর্ক ভালো ছিল। আমাকেও বার কয়েক সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিল।
-কোথায়? ফ্রান্সিস জিজ্ঞেস করল।
–ঐ লুভিনা পাহাড়ে। পাহাড়ের নিচে জঙ্গলে। সার্ভো বলল।
রাজবাড়িতে খোঁজে নি? ফ্রান্সিস জানতে চাইল।
–হ্যাঁ-হ্যাঁ। রাজবাড়িতেও খুঁজেছে। কিন্তু কোন হদিশ পায়নি। তখনই আমাকে ও বলেছিল–ঐ ধনভান্ডার খুঁজে বের করে সব নিয়ে এই রাজত্ব থেকে পালিয়ে যাবো। ওর লোভের শেষ নেই। সার্ভো বলল।
–তাই স্তিফানো এখানে ঘাঁটি গেড়েছে। ওরলক্ষ্য ঐ ধনভান্ডার চুরি। ফ্রান্সিস বলল।
–ঠিক বলেছো। সার্ভো বলল।
–কিন্তু আমি তা হতে দেব না। ঐ ধনভান্ডার আমিই উদ্ধার করবো। ফ্রান্সিস বলল।
–বল কি! পারবে? সার্ভো অবাক হয়ে বলল–কেউ পারছে না তুমি পারবে? এবার শাঙ্কো বলল–ওর নাম ফ্রান্সিস এর আগে অনেক গুপ্ত ধনভান্ডার ও আবিষ্কার করেছে চিন্তা বুদ্ধি আর পরিশ্রমের সাহায্যে। কাজেই নিশিন্ত থাকো ফ্রান্সিস ঠিক ঐ ধনভান্ডারের হদিশ বের করতে পারবে।
তাহলে তো খুবই ভালো হয়। কিন্তু গুপ্ত ধনভান্ডার আবিষ্কৃত হলে স্তিফানো। আসল চেহারা ধরবে। তোমাদের খুন করতেও পেছপা হবে না। নরহত্যা করেও ও নিবিঘ্নে ঘুমোয়। ও কী নির্মম কী নিষ্ঠুর তা কল্পনাও করতে পারবে না। সাভো বলল।
— সে সব সময়মত ভাববো। এখন রাজা প্রোফেনের সঙ্গে দেখা করা দরকার। ফ্রান্সিস বলল। সিনাত্রা সব শুনছিল। এবার একটু ভীত স্বরে বলল–রাজাকে চটিও না যেন।
–না-না। ফ্রান্সিস মাথা নাড়িয়ে হেসে বলল–আমি শুধু জানতে চাইবো এই গুপ্ত ধনভান্ডার সম্পকে উনি কী জানেন। দেখি রাজা কী বলেন? দেখি রাজার কথা থেকে কোন সূত্র পাই কিনা। তারপর শাঙ্কোর দিকে তাকিয়ে বলল–প্রহরীকে বলো তো আমরা রাজার সঙ্গে দেখা করব।
–বলছি। শাঙ্কো দরজার কাছে গেল। একজন প্রহরীকে ইশারায় ডাকল। প্রহরী কাছে। এলে বলল–রাজা প্রোফেনকে গিয়ে বললো যে আমরা তার সঙ্গে দেখা করতে চাই।
মন্ত্রীমশাই-এরহুকুমনাহলে রাজারসঙ্গে দেখাকরা যাবেনা। প্রহরী ঘাড় নেড়ে বলল।
মজা মন্দ না–শাঙ্কো হেসে বলল–সব ব্যাপারেই মন্ত্রীমশাইয়ের অনুমতি নিতে হবে। প্রহরী চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। কোন কথা বলল না।
–যাও। শাঙ্কো তাড়া লাগল।
–মন্ত্রী মশাইকে বলছি। এই বলে প্রহরীটি চলে গেল।
কিছুক্ষণ পরে স্তিফানো এসে দরজার কাছে দাঁড়াল। গলা চড়িয়ে বলল–কী ব্যাপার? রাজার সঙ্গে দেখা করতে চাইছো কেন? ফ্রান্সিস দরজার দিকে যেতে যেতে বলল–যা বলার রাজাকেই বলবো।
–উঁহু–তার আগে আমাকে বলো।
-বেশ। শুনলাম রাজা প্রোফেনের এক পূর্বপুরুষ রাজা মুস্তাকিম তার প্রচুর ধনসম্পদ গোপনে এই রাজ্যের কোথাও রেখে গেছেন। ফ্রান্সিস বলল।
-তুমি কী ভাবে শুনলে? স্তিফানো জানতে চাইল।
–সার্ভো বলেছে। ফ্রান্সিস বলল। স্তিফানো গলা চড়িয়ে বলল সার্ভেমি এসব বলেছো?
–এটা গোপনে রাখার ব্যাপার নয়। প্রজাদের জিজ্ঞেস করুন। বোধহয় তারাও জানে। তবে কেউ জানে না সেই ধনসম্পদ গোপনে কোথায় রাখা আছে। ফ্রান্সিস বলল।
–বেশ। এসব জেনে তোমার লাভ? স্তিফানো বলল।
