হ্যারি বলল -–ফ্রান্সিস কোন সূত্র পেলে?
–একমাত্র সূত্র ঐ লাইলাক ফুলের নকশা। ঐরকম নকশা কয়েকটা জায়গায় রয়েছে। তার একটা ভেঙে ছোট বাক্সে শুকনো লাইলাক ফুল পেয়েছি। এবার প্রার্থনা ঘরের মেঝের নকশা খুলে কী পাই দেখি। ফ্রান্সিস বলল। তারপর বিনেলোর দিকে তাকিয়ে বলল–বিনেলো কুড়ুলগুলো যোদ্ধাদের কাছ থেকে চেয়ে রেখেছো তো?
–সব ঘরের কোনায় রেখেছি। বিনেলো বলল।
–ভালো করেছ। সিনাত্রার দিকে তাকিয়ে বলল–সিনাত্রা-তিনটে বেশ ভালো করে তেল ভেজানো মশাল জোগার করে আনো। কার কাছে মশাল চাইবে?
–সৈন্যাবাস থেকে আনবো। সিনাত্রা বলল।
–কী বলবে? ফ্রান্সিস বলল।
–রাতে পুরোনো প্রাসাদে গুপ্ত ধনভান্ডার খুঁজতে যাবো। সিনাত্রা বলল।
-নির্বোধ। ওসব বললে সব জানাজানি হয়ে যাবে। বলবে অতিথিশালার মশাল শেষ রাতে নিভে যায়। কাজেই বেশি তেল মাখানো মশাল চাই। বুঝেছো? ফ্রান্সিস বলল।
–হ্যাঁ-হ্যাঁ। সিনাত্রা মাথা ঝাঁকিয়ে বলল।
–তবে যাও। ফ্রান্সিস বলল।
সিনাত্রা চলে গেল।
ফ্রান্সিসরা রাতের খাবার বেশ তাড়াতাড়ি খেয়ে নিল। ফ্রান্সিস একটু গলা চড়িয়ে বলল–একটু বিশ্বাস করে নাও। কিন্তু ঘুমিয়ে পড়বে না কেউ।
রাত বাল। ফ্রান্সিস শুয়ে ছিল। উঠে দাঁড়াল। বলল–কুড়ুল মশাল নাও। চলো সবাই।
সবাই হাতে কুড়ুল মশাল নিয়ে অতিথিশালার বাইরে এসে দাঁড়াল। আকাশে ভাঙা চাঁদ। জ্যোৎস্না অনুজ্জ্বল। ওরা নিঃশব্দে চলল বালি খুঁড়ে তোলা পুরোনো রাজপ্রসাদের দিকে।
সেখানে এসে বালির ধাপে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামল সবাই।
দেওয়ালে জ্বলন্ত মশাল রাখা হল। প্রার্থনা ঘরে ঢুকে ফ্রান্সিস একটা কুড়ুল নিল। কুড়ুলের মুখটা দিয়ে নকশার ধার গুলোতে চাড় দিতে দিতে বলল–এইভাবে চাড় দিয়ে দিয়ে নকশা অভগ্ন অবস্থায় তুলতে হবে। নকশা এখানে ওখানে একটু নড়ল। চলল সাবধানে চাড় দেওয়া। যাতে কোনভাবেই ভেঙে না যায় সেভাবেই সাবধানে কাজ চলছিল। কাজেই সময় লাগছিল।
বাকি সারারাত ধরে কাজ চলল। মশাল নিভু নিভু হয়ে এল। ভোরের দিকে সবটা নকশা আলগা হ’ল। শাঙ্কো ছাড়া সবাই মিলে–হাত লাগাল–আস্তে আস্তে লাইলাক ফুলের নকশাটা তুলে ধরল সবাই। পাথরের দেওয়ালে ওটা ঠেসান দিয়ে রাখা হল। কত সুন্দর দেখাচ্ছিল নকশাটা। ফ্রান্সিস এই ভেবে তৃপ্তি পলে যে নকশাটা নষ্ট হয়নি।
এবার নকশার বাকি ফোকরওয়ালা পাথরের পাটটা তুলে ফেলল। ভেতরে তিনকোনা গৰ্তমত। ফ্রান্সিস নিভু নিভু একটা মশাল ভেতরে ফেলে দিল। নিভু নিভু আলোয় দেখা গেল একটা তিনকোনা কালেকাঠের বাক্স। বেশ বড়। বাক্সটার গায়ে সোনার লতাপতার কাজ। বাক্সের সঙ্গে ওপরে কাঠের হাতল।
ফ্রান্সিস একটুক্ষণ দেখল। ততক্ষনে ভোরের আবছা আলো পড়েছে। এবার ফ্রান্সিস বলল–হ্যারি–এটাই রাজা সিয়োভোর রত্নভান্ডার।
–তুমি নিশ্চিত? হ্যারি বলল।
–আমি নিশ্চিত। দেখ। কথাটা বলে ফ্রান্সিস কাঠের হাতলটা ধরে বাক্সটা আস্তে তুলে আনল। চাবির জায়গায় একটা বড় ফুটো। ফ্রান্সিস হাতল ধরে টানল। বাক্স খুলল না। বিনেল সিনাত্রাকে ডাকল। তিনজনে মিলে হাতলটা টানাটানি করল। কিন্তু বাক্স খুলল না। একটু হাঁপাতে হাঁপাতে ফ্রান্সিস বলল–উপায় নেই। বাক্সটা ভাঙতে হবে। ও বাস্কটার ফুটোর কাছে ডালা দু’টোর ফাঁকে কুড়ুলের মাথা দিয়ে চাড় দিতে লাগল। সামান্য যক হল। ফ্রান্সিস বলল বিনেলো ঐ মুখটায় চাড় দাও। বিনোলাও কুড়লের মুখ চেপে চাড় দিতে লাগল। আরো একটু ফাঁক হল
কুড়ল চালিয়ে ভেঙে ফেললেই তো হয়। শাঙ্কো বলে উঠল।
–না। এত সুন্দর বাক্সটা অধৈর্য হয়ে এটা নষ্ট করব? ফ্রান্সিস বলল।
এ ভাবেই খুলবো।
আবার চাড় দেওয়া শুরু হল। দড়াম করে বাক্সের ডালাটা খুলে গেল। উজ্জ্বল রোদে ঝিকিয়ে উঠল বাক্সের অদ্ধের্ক বোঝাই চুনি পান্না হীরে জহরত। ফ্রান্সিসরা খুবএকটা অবাক হল না। এরকম গুপ্তধন ওরা আগেও উদ্ধার করেছে। আতলেতার মুখ বিস্ময়ে হাঁ হয়ে গেল। একসঙ্গে চুনিপান্না হীরে জহরৎ দেখবে কোনদিন কল্পনাও করেনি।
বাক্স বন্ধ করে ফ্রান্সিস মেঝেয় বসে পড়ল। একটু হাঁপাতে হাঁপাতে বলল– এবার বাকি কাজটা। বাক্সটা ভেঙে গেছে। হাতল ধরে নিয়ে যাওয়া যাবে না। কাঁধে করে নিয়ে চলো। রাজা এনিমারকে দিতে হবে। যে বাক্সটায় শুকনো লাইলাক ফুল পাওয়া গিয়েছিল হ্যারি সেই বাক্সটা নিল।
বিনেলো আর সিনাত্রা বাক্সটা দুপাশে ধরে কাঁধে তুলল। ফ্রান্সিস উঠে দাঁড়াল। সবাই নগরের দিকে চলল।
তখন রাস্তায় লোক চলাচল শুরু হয়েছে। সবাই দেখল একটা সুন্দর কারুকাজকরা কালো কাঠের তিনকোণা বাক্স বিদেশীরা কাঁধে বয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সকলেরই ঔৎসুক্য কী আছে বাক্সটায়?
সবাই রাজবাড়ির প্রধান প্রবেশপথের সামনে এসে দাঁড়ালো প্রহরীরা ফ্রান্সিসদের দেখল। বাধা দিতে গেল। ফ্রান্সিস এগিয়ে এসে বলল–আমাদের বাধা দিও না। রাজার সঙ্গে আমাদের বিশেষ প্রয়োজন। দেখা করতে হবে।
প্রহরীরা এই কদিনে ফ্রান্সিসদের চিনেছে। ওরা আর বাধা দিল না।
ফ্রান্সিসরা অন্দরমহলের দরজার কাছে এল।
ফ্রান্সিস প্রহরীদের বলল-রাজামশাই ঘুম থেকে উঠেছেন?
–হ্যাঁ। এখন সকালের খাবার খাচ্ছেন। কিছুক্ষণ পরেই রাজসভায় বসবেন।
না। রাজসভায় নয়। আমাদের জন্য মন্ত্রণাকটা খুলে দাও আর রাজামশাইকে বলল যে বিদেশীরা বিশেষ প্রয়োজনে আপনার সঙ্গে দেখা করতে চায়। ফ্রান্সিস। বলল।
