ও খননের জায়গায় এল। ও একবার চারিদিক ভালো করে তাকাচ্ছে তখনই আমরা আড়াল নিলাম।
ও বালির ধাপ বেয়ে নীচে নেমে গেল। দূর থেকে ঠকঠক শব্দ শুনলাম। কাবানা মশাল জ্বালাচ্ছে। ও তৈরী হয়ে এসেছে।
আমরা অপেক্ষা করতে লাগলাম। তারপরই দেওয়ালে কুড়ুলে ঘা মারার শব্দ শুনলাম। চারিদিক নির্জন নিস্তদ্ধ।
হঠাৎ কাবানার চিৎকার শুনলাম–পেয়েছি। আমরা ভীষন ভাবে চমকে উঠলাম। সার্ভানো মুহূর্তে উঠে দাঁড়াল। ও ছুটল। আমি তার পিছু নিলাম।
বালির সিঁড়ির ধাপ বেয়ে দু’জনেই নিচে নেমে পড়লাম। মশালটা বালির দেওয়ালে পোঁতা। মশালের আলোয় সার্ভানোর মুখ দেখেই বুঝলাম তাঁর মাথায় খুন চেপেছে। সে কাবানাকে মেরে ফেলবে। হলও তাই। সাভার্নো কাবানার ওপর শরীরের সমস্ত শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল। কাবানারহাত থেকেকুঁ ছিটকে গেল। কাবানা পাথরের বালিভরা মেঝেয় ছিটকে পড়ল। মূহুর্তের মধ্যে সার্ভানো কুড়ুলটা তুলে নিল। তারপর দুহাতে কুডুলটা ধরে কাবানা বুকে বসিয়ে দিল। নরহত্যার দৃশ্য তো অনেক দেখেছি। আমি বিচলিত হলাম না। সার্ভানো আমার দিকেফিরে তাকাল। আমি একঝলকশুধু দেখছিলাম দেওয়ালে কয়েকটা পাথরের খন্ড নিচে পড়ে আছে। একটা ফোকরের সৃষ্টি হয়েছে। দেওয়ালটা পুরো ভেঙে পড়েনি। কিন্তু তখন আর কিছু দেখার মত মনের অবস্থা আমার ছিল না। বুঝলাম এবার আমার পালা। সার্ভানো আমাকে হত্যা করবে।
আমি একমূহুর্ত আর দাঁড়ালাম না। পেছনে ফিরে বালির সিঁড়ির ধাপ দিয়ে উঠে। এলাম। ছুটলাম নগরের দিকে।
একটা নতুন সরাইখানায় আশ্রয় নিলাম। সেখানে বসেই রাত জেগে লিখছি। সার্ভানো নিশ্চয়ই আমাকে খুঁজছে। আমার জীবন বিপন্ন। গুপ্ত ধনভান্ডারের লোভ
বড়লোক হবার স্বপ্ন শেষ–রাজা সিয়েভোর রত্নভান্ডারের খবর আমরা দুজন মাত্র জানি–আমি আর ক্যাপ্টেন সার্ভানো। কাজেই নৃশংস ক্যাপ্টেন সার্ভানো আমায় বেঁচে থাকতে দেবে না।
রাত শেষ হয়ে আসছে। দরজায় ধাক্কা দেওয়ার শব্দ শুনছি। সরাইয়ের মালিক দরজা খুলে দিল। আমার জীবনের অন্তিম মুহূর্ত
বইয়ের লেখা এখানেই শেষ। তারপর বাকি সব পাতা সাদা। কিছুক্ষণ পরে ফ্রান্সিস বলল–ক্যাপ্টেন সার্ভানো ঐ গুপ্ত রত্নভান্ডার অবিষ্কার করতে পারে নি। পারলে প্রোমিও হয়ত পারত। তার আগেই ওর মৃত্যু হয়। মৃত্যু মানে ক্যাপ্টেন সার্ভানো ওকে হত্যা করে। তারপর খুঁড়ে বের করা সেই প্রাচীন প্রাসাদের সর্বত্র খোঁজাখুঁজি করেছিল নিশ্চয়ই কিন্তু ওর বুদ্ধিতে কুলায় নি। হাল ছেড়ে সে চলে গিয়েছিল নিজের জাহাজে। একটু থেমে ফ্রান্সিস বলল–প্রোমিও আমার কাজ অনেক সহজ করে দিয়েছে। তবে আমি প্রথমেই খুঁড়ে তোলা প্রাসাদ দেখতে যাব না। পশ্চিমের বন মন্দিরঘর গুহা সরোবর সব দেখবো। তন্ন তন্ন করে খুঁজবো। তারপর খুঁড়ে-তোলা প্রাসাদে যাবো। যা হোক কাল সকালে রাজসভায় গিয়ে রাজার সঙ্গে কথা বলতে হবে। দেখি রাজার কাছ থেকে কোন সূত্র পাই কিনা। হ্যারি বলল–ফ্রান্সিস প্রোমিওর লেখাটা আমার বড় ভালো লাগল। ও বড় দরদ দিয়ে লিখেছে। ওর লেখা থেকে নিশ্চয়ই কিছু তথ্য পাওয়া যাবে।
–নিশ্চয়ই পাওয়া যাবে। তবে আমি প্রথমে আমার মত করে খুঁজবো।
–তাহলে চলো। কালকে রাজার কাছে যাওয়া যাক। আতলেতার দিকে তাকিয়ে?
ফ্রান্সিস বলল–আতলেতা তুমি আমাদের সঙ্গে থাকবে। সব জায়গাতো তোমার ভাল চেনা। তোমার সাহায্য খুব কাজে লাগবে।
–বেশ। আমি তোমাদের সঙ্গী হব। আতলেতা বলল।
পরের দিন সকালে ফ্রান্সিস ও হ্যারি রাজসভায় এল। তখন একটা বিচার চলছিল। আতলেতা এপাশে দাঁড়িয়ে ছিল। ও এখনো সেনাপতির পদ পায় নি। এগিয়ে এসে ফ্রান্সিসদের বলল–রাজা তোমাদের একটু অপেক্ষা করতে বলেছেন।
ফ্রান্সিসরা দাঁড়িয়ে বিচার পর্ব দেখতে লাগল। বিচার পর্ব শেষ। প্রজারা চলে যেতে লাগল। অল্পক্ষণের মধ্যেই রাজসভা জনশূন্য হয়ে গেল।
রাজা এনিমার ইশারায় ফ্রান্সিসদের এগিয়ে আসতে ইঙ্গিত করল। ফ্রান্সিস রাজার দিকে এগিয়ে গেল। মাথা একটু নুইয়ে নিয়ে বলল–মান্যবর রাজা–আমরা স্থির করেছি অতীতের রাজা সিয়োভোর গুপ্ত রত্নভান্ডার আমরা উদ্ধার করবো।
বেশ তো। চেষ্টা করে দেখ। আচ্ছা তোমরা প্রোমিওর বইটা পড়েছো তো? রাজা জানতে চাইলেন।
–হ্যাঁ। বইটা পড়ে কিছু দরকারি তথ্য পেয়েছি। তবে নতুন করে অনুসন্ধান চালাবো। এখন অনুরোধ আপনি যদি ঐ গুপ্ত ধনভান্ডার সম্পর্কে যা জানেন বলেন তাহলে আমরা উপকৃত হব।
–আমি যা জানি তা প্রোমিওকে বলেছিলাম। নতুন করে কিছু বলার নেই। তবে শুনেছি ঐ গুপ্তধন শুধু চুন্নিপান্না মুক্তো হীরের টুকরোর। সোনা রুপো নেই। ওটা শুধু মনিরত্নের ভান্ডার। রাজা বললেন।
–আচ্ছা–ঐ রত্নভান্ডার গোপনে কোথায় রাখা হয়েছে বলে আপনার মনে হয়? ফ্রান্সিস জিজ্ঞেস করল।
-কী করে বলি। আমার পূর্বপুরুষরা খুঁজছে আমিও খুঁজেছি। কিন্তু কোন হদিশ পায়নি। রাজা বললেন–ঐ প্রোমিও কম খোঁজেনি। মরে না গেলে হয়তো ও খোঁজ পেত। ফ্রান্সিস তারপর বলল–
–এ ব্যাপারে সর্বাগ্রে আপনার সাহায্য চাই।
বলো কী রকম সাহায্যে চাও। রাজা জানতে চাইলেন।
–প্রোমিও প্রাচীন রাজপ্রাসাদের অর্ধেকটা বালি খুঁড়ে উদ্ধার করেছে। আমি বাকি অর্ধেকটা উদ্ধার করতে চাই। তাঁর জন্যে বেলচা পঁচিশ তিরিশ জন যোদ্ধা চাই। ফ্রান্সিস বলল।
