গুপ্তধন? সার্ভানো বেশ চমকে উঠল। বলল-কোথায় সেই গুপ্তধন?
–সেটার খোঁজেই তো আমি এখানে আছি। সার্ভানো তরোয়াল কোষবদ্ধ করে আমার পাশে এসে বলল–সব ব্যাপারটা খুলে বলো তো?
আমি তখন অতীতের রাজা সিয়াভোর গুপ্ত রত্নভান্ডারের কথা কাবানাকে অনুসরনের কথা সব বললাম। ক্যাপ্টেন সার্ভানো খুশির ভঙ্গিতে উরুতে এক চাপড় দিয়ে বলল এইতো একটা খবরের মতো খবর দিলে। চলো–আমিও তোমার সঙ্গে থাকবো। গুপ্তধন উদ্ধার হলে দু’জনে ভাগাভাগি করে নিয়ে পালাবো।
এক্ষেত্রে কাবানাকে অনুসরন করতে হবে। কিন্তু সেটা করতে গেলে আপনাকে এই মার্কামারা ক্যাপ্টনের পোশাক ছাড়তে হবে।
–ঠিক আছে। সঙ্গের জলদস্যুকে বলল– যাও আমার সাধারন পোশাক নিয়ে অ্যায়া আর সবাইকে বলবি জাহাজ এই বন্দরে থাকবে। আমি ফিরে গিয়ে জাহাজ ছাড়বো। সঙ্গী জলদস্যু চলে গেল।
কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই সঙ্গী সার্ভানোর জন্যে সাধারন পোশাক নিয়ে এল। ওকে সার্ভানো চলে যেতে বলল–এখন তোমার সঙ্গে এখানেই থাকবো। রত্নভান্ডার নিয়ে জাহাজে ফিরবো।
পরের দিন তাড়াতাড়ি খেয়ে নিলাম। সার্ভানকে নিয়ে প্রায় ছুটে অতিথিশালার সামনে এলাম। চেস্টনাট গাছের নীচে দাঁড়ালাম দুজনে।
দাঁড়িয়ে আছি। কাবানার বেরোবার নাম নেই। চিন্তায় পড়লাম। তবে কি ও আগেই বেরিয়েছে। না–ঐতো কাবানা বেরিয়ে এল। পেছনে সেই প্রহরী।
এবার দুজনে চলল পূবমুখো সমুদ্রের দিকে। আমরাও পিছু নিলাম। ভাবলাম ওরা বোধহয় বন্দরে যাবে। দেখলাম ওরা বন্দরে এল না মরুভূমি মত বালিভর্তি এলাকায় এল। এখানে শুধু কাঁটাগাছ আর ফণিমনসার ঝোঁপ।
মরুভূমির মত শুধু বালি। সেই সমুদ্র পর্যন্ত বিস্তৃত। দূর পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে। আমরা সহজেই কাবানার নজরে পড়তে পারি। তাই আমরা কখনও এইকাঁটা ঝোঁপ ঐফনীমনসার ঝোঁপের পিছনে আত্মগোপন করে করে চললাম।
কিছুদূর যেতেই দেখা গেল একটা পাথরের থামমত কী একটা বালির ওপর বেরিয়ে আছে। কাবানা ওখানে গিয়ে থামল। খুব মনোযোগ দিয়ে পাথরের থামটা চারপাশ দেখতে লাগল। ও হঠাত ফিরে দাঁড়ালেই আমাদের দেখতে পেত। তার আগেই আমি ক্যাপ্টেন সার্ভানোকে হাত টেনে ধরে একটা। মনসাঝোঁপের আড়ালে উবু হয়ে শুয়ে পড়লাম। ঠিক তখনই কাবানা প্রহরীকে কি বলতে বলতে পিছু ফিরে তাকাল। মনসাগাছের আড়ালে আমাদের দেখতে পেল না।
কিছুক্ষণ পাথরের থামটার কাছে দাঁড়াল কাবানা। তারপর এদিক ওদিক ঘুরে বালিভরা জায়গা দেখে পিছু ফিরল। ফিরে আসতে লাগল। ফনীমনসার গাছের আড়াল থেকে দেখলাম কাবানা কিছু গভীর ভাবে ভাবতে ভাবতে আসছে। ওকে কিছু আশান্বিত মনে হল।
ওরা যত এগিয়ে যেতে লাগল। আমরাও মনসা গাছের আড়ালে তত সরে সরে যেতে লাগলাম। ওরা আমাদের পাশ দিয়ে চলে গেল। বালি এলাকা ছেড়ে বড় রাস্তার পাশয় গিয়ে ওরা পৌঁছালেই আমরা আড়াল থেকে বেরিয়ে এলাম। বড় রাস্তায় লোকজনের ভিড়। ওরা তারমধ্যে দিয়ে চলল। আমরাও অনুসরন করতে লাগলাম।
কাবানা আর কোথাও গেল না। অথিতিশালায় ঢুকে পড়ল। প্রহরীটি দরজার সামনে দাঁড়িয়ে রইল। আমিও ফিরে আসব ভাবছি হঠাৎ কাবানা বেরিয়ে এল। খুব কাছে না থাকলেও শুনতে পেলাম কাবানা প্রহরীটিকে বলল–কালকে কখন রাজসভা বসবে?
দুপুরে। কাল শনিবার। রাজা বনে দেবপূজা করতে যাবেন। প্রহরী বলল।
–কখন। কাবানা জানতে চাইল।
–সকলে। প্রহরী বলল।
কাবানা আর কিছু বলল না। অতিথিশালায় ঢুকে পড়ল।
আমরা সরাইখানায় ফিরে এলাম। সার্ভানোকে বললাম মনে হচ্ছে কাবানা রাজার সঙ্গে কিছু দরকারি কথা বলবে। আমরাও রাজ সভায় যাবো। যেন নতুন এসেছি সব দেখে বেড়াচ্ছি।
সেভাবেই দুপুরে খাবার খেয়েই দুজনে রাজসভায় এলাম। তখন একটা বিচার চলছিল। আড়চোখে দেখলাম কাবানা প্রজাদের সঙ্গে একপাশে দাঁড়িয়ে আছে। অপেক্ষা করতে লাগলাম কখন কাবানার ডাক পড়ে।
একটা বিচার শেষ হল। মন্ত্রী তার আসন থেকে উঠে রাজাকে গিয়ে কিছু বললেন। রাজা এনিমার কাবানাকে এগিয়ে এসে মাথা একটু নুইয়ে সম্মান জানিয়ে বলল–মাহামান্য রাজা শুনেছি সমুদ্রের তীরের কাছে নাকি প্রাচীন রাজধানী ছিল।
–ঠিক শুনেছে। প্রাচীন রাজধানী ওখানেই ছিল। পরে বালি পড়ে পড়ে ঐ রাজধানি বালির নীচে চাপা পড়ে গিয়েছিল। রাজা বললেন।
–তাহলে তো রাজপ্রাসাদও ওখানে ছিল। কাবানা বলল।
–হ্যাঁ। তবে এখন তো সেই প্রাসাদ বালির নীচে। রাজা বললেন।
–আমি বালি তুলে ফেলে ঐ রাজবাড়ি উদ্ধার করতে চাই। কাবানা বলল।
কী লাভ তাতে? তাছাড়া ওখানে তো প্রাসাদের কোন চিহ্নই নেই। রাজা বললেন।
না। আছে। আমি একটা পাথরের থাম দেখেছি। ওখানে বালি খোঁড়ার অনুমতি আমাকে দিন। কাবানা বলল।
বেশ খুঁড়ে দেখো। রাজা বলল।
–তার জন্যে তিরিশ জন লোক দিন। তাদের দিয়ে বালি খোঁড়ার কাজ করাবো। তিরিশটা বেলচাও লাগবে। কাবানা বলল।
রাজা সেনাপতির দিকে তাকালেন বললেন–ওকে বালি খোঁড়ার কাজের জন্যে লোক দিন। সেনাপতি উঠে দাঁড়াল। মাথা নিচু করে আসন থেকে নেমে এল। কাবানার কাছে গিয়ে বলল–চলোলোক বেলচা দিচ্ছি। তবে সবটাই পন্ডশ্রম হবে।
–তবু আমি একবার খুঁড়ে দেখতে চাই। কাবানা বলল।
–বেশ। কাবানা সেনাপতির পেছনে পেছনে রাজসভা থেকে বেরিয়ে গেল।
আমরাও ওদের দুজনকে অনুসর করলাম। সেনাপতি যোদ্ধাদের আবাসে গেল। আমরা সামনের মাঠে দাঁড়িয়ে রইলাম।
