–এদের মাঠে নিয়ে চলো। ফ্রান্সিস গলা চড়িয়ে বলল। রাজা কার্তানির সৈন্যরা স্বপ্নেও ভাবে নি এভাবে তারা পরাস্ত হবে। তখনও ওদের ঘুম কাটেনি। দু’তিনজন সৈন্য গাঁইগুই করছিল। তারা হাতে পায়ে তরোয়ালের ঘা খেল। আর বন্দী হতে আপত্তি করল না।
রাজা কার্তিনার সৈন্যদের মাঠে সারি দিয়ে দাঁড় করানো হল। ফ্রান্সিসরা ওদের ঘিরে দাঁড়াল। ফ্রান্সিস এই ভেবে স্বস্তি পেল যে ওদের কেউ মারা যায় নি বা তেমন আহত হয়নি। অভিযান সফল।
ফ্রান্সিস একটু গলা চড়িয়ে বলল–বিনেলা–সিনাত্রা–যাও দড়ি নিয়ে এসো। এদের হাত পা বাঁধো দু’জনে সৈন্যাবাসের দিকে ছুটল। খুঁজে খুঁজে পাকানো দড়ি নিয়ে এল। বিনেলো জামার তলা থেকে ছোরা বের করল। দড়ি কেটে কেটে টুকরো করতে লাগল। ভাইকিং বন্ধুরা দড়ি নিয়ে রাজা কার্তিনার সৈন্যদের হাত পা বাঁধতে লাগল। কিছুক্ষণের মধ্যেই সবার হাত পা বাঁধা হয়ে গেল। ফ্রান্সিস ওদের বসে পড়তে বলল। ওরা মাঠের ঘাসের ওপর বসে পড়ল।
রাজা এনিমার বেশ ক্লান্ত বোধ করলেন। সৈন্যাবাসের বারান্দায় বসে পড়লেন। ফ্রান্সিস তার কাছে এল। বলল–রাজা কার্তিনার সঙ্গে কথা বলতে যাচ্ছি। আপনিও চলুন।
–তাকে আর কী বলব বলো। রাজা বললেন।
–অন্তত এদেশ থেকে সসৈন্যে চলে যেতে বলতে পারেন। ফ্রান্সিস বলল।
-বেশ। চলো। রাজা উঠলেন। দু’জন রাজবাড়ির প্রধান প্রবেশপথের দিকে যাচ্ছে আতলেতা ছুটে এসে দু’জনের সঙ্গে চলল। ফ্রান্সিস দেখল কিন্তু কিছু বলল না।
প্রধান প্রবেশপথের সামনে আসতে প্রহরী দু’জন বেশ চমকাল। বর্শা বাগিয়ে ধরল। ফ্রান্সিস হেসে বলল–ও! তোমরা এখনও দেখো নি। এগিয়ে এসে মাঠের দিকে তাকাও। একজন বর্শা নিয়ে অনেকটা এগিয়ে গেল। মাঠের মধ্যে বসে থাকা কার্তিনার বন্দী সৈন্যদের দেখল। ফ্রান্সিস আর আতলেতার হাতে খোলা তরোয়াল দেখে ওর মুখ শুকিয়ে গেল। ও পরিমরি সদর রাস্তার দিকে ছুটল। অন্য প্রহরীটিও ওকে পালাতে দেখে ওর পেছনে পেছনে ছুটল।
তিনজন প্রবেশপথ দিয়ে ঢুকল। আর কোন প্রহরীর দেখা পেল না। সোজা রাজার শয়নকক্ষে এল। ঘুম থেকে উঠে রাজা কার্তিনা বিছানাতেই বসে পড়ল। মাথা নোয়ালো। ফ্রান্সিস পায়ের শব্দে মুখ তুলে তাকাল। বলল–সব জানি। আমাকে কি বন্দী করা হবে?
–সেটা রাজা এনিমার বলবেন। ফ্রান্সিস বলল।
কার্তিনা রাজা এনিমারের দিকে তাকাল। এনিমার বলল–দেখুন–আমি আপনার দেশ আক্রমণ করি নি। আপনিই আগ বাড়িয়ে আমার রাজত্ব জয় করতে এসেছিলেন। রাজা কার্তিনা বলল–যাক গে–আমি এই দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছি। কিন্তু আমার সৈন্যদের হাতপা–পায়ের বাঁধন খুলে দিতে হবে কিন্তু হাতের বাঁধন–খোলা হবে না। ফ্রান্সিস বলল।
ঠিক আছে। আমি বাঁধা অবস্থাতেই আমার সৈন্যদের নিয়ে যাবো। রাজা বলল।
–আর একটা প্রতিজ্ঞা করতে হবে আপনাকে। ফ্রান্সিস বলল।
–কী প্রতিজ্ঞা? রাজা কার্তিনা জানতে চাইল।
আপনি ভবিষ্যতে আর কখনও রাজা এনিমারের এই রাজ্য আক্রমণ করবেন না। ফ্রান্সিস বলল। একটুক্ষন চুপ করে থেকে কার্তিনার বলল–বেশ। প্রতিজ্ঞা করলাম।
–অবশ্য আপনি এই প্রতিজ্ঞা কতটা রাখবেন তাই নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে। ফ্রান্সিস বলল। রাজা কার্তিনা কোন কথা বলল না। এবার ফ্রান্সিস বলল, আপনি কখন এই রাজ্য ছেড়ে যাবেন?
-কালকে? রাজা কার্তিনা বলল।
-না। আজকে। এক্ষুনি। ফ্রান্সিস গলায় জোর দিয়ে বলল। রাজা কার্তিনা একটু থামল। তারপর মাথা কাত করে বলল–বেশ।
-পোশাক পাল্টে রাজবাড়ির বাইরে আসুন। ফ্রান্সিস বলল। তারপর রাজ এনিমারের দিকে তাকিয়ে বলল–মাননীয় রাজা–আপনি অন্তঃপুরে যান। আমরা দেখি কোথাও থাকবার ব্যবস্থা করতে পারি কিনা।
–না। তোমরা আমরা অতিথিশালায় থাকবে। রাজা এনিমার বললেন–চলো আমি তোমাদের অতিথিশালায় নিয়ে যাচ্ছি। আতলেতা বলল।
ফ্রান্সিস আতলেতাকে নিয়ে রাজবাড়ি থেকে বেরিয়ে এল। তখন ভোর হয়ে গেছে। রাজবাড়ির বাগানে পাখির ডাক শুরু হয়েছে। আকাশে চাঁদ নিষ্প্রভ হয়ে গেছে।
বন্ধুদের কাছে আসতে আসতে ফ্রান্সিস ডাকল–আতালেতা।
-বলো। আতলেতা ফ্রান্সিসের মুখের দিকে তাকাল।
–বলছিলাম–রাজা সিয়াভোর গুপ্ত রত্ন ভান্ডার সম্বন্ধে তুমি কী জানো?
প্রোমিও নামে এক স্পেনীয় যুবকের লেখা একটা বইয়ের কথা শুনেছি। ফ্রান্সিস বলল।
–হ্যাঁ। বইটা বোধহয় রাজা কার্তিনার কাছে আছে। আতলেতা বলল।
–সেই বইটা আমার চাই। তুমি যদি বইটা জোগাড় কর আমাকে দাও তাহলে আমার খুব উপকার হয়। ফ্রান্সিস বলল।
–ঠিক সময়ে কথাটা মনে করিয়েছে। রাজা কার্তিনার কাছ থেকে আমি বইটা নিয়ে আসছি। তোমরা আমাদের কোন সৈন্যকে গিয়ে বল। সে তোমাদের অতিথিশালায় নিয়ে যাবে। আতলেতা বলল।
–বেশ। আর একটা অনুরোধ। তাড়াতড়ি কিছু খাবারের ব্যবস্থা কর। তুমি তো জানো কী খেয়ে আছি। ফ্রান্সিস হেসে বলল।
-কিছু ভেবো না। রাজবাড়ির রাঁধুনিরা তো আর বন্দী হয়নি। কাজেই কিছু গরম খাবারের ব্যবস্থা যত তাড়াতড়ি সম্ভব করছি।
কথাটা বলে আতালে রাজবাড়ির দিকে চলে গেল।
মাঠে এসে ফ্রান্সিস দেখল বন্ধুরা মাঠে ঘাসের ওপর বসে আছে। রাজা এনিমারের সৈন্যরা সৈন্যবাসের দখল নিয়ে নিয়েছে। বন্দীরাও মাঠে বসে আছে। ফ্রান্সিস বিনোলোকে ডাকল। বলল–সৈন্যাবাসে যাও। ওদের কাছ থেকে জেনে এসো অতিথিশালাটা কোথায়? আর একটা কথা। একটু পরেই রাজা কার্তিনা এখানে তার বন্দী সৈন্যদের কাছে আসবে। তখন ঐ বন্দী সৈন্যদের পায়ের বাঁধন কেটে দিও।
