–তাহলে লুকিয়ে নগরে যেতে হয়। হ্যারি বলল।
–তাই যাবো। আজ রাতের মধ্যেই কাজটা সারাতে হবে। ফ্রান্সিস বলল।
বন্ধুদের ডাকো। হ্যারি বলল।
–না। শুধু আমি একা যাবো। রাজা এনিমারের জন দশেক সৈন্য নিয়ে। আমরা বিদেশী দোকানদাররা আমাদের চিনে ফেলবে। রাজা এনিমার সৈন্যরা গেলে দোকানদারের মনে কোন সন্দেহ হবে না। সহজেই আটা ময়দা চিনি পাওয়া যাবে। ফ্রান্সিস বলল।
–বেশ তো। তুমিই ওদের নিয়ে খাবারের জিনিসপত্র আনো। হ্যারি বলল।
ফ্রান্সিস দ্রুত উঠে বসল। আতলেতার কাছে গেল। আতলে শুয়েছিল। ফ্রান্সিস বলল–আতলেতা–ওঠ। কাজ আছে। আতলেতা উঠে বসল।
–তুমি নগরের আটা ময়দার দোকান তো চেনো। ফ্রান্সিস বলল।
— হ্যাঁ হ্যাঁ। আতলেতা মাথা কাত করে বলল।
–সে সব আনতে যেতে হবে। ফ্রান্সিস বলল।
–এখন? আতলেতা জানতে চাইল।
–হ্যাঁ আজ বাকি রাতের মধ্যেই আনতে হবে। তুমি কয়েকজন তোমাদের সৈন্য নিয়ে আমাদের সঙ্গে চলো। ফ্রান্সিস বলল।
–কিন্তু–আতলেতাকে থামিয়ে ফ্রান্সিস বলল
-কোন কিন্তু নয়। আমরা সবাই ক্ষুর্ধাত। না খেয়ে লড়াই করা যাবে না। খাদ্য চাই। যাও কয়েকজনকে নিয়ে এসো।
–বেশ। চলো। আতলেতা বলল। তারপর শুয়ে বসে থাকা কয়েকজন সৈন্যকে ডাকতে গেল।
ফ্রান্সিস শাঙ্কোর কাছে এল। বলল–শাঙ্কো এখন কেমন আছো?
–অনেকটা ভালো আছি। শাঙ্কো বলল।
-শোন–খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে। তুমি চারটে সোনার চাকতি দাও। ফ্রান্সিস বলল। শাঙ্কো কোমরের ফেট্টিতে গোঁজা চারটে সোনার চাকতি বের করে ফ্রান্সিসকে দিল। ফ্রান্সিস দেখল কয়েকজন সৈন্যকে সঙ্গে দিয়ে আতলেতা দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আছে। ফ্রান্সিস তরোয়ালটা ভাল করে কোমরে গুঁজে নিলো।
ওরা ঘর থেকে বেরিয়ে এল। সবার আগে আতলেতা চলল। ফ্রান্সিসরা পিছন পিছন চলল।
কিছুক্ষনের মধ্যেই বনাঞ্চল শেষ। সবাইকে গাছের আড়ালে রেখে ফ্রান্সিস বড় রাস্তাটায় এসে দাঁড়াল। চাঁদের আলোয় যতদূর দৃষ্টি যায় দেখল। রাজা কার্তিনার সৈন্যদের চিহ্নমাত্র নেই। ফ্রান্সিস হাত নেড়ে সবাইকে ডাকল।
বড় রাস্তার ধার দিয়ে ফ্রান্সিস চলল। পিছনে আতলেতারা।
দুধারে দোকানপাট শুরু হল। ফ্রান্সিস দূরে নজর রেখে চলল। বেশ দূরে রাস্তায় রাজা কার্তিনার কয়েকজন সৈন্যের নড়াচড়া লক্ষ্য করল। ফ্রান্সিস সঙ্গে সঙ্গে রাস্তা থেকে একটা দোকানের পেছনে ঝোঁপঝাড়ের মধ্যে ঢুকে পড়ল। আতলেতা সৈন্যদের নিয়ে এসে ফ্রান্সিসের পিছনে দাঁড়াল। ঝোঁপঝাড়ের মধ্যে দিয়ে চলা শুরু হল। আরোও বেশ কিছুটা গিয়ে ফ্রান্সিস নিম্নস্বরে বলল–আতলেতা–দোকানটা কোথায়?
এসে গেছি। ঐ খেজুর গাছটার নিচে। আতলেতা মৃদুস্বরে বলল। খেজুর গাছের কাছে এসে দাঁড়াল সবাই। ফ্রান্সিস কোমরের ফেট্টি থেকে সোনার চারটে চাকতি বার করে আতলেতাকে দিল। বলল–আটা ময়দা চিনি ছাড়াও মাটির বড় হাঁড়ি কাঠের বড় থালা একখন্ড কাঠের ছোট পাটাতন কাঠের কিছু গ্লাস এসব লাগবে। দোকানদারকে দিয়েই একটু তাড়া দিয়ে তাড়াতাড়ি কাজ সারবে। হাতে সময় কম।
–তুমি যাবে না? আতলেতা বলল।
–না আমি এই খেজুর গাছের নীচে তোমাদের অপেক্ষায় থাকব। ফ্রান্সিস বলল।
আতলেতা এগিয়ে গিয়ে দোকানের পিছনে কাঠের দরজায় টোকা দিল। বারকয়েক টোকা দিতে দরজা খুলে গেল। দোকানদার এসে দাঁড়াল। আতলেতার সঙ্গে তার কথাবর্ত হল। আতলেতা সৈন্যদের নিয়ে পিছন দিয়ে দোকানে ঢুকল।
ফ্রান্সিস দাঁড়িয়ে রইল। অপেক্ষা করতে লাগল।
কিছুক্ষনের মধ্যেই সৈন্যরা কাঁধে আটা ময়দা চিনির বস্তা নিয়ে দোকান থেকে বেরিয়ে এল। একটু পড়ে আতলেতার সঙ্গে বাকিরাও বেরিয়ে এল। হাঁড়ি কাঠের ছোট পাটাতন গ্লাস এসব নিয়ে। ফ্রান্সিস চাপা স্বরে বলে উঠল–জলদি চলো সব। এ এক মুহূর্ত দেরি নয়।
সবাই জিনিসপত্র নিয়ে ঝোঁপঝাড়ের মধ্যে দিয়ে বনভূমির দিকে চলল। ঝোঁপজঙ্গ লের মধ্যে দিয়ে যেতে কষ্ট হচ্ছিল। তবে ওরা তো সৈন্য। কষ্ট গায়ে মাখল না। চলল সবাই।
কিছুক্ষনের মধ্যেই বনের ধারে এসে পৌঁছল সবাই। ফ্রান্সিস পেছনে ফিরে তাকাল। রাজা কার্তিনার সৈন্যদের দেখা নেই।
আধ-ভাঙা মন্দিরঘরের এসে পৌঁছল সবাই। ফ্রান্সিস বন্ধুদের কাছে এসে বলল–সবাই যাও। উনুনের জন্যে পাথর কাঠকুটো জোগাড় করে আনন। ভোরের আগেই খাওয়া সেরে নিতে হবে। জদি।
বন্ধুরা বেশ কয়েকজন উঠে দাঁড়াল। ঘরের বাইরে বেরিয়ে এল। চলল কাঠকুঠো পাথর জোগাড় করতে।
সেসব জোগাড় করে ফিরে এল অল্পক্ষনের মধ্যেই। ফ্রান্সিস দুই রাধুনি বন্ধুকে বলল রান্নায় লেগে পড়।
জল চাই। একজন রাঁধুনি বলল। আতলেতা পাশেই দাঁড়িয়েছিল। বলল– ঝর্না আছে দুটো। হাঁড়ি নিয়ে চলো। হাঁড়ি নিয়ে একজন আতলেতার সঙ্গে বেরিয়ে গেল।
ভোরের আগেই রুটি তৈরী হয়ে গেল। চিনি দিয়ে রুটি খেল সবাই। রাজাও খেল। যাহোক ক্ষুধা তৃষ্ণা দূর হল।
ওরা খাচ্ছে তখনই গাছে গাছে পাখির ডাক শুরু হল। বোঝা গেল, ভোর হয়ে এসেছে।
ভোর হল। সবাই শুয়ে শুয়ে বসে বিশ্রাম করতে লাগল। কিছু পরেই ফ্রান্সিস উঠে দাঁড়াল। একটু উঁচু গলায় বলল–উঠে পড়ো সবাই। এখানে থাকলে আমরা ধরা পড়ে যাবো। এই মন্দিরের ঘর কার্তিনার সৈন্যরা চেনে। ভুলে যেও না আমাদের মাত্র দু’জনের হাতে তরোয়াল আছে। বাকি সবাই নিরস্ত্র। আমাদের আত্মগোপন করতে হবে।
