ওসব নিয়ে আর কি বলবো? রাজা বললেন।
প্রোমিওর কথা বলবেন। তারপর ফ্রান্সিস যা বলতে চাইছেন তা বলবেন। আতলেতা বলল।
-ঠিক আছে। প্রহরীকে বল। রাজা বললেন। আতলেতা দরজার কাছে গেল। প্রহরীকে বলল–তুমি রাজা কার্তিনাকে খবর দও যে রাজা এনিমার অতীতের এক রাজার গুপ্ত রত্ন ভান্ডারের কথা বলবেন।
–বেশ। গিয়ে বলছি। তবে রাজা কার্তিনা আসবে না। প্রহরী বলল।
দেখা যাক। আতলেতা বলল। প্রহরী চলে গেল।
অল্পক্ষনের মধ্যেই রাজা কার্তিনার এসে হাজির। পিছনে সেই প্রহরী। রাজা কার্তিনার হেসে বলল–রাজা সিয়েভোর গুপ্ত রত্নভান্ডারের কথা শুনেছি। কোথায় আছে সেই রত্নভান্ডার?
–তা বলতে পারবো না। রাজা এনিমার বলল।
–কেউ কি সেই গুপ্ত রত্নভান্ডার খোঁজার চেষ্টা করে নি? কার্তিনা বলল।
-হ্যাঁ। আমার পূর্বপুরুষদের কেউ কেউ চেষ্টা করেছেন। কিন্তু কোন হদিশ পাননি। সবশেষে চেষ্টা করেছিল এক স্পেনিয় যুবক-প্রোমিও। কিন্তু সে রহস্যজনকভাবে মারা গেছে। রাজা এনিমা বললেন।
এবার আমি খুঁজবো। কার্তিনা বলল।
-বেশ। রাজা এনিমার মাথা কাত করে বললেন। ফ্রান্সিস মৃদুস্বরে বলল– মান্যবর রাজা–আমার কথা দু’টো।
একটা কথা। আমার দুটো অনুরোধ আছে। রাজা এনিমার বললেন।
–বলুন বলুন। নিশ্চয়ই আপনার অনুরোধ রাখার চেষ্টা করবো। কার্তিনা বলল।
–বিশেষ কিছুই না। এক–মন্ত্রী মশাই বৃদ্ধ। এই কয়েদঘরের ধকল তিনি সহ্য করতে পারবেন না। তাঁকে তাঁর বাড়িতে নজরবন্দী করে রাখুন।
–বেশ তো। আর একটা অনুরোধ? রাজা কার্তিনা বলল।
–এই ঘরে যথেষ্ট জায়গা আছে। আমার বন্দী যোদ্ধাদের এইঘরে ওদের রাখুন। ওদের সঙ্গে আমি দন্ডভোগ করতে চাই। রাজা এনিমার বললেন।
-কিন্তু আপনার অত সৈন্য কি এইঘরে আঁটবে? কার্তিনা বলল।
–হ্যাঁ-হ্যাঁ। আমরা কষ্ট করেই থাকব। রাজা এনিমার বলল।
–আপনার যেমন অভিরুচি। কার্তিনা বলল। তারপর দু’জন প্রহরীর দিকে তাকিয়ে বলল–তোমরা সৈন্যাবাস থেকে দু’জন প্রহরীকে নিয়ে এসো। তারপর মন্ত্রীমশাইকে মুক্ত করে তার বাড়িতে তাঁকে নিয়ে গিয়ে রাখো। বাড়ির বাইরে সেই দু’জন প্রহরী দিনরাত পাহারা দেবে। নজর রাখবে–মন্ত্রীমশাই যেন পালাতে না পারে। মন্ত্রীকে নিয়ে প্রহরী দু’জন চলে গেল। রাজা কার্তিনা বলল–আপনি একজন স্পেনীয় যুবক প্রোমিওর কথা বলছিলেন। সে কী ভাবে গুপ্তধন খুঁজেছিল?
–প্রোমিও একটা বইমত লিখে গেছে–জনৈক জলদস্যুর কাহিনী। যে সরাইখানা প্রোমিওর আকস্মাৎ মৃত্যু হয়েছিল বইটা সেখানেই পাওয়া গিয়েছিল। সেই বইতে ওর গুপ্তধন খোঁজার কথা লেখা আছে। রাজা এনিমার বললেন।
-কোথায় আছে সেই বই? রাজা কার্তিনা বললেন।
–আমার পাঠকক্ষে। বই নিন পড়ন। কিন্তু দোহাই-হারাবেন না। যথাস্থানে রেখে দেবেন। রাজা এনিমার বলল।
–নিশ্চয়ই। রাজা কার্তিনা ঘাড় নেড়ে বলল। তারপর কিছু না বলে চলে গেল।
ফ্রান্সিস গুপ্তধনের কথা এই প্রথম শুনল। ও সমস্ত কাহিনীটা জানতে আগ্রহী হল। কিন্তু বইটা তো এখন পাওয়া যাবে না। অগত্যা অপেক্ষা করতে হবে। এখন ভাবতে হবে মুক্তির কথা। ও মনকে তাই বোঝাল।
পরের দিন সকালেই রাজা এনিমার বন্দী সৈন্যরা দল বেঁধে এল। রাজা কার্তিনার সৈন্যরা ওদের পাহারা দিয়ে নিয়ে এল। তারা সংখ্যায় খুব বেশি না হলেও কয়েদঘরে গাদাগাদি ভিড় হল। অসুস্থ শাঙ্কোরই কষ্ট হল বেশি। ওর পিঠের ক্ষত। ভেনের ওষুধে এখন শুকিয়ে যাবার মুখে। তবে এরকম গাদাগাদি করে থাকা। হ্যারি শরীরের দিক থেকে বরাবরই দূর্বল। ওরও কষ্ট হতে লাগল।
ফ্রান্সিস ওদের কাছে এল। বলল–দু’একটা দিন কষ্ট করে থাকো। এরমধ্যেই পালাবো। রাজা এনিমারের সৈন্যরা আসায় আমাদের যোদ্ধা সংখ্যা বাড়ল। পালাতে সুবিধে হবে। সৈন্যবাসে গিয়ে ঐ বন্দীদের আমরা মুক্ত করতে পারতাম না। এখান থেকে মুক্তি হওয়া অনেক সহজ। ছক কষা হয়ে গেছে। এখন কাজে লাগানো।
পরের দিনটা ফ্রান্সিস প্রায় শুয়ে শুয়ে কাটাল। সর্বক্ষণ পালাবার ছকটাই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ভাবল। পালানোর ছক নিখুঁত হওয়া চাই।
সন্ধ্যেবেলা আতলেতা আর বিনেলোকে কাছে ডাকল। আতলেতাকে বলল তোমাদের অস্ত্রাগারটা কোথায়?
–এই কয়েদঘরের ওপাশে রাজার পাঠকক্ষ। তারপরের ঘরটাই অস্ত্রগার।
–ঠিক আছে। এবার বিনেলোকে বলল–শাঙ্কো অসুস্থ। এসব কাজে শাঙ্কোই আমার বড় ভরসা ছিল। যাহোক তোমাকে যা বলছি তা শাঙ্কোরই মতই করতে হবে। সব কাজ যত দ্রুত সম্ভব সারতে হবে। তারপর ফ্রান্সিস আস্তে আস্তে পালাবার ছকটা বুঝিয়ে দু’জনকে বলল। বিনেলোক চাপাস্বরে গা বলে উঠল–সাবস্ ফান্সিস। ফ্রান্সিস মৃদু হাসল। বলল–সাফল্য নির্ভর করছে তোমাদের তৎপরতার ওপর আর আমাদের সাহসের উপর।
এবার ফ্রান্সিস হ্যারিকে ডাকল। সব বলল। হ্যারি বলল–তোমার পরিকল্পনা নিখুঁত।
তারপর ফ্রান্সিস চারজন বন্ধুকে ডাকল। ওরা কাছে এলে বলল–তোমরা কোমরেব ফেট্টি খুলে সিনাত্রার হাতে দাও। চারজনই ফেট্টি খুলে সিনাত্রাকে দিল।
–এ ব্যাপারে রাজাকে কিছু বলবে না? আতলেতা জানতে চাইল।
–না এসব শুনে রাজার দুশ্চিন্তা বেড়ে যাবে। ফ্রান্সিস বলল–
–রাজাকে নিশিন্তে থাকতে দাও। বিনেলো শাঙ্কোর কাছ থেকে ছোরাটা নিয়ে রাখলো। শাঙ্কোকে ছোরাটা বের করে দিল।
রাত হল। ফ্রান্সিস কয়েকজন নিয়ে তৈরি হল।
