-বেশ। চলো। আতলেতা বলল।
দু’জনে রাজা এনিমার কাছে এল। আতলেতা ফ্রান্সিসদের সম্পর্কে সব কথাই বলল। ফ্রান্সিসের দিকে তাকিয়ে রাজা এনিমার বলল–তোমাদের দেখেই বুঝেছি তোমরা বিদেশী। তোমাদের শাস্তি দেওয়া হবে এটা ভেবেও আমার কষ্ট হচ্ছে।
–মহামান্য রাজা–আমরা নির্বিঘ্নে পালাবো। আপনি নিশ্চিন্তে থাকুক। ফ্রান্সিস মৃদুস্বরে বলল। রাজা এনিমার কিছুক্ষণ অবাক চোখে তাকিয়ে রইলেন। কিছু বললেন না।
–শুধু এদের খাওয়ার দেওয়ার ব্যবস্থা আর পাহারা দেওয়ার অবস্থাটা দেখতে দিন। মুশকিল হয়েছে আমার এক বন্ধু আহত। এসব ব্যাপারে আমি তার ওপর খুব নির্ভর করি। যাইহোক আর কোন বন্ধুকে নিয়েই সেই কাজটা করতে হবে। ফ্রান্সিস বলল।
–কিন্তু রাজা কার্তিনা খুব ধুরন্ধর লোক। পাহারায় কোন গাফিলতি রাখবে না। এনিমার একটু নিম্নস্বরে বলল।
–তাহোক। অনেক কড়া পাহাড়া থেকে আমরা এর আগে পালিয়েছি। এখন সময় আর সুযোগ বুঝে নেওয়া। ফ্রান্সিস বলল।
–দেখো–যদি পারো। একটু হতাশভঙ্গীতেই রাজা এনিমার বললেন।
–আপনি একজন সত্যিকারে মহানুভব রাজা। ফ্রান্সিস বলল।
–মহারাজা আমাদের সন্তানতুল্য দেখেন। আতলেতা বলল।
–সেইজন্যে আমি স্থির করেছি আপনাদের যোদ্ধাদের সঙ্গে মিলে আমরাও আপনাকে মুক্ত করতে আর আপনার রাজত্ব আপনাকে ফিরিয়ে দিতে রাজা কার্তিনার বিরুদ্ধে লড়াই করব।
রাজা কার্তিনার সৈন্য সংখ্যা কিন্তু কম নয়। রাজা বললেন।
–আমরা চোরাগোপ্তা আক্রমন করে ওদের নাজেহাল করে ছাড়বো। ফ্রান্সিস বলল। রাজা এনিমার আর কিছুই বলল না। ফ্রান্সিস নিজের জায়গায় চলে এল। হ্যারি এগিয়ে এসে বলল–রাজার সঙ্গে কী কথা হল? ফ্রান্সিস আস্তে আস্তে সব কথা বলল।
–আবার লড়াইয়ে নামব? হ্যারি প্রশ্ন করল।
–আত্মরক্ষার ব্যবস্থা করেই লড়াই চালাবো। রাজা এনিমার সম্পর্কে সব তো শুনলে। এরকম একজন মানুষের জন্যে একটু করব না? ফ্রান্সিস বলল।
দুপুর হল। দু’জন পাহারাদার কাঠের গামলায় খাবার দাবার নিয়ে এল। সবার সামনে একটা করে গাছের লম্বাটে পাতা একজন প্রহরী পেতে দিল। তারপর অন্যজনের সঙ্গে মিলে খাবার দিতে লাগল। আধপোড়া রুটি আনাজপাতির ঝোল আর সমাদ্রিক মাছের ঝোল মত। ফ্রান্সিসরা পেট পুরে খেয়ে নিল। শুধু শাঙ্কো খেতে পারছিল না। ফ্রান্সিস ওকে জোর করে খাওয়াল। রাজাও নিঃশব্দে একই খাবার খেলেন। বন্দীদের জন্য রান্না করা খাবার রাজা কখনও খাননি। কিন্তু এই খাবার খেলেন। তাঁর বিরক্তির কোন কারন নেই। নিজের জীবনে এই আকস্মিক দুরবস্থা সরল মনেই মেনে নিয়েছেন। এটা ফ্রান্সিসের খুব ভাল লাগল। যখন খাবার খাচ্ছিল তখন লক্ষ্য করছিল দু’জন প্রহরী বর্শা হাতে দরজায় পাহারা দিচ্ছে। আর দু’জন যোদ্ধা খোলা তরোয়াল হাতে এদিক ওদিক ঘুরে পাহারা দিচ্ছে। বোঝাই যাচ্ছে পাহারায় কোন ঢিলেমি নেই।
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে হল। আতলেতা ফ্রান্সিসের কাছে এল। বলল–রাজা এনিমার বলছিলেন পালানোর ব্যাপারে তুমি কিছু ভেবেছো কিনা।
–রাজার কাছে চলো। রাজার সঙ্গে কথা আছে। ফ্রান্সিস বলল। তারপর হ্যারিকে ডেকে নিয়ে রাজার কাছে এল। রাজা দেওয়াল ঠেস দিয়ে চোখ বুজে বসেছিলেন। পাশে মন্ত্রী।
–মান্যবর রাজা–আপনার সঙ্গে কয়েকটা কথা আছে।
–বলো। চোখ খুলে রাজা বললেন।
–আপনি রাজা কার্তিনার সঙ্গে কথা বলুন। ফ্রান্সিস বলল।
–আমি মুক্তিভিক্ষা করব না। রাজা বলল।
আমাকে ভুল বুঝবেন না। সেসব কথা বলতে বলছি না। দু’টো কথা আপনি বলবেন–এক মন্ত্রী বৃদ্ধ মানুষ। তিনি কোনভাবেই রাজা কার্তিনার কোন ক্ষতি করতে পারবেন না। তাকে তার বাড়িতে নজরবন্দী করে রাখা হোক। কয়েদঘরের কষ্ট তিনি সহ্য করতে পারবেন না। ফ্রান্সিস বলল।
বেশ। আর কি নিয়ে কথা বলবে? রাজা বললেন।
–দুই–বন্দরের জাহাজ থেকে বেশকিছু নাবিক ও জাহাজীকে বন্দী করে এই কয়েদঘরে রাখা হয়েছিল। তারা মুক্তি পেয়ে চলে গেছে। এখন এই বড় কয়েদঘরে আপনার বন্দী যোদ্ধাদের বন্দী করে রাখা হোক অর্থাৎ আমরা ঐ যযাদ্ধাদের সঙ্গেই শাস্তি ভোগ করতে চাই। ফ্রান্সিস বলল।
-কিন্তু এই ঘরে অত সৈন্য-থাকতে অসুবিধা হবে না? রাজা বললেন।
–তা হবে। কিন্তু আমাদের সেটা মানিয়ে নিতে হবে। এসব বলছি এই জন্যে যে আমাদের একটা পরিক্লপনা আছে। দু’একদিন আমাদের সবাইকে একটু কষ্ট স্বীকার করতে হবে। ফ্রান্সিস বলল।
–বেশ। কথা বলব। তবে কথা রাখবে কিনা জানি না। রাজা বলল।
–রাখবে। কারন এসবের জন্যে তার কোন ক্ষতি হবে না। তাহলে কাল সকালে রাজসভায় গিয়ে–ফ্রান্সিস কথা শেষ করতে পারল না।
– না। এখানেই আসতে বলল। রাজা বললেন।
–বেশ। তাই বলুন। ফ্রান্সিস বলল।
ফ্রান্সিস দরজার কাছে গেল। একজন প্রহরীকে ডেকে বলল–এসো। রাজা এনিমার রাজা কার্তিনার সঙ্গে কথা বলবেন। রাজা কার্তিনাকে খবর পাঠাও।
–রাজা কার্তিনা কি দেখা করবেন? প্রহরী বলল।
–তুমি একবার বলে তো দেখ। ফ্রান্সিস বলল।
–দেখি বলে। প্রহরী কথাটা বলে চলে গেল। কিছুক্ষণ পরে ফিরে এসে বলল–রাজা কার্তিনা দেখা করবে না। ফ্রান্সিস বেশ হতাশ হল। অথচ যে দুটি ব্যাপার নিয়েও কথা বলবে ভেবেছিল সেসব অবশ্যই করাতে হবে।
এবার আতলেতা এগিয়ে এল। বলল–রাজা কার্তিনা যাতে কথা বলতে আসে আমি তার ব্যবস্থা করছি। ও রাজা এনিমারকে বলল–মান্যবর রাজা আপনি অতীতের রাজা সিয়াভোর গুপ্ত রত্নভান্ডারের কথা বলবেন এই খবর পাঠান। দেখবেন লোভী রাজা কার্তিনা ছুটে আসবেন।
