রাজা আসারিয়া সারারাত ঘুমোন নি। জেগে বসে ছিলেন। তাঁরও চিন্তার শেষ নেই। তিনি ভাইকিংদের ঢুকতে দেখলেন। একটু আশ্বস্ত হলেন। যোদ্ধার সংখ্যা বাড়ল। সবুজ রাজাকে হার স্বীকার করাতেই হবে। নিজেকে রানিকে মুক্ত করতে হবে।
সকাল হল। রাজার সৈন্যরা ভাইকিংরা গুহার পাথুরে মেঝেয় শুয়ে বসে আছে।
ফ্রান্সিস ঘুম ভেঙে দেখল রক্ষীটি নেই। রক্ষীটি ওর কাছেই শুয়ে ছিল। ও রাজাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করল–রক্ষীটি কোথায়? ও তো অসুস্থ ছিল।
শেষ রাতে পালিয়েছে। অবশ্য তাকে দোষ দেওয়া যায় না। কী করে খবর পেয়েছে ওর একমাত্র ছেলেকে সবুজ রাজার সৈন্যরা হত্যা করেছে। রাজা বললেন।
সকালের খাবার খাওয়ার পর ফ্রান্সিস উঠে দাঁড়াল। গলা চড়িয়ে বলল–ভাইসব, আমি আর শাঙ্কো সবুজ রাজার সৈন্যদের কাছে ধরা দেবো। তোমরা আমাদের পেছনে পেছনে বনের শেষে এসে গাছের আড়ালে অপেক্ষা করবে। সবুজ রাজার কিছু সৈন্য যাতে বনের মধ্যে ঢোকে আমি সেই ব্যবস্থা করবো। তারা সংখ্যায় কম হবে। তোমরা এ বনের আড়াল পাবে। সেই সৈন্যদের হারাতে হবে। জোর লড়াই চালাবে। তারপর রাজবাড়ি আক্রমণ করবে। সবাই উঠে তৈরি হয়ে নাও।
ফ্রান্সিসের কথা শেষ হতে রাজার সৈন্যরা ভাইকিং বন্ধুরা উঠে দাঁড়াল। তৈরি হয়ে কোমরে তরোয়াল গুঁজে নিল। ফ্রান্সিস রাজাকে বলল–মান্যবর আপনি এখানেই থাকুন। রাজা উঠে দাঁড়িয়ে বললেননা। বিপদের মুখে তোমরা যাচ্ছে। আমিও যাবো।
বেশ চলুন। কিন্তু সঙ্গে তরোয়াল নিন। আপনাকেও হয়তো লড়তে হতে পারে। ফ্রান্সিস বলল। রাজা তার তরোয়ালটা কোমরের খাপে ভরে নিলেন।
এবার সবাই আস্তে আস্তে গুহা থেকে বেরিয়ে এল। প্রায় অন্ধকার বনের মধ্যে দিয়ে চলল সবাই।
বনের শেষ প্রান্তে পৌঁছল সবাই। ফ্রান্সিস শাঙ্কোকে নিয়ে বন থেকে বেরোতে যাবে তখন হ্যারি মৃদুস্বরে বলল–শুনলাম সবুজ রাজা নৃশংস। তোমাদের কোন বিপদ–তরোয়াল নাও।
–কিছছু ভেবো না। আমার ছক কষা হয়ে গেছে। জয় আমাদের হবেই। ফ্রান্সিস হ্যারিকে আশ্বস্ত করল। তরোয়াল ছাড়াই দুজনে চলল।
দুজনে বন থেকে বেরিয়ে রাস্তায় উঠল। চলল রাজবাড়ির দিকে। এ সময়ই সবুজ রাজাকে রাজসভায় পাওয়া যাবে।
রাজবাড়ির কাছাকাছি আসতেই সবুজ রাজার কয়েকজন প্রহরী ওদের দেখতে পেল। ওরা ছুটে এসে ওদের দুজনকে ঘিরে ধরল। ফ্রান্সিস দুহাত তুলে বলে উঠল আমরা নিরস্ত্র। তরোয়াল চালিও না। আমাদের সবুজ রাজার কাছে নিয়ে চল। রাজার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে।
-কী কথা? একজন প্রহরী জিজ্ঞেস করল।
–সেটা রাজাকেই বলবো। নিয়ে চলো। ফ্রান্সিস বলল।
সবুজ রাজা কাঠের সিংহাসনে বসে আছে। সভাকক্ষে খুব ভিড় নেই। একপাশে কয়েকজন প্রহরী দাঁড়িয়ে আছে। তরোয়াল কোষবদ্ধ। লড়াইয়ে জিতে গেছে। কাজেই ওরা নিশ্চিন্ত।
বন্দী ফ্রান্সিস আর শাঙ্কোকে দেখে সবুজ রাজা হেসে উঠল। বলল–ধরা পড়েছো তাহলে? ফ্রান্সিসরা কোন কথা বলল না।
–এবার আর তোমাদের রেহাই নেই। ফাঁসিতে লটকাবোই। আমার দুজন সৈন্যকে তোমরা হত্যা করে পালিয়েছো। রাজা বলল।
–আমরা হত্যা না করলে ওরা আমাদের হত্যা করতো। আপনার সৈন্যরা। আপনার মতই। বন্দী-টন্দী বোঝে না। সোজা মেরে ফেলে। ফ্রান্সিস বলল।
–এই দোষারোপের জন্যে এক্ষুণি তোমাকে মেরে ফেলতে পারি, তা জানো? সবুজ রাজা বেশ রেগেই বলল।
–তার আগে একটা গুরুত্বপূর্ণ খবর দিতে এসেছি। ফ্রান্সিস বলল।
–কী খবর? সবুজ রাজা সাগ্রহে জিজ্ঞেস করল।
–রাজা আসিরিয়া তার সেনাপতি সৈন্যদের নিয়ে কোথায় আশ্রয় নিয়েছে তা, আমরা দেখেছি। ফ্রান্সিস বলল। সবুজ রাজা বেশ চমকে উঠল। বলল–কোথায়?
তার আগে বলুন সেটা জানালে আমাদের মুক্তি দেবেন। ফ্রান্সিস বলল।
–সে পরে দেখা যাবে। সবুজ রাজা বলল।
–তাহলে আমরাও সে সংবাদ দেব না। ফ্রান্সিস বলল।
–চাবুক মেরে খবর বের করবো। সবুজ রাজা গলা চড়িয়ে বলল।
শাঙ্কো মৃদুস্বরে ডাকলো–ফ্রান্সিস? ফ্রান্সিস একটু ভাবলো। বলল
–ঠিক আছে। বলছি। ঐ বনের মধ্যে রাজা আসিরিয়ার একটা ঘর আছে।
–ঘর? বনের মধ্যে? সবুজ রাজা বলল।
–হ্যাঁ। সেই ঘরে রাজা আসিরিয়া সেনাপতি আর সৈন্যদের নিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। ফ্রান্সিস বলল।
বলো কি। সবুজ রাজা সেনাপতির দিকে তাকাল। সেনাপতি সঙ্গে সঙ্গে আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। বলল–আমি সৈন্য নিয়ে এক্ষুণি যাচ্ছি।
–বেশি সৈন্য নিয়ে যাবেন না। এখানে রাজবাড়িতেও তো সৈন্য রাখতে হবে। ফ্রান্সিস মৃদুস্বরে বলল।
–সেনাপতি বেশ রেগে গেল। বলল–তুমি লড়াইয়ের কী বোঝ?
–তা ঠিক। ফ্রান্সিস মাথা নেড়ে বলল। শাঙ্কো মৃদু হাসল। সেনাপতি বলছে ফ্রান্সিস লড়াইয়ের কিছু বোঝে না। সেনাপতি ছুটে চলে গেল।
তখনই কয়েকজন প্রহরী সেই রক্ষীটিকে নিয়ে এল। তার পোশাক ঘেঁড়া। সারা গায়ে পিঠে চাবুকের দাগ। পিঠটা যেন ফুলে উঠেছে। গায়ে পিঠে জমাট রক্ত। ফ্রান্সিস আর তাকিয়ে দেখতে পারল না। মাথা নিচু করল।
–অ্যাই? কী হয়েছে তোর? সবুজ রাজা ব্যঙ্গ করে বলল।
রক্ষীটি গোঙাতে গোঙাতে বলল–আপনার-সৈন্যরা–আমার একমাত্র ছেলেটাকে।
–মেরে ফেলেছে? সবুজ রাজা গলা চড়িয়ে বলল।
রক্ষী মাথা ওঠানামা করল। ফ্রান্সিস স্থির থাকতে পারল না। বলে উঠল–এ ভাবে মেরে ফেলা–হ্যাঁ সবুজ রাজা চিৎকার করে উঠল–চো। ফ্রান্সিস তবু বলল–ছেলেটাকে মারা হল। একেও বিনা দোষে এভাবে চাবুক
