–হ্যাঁ। রাজা অ্যালবার্ট তাঁর বইতে এইস্ফাখনির কথা উল্লেখ করে গেছেন। দুর্গ নির্মাণ করা হয়েছে সেই স্ফাখনির ওপরেই। উনি দক্ষিণ দেশ থেকে কয়েকজন স্ফাখনি বিশেষজ্ঞ আনিয়েছিলেন। তারা স্ফরেণু জড়ানো পাথর থেকে সোনা গলিয়ে সোনার মণ্ড তৈরি করেছিল। সেসব তিনি আর ওপরে নিয়ে আসার সময় পান নি। তার আগেই তার মৃত্যু হয়।
-তাহলে তো সোনার মণ্ড সোনার খনি এই ভাঙা দূর্গের নীচেই রয়েছে? ফ্রান্সিস। জানতে চাইল।
–হ্যাঁ। সেই স্বর্ণখনিই খুঁজে বের করতে হবে। রাজা অ্যালবার্টের গুপ্ত ধনভাণ্ডার বলে কিছু নেই। সামুছা বললেন।
–আশ্চর্য! আমরা তো ধনভাণ্ডারের কথাই শুনেছি। ফ্রান্সিস বলল।
-ওটাই প্রচলিত গল্প। আমি স্বর্ণখনির কথা কাউকে বলিনি। তোমাদেরই প্রথম বললাম সামুছা।
ফ্রান্সিস মাথা নীচুকরে কিছুক্ষণ ভাবল। তারপর মাথা তুলে বলল–স্বর্ণখনি সম্পর্কে রাজা অ্যালবার্ট তার বইতে কিছু লিখেছেন?
না। যা বললাম শুধু সেইটুকু। সামুছা বললেন।
–ঠিক আছে। কালকে সকাল থেকে আমি কাজ শুরু করবো। ফ্রান্সিস বলল।
–লোকজনের দরকার হলে বলবেন। সামুছা বললেন।
না। আমার বন্ধুদের সাহায্য নেব। সমস্ত ভাঙা দুৰ্গটা ভালোভাবে দেখতে হবে। ফ্রান্সিস বলল।
পরের দিন সকাল থেকেই ফ্রান্সিস হ্যারি আর শাঙ্কো কাজে নেমে পড়ল।
ওরা ঘুরে ঘুরে ভাঙা দুৰ্গটা দেখতে লাগল। কোথাও কোথাও পাথর আলগা বলে ফ্রান্সিসরা বারকয়েক আলগা পাথরে পা রেখে হড়কে যাচ্ছিল। কোথাও পায়ের চাপে আলগা পাথর নীচে গরগর করে গড়িয়ে গেল। অগত্যা সাবধানে পা ফেলে ফেলে ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগল।
তখনই সামুছা এলেন। ফ্রান্সিসরা তখন দূর্গের ভাঙা ছাদে দাঁড়িয়ে। সামুছা গলা চড়িয়ে বললেন–পূবদিকে যাবেন না। ওখানে সব আলগা পাথর। গড়িয়ে নীচে পড়ে যাবেন।
ফ্রান্সিসরা পূবদিকে গেল না। অন্য দিকগুলো ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগল।
–ভাঙা দূর্গের দেওয়াল যেমন হয়। ভাঙা পাথরের স্তূপ। এটাও তেমনি নতুনত্ব কিছু নেই। শাঙ্কো বলল।
-হু। ফ্রান্সিস মুখে শব্দ করল। তারপর বলল-বোঝা যাচ্ছে অনেকগুলো ঘর ছিল আর বেশ বড় বড় ঘর। একটা লম্বাটে ঘর দেখলাম। তার দেওয়ালে এখনও কয়েকটা কড়া ঝুলছে। তার মানে কয়েদঘর। রাজা অ্যালবার্ট শাস্তির ব্যবস্থাও রেখেছিলেন।
ওরা ভাঙা দূর্গ থেকে নেমে এল।
–তাহলে দেখলেন সব। সামুছা বললেন।
–হ্যাঁ। তবে প্রাথমিকভাবে। এবার ঘরগুলো দেখতে হবে। আমাদের দেখতে হবে মেঝে। খনি ওপরে থাকে না। ফ্রান্সিস বলল।
–তা ঠিক। যাক গে এখন আর জাহাজে ফিরে যাবেন না। আমি এখানেই আপনাদের খাওয়ার ব্যবস্থা করছি। সামুছা বললেন।
দুপুরে সামুছার খাবার ঘরে ওরা খেতে বসল। পাংলু আর একটি কৃষ্ণকায় মেয়ে ওদের খেতে দিল। চিংড়িমাছের খাবারটা ওদের খুব সুস্বাদু লাগল। ওরা চেয়ে খেল। খেতে খেতে হ্যারি বলল–আপনার কাছে একটা অনুরোধ ছিল।
–বলুন। সামুছা বলল।
রাজা আলফ্রেডের লেখা বইটা একটু দেবেন? হ্যারি বলল।
–পড়তে পারবেন? পুরোনো স্পেনীয় ভাষায় লেখা। সামুছা বললেন।
–আমি স্পেনীয় ভাষা অল্প জানি। পড়তে চেষ্টা করবো। তাছাড়া ছবিটবি থাকলে দেখবো। হ্যারি বলল।
–ছবি আছে। তবে সে সব নানা জাতের ফুলের ছবি। সামুছা বললেন।
–তাহলে রাজা অ্যালবার্ট ফুল ভালোবাসতেন। হ্যারি বলল।
–হ্যাঁ। তার বিরাট ফুলের বাগান ছিল। সামুছা বললেন।
খাওয়াদাওয়া শেষ। ফ্রান্সিসরা বাইরের ঘরে এসে বসল। সামুছা এলেন। তাক থেকে চামড়া বাঁধানো বেশ বড় একটা বই টেবিলে রেখে বললেন বইপড়ুন। সামুছা বই দিয়ে চলে গেলেন।
ফ্রান্সিস চেয়ারে বসেছিল। উঠে দাঁড়াল। বলল
–দেরি করবো না। চলো।
—আমি বইটা দেখছি। তোমরা যাও। হ্যারি বলল।
ফ্রান্সিস আর শাঙ্কো ভাঙা দুর্গে এল। এবার ফ্রান্সিস ভাঙা ঘরগুলো দেখতে লাগল। সবই ভাঙা। কয়েকটিকে ঘর বলে মনে হয় এই পর্যন্ত।
দুজনে ঘুরে ঘুরে ভাঙা ঘরগুলো দেখতে লাগল। ঘরগুলোর বৈশিষ্ট্য কিছু নেই। চারকোনা ঘর। প্রায় সবগুলো ঘরই দেখা হল। কিন্তু পূর্বদিকের ঘরগুলো দেখা হল না। ওদিকটা একেবারেই ভেঙে পড়েছে। ঢোকার পথ নেই। সামুছা এইজন্যেই বোধহয় পূবদিকে যেতে বারণ করেছিল।
ফিরে এল দুজনে।
হ্যারি তখনও বইটা দেখছে।
–কিছু তথ্য পেলে? ফ্রান্সিস জানতে চাইল।
–যতটুকু পড়তে পারলাম স্ফাখনি সম্পর্কে সামুছা যা বলেছে তাই। বেশি কিছু নেই। তবে একটা অদ্ভুত ব্যাপার লক্ষ্য করলাম প্রায় সব পাতায় বিভিন্ন জাতের ফুলের ছবি।
সামুছা তো বলল–উনি ফুল ভালোবাসতেন। ফ্রান্সিস বলল।
–প্রথম পাতাতেই একটা বিরাট ত্রিভুজ এঁকেছেন। মা মেরিই জানে কেন এঁকেছেন। তার মধ্যেও ফুল।
–ত্রিভুজের মধ্যে ফুল? ফ্রান্সিস বেশ চমকে উঠল।
–মনে হয় রাজা অ্যালফ্রেডের কোন ত্রিকোন বাগান ছিল। হ্যারি বলল।
–হতে পারে। তবে ফ্রান্সিস কথাটা শেষ করল না।
–ত্রিকোণ বাগানের এক কোণায় ফুল। হ্যারি বলল।
–উঁহু। এই ফুল আঁকার গুরুত্ব আছে। ফ্রান্সিস বলল।
তুমি কি ফুলটাকে গুরুত্ব দিচ্ছো? হ্যারি বলল।
–হ্যাঁ। তবে এখনও নিশ্চিন্ত নই। মনে করছি ফুলটা কোন কিছু নির্দেশ করছে। ফ্রান্সিস বলল।
কী নির্দেশ করছে? হ্যারি জানতে চাইল।
–সেটাই বুঝতে পারছি না। ত্রিকোণ ছবিটা দেখি। ফ্রান্সিস বলল।
