সামুছার বাড়ির দরজায় ফ্রান্সিস আঙ্গুল দিয়ে টোকা দিল। একটু পরেই দরজা খুলে গেল। পাংলুদাঁড়িয়ে। ফ্রান্সিস এখানে আসবে এটা পাংলু ফ্রান্সিসের কথা থেকে জেনেছিল। ও খুব অবাক হল না। হাসতে হাসতে ফ্রান্সিসের দুহাত জড়িয়ে দরজা খুলে ধরল। ফ্রান্সিস হেসে বলল–কেমন আছো পাংলু। পাংলু ওর দেশীয় ভাষায় কী বলে গেল ফ্রান্সিস কিছুই বুঝল না। তবে এটুকু বুঝল যে পাংলু ভালোই আছে।
এবার ফ্রান্সিস আকারে ইঙ্গিতে কর্তাকে ডেকে দিতে বলল। পাংলু চলে গেল।
কিছু পরে সামুছা দরজায় এসে দাঁড়াল। মুখে কঁচাপাকা দাড়িগোঁফ। বেশ রোগাটে চেহারা। তবে চোখদুটো খুব বুদ্ধিদীপ্ত। মাথার কাঁচাপাকা চুলে একবার হাত বুলিয়ে নিয়ে সামুছা বললেন–আপনারা কী চান? আপনারা তো বিদেশী।
হ্যাঁ। আমরা ভাইকিং। একটা ব্যাপারে আপনার সঙ্গে কথা বলতে এসেছি। ফ্রান্সিস বলল।
–বেশ। বলুন। সামুছা বললেন।
–এখানে নয়। একটু বসে কথা বলতে চাই। ফ্রান্সিস বলল।
–খুব দরকারি কথা? সামুছা বললেন।
–হ্যাঁ। খুব গুরুত্বপূর্ণ কথা। ফ্রান্সিস বলল।
সামুছা পেছন ফিরে বললেন–আসুন।
একটা ছোট ঘরে ঢুকল সবাই। গদীওয়ালা কয়েকটা চেয়ার। পাথরের দেয়ালে পাথরের পাটাতন পেতেই কিছু চামড়ার বই সাজানো। মাঝখানে একটা চৌকোনো টেবিলমত। সামনের চেয়ারটায় গদী নেই। সাধারণ কাঠের চেয়ার। সামুছা ওটাতেই বসলেন। ফ্রান্সিসরা গদী আঁটা চেয়ারে বসল।
ফ্রান্সিস একবার চারদিকে দেখে নিয়ে বলল–আমার নাম ফ্রান্সিস।
–ও। সামুছা মুখে শব্দ করলেন।
–আমরা শুনেছি যে আপনি রাজা আলফ্রেডের গুপ্ত ধনভাণ্ডার আবিষ্কারের জন্যে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফ্রান্সিস বলল।
ভুল শুনেছেন। সামুছা বললেন।
–না। ভুল শুনিনি। ফ্রান্সিস বলল।
–কথাটা যে সত্যি এটা কী জন্যে মনে করছেন। সামুছা বললেন।
–আপনি আমারগো বন্দর থেকে এতদূরে একা একা এই বাড়িতে নির্জন জায়গায় দিন কাটাচ্ছেন কেন? ফ্রান্সিস বলল।
–বেশি লোকজন আমি একেবারে পছন্দ করি না। সামুছা বললেন।
–তাহলে রোববার রোববার রাতে রাজা আলফ্রেডের ঐ ভাঙা দূর্গে যান কেন? ফ্রান্সিস বলল।
-কে বলল? সামুছা একটু চমকালেন।
–তা বলবো না। সত্যি কিনা তাই বলুন। ফ্রান্সিস বলল।
–হ্যাঁ যাই। ঘুরে ফিরে দেখি। সামুছা বললেন।
–এটা একটা যুক্তি হল? গভীর রাতে মশাল হাতে একটা ভাঙা দূর্গে ঘুরে বেড়ানো বিনা কারণে? ফ্রান্সিস বলল।
-হ্যাঁ। সামুছা মাথা ঝাঁকিয়ে বলল।
না। আপনি গুপ্তধন ভাণ্ডারের কোন সূত্র পান কিনা তাই দেখে বেড়ান। ফ্রান্সিস বলল।
সামুছা বুঝল যুক্তিতে তিনি হেরে যাচ্ছেন। একটু চুপ করে থেকে বললেন–বেশ যদি খুঁজেই থাকি তাতে আপনাদের কী?
–কিছুই না। গুপ্ত ধনভাণ্ডার যে কেউ খুঁজতে পারে। ফ্রান্সিস বলল।
সামুছা এবার আঙ্গুল দিয়ে তাকের চামড়ার বইগুলো দেখালেন। বললেন– ঐ বইয়ের একটাতে রয়েছে রাজা আলফ্রেডের নিজের লেখা তার জীবনী।
–তাহলে তো আপনি অনেক তথ্য পেয়েছেন। ফ্রান্সিস বলল।
না। গুপ্ত ধনভাণ্ডার নিয়ে রাজা আলফ্রেড একটি কথাও লেখেন নি। যাক গে। অনেক কষ্টে বইটা জোগাড় করেছিলাম কিন্তু আমার কোন কাজেইলাগল না। সামুছা বললেন।
ফ্রান্সিস কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর বলল
এবার আমার কথা বলি। আমি এর আগে অনেক গুপ্তধন বুদ্ধি খাটিয়ে পরিশ্রম করে খুঁজে বের করেছি। আমার খুব ইচ্ছে যে রাজা অ্যালবার্টের গুপ্তধনও খুঁজে বের করি।
-কেন? সামুছা জানতে চাইলেন।
–এমনি। আমি এসব কাজ ভালোবাসি তাই। ফ্রান্সিস বলল।
–বেশ। খুঁজে বের করলেন। তারপর? সামুছা বললেন।
–সেই গুপ্তধন যার প্রাপ্য তাকে দিয়ে চলে আসি। ফ্রান্সিস বলল।
–রাজা অ্যালবার্টের গুপ্তধন কার প্রাপ্য? সামুছা বললেন।
–কেন–আপনার। ফ্রান্সিস বলল।
–আপনি কোন অংশ নেবেন না? সামুছা জানতে চাইলেন।
না। গুপ্তধনের প্রতি আমার কোন লাভ নেই। ফ্রান্সিস বলল। সামুছা বেশ চমকে উঠল। এন্টু চুপ করে থেকে বললেন সত্যিই আপনি কিছু চাইবেন না? ফ্রান্সিস মাথা নেড়ে বলল
–না।
–ঠিক আছে। আমি একটু ভেবে দেখি। আপনারা কাল সকালে আসুন। সামুছা। বললেন।
ফ্রান্সিসরা উঠে দাঁড়াল।
বাড়ির বাইরে এল। পিংলা ছুটে এল। ফ্রান্সিসদের দিকে তাকিয়ে হাসল। ফ্রান্সিসও হাসল। কিছু বলল না। বললেও পাংলু বুঝবে না।
ফেরার পথে হ্যারি ডাকল–ফ্রান্সিস।
-বলো। ফ্রান্সিস শাঙ্কোর দিকে তাকাল।
–গুপ্তধন উদ্ধারে সামুছা কি তোমার সাহায্য নেবে? শাঙ্কো বলল।
আলবাৎ নেবে। আমার পিঠে চড়ে সামুছা গুপ্তধন হাতাবার তালে আছে।
–এটা ঠিক গুপ্তধন উদ্ধার হলে ওরই লাভ। শাঙ্কো বলল।
–সেটা ও ভালো করেই জানে। ফ্রান্সিস বলল।
পরের দিন সকালে ফ্রান্সিসরা আবার সামুছার বাড়িতে গেল। তার আগে বন্ধুদের সব কথা বলে গেল।
গতকালের মত পাংলুই দরজা খুলল। ফ্রান্সিসদের বসার ঘরে বসিয়ে গেল।
সামুছা এলেন। চেয়ারে বসল। বললেন–ভেবে দেখলাম আমি তো দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও গুপ্তধন আবিষ্কার করতে পারলাম না। ভাবছি তোমাদের সাহায্য নেব। ফ্রান্সিস কোন কথা বলল না। সামুছা এবার বললেন–যে কথাটা কেউই জানে না সে কথাটাই। বলছি। গুপ্ত ধনভাণ্ডার নয় রাজা অ্যালবার্ট একটা স্বর্ণখনি স্থাপন করেছিলেন।
–স্বর্ণখনি? ফ্রান্সিস বেশ চমকে উঠল।
