–পাগল হয়েছ! ঐ কাজটিও করতে যেও না। বেঘোরে মরবে। ফ্রান্সিস কোলাকে সাবধান করল।
না। আমি পারবো। আমি অনেক জোরে ছুটতে পারি। কোলা বলল।
–পায়ের ঐ বেড়ি নিয়ে? পারবে? ফ্রান্সিস সংশয় প্রকাশ করল।
–হ্যাঁ পারবো। কোলা গলায় বেশ জোর দিয়ে বলল।
–ঠিক আছে। কিছুদিন অপেক্ষা করো। দেখি না ছক খাটে কি না। ফ্রান্সিস বলল।
–আমার অতো ধৈৰ্য্য নেই। তোমার ছকনাও খাটতে পারে। কোলা বলল।
— তা পারে। তবে একবার চেষ্টা তো করবো। ফ্রান্সিস বলল।
–গেট ডিঙিয়ে পালাতে গেলে ঐ প্রহরীরা নিরস্ত্রআমাদের মেরে ফেলবে। কোলা বলল।
–দেখা যাক। ফ্রান্সিস মাথা ওঠা নামা করে বলল।
পরদিন ফ্রান্সিসরা সকালের খাবার খাচ্ছে তখনই পার্তাদো এল। কয়েদঘরের দরজার সামনে এসে দাঁড়ালেন। বললেন-শোন। আমি বাইরে যাচ্ছি। কয়েকদিন পরে ফিরবো। তোমরা ভালা হয়ে থাকবে। কেউ পালাবার চেষ্টা করবে না। করলে জীবন যাবে।
ফ্রান্সিসরা কেউ কিছু বলল না। পার্তাদো বললেন–আজ থেকে ক্ষেতের কাজ বন্ধ। আমার জমির দুপাশে যে জঙ্গল রয়েছে সে দুটো জঙ্গল সাফ করতে হবে। আমি ক্ষেত বাড়াবো। তোমাদের কাজ হল দুধারের জঙ্গল সাফ করা। ঠিক আছে। ওঙ্গারা তোমাদের দেখিয়ে দেবে। ভালো কথা দুধারের জঙ্গলের শেষে তিনজন তিনজন করে দেহরক্ষী থাকবে যাতে জঙ্গলের মধ্য দিয়ে তোমরা পালাতে না পারো। ঠিক আছে।
ফ্রান্সিসরা কোন কথা বলল না। পার্তাদো ওঙ্গাদের আঙুল নেড়ে ডাকলেন। ওঙ্গারা এগিয়ে এল। ওদের দুহাতে তিনচারটে করে কুডুল।
পার্তাদো আর দাঁড়ালেন না। চলে গেলেন।
কয়েদঘরের দরজা খুলে দেওয়া হল। কুড়ুল কম পড়ে গেল। ওঙ্গা বলল-কালকে আরো কুড়ুল পাবে। আজকে যে কটা পাচ্ছো তাই দিয়ে কাজ চলুক।
ফ্রান্সিসরা এই ভেবে খুশি হল যে এখন কটা দিন জঙ্গলের ছায়ার গাছ কাটা খুব একটা পরিশ্রমের কাজ নয়।
দুপাশে দু’দল ভাগ হয়ে গেল। শুরু হল গাছ আগাছা কাটা। ফ্রান্সিস এক ফাঁকে জঙ্গল ছাড়িয়ে এল। দেখল তিনজন সশস্ত্র দেহরক্ষী এক ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। ও চলে এল। দেহরক্ষীরা ছাড়াও রয়েছে ওঙ্গারা দু’জন। কড়া পাহারারই ব্যবস্থা হয়েছে।
দুপুরে খাওয়া। একটু বিশ্রাম। তারপরেই গাছ কাটা।
পরদিন দুপুরের দিকে আকাশ অন্ধকার করে মেঘ জমতে লাগল। হ্যারি গাছের মাথার দিকে তাকিয়ে এটা লক্ষ্য করল। ও খুশির স্বরে বলে উঠল–ফ্রান্সিস-সৌভাগ্য। আকাশে মেঘ জমেছে।
-বলো কি? ফ্রান্সিস গাছের মাথার ওপর দিয়ে তাকাল। সত্যিই কালো মেঘের জটলা।
একটু পরেই শুরু হল বিদ্যুৎ চমকানো আর ঘন ঘন বাজ পড়া। তারপরই শুরু হল বড় ফোঁটা বৃষ্টি। একটু পরেই মুষলধারে বৃষ্টি। গাছ কেটে ফেলায় ওপরটা ফাঁকা হয়ে গেছে। ফ্রান্সিসরা খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে ভিজতে লাগল। গাছ কাটা বন্ধ।
ওঙ্গা গলা চড়িয়ে বলল কাজ চালাও। শাঙ্কো বলল–ভাইকতদিন গরমে সেদ্ধ হয়েছি। এবার বৃষ্টিতে ভিজে একটু ঠাণ্ডা হতে দাও। ওঙ্গা বলল–না, না। কাজ চালিয়ে যেতে হবে।
ফ্রান্সিসরা আর আপত্তি করল না। আবার গাছ কাটতে লাগল। তখনও বৃষ্টি চলছে।
বিকেল হল। ওঙ্গা গলা চড়িয়ে বলল–এবার সবাই ক্ষেতের ওপর এল। ক্ষেতের মাটি তখন প্রায় কাদা হয়ে গেছে। ঐ কাদার ওপর দিয়েই ওরা হেঁটে চলল কয়েদঘরের দিকে। আজকে ওরা খুশি। দুএকজন কাদা ছোঁড়াছুঁড়িও করল। কাল থেকে আর জল ছিটোতে হবেনা।
ওঙ্গা বলল কর্তাসাহেব থাকলে খুব খুশি হত। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বৃষ্টিতে ভিজত।
বৃষ্টির জোর কমে গেছে। টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে। চারদিক বেশ অন্ধকার হয়ে গেল। আকাশের মেঘ কাটে নি। রাতেও বৃষ্টি হতে পারে।
ফ্রান্সিসদের বিকেলের খাবার তখন খাওয়া হয়ে গেছে। কোলা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খাবার খেল।
মারিয়া আর পাংলু এল। মারিয়া হেসেফ্রান্সিসকে বলল–তোমাদেরআরজল ছিটোতে হবে না। ফ্রান্সিসও হাসল। বলল হ্যাঁ। বৃষ্টি হতে বেঁচে গেলাম। ওদিকে কোলা পাংলুর সঙ্গে কথা বলছে।
ফ্রান্সিস একটু গলা নামিয়ে বলল–একটা খুব দরকারি কথা বলছি। বাড়িতে কোথায় অস্ত্রশস্ত্র মানে ঢাল তরোয়াল রাখা হয় কোথায়–সেই ঘরটা একবার দেখবে। সাবধান প্রহরীদের যেন কোনরকম সন্দেহ না হয়। খুব গোপনে কাজটা করতে হবে। পারবে তো?
–এটা কী এমন কাজ? মারিয়া বলল।
–কাউকে জিজ্ঞেস করে জানতে যেও না। তুমি একাই খুঁজে দেখবে। ফ্রান্সিস বলল।
–ঠিক আছে। মারিয়া মাথা নেড়ে বলল।
রাতের খাওয়া সেরে কোলা ফ্রান্সিসের কাছে এল। ফ্রান্সিস যথারীতি চোখ বুজে শুয়ে আছে। বলল–
–পাংলুকে বলেছো?
–হ্যাঁ। ও বলেছে রাতে ও লক্ষ্য করবে। কোলা বলল।
–ভালো কথা। ফ্রান্সিস বলল।
রাতে বৃষ্টি হল।
পরের দিন আবার জঙ্গল কাটা চলল।
বিকেল হল। ক্ষেতে কাদা আরও বেড়েছে। ওরা ক্ষেত পার হয়ে কয়েদ ঘরে এল।
তখনও ফ্রান্সিসদের বিকেলের খাবার খাওয়া হয়নি। মারিয়ারা একটু তাড়াতাড়ি এল। কোলা দরজায় দাঁড়িয়েই ছিল। পাংলুর সঙ্গে কথা বলছিল। ফ্রান্সিস এবারে তাকিয়ে দেখল। কিছু বলল না। ফ্রান্সিস গলা নামিয়ে বলল
–খোঁজ পেলে?
–হ্যাঁ। মারিয়াও আস্তে বলল–সদর দরজা দিয়ে ঢুকে ডানহাতি প্রথম ঘরটাই অস্ত্রাগার–তরোয়াল ঢাল চাবুক লোহার শেকল এসব রাখা।
–ঘরটা কি বন্ধ থাকে? ফ্রান্সিস বলল।
