–সেই আমারগো বন্দর থেকে বেশ কিছুটা দূরে রাজা আলফ্রেডের ভাঙা দূর্গ আছে। তার পাশেই থাকেন এক ইহুদী ভদ্রলোক। নাম সামুছা। ওখানকার জমিদার। আমারগো বন্দরের ক্রীতদাসের হাট থেকেপাংলুকেকিনেছিলেন। পাংলু সামুছার বাড়িতে ক্রীতদাসী হয়েছিল।
–অদ্ভুত ব্যাপারটা কী তাই বলো? ফ্রান্সিস বলল।
–বলছি। সামুছার বাড়ির কাছেই রাজা আলফ্রেডের ধ্বংসপ্রাপ্ত দুর্গ। ঐ দুর্গে আছে রাজা আলফ্রেডের গুপ্ত ধনভাণ্ডার।
–গুপ্ত ধনভাণ্ডার? ফ্রান্সিস চমকে চোখ মেলল। দ্রুত উঠে বসল। বলল–ঐ ভাঙা দুর্গে?
–হ্যাঁ। জমিদার সামুছা সেই গুপ্ত ধনভাণ্ডার খুঁজে বের করার জন্যে ভাঙা দুর্গের আনাচেকানাচে খুঁজে বেড়ায়। জমিদারি দেখে আর ধনভাণ্ডার খোঁজে। কোলা বলল।
–ঠিক আছে। আমি কয়েকটা বিষয় জানতে চাইছি। ফ্রান্সিস বলল।
–কী কী বিষয় বলো। কোলা বলল।
–জানবে কতকাল আগে রাজা আলফ্রেড রাজত্ব করতো। সামুছা কতদিন যাবৎ গুপ্ত ধনভাণ্ডার খুঁজছেন? তিনি কোন সূত্র পেয়েছেন কিনা। গুপ্ত ধনভাণ্ডার খোঁজার জন্য উনি কাউকে সাহায্য করতে রাজি কিনা। ফ্রান্সিস বলল।
–এতসব ব্যাপার পংলু বলতে পারবে? কোলা সংশয় প্রকাশ করল।
–তুমি জিজ্ঞেস তো করো। সামুছার বাড়িতেই ও কাজ করত। কাজেই ভেতরের অনেক খবর ওর পক্ষে জানা সম্ভব।
–দেখি কথা বলে। কোলা মাথা নেড়ে বলল।
পরের দিন বিকেলে পাংলু মারিয়ার পেছনে পেছনে এল। কোলা আগে থেকেই লোহার ফোকরওয়ালা দরজার সামনে দাঁড়িয়েছিল।
ফ্রান্সিস বলল–পংলুর কাছ থেকে কিছু দরকারি কথা কোলাকে জানতে বলেছি। কোলা সেসব জানুক। আমরা বেশি কথা বলবো না।
–বেশ। মারিয়া হেসে বলল। তারপর বলল কী এমন দরকারি কথা?
রাজা আলফ্রেডের গুপ্ত ধনভাণ্ডারের কথা। ফ্রান্সিস বলল।
–ব্যস্। দেশে ফেরা হয়ে গেল। মারিয়া বলল।
–ব্যস্ত হচ্ছো কেন। দেখাই যাক না। হদিশ করতে পারি কিনা। ফ্রান্সিস বলল।
–গুপ্ত ধনভাণ্ডার কি এখানে? মারিয়া জানতে চাইল।
–না। আমারগো বন্দর থেকে কিছুদূরে রাজা আলফ্রেডের ভগ্নদূর্গে ফ্রান্সিস বলল।
–তাহলে তো আমারগো বন্দরে যেতে হবে। যাবে কী করে? মারিয়া বলল।
–পালাবো। ফ্রান্সিস গলায় জোর দিয়ে বলল।
–পারবে? মারিয়া বলল।
–পারতে হবে। ক্রীতদাস হয়ে বাকি জীবন কাটাবো নাকি? ফ্রান্সিস বলল।
–দেখ চেষ্টা করে। মারিয়া বলল।
ওদিকে কোলা আর পাংলুর কথা শেষ হয় না। ফ্রান্সিস মারিয়া দুজনেই চুপ করে রইল। কোলা আর পাংলু দেশোয়ালি ভাষায় তখনও কথা বলে চলেছে।
কিছুক্ষণ পরে মারিয়া আর পাংলু ফিরে গেল। কোলা সেইদিকে তাকিয়ে রইল।
–কোলা বসবে চলো। ফ্রান্সিস বলল। তারপর নিজের জায়গায় এসে বসল। কোলা এসে পাশে বসল।
–এবার বলো পাংলু কী বলল? ফ্রান্সিস বলল।
–দেখলাম ও অনেক কিছু জানে। কোলা বলল।
–তাহলে বলো রাজা আলফ্রেড কতকাল আগে ওখানে রাজত্ব করতো?
–সামুছা কতদিন যাবৎ গুপ্ত ধনভাণ্ডার খুঁজছে? ফ্রান্সিস জানতে চাইল।
–সেটা পাংলু বলতে পারল না। তবে যখন থেকে সামুছার বাড়িতে ক্রীতদাসী হয়ে এল তখন থেকেই দেখেছে সামুছা প্রতি রোববার নেভানোমশাল নিয়ে ভাঙা দূর্গের দিকে যায়। বোধহয় ওখানে কিপাথরঠুকে মশাল জ্বালিয়ে গুপ্ত ধনভাণ্ডার খোঁজে। কোলা বলল।
হু। তাহলে খুব বেশিদিন নয়। আচ্ছা সামুছা কি এ ব্যাপারে কারো সাহায্য নিয়েছিল? ফ্রান্সিস জানতে চাইল।
–পাংলু বলল–একজন স্পেন দেশের লোক নাকি একটা কি ছবির কাগজ নিয়ে এসেছিল। সামুছার সঙ্গে সেও কিছুদিন ভাঙা দূর্গে যেতো। কিন্তু দুজনের ঝগড়া হয়। স্পেনীয় লোকটি পাততাড়ি গুটিয়ে চলে গিয়েছিল। কোলা বলল।
–তার মানে বখরায় বনেনি। ফ্রান্সিস বলল।
–ঐ রকমই কিছু হবে। কোলা বলল।
-বখরা না চাইলে সামুছা একসঙ্গে ধনভাণ্ডার খুঁজতে রাজি হতো। এটা আমার জানা দরকার ছিল। পাংলুকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি এটা পাংলুকে বলো। ফ্রান্সিস বলল।
–বলবো। তাহলে তোমার সব জানা হল। কোলা বলল।
–মোটামুটি। এখনও অনেক কিছু জানতে হবে। ফ্রান্সিস বলল।
–কিন্তু এসব জেনে তোমার কী হবে? কোলা বলল।
–আমি ঐ গুপ্ত ধনভাণ্ডার খুঁজে বের করবো। ফ্রান্সিস বলল।
–তুমি কি পাগল হয়েছে? কোলা হেসে বলল–এখান থেকে বেরোতে পারলে তবে তো গুপ্ত ধনভাণ্ডার খুঁজবে।
–এখান থেকে পালাবার ছক কষেছি। ফ্রান্সিস বলল।
কোলা চমকে উঠল। বলল–তোমার ছক কষা হয়ে গেছে?
–প্রায়। আর কিছুদিন এখানকার ব্যবস্থাটা দেখতে হবে। কারণ রাতে তো আমরা বেরোতে পারি না। কাজেই জানি না বড় গেট-এ দরজায় কতজন প্রহরী থাকে। এটা জানতে হবে। গেট-এর দরজায় ক’টা তালা লাগানো থাকে। বাইরে ভেতরে দুদিকেই কি তালা লাগানো হয়? ফ্রান্সিস বলল।
–সেটা কী করে জানবে? কোলা বলল।
–একটু রাতে পংলু বেরিয়ে সেটা জেনে আসবে। ফ্রান্সিস বলল।
–তোমাদের রাজকুমারীও জানতে পারে। কোলা বলল।
–না রাজকুমারী গেলে প্রহরীদের সন্দেহ হবে। ফ্রান্সিস বলল।
–তাহলে পাংলুকে একথা বলতে হয়। কোলা বলল।
–হ্যাঁ। বলবে। ফ্রান্সিস বলল।
–তাহলে মুক্ত জীবন পাবো? কোলা বেশ আবেগের সঙ্গে বলে উঠল।
–হ্যাঁ পাবে। তবে এখনই একেবারে নিশ্চিন্ত থেকো না! সব খবরাখবর এখনও নেওয়া হয়নি। ফ্রান্সিস বলল।
একটু চুপ করে থেকে কোলা বলল–আমি একাই পালিয়ে যাবো।
