–আমি সে কথা দিতে পারছি না। ফ্রান্সিস মাথা নেড়ে বলল।
–না। আর কোথাও থামা চলবে না। মারিয়া বলল।
–তা হয় না মারিয়া। গোপন ধনভাণ্ডারের খবর পেয়ে আমাকে আবার লাগতে হবে। ফ্রান্সিস বলল। এটাই আমি চাইছি না।
গোপন ধনভাণ্ডারের খবর পেলেও তুমি এড়িয়ে যাও। জাহাজে দেশের দিকে চলুক। মারিয়া বলল।
–দেখি। তবে কথা দিতে পারছি না। ফ্রান্সিস বলল।
–না। তোমাকে কথা দিতে হবে। মারিয়া গলায় জোর দিয়ে বলল।
না মারিয়া। পারবো না। তবে তোমরা যদি চলে যেতে চাও যেতে পারো। যেসব বন্ধুরা আমার সঙ্গে থাকতে চাইবে তাদের নিয়ে আমি জাহাজ কিনে আমার কাজ করে যাবো। ফ্রান্সিস বলল।
তুমি ভালো করেই জানো তোমাদের কয়েকজনকে একা ফেলে আমরা কখনই যাবো না। মারিয়া বলল।
–আমিও সেটাই চাই। ফ্রান্সিস বলল।
যদি কোন গোপন ধনভাণ্ডারের খবর না পাও তাহলে দেশে ফিরে যাবে তো? মারিয়া জানতে চাইল।
হঠাৎ সেক্ষেত্রে আমার তোকিছু করার নেই। দেশের দিকেই থাকে। ফ্রান্সিস বলল—
–তাহলে ওকথাই রইল। মারিয়া বলল।
বেশ। ফ্রান্সিস মাথা নেড়ে বলল।
মারিয়া ডেক-এ উঠে এল। শাঙ্কোরা কয়েকজন রাজকুমারীর জন্যে অপেক্ষা করছিল। রাজকুমারী ওদের কাছে এল। শাঙ্কোরা এগিয়ে এল। রাজকুমারীর ফ্রান্সিসের সঙ্গে যা যা কথা হয়েছে বলল। তারপর বলল–কোন গোপন ধন ভাণ্ডারের খবর না পেলে ফ্রান্সিস দেশে ফিরতে রাজি হবে।
–তাহলে দেখা যাক কী ঘটে। শাঙ্কো বলল।
ফ্রান্সিসদের জাহাজ চলেছে।
সেদিন দুপুরে মাস্তুলের ওপর থেকে নজরদার পেড্রো চেঁচিয়ে বলল–ডাঙা দেখা যাচ্ছে–ডাঙা। সিঁড়িঘরের কাঠের দেওয়ালে পিঠ দিয়ে বিস্কো বসেছিল। পেড্রোর কথাটা ও শুনল। ও ছুটল ফ্রান্সিসকে খবর দিতে।
একটু পরে ফ্রান্সিস মারিয়া হ্যারি ডেক-এ উঠে এল। ফ্রান্সিস ভালো করে দেখেটেখে বলল–একটা ছোট বন্দর। চলো–খোঁজ নেওয়া যাক। জাহাজ বন্দরে ভেড়াতে বল।
জাহাজ চালক ফ্লেজার বন্দরে জাহাজ ভেড়াল।
বিকেলে কিছু বন্ধু ফ্রান্সিসের কাছে এল। বলল–বরাবর তুমিই খোঁজখবর করতে যাও। আজকে আমরা যাবো।
বেশ তোমরাই খোঁজ নিয়ে এসো। কিন্তু কোন লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়োনা। ফ্রান্সিস বলল।
দশ বারোজন বন্ধু দল বেঁধে নেমে গেল।
শাঙ্কো হ্যারি বিস্কো আর কয়েকজন বন্ধু গেল না। জাহাজেই রইল।
অন্ধকার হয়ে এল। বন্ধুরা ফিরল না।
হ্যারি ফ্রান্সিসের কেবিনঘরে এল। বলল–ফ্রান্সিস বন্ধুরা এখনও ফিরল না। খুবই বিপদের কথা।
মাটিতে নামার সুযোগ তো ওরা পায় না। আজকে পেয়েছে। ঘুরেফিরে বেড়াচ্ছে। ফ্রান্সিস বলল।
মারিয়া হেসে বলল–জাহাজের বাধাবদ্ধ জীবন। একটু বৈচিত্র্য সবাই চায়। বিশেষ করে ডাঙায় উঠে।
–তা ঠিক। তবু এটা আমাদের কাছে বিদেশ। ওদিকে অন্ধকার হয়ে আসছে। বন্ধুরা কোন বিপদে পড়ল কিনা কে জানে। হ্যারি বলল।
বন্দরটার নাম রেজিল। ফ্রান্সিসের বন্ধুরা হৈ হৈ করে বন্দরে ঘুরে বেড়াতে লাগল। এই দলের মধ্যে ছিল সিনাত্রা। সিনাত্রা বেশ বুদ্ধিমান। বন্ধুরাও ওকে খুব ভালোবাসে।
ওরা বাজার এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে তখনই এক একজন কালো মানুষ ওদের দিকে এগিয়ে এল। বলল–তোমরা বিদেশি?
–হুঁ। আমরা ভাইকিং। সিনাত্রা বলল।
–বন্দরে তোমাদের জাহাজ দেখলাম। লোকটি বলল।
–হ্যাঁ। আমরা দুপুরে এখানে এসেছি। একজন ভাইকিং বলল।
–তোমরা ঘুরে বেড়াচ্ছো নিশ্চয়ই তোমাদের খিদে পেয়েছে। আমার সঙ্গে এসো। খেতে দেব। কালো লোকটি বলল।
–খুব ভালো কথা–সিনাত্রা বলল-চলো ভাইসব নিমন্ত্রণ রক্ষা করা যাক।
লোকটার পেছন পেছন ওরা চলল।
একটা বেশ বড় বাড়ির সামনে এল ওরা।
লোকটি বলল–বাড়ির ভেতরে চলো।
ওরা বাইরের ঘরে ঢুকল। বেশ সাজানো গোছানো ঘর। বোঝাই যাচ্ছে গৃহকর্তা ধনী। ওরা এদিক-ওদিকেরাখা চেয়ারে বসল। সবাইয়ের জায়গা হলনা। কয়েকজন মেঝেয় বসল।
লোকটি বাড়ির ভেতরে চলে গেল।
কিছু পরে একজন বেশ শক্তসমর্থ চেহারার মধ্যবয়স্ক পুরুষ ঘরে ঢুকল। সামনের ফাঁকা চেয়ারটায় বসল। বলল–শুনলাম তোমরা বিদেশি।
-হ্যাঁ। আমরা ভাইকিং। সিনাত্রা বলল।
–তোমরা বোধহয় লক্ষ্য করোনি আমার বাড়ির পেছনে বিরাট তুলোর ক্ষেত। মধ্যবয়স্ক ব্যক্তি বলল।
না। অন্ধকার হয়ে এসেছে তো। সিনাত্রা বলল।
কথা হচ্ছে তখনই আট দশজন বলিষ্ঠদেহী নিগ্রো দরজার কাছে এসে দাঁড়ালো। সিনাত্রা বিপদ আঁচ করলো। কিন্তু কিছু বলল না। লোকটি বলল–আমার বাড়ির পেছনে বন্দীশালা। আমার তুলার ক্ষেতে কাজ করার জন্যে যাদের ধরে আনি তারা প্রথমে ঐ বন্দীশালায় থাকে। তারপর ক্ষেতে পাঠাই। দশবারোজন পাহারাদার থাকে ক্ষেতগুলোর চারপাশে।
এবার সিনাত্রা উঠে দাঁড়াল। বলল–এসব আমাদের বলছেন কেন?
–কারণ তোমরা এখন বন্দী। তবে যে তোমাদের তুষ্য মানে যে তোমাদের নিয়ে এসেছে সে বোধহয় বলেনি তোমাদের–আমি প্রচুর অর্থ দেব।
সিনাত্রা গলা চড়িয়ে বলল–কিন্তু আমাদের কেন বন্দী করা হবে?
কারণ তোমরাই আমার তুলোর ক্ষেত চাষ করবে। তুলো ফলাবে। তুলোর গাঁটরি কাঁধে করে জাহাজে চালান দেবার জন্য জাহাজে তুলে দেবে।
তার মানে আপনি আমাদের ক্রীতদাস করে রাখবেন। সিনাত্রা বলল।
–হ্যাঁ। পালাবার চেষ্টা করে লাভ নেই। কারণ দরজায় দেখতেই পাচ্ছো আমাদের সব বাছাই করা যোদ্ধারা রয়েছে। ওদের সঙ্গে লড়াই করে পালাতে গেলে তোমরা অর্ধেকও বাঁচবে না। কাজেই আমার ক্ষেতের চাষি হও তোমরা। প্রচুর অর্থ পাবে।
