— ফ্রান্সিস মই বেয়ে নেমে এল। শাঙ্কো বলল–তাহলে হাওয়া চলাচলের জন্যেই ওগুলো গাঁথা হয়েছে।
-হ্যাঁ। তাই তো দেখলাম। ফ্রান্সিস বলল।
–অন্য গর্ভগৃহগুলো দেখবে? শাঙ্কো বলল।
হা। একটা প্রতীক পাবোই যেটা অন্য কারণে গাঁথা হয়েছে। ফ্রান্সিস বলল।
–তাহলে সব কটাই খুঁটিয়ে দেখতে হয়। শাঙ্কো বলল।
–তাই দেখবো। চলো ফ্রান্সিস বলল।
পরের গর্ভগৃহে এল। ফ্রান্সিস মই বেয়ে উঠল। ততক্ষণে গর্ভগৃহের অধিবাসীরা মই ঘিরে দাঁড়িয়ে পড়েছে। ফ্রান্সিস মইয়ে চড়ে কী দেখছে সেটা ওরা বুঝল। জন্মাবধি ঐ প্রতীকচিহ্ন ওরা দেখে আসছে। কারো মনেই কোনদিন ওটা নিয়ে কোন ঔৎসুক্য জাগে ওরা বুঝল না এই বিদেশীরা ওটা এভাবে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে কেন।
এবারও ফ্রান্সিস হাত বাড়িয়ে মৃদু বাতাস অনুভব করল। তাহলে এগুলো হাওয়া চলাচলের জন্যেই গাঁথা হয়েছে। প্রতীকচিহ্নও রাখা হল আবার ফোকর রেখে বাতাস চলাচলের পথও হল।
একে একে সব গর্ভগৃহের প্রতীকগুলোই দেখা হল। কিন্তু কোন প্রতীকচিহ্নেইনতুনত্ব কিছু নেই। একইরকমভাবে তৈরি সব। ফ্রান্সিস চিন্তায় পড়ল। তবে কি কোন গর্ভগৃহের দেওয়ালে লুকোনো কোন গর্ত আছে? তাহলে তো এবার দেওয়ালগুলো খুঁটিয়ে দেখতে হয়। ফ্রান্সিস শাঙ্কোকে বলল সে কথা।
শাঙ্কো বলল–তাহলে তো সেভাবেই সন্ধান চালাতে হবে।
–তার আগে প্রথম গর্ভগৃহটা দেখতে হয়। এটাই দেখা বাকি। এই গর্ভগৃহটাই রাজা পারকোনের পিতামহ প্রথম তৈরি করেছিলেন। এখানেই রাজাদের সভাঘর। রাজা পারকোনের পূর্বপুরুষরা এই গর্ভগৃহের সিংহাসনে বসেই রাজত্ব করে গেছেন। কাজেই এই গর্ভগৃহের গুরুত্ব রয়েছে। চলো।
প্রথম গর্ভগৃহটায় নামল ওরা। সভাঘরের ওপাশেই যোদ্ধাদের থাকবার ঘর। ফ্রান্সিসরা যখন মই বসাচ্ছে তখনই দুজন তিনজন করে যোদ্ধারা মইয়ের কাছে এসে দাঁড়াল।
ফ্রান্সিস সিঁড়ির মাথায় চলে এল। ভালো করে তাকিয়ে দেখল এই প্রতীকচিহ্নে কোন ফোকর নেই। এটা অন্যরকম। হাত দিয়ে ছুঁতেই হাত পিছলে গেল। পাথর নয় কাঁচ। কাঁচের তৈরি এই প্রতীকচিহ্ন। কালো রং করা। তার ভেতরটা অস্পষ্ট। কিছুই দেখা যাচ্ছে না। সবগুলো পাথরের। এটা কাঁচের কেন? ফ্রান্সিস চমকে উঠল। তাহলে কি এর ভেতরেই কি রাখা আছে গুপ্ত ধনভাণ্ডার?
ফ্রান্সিস নিচের দিকে তাকিয়ে ডাকল শাঙ্কো?
–বলো। শঙ্কো ওপরের দিকে তাকিয়ে বলল।
–একটা পাথরের টুকরো নিয়ে এসো।
শাঙ্কো ঘরের এদিকওদিকতাকিয়ে পাথরের টুকরো খুঁজল। পেলও। পাথরের টুকরোটা নিল। মই ছেড়ে সরে যাওয়া চলবে না। কাজেই ও পাথরের টুকরোটা ফ্রান্সিসের দিকে ছুঁড়ে দিল। ফ্রান্সিস লুফে নিল। তারপর কাঁচটার ওপরের দিকে আস্তে আস্তে ঠুকতে লাগল। যোদ্ধারা অবাক হয়ে ফ্রান্সিসদের কা দেখতে লাগল।
বারকয়েক আস্তে আস্তে ঠুকে একবার জোরে ঠুকল। কাঁচ ভেঙে ফুটো হয়ে গেল। কাঁচের টুকরো নিচে পড়ল। যোদ্ধারা দেখল। পাথর থেকে কাঁচ পড়ছে। সবাই হতবাক।
ফ্রান্সিসভাঙা কাঁচের ফুটো দিয়ে তাকিয়ে আবছা দেখলহীরে পান্না বসানো নেকলেস-এর অংশ। ফ্রান্সিস এক মুহূর্ত চুপ করে রইল। স্থির মইয়ে দাঁড়িয়ে রইল। এখানেই মহামূল্যবান অলঙ্কার টলঙ্কার সোনারচাকতিও থাকতে পারে। এইসবযদিনিচেপড়ে যায় তাহলে যোদ্ধারা আর সাধারণ লোকেদের মধ্যে লুঠ করার জন্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যাবে। খুনোখুনিও লেগে যেতে পারে। এত মূল্যবান গুপ্ত ধনভাণ্ডার। লোভর্তমানুষেরা উন্মাদ হয়ে যাবে।
ফ্রান্সিস মই বেয়ে বেয়ে আস্তে আস্তে নিচে নেমে এল। দু’তিনজন যোদ্ধা এগিয়ে এল। একজন বলল–কী ব্যাপার? ওখানে উঠেছিলে কেন?
-বাতাস চলাচলের ফোকর ঝুঁজে গিয়েছিল। মেরামত করে দিয়ে এলাম।
-ও। যোদ্ধাটি মুখে শব্দ করল। যোদ্ধারা সাধারণ লোকেরা একজন দু’জন করে চলে যেতে লাগল।
–পেয়েছো? শাঙ্কো ওদের দেশীয় ভাষায় চাপাস্বরে বলল।
–হ্যাঁ। ফ্রান্সিসও দেশীয় ভাষায় বলল–শিগগিরি রাজার কাছে যাও। রাজা যেন এক্ষুনি তার দেহরক্ষীদের নিয়ে এখানে আসেন। কোন ব্যস্ততা দেখিও না।
শাঙ্কো আস্তে আস্তে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে লাগল। ওপরে উঠেই ছুটল রাজার গর্ভগৃহের দিকে। সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত নেমে রাজার শয়নকক্ষের সামনে আসছে তখনই দেহরক্ষীরা ওকে আটকাল। শাঙ্কো বলল–শিগগির রাজা পারকোনকে আসতে বলল। গুপ্তধন উদ্ধার করা হয়েছে।
রাজার দেহরক্ষীরা রাজারশয়নকক্ষে ঢুকে রাজাকে সংবাদটা জানাল। শোবার পোশাক পরেই রাজা পারকোন বেশ দ্রুত শয়নকক্ষ থেকে বেরিয়ে এলেন। হেসে বললেন গুপ্তধন পাওয়া গেছে?
–হ্যাঁ। আপনি কয়েকজন সশস্ত্র দেহরক্ষী নিয়ে আসুন।
–কোথায়? রাজা জানতে চাইলেন।
–আপনার সভাগৃহের গর্ভগৃহে।
রাজা প্রহরীদের আসতে ইঙ্গিত করে সিঁড়ির দিকে চললেন।
রাজার সঙ্গে সবাই সেই গর্ভগৃহে নামল। শাঙ্কো মইয়ের নিচে তখনও কিছু অত্যুৎসাহী লোকআর যোদ্ধরা দাঁড়িয়ে আছে।
রাজাকে দেখে সবাই সরে দাঁড়াল। রাজা ফ্রান্সিসকে বললেন—তুমি উদ্ধার করতে পেরেছো?
ফ্রান্সিস বলল–হ্যাঁ। তারপর ওপরের প্রতীক চিহ্নটি আঙ্গুল তুলে দেখিয়ে বলল–ওটা পাথরের তৈরি নয়। কাঁচের তৈরি। কালো রং করা। ওটা ভাঙলে মহা মূল্যবান হীরে মুক্তো সোনা ঝরে পড়বে। আপনার প্রহরীদের বলুন-সেসময় এই জায়গাটা ঘিরে রাখতে।
