আমার ব্যক্তিগত সম্পদ কিছু নিয়ে যেতে পারবো না? আভিন্দা জানতে চাইল।
না। যে পোশাক পরে যে ভাবে আছেন সেই ভাবেই এই রাজ্য আপনাকে ছেড়ে যেতে হবে। ফ্রান্সিস বলল।
আভিন্দা আর কিছু বলল না। প্রান্তরের ওপর দিয়ে উত্তরমুখো হেঁটে চলল। ফ্রান্সিস আভিন্দার বন্দী সৈন্যদের দিকে তাকিয়ে বলল–আভিন্দার সঙ্গে সঙ্গে তোমরাও বিদেয় হও। আর এখানে লড়াই করতে এসো না।
বন্দী সৈন্যরা আভিন্দার পেছনে পেছনে চলল। কিছুপরে ওরা প্রান্তরের শেষে চলে গেল।
এবার ফ্রান্সিস শাঙ্কোর দিকে তাকাল। বলল–শাঙ্কো তুমি রাজা পারকোনের গুহায় যাও। রাজাকে সসম্মানে এখানে নিয়ে এসো। এখন আমার দুটো কাজ–রাজা পারকোনকে তার রাজত্ব ফিরিয়ে দেওয়া আর গুপ্ত ধনভাণ্ডার উদ্ধার।
শাঙ্কো কিছু বলল না। চলল উত্তরমুখো পাহাড়টার দিকে।
ফ্রান্সিস গলা চড়িয়ে বলল–রাজা পারকোনের সৈন্যদের আর বন্ধুদের বলছি–যুদ্ধে আমরা জয়ী হয়েছি। ভাইকিংরা ধ্বনি তুলল–ও–হো–হো। পারকোনের সৈন্যরাও বর্শা উঁচিয়ে হৈ হৈ করে উঠল। ফ্রান্সিস বলল–এবার তোমরা বিশ্রাম করতে পারো। বন্ধুরা, সৈন্যরা চলে গেল।
ফ্রান্সিস প্রান্তরেই দাঁড়িয়ে রইল।
কিছুক্ষণ পরে শাঙ্কোর সঙ্গে রাজা পারকোন এলেন। প্রায় ছুটে এসে ফ্রান্সিসকে জড়িয়ে ধরলেন। বলে উঠলেন সাবাস ফ্রান্সিস। তোমার জন্যেইআমি আমার রাজত্ব ফিরে পেলাম।
–এবার গর্ভগৃহে আপনার রাজসভাঘরে চলুন। আপনাকে আপনার সিংহাসনে বসিয়ে আমি আমার কর্তব্য শেষ করতে চাই। ফ্রান্সিস বলল।
-বেশ। চলো। রাজা পারকোন বললেন।
সম্মুখে রাজা পারকোন পেছনে ফ্রান্সিস শাঙ্কোরা এগিয়ে চলল গর্ভগৃহের দিকে। সবাই সিঁড়ি দিয়ে নামল। রাজসভাঘরে এল। রাজা পারকোন গিয়ে সিংহাসনে বসলেন। তখনই মন্ত্রীমশাই এলেন। শাঙ্কো তাকে ধরে ধরে মন্ত্রীর আসনে বসিয়ে দিলেন।
মন্ত্রী ফ্রান্সিসের দিকে তাকিয়ে বললেন–তুমি আমাদের মহামান্য রাজাকেতার রাজত্ব ফিরিয়ে দিলে। কিন্তু আর একটা কাজ যে রইল।
গুপ্ত ধনভাণ্ডার খুঁজে বের করা। ফ্রান্সিস বলল।
–হ্যা–মন্ত্রী বললেন।
এবার খোঁজাখুঁজি শুরু করবো। ফ্রান্সিস বলল।
ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি তুমি যেন সফল হও। মন্ত্রী বললেন।
–মহামান্য রাজা–ফ্রান্সিস বলল–আমি সব গর্ভগৃহই খুঁজেছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস এই গর্ভগৃহগুলোর কোন একটাতেই আছে গুপ্ত ধনভাণ্ডার। এবার আমার একটা প্রশ্ন প্রত্যেক গর্ভগৃহের পাথুরে ছাদে আছে ঢালুর মত কিছু। ওগুলো কী?
ওগুলো আমাদের রাজবংশের প্রতীক চিহ্ন। তাছাড়া ওগুলোর ফাকফোকর দিয়ে বাইরের বাতাসও চলাফেরা করে। রাজা পারকোন বললেন।
এছাড়া ওগুলোর আর কোন গুরুত্ব নেই? ফ্রান্সিস জানতে চাইল।
–না। পারকোন মাথা নাড়লেন।
–ওগুলো সবই কি পাথরের? ফ্রান্সিস জানতে চাইল।
–হ্যাঁ। পাথর কেটেই ওগুলো বানানো হয়েছে। রাজা বললেন।
–কে তৈরি করে বসিয়েছিলেন? ফ্রান্সিস জানতে চাইল।
আমার প্রপিতামহ। উনিই ওগুলো তার আদেশেই তৈরি হয়েছিল এবং লাগানো হয়েছিল। রাজা বললেন।
–আপনি নিজে কি কখনও ওগুলো ওপরে উঠে কাছ থেকে দেখেছিলেন? ফ্রান্সিস জানতে চাইল।
–না–না। অত উঁচুতে উঠে–প্রয়োজন মনে করি নি। রাজা বললেন।
–আমি ঐ প্রতীক চিহ্নগুলো কাছ থেকে ভালো করে দেখবো। ফ্রান্সিস বলল।
–বেশ। দেখো। কথাটা বলে রাজা পারকোন সিংহাসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন। মন্ত্রীও উঠে দাঁড়ালেন।
রাজা বললেন–আমার একটু বিশ্রামের প্রয়োজন।
রাজা সিংহাসন থেকে নেমে এলেন। পেছনে মন্ত্রী। দুজনে সিঁড়ির দিকে চললেন। সভা ভঙ্গ হল।
ঘরে এসে ফ্রান্সিস শুকনো গম পাতার বিছানায় শুয়ে পড়ল। হ্যারি এসে পাশে বসল। বলল–কিছু সূত্রটুত্র পেলে?
না। এখনও পাই নি। তবে গর্ভগৃহগুলো আমি মোটামুটি তন্নতন্ন করে দেখেছি। কিন্তু ধনভাণ্ডার গুপ্তভাবে রাখা যায় এমন কোন জায়গা পাইনি। বাকি আছে ঐ রাজকীয় প্রতীকচিহ্নগুলো খুঁটিয়ে দেখতে। ফ্রান্সিস বলল।
অত উঁচুতে? কী করে দেখবে? হ্যারি বলল।
–মই বানাবো। গাছের ডাল কেটে। জোড়া দিয়ে দিয়ে মই তৈরি করবো। তারপর মইয়ে উঠে ঐগুলো দেখবো। শাঙ্কোকে বল মন্ত্রীমশাইকে বলে দুটো কুড়ুলের ব্যবস্থা কর। ফ্রান্সিস বলল।
শাঙ্কো চলল কুড়ুল আনতে। মন্ত্রীর নির্দেশে দুটো কুড়ুল পেলও।
ফ্রান্সিস আর শাঙ্কো কুড়ুল নিয়ে গর্ভগৃহ থেকে বেরিয়ে এল। চলল পাহাড়টার নিচে জঙ্গলের দিকে। খুঁজে খুঁজে দুটো টানা লম্ফ গাছ পেল। ফ্রান্সিস কুড়ুল চালিয়ে গাছটা কাটল। দুভাগ করল। খ খ করে ডাল কাটল সিঁড়ির জন্যে। তারপর সেগুলো বুনো, শুকনো লতা দিয়ে শক্ত করে বাঁধল। কিছুক্ষণের মধ্যেই একটা উঁচু মই হয়ে গেল।
মই নিয়ে ফিরে এল দুজনে। ফ্রান্সিস বলল–প্রথমে দূরের গর্ভগৃহগুলো দেখবো। চলো।
দূরের গর্ভগৃহটায় এল দুজনে। মেঝেয় এসে দাঁড়াল। গর্ভগৃহের লোকেরা বেশ অবাক হয়েই ওদের কা দেখতে লাগল। মই পাতা হল। ফ্রান্সিস সিঁড়ির ধাপ বেয়ে বেয়ে পাথুরে ছাদের কাছে উঠে গেল। তারপর হাত বাড়িয়ে ঢালমত প্রতীকটা ধরল। ওটার ফোকরগুলোয় হাত রাখল। বাতাস লাগল হাতে। জোর বাতাস নয়। হালকা বাতাস। ফ্রান্সিস হতাশ হল। তাহলে হাওয়া চলাচলের জন্যেই প্রতীকগুলো গেঁথে বসানো হয়েছে।
